মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

সপ্তম শ্রেণি: বাংলা, গাধার কান – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

অধ্যায়: গাধার কান
(সংক্ষিপ্ত / ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 2)

নিচের প্রশ্নগুলির প্রাসঙ্গিক ও বিস্তারিত উত্তর দাও:

1. টাউন স্কুল এবং মিশন স্কুলের ফুটবল ম্যাচটি কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: টাউন স্কুল এবং মিশন স্কুলের ফুটবল ম্যাচটি ছিল একটি শীল্ড প্রতিযোগিতার ফাইনাল ম্যাচ। দুই স্কুলের মধ্যে দীর্ঘদিনের রেষারেষি ছিল এবং মর্যাদার লড়াই হিসেবে এই ম্যাচটি সারা শহরের মানুষের কাছে প্রবল উত্তেজনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। দুই দলের খেলোয়াড়রাই জেতার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল।

2. সমরেশের অদ্ভুত বিশ্বাসের (তুক) পরিচয় দাও।

উত্তর দেখো

উত্তর: টাউন স্কুলের খেলোয়াড় সমরেশ ছিল প্রবল কুসংস্কারাচ্ছন্ন। তার বিশ্বাস ছিল যে, কোনো বড় প্রতিযোগিতার আগে যদি একটি গাধার কান মলা যায়, তবে সেই ম্যাচে তার দল অবশ্যই জয়লাভ করবে। সে একে ‘তুক করা’ বলত এবং এই অন্ধবিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করেই সে তার খেলার আত্মবিশ্বাস খুঁজে পেত।

3. ফাইনাল খেলার দিন সমরেশ কেন বিমর্ষ হয়ে পড়েছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: ফাইনাল খেলার দিন সমরেশ তার ‘তুক’ পূর্ণ করার জন্য অনেকক্ষণ ধরে শহরের অলিগলি খুঁজেও কোনো গাধা দেখতে পায়নি। গাধার কান মলতে না পারায় সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং ভাবতে শুরু করে যে তার দল নিশ্চিতভাবে হেরে যাবে। এই কুসংস্কারের কারণেই সে প্রবল দুশ্চিন্তা ও বিষণ্ণতায় ডুবে গিয়েছিল।

4. সমরেশের কুসংস্কার নিয়ে টুনুর প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: টুনু ছিল আধুনিক ও আত্মবিশ্বাসী খেলোয়াড়। সে সমরেশের গাধার কান মলার তুকতাককে একদমই গুরুত্ব দিত না এবং এটিকে হাস্যকর মনে করত। যখন সে জানল সমরেশ গাধা খুঁজে পায়নি, তখন সে ব্যঙ্গ করে বলেছিল, “হিঃ হিঃ—তুক করা হলো না।” টুনুর কাছে তুকতাকের চেয়েও নিজের দক্ষতা এবং পরিশ্রম অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

5. খেলা শুরু হওয়ার পর সমরেশের মনের অবস্থা কেমন ছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: খেলা শুরু হওয়ার পরও সমরেশ মাঠের মধ্যে উদভ্রান্তের মতো ছিল। তার অবচেতন মনে সারাক্ষণ গাধার কথাই ঘুরছিল। এমনকি সে প্রতিপক্ষের প্লেয়ারদের ছায়া দেখেও যেন গাধার কান দেখছে বলে ভুল করছিল। কুসংস্কারের প্রভাবে তার মনসংযোগে ব্যাঘাত ঘটছিল এবং সে নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারছিল না।

6. “খেলবি না গাধা খুঁজবি?”—বক্তা কে? তিনি কেন এ কথা বলেছিলেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: আলোচ্য উক্তিটির বক্তা হলো টুনু। খেলার মাঝপথে সমরেশ যখন বল ছেড়ে অন্যমনস্কভাবে মাঠের বাইরে বা আশেপাশে তাকাচ্ছিল, তখন টুনু বিরক্ত হয়ে এ কথা বলেছিল। টুনু চেয়েছিল সমরেশ গাধার কান মলার দুশ্চিন্তা ছেড়ে খেলার দিকে মন দিক এবং দলগত দক্ষতায় জিততে সাহায্য করুক।

7. টুনু কীভাবে টাউন স্কুলকে জয়ের পথে নিয়ে গিয়েছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: টুনু ছিল অত্যন্ত ক্ষিপ্র এবং দক্ষ খেলোয়াড়। সে সমরেশের মতো কোনো তুকতাকের ধার ধারত না। খেলার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সে দুর্ধর্ষ গতিতে বল কাটিয়ে গোলমুখে আক্রমণ করতে থাকে। টুনুর অসাধারণ ড্রিবলিং এবং দূরদর্শিতা মিশনের রক্ষণভাগকে তছনছ করে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত টাউন স্কুল 4-1 গোলে জয়লাভ করে।

8. টাউন স্কুলের 4-1 গোলে জয়ের তাৎপর্য কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: সমরেশ ভেবেছিল গাধার কান মলতে না পারায় তারা হেরে যাবে। কিন্তু বাস্তব ফলাফল হলো ঠিক তার উলটো—টাউন স্কুল 4-1 ব্যবধানে এক বিশাল জয় পায়। এই জয় প্রমাণ করে দেয় যে কুসংস্কার বা তুকতাক কোনো কাজের নয়; খেলায় জিততে গেলে প্রয়োজন দলগত পরিশ্রম, দক্ষতা এবং নিজেদের ওপর অটুট বিশ্বাস।

9. ‘গাধার কান’ গল্পটির নামকরণের সার্থকতা সংক্ষেপে আলোচনা করো।

উত্তর দেখো

উত্তর: গল্পের পুরো প্লটটি সমরেশের একটি অদ্ভুত জেদ বা কুসংস্কারকে ঘিরে গড়ে উঠেছে—যা হলো খেলার আগে গাধার কান মলা। এই গাধার কান মলার চেষ্টাই গল্পের গতি নির্ধারণ করে এবং শেষ পর্যন্ত এই সংস্কার যে কত বড় মূর্খতা তা জয়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। যেহেতু গাধার কান মলার বিষয়টিকে ঘিরেই গল্পের মূল দ্বন্দ্ব ও সমাধান আবর্তিত হয়েছে, তাই নামকরণটি অত্যন্ত সার্থক।

10. গিরীন দা চরিত্রটি সম্পর্কে কী জানা যায়?

উত্তর দেখো

উত্তর: গিরীন দা ছিলেন টাউন স্কুলের একজন সিনিয়র খেলোয়াড় এবং অভিজ্ঞ নেতৃত্ব। তিনি দলের ছেলেদের উৎসাহ জোগাতেন এবং সমরেশের মতো ছেলেদের কুসংস্কার সম্পর্কেও সচেতন ছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন সমরেশ যেন নিজের তুকতাকের দুশ্চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে খেলার ময়দানে আসল শক্তি দেখায়।

11. সমরেশ কেন বারবার বল ছেড়ে মাঠের পাশে তাকাচ্ছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: সমরেশ মনেপ্রাণে বিশ্বাস করত গাধার কান না মলার কারণেই টাউন স্কুল বিপদে পড়তে পারে। তাই খেলার উত্তেজনার মাঝেও সে অবচেতনভাবে মাঠের বাইরে কোনো গাধার সন্ধান করছিল। তার এই অতিপ্রাকৃত শক্তির ওপর অহেতুক নির্ভরতা তাকে আসল খেলা থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছিল।

12. ‘গাধার কান’ গল্পের মাধ্যমে লেখক আমাদের কী বার্তা দিতে চেয়েছেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: লেখক শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এই গল্পের মাধ্যমে কিশোর মনের অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারকে ব্যঙ্গ করেছেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে কোনো অলৌকিক তুকতাক মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারে না। জীবনে সাফল্য বা জয় পাওয়ার একমাত্র পথ হলো সঠিক অনুশীলন, আত্মবিশ্বাস এবং নিজের কর্মদক্ষতার ওপর ভরসা রাখা।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার