সপ্তম শ্রেণি: ভূগোল, অধ্যায় -8 মাটি দূষণ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
অধ্যায় 8: মাটি দূষণ
(সংক্ষিপ্ত ও বিশ্লেষণমূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 2/3)
✍️ 2/3 নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ 14টি প্রশ্নোত্তর:
1. মাটি দূষণ বলতে কী বোঝো?
উত্তর: মাটির সাথে বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ বা আবর্জনা মিশে যাওয়ার ফলে যখন মাটির স্বাভাবিক গুণাগুণ ও উর্বরতা নষ্ট হয়ে যায় এবং মাটি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে, তখন তাকে মাটি দূষণ বলে।
2. কৃষিকাজ কীভাবে মাটি দূষণ ঘটায়?
উত্তর: কৃষিতে ফলন বাড়াতে ব্যবহৃত অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও বিষাক্ত কীটনাশক মাটির গভীরে প্রবেশ করে মাটির অম্লতা বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে মাটির উপকারী অণুজীব ও কেঁচো মারা যায় এবং মাটির প্রাকৃতিক উর্বরতা কমে যায়।
3. প্লাস্টিক ও পলিথিন মাটির কী ক্ষতি করে?
উত্তর: প্লাস্টিক ও পলিথিন মাটিতে পচে যায় না। এগুলি মাটির নিচে একটি আস্তরণ তৈরি করে বৃষ্টির জলকে মাটির গভীরে যেতে বাধা দেয়। এর ফলে মাটির জলধারণ ক্ষমতা কমে যায় এবং উদ্ভিদের শিকড় মাটির গভীরে প্রবেশ করতে পারে না।
4. হাসপাতালের বর্জ্য কেন মাটির জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক?
উত্তর: হাসপাতালের বর্জ্যে (যেমন— ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, ব্যান্ডেজ, ওষুধ) প্রচুর পরিমাণে সংক্রামক জীবাণু ও বিষাক্ত রাসায়নিক থাকে। এগুলি মাটিতে ফেললে মাটির মাধ্যমে রোগ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে এবং মাটির স্বাভাবিক জৈব চক্র ব্যাহত হয়।
5. মৃত্তিকা সংরক্ষণ কাকে বলে?
উত্তর: যে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতির মাধ্যমে মাটিকে দূষণ ও ক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করে তার উর্বরতা ও গুণাগুণ বজায় রাখা হয়, তাকে মৃত্তিকা সংরক্ষণ বলে।
6. শস্যবর্তন পদ্ধতির গুরুত্ব লেখো।
উত্তর: একই জমিতে বারবার একই ফসল চাষ না করে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ফসল চাষ করার পদ্ধতিকে শস্যবর্তন বলে। বিশেষ করে ডাল জাতীয় ফসল চাষ করলে মাটিতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং মাটির উর্বরতা স্বাভাবিকভাবে বজায় থাকে।
7. ধাপ চাষ কীভাবে মৃত্তিকা ক্ষয় রোধ করে?
উত্তর: পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড়ের ঢালু গায়ে সিড়ির মতো ধাপ কেটে চাষবাস করাকে ধাপ চাষ বলে। এর ফলে বৃষ্টির জল পাহাড়ের ঢাল বেয়ে সরাসরি নামতে পারে না, ফলে মাটির ওপরের স্তরের ক্ষয় অনেক কমে যায়।
8. মাটির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার দুটি প্রধান ফলাফল লেখো।
উত্তর: (i) ফসল উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে যায় এবং খাদ্যের সংকট দেখা দেয়। (ii) মাটির প্রাকৃতিক গঠন নষ্ট হয়ে যায়, ফলে মাটিতে ছোট ছোট গাছ বা ঘাস জন্মানো কঠিন হয়ে পড়ে এবং মরুভূমির বিস্তার ঘটতে পারে।
9. ইলেকট্রনিক বর্জ্য বা ই-বর্জ্য মাটির কী ক্ষতি করে?
উত্তর: পরিত্যক্ত কম্পিউটার, মোবাইল ফোন বা ব্যাটারিতে সিসা, ক্যাডমিয়াম ও লিথিয়ামের মতো বিষাক্ত ধাতু থাকে। এগুলি মাটিতে মিশলে মাটির খাদ্যশৃঙ্খলে বিষক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং ভূগর্ভস্থ জলকেও বিষাক্ত করে তোলে।
10. বনসৃজন মৃত্তিকা রক্ষায় কেন প্রয়োজন?
উত্তর: গাছের শিকড় মাটিকে আঁকড়ে ধরে রাখে, যা বৃষ্টির জল বা হাওয়ার তোড়ে মাটি ধুয়ে যাওয়া রোধ করে। এছাড়া গাছের ঝরা পাতা পচে গিয়ে মাটিতে হিউমাস বা জৈব উপাদান বাড়িয়ে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে।
11. অত্যাধিক পশুচারণ মাটির কী ক্ষতি করে?
উত্তর: গবাদি পশুর খুরের আঘাতে মাটির ওপরের শক্ত আস্তরণ ভেঙে যায় এবং মাটি আলগা হয়ে পড়ে। ফলে বৃষ্টি বা বাতাসের প্রভাবে সেই মাটি সহজেই ক্ষয় হয়ে যায় এবং এলাকাটি মরুভূমিতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
12. শিল্পবর্জ্য কীভাবে মাটির উর্বরতা নষ্ট করে?
উত্তর: কলকারখানা থেকে নির্গত অ্যাসিড, সিসা ও পারদযুক্ত তরল বর্জ্য মাটিতে মিশলে মাটির রাসায়নিক গঠন বদলে যায়। এর ফলে মাটি উষর হয়ে পড়ে এবং সেখানে কোনো গাছপালা জন্মানো সম্ভব হয় না।
13. অম্লবৃষ্টি কীভাবে মাটি দূষণ ঘটায়?
উত্তর: বায়ু দূষণের ফলে বাতাসে জমে থাকা সালফার ডাই-অক্সাইড বৃষ্টির জলের সাথে মিশে যখন অ্যাসিড আকারে মাটিতে পড়ে, তখন মাটির পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়। এটি মাটির ক্ষারত্ব ও অম্লতার ভারসাম্যকে সম্পূর্ণ বদলে দেয়।
14. মাটি দূষণ প্রতিরোধের তিনটি সহজ উপায় লেখো।
উত্তর: (i) প্লাস্টিক বা পলিথিন ব্যাগের বদলে চটের বা কাগজের ব্যাগ ব্যবহার করা। (ii) রাসায়নিক সারের পরিবর্তে গোবর বা পচা লতাপাতা থেকে তৈরি জৈব সার ব্যবহার করা। (iii) আবর্জনা যত্রতত্র না ফেলে একটি নির্দিষ্ট স্থানে গর্ত করে জমা করা।