মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

সপ্তম শ্রেণি: বাংলা, গাধার কান – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, বড় প্রশ্নত্তোর

অধ্যায়: গাধার কান

(দীর্ঘ / রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর – মান: 4)

নিচের প্রশ্নগুলির প্রাসঙ্গিক ও বিস্তারিত উত্তর দাও:

1. শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ‘গাধার কান’ গল্পটির নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।

উত্তর দেখো

উত্তর: সাহিত্যের নামকরণ সাধারণত রচনার মূল চরিত্র, ঘটনা বা অন্তর্নিহিত কোনো গভীর ব্যঞ্জনাকে নির্দেশ করে। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের আলোচ্য কিশোর গল্পটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আবর্তিত হয়েছে একটি অদ্ভুত কুসংস্কারকে কেন্দ্র করে—আর তা হলো খেলার আগে ‘গাধার কান’ মলা।
গল্পে টাউন স্কুল এবং মিশন স্কুলের মধ্যে ফুটবল খেলার ফাইনাল ম্যাচ ছিল। টাউন স্কুলের অন্যতম খেলোয়াড় সমরেশের বদ্ধমূল ধারণা ছিল যে, খেলার আগে গাধার কান মলতে পারলে (যাকে সে ‘তুক করা’ বলত) খেলায় জয় নিশ্চিত। কিন্তু ফাইনালের দিন সে অনেক খুঁজেও কোনো গাধা পায়নি। গাধার কান মলতে না পারায় সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং খেলায় মন দিতে পারে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টুনুর অসাধারণ দক্ষতায় টাউন স্কুল 4-1 গোলে জয়লাভ করে। এই জয় প্রমাণ করে দেয় যে গাধার কান মলার মতো কুসংস্কারের কোনো মূল্য নেই; খেলায় জিততে গেলে আসল প্রয়োজন দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস। যেহেতু সম্পূর্ণ গল্পটি গাধার কান মলার এই কুসংস্কার এবং তার পরিণতিকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে, তাই ‘গাধার কান’ নামকরণটি সম্পূর্ণ অর্থবহ, ব্যঞ্জনাধর্মী এবং সার্থক হয়েছে।

2. “খেলবি না গাধা খুঁজবি?” — কে, কাকে এ কথা বলেছিল? এমন মন্তব্যের কারণ কী? এর পরিণতি কী হয়েছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: বক্তা: উদ্ধৃত কথাটি টাউন স্কুলের দুর্দান্ত ফুটবল খেলোয়াড় টুনু তার সহখেলোয়াড় সমরেশকে বলেছিল।
কারণ: সমরেশ ছিল প্রবল কুসংস্কারাচ্ছন্ন। তার বিশ্বাস ছিল খেলার আগে গাধার কান মললে দল জিতবে। কিন্তু ফাইনালের দিন সে গাধা না পাওয়ায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। খেলা শুরু হওয়ার পরও তার অবচেতন মন গাধার কান খুঁজছিল। খেলার মাঠে যখন তার পায়ে বল আসছিল, তখন সে বল ছেড়ে অন্যমনস্কভাবে মাঠের বাইরে তাকাচ্ছিল বা প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের ছায়া দেখে বিভ্রান্ত হচ্ছিল। তার এই অমনোযোগ ও বোকামি দেখেই টুনু বিরক্ত হয়ে মাঠের মাঝখানে তাকে এই কথাটি বলেছিল।
পরিণতি: টুনুর এই ধমক সমরেশকে তার কুসংস্কারের ঘোর থেকে কিছুটা বাস্তবে ফিরিয়ে আনে। টুনু এরপর নিজেই খেলার দায়িত্ব তুলে নেয় এবং দুর্দান্ত ড্রিবলিং ও ক্ষিপ্রতার সাহায্যে একাই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে দেয়। শেষ পর্যন্ত টুনুর অসামান্য দক্ষতায় টাউন স্কুল 4-1 গোলে জয়লাভ করে।

3. সমরেশ এবং টুনুর চরিত্রের তুলনামূলক আলোচনা করে বুঝিয়ে দাও গল্পে কে প্রকৃত খেলোয়াড়।

উত্তর দেখো

উত্তর: ‘গাধার কান’ গল্পে সমরেশ এবং টুনু দুজনেই টাউন স্কুলের খেলোয়াড় হলেও তাদের মানসিকতা ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত।
সমরেশ: সমরেশ মানসিকভাবে ছিল অত্যন্ত দুর্বল এবং অন্ধবিশ্বাসী। নিজের খেলার দক্ষতার ওপর তার যতটা না ভরসা ছিল, তার চেয়ে ঢের বেশি ভরসা ছিল তুকতাক বা গাধার কান মলার ওপর। গাধা না পেয়ে সে খেলার আগেই মানসিকভাবে হেরে যায় এবং মাঠের ভেতরেও চূড়ান্ত অমনোযোগিতার পরিচয় দেয়।
টুনু: অন্যদিকে, টুনু ছিল একজন আধুনিক, আত্মবিশ্বাসী এবং লড়াকু খেলোয়াড়। সে সমরেশের কুসংস্কারকে ব্যঙ্গ করে হাস উড়িয়ে দেয়। তার কাছে ‘তুক’ নয়, বরং নিজের পায়ের জোর, কৌশল এবং জেদটাই আসল ছিল। সে একা হাতে (বা পায়ে) দলের হাল ধরে এবং দলকে 4-1 গোলে জেতায়।
তাই নির্দ্বিধায় বলা যায়, নিজের ওপর অগাধ বিশ্বাস এবং অসামান্য ক্রীড়ানৈপুণ্যের অধিকারী টুনুই হলো গল্পের প্রকৃত খেলোয়াড় ও আসল নায়ক।

4. ‘গাধার কান’ গল্পের মূল শিক্ষা বা অন্তর্নিহিত বার্তাটি নিজের ভাষায় বিশ্লেষণ করো।

উত্তর দেখো

উত্তর: শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ‘গাধার কান’ গল্পের মাধ্যমে সমাজ তথা কিশোরদের মন থেকে অন্ধবিশ্বাস দূর করার এক জোরালো বার্তা দিয়েছেন।
খেলার মাঠে বা জীবনের যেকোনো ক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য কুসংস্কার, তুকতাক বা কোনো অতিপ্রাকৃত শক্তির ওপর ভরসা করাটা চরম বোকামি। সমরেশ ভেবেছিল গাধার কান মলতে পারেনি বলে তার দল নিশ্চিত হারবে। কিন্তু টুনু প্রমাণ করে দেয় যে, সাফল্য কোনো জাদুর জোরে আসে না। এর জন্য প্রয়োজন কঠোর অনুশীলন, নিজস্ব দক্ষতা, জেদ এবং অটুট আত্মবিশ্বাস। কোনো গাধার কান মলা ছাড়াই টাউন স্কুল যেভাবে 4-1 গোলে ফাইনালে জয়লাভ করল, তা আমাদের এই শিক্ষাই দেয় যে— মানুষের আসল জোর তার নিজের মনের জোর এবং কর্মদক্ষতা। কুসংস্কার মানুষকে কেবল দুর্বল করে, আর আত্মবিশ্বাস মানুষকে জয়ের শিখরে পৌঁছে দেয়।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার