সপ্তম শ্রেণি: ভূগোল, অধ্যায় -8 মাটি দূষণ, রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর
অধ্যায় 8: মাটি দূষণ
(দীর্ঘ উত্তরধর্মী বা রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর – মান: 5)
📝 5 নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ 5টি প্রশ্নোত্তর:
1. মাটি দূষণের প্রধান কারণগুলি আলোচনা করো।
উত্তর: মাটি দূষণ মূলত মানুষের বিভিন্ন অপরিণামদর্শী কার্যকলাপের ফলে ঘটে থাকে। এর প্রধান কারণগুলি হলো:
- কৃষিজাত কারণ: ফসলের ফলন বাড়াতে জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও বিষাক্ত কীটনাশক প্রয়োগ করলে মাটির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হয়।
- শিল্পজাত বর্জ্য: কলকারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য, সিসা, পারদ ও অ্যাসিড মিশ্রিত জল মাটিতে মিশলে মাটির গঠন সম্পূর্ণ বদলে যায়।
- প্লাস্টিক ও পলিথিন: এগুলি অপচনশীল হওয়ার কারণে শত শত বছর মাটিতে পড়ে থাকে এবং মাটির জল ও বাতাস চলাচলের স্বাভাবিক পথ বন্ধ করে দেয়।
- গৃহস্থালির আবর্জনা: শহরের নর্দমার নোংরা জল ও প্রতিদিনের বর্জ্য পদার্থ যত্রতত্র ফেলার ফলে মাটি বিষাক্ত হয়ে ওঠে।
- বনভূমি ধ্বংস: নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে মাটির ওপরের স্তর আলগা হয়ে যায় এবং বৃষ্টির জলে তা ধুয়ে গিয়ে মাটি তার উর্বরতা হারায়।
2. পরিবেশ ও মানুষের ওপর মাটি দূষণের প্রভাবগুলি বিস্তারিত আলোচনা করো।
উত্তর: মাটি দূষণের ফলাফল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী এবং বিপজ্জনক:
- মাটির উর্বরতা হ্রাস: দূষণের ফলে মাটির উপকারী অণুজীব ও কেঁচো মারা যায়, যার ফলে চাষবাসের ক্ষতি হয়।
- খাদ্যশৃঙ্খলে বিষক্রিয়া: মাটি থেকে বিষাক্ত রাসায়নিক উদ্ভিদের মাধ্যমে আমাদের খাদ্যতালিকায় ঢুকে পড়ে এবং ক্যানসার বা অঙ্গ বিকল হওয়ার মতো মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করে।
- উদ্ভিদ জগতের ক্ষতি: দূষিত মাটিতে গাছপালা ঠিকমতো পুষ্টি পায় না, ফলে বনাঞ্চল কমে যায় এবং বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হয়।
- ভূগর্ভস্থ জলের দূষণ: মাটির বিষাক্ত পদার্থ বৃষ্টির জলের সাথে চুইয়ে নিচে গিয়ে পানীয় জলকেও বিষাক্ত করে তোলে।
- মরুভূমির বিস্তার: ক্রমাগত মৃত্তিকা ক্ষয়ের ফলে উর্বর জমি অনুর্বর হয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে মরুভূমিতে পরিণত হয়।
3. মাটি দূষণ প্রতিরোধের বা মৃত্তিকা সংরক্ষণের উপায়গুলি আলোচনা করো।
উত্তর: ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে মাটির সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি:
- জৈব চাষের ব্যবহার: রাসায়নিক সারের বদলে গোবর সার বা কম্পোস্ট সারের ব্যবহার বাড়াতে হবে।
- প্লাস্টিক বর্জন: প্লাস্টিক বা পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করে চট বা কাগজের ব্যাগ ব্যবহার করতে হবে।
- বনসৃজন: বেশি করে গাছ লাগাতে হবে, কারণ গাছের শিকড় মাটিকে আঁকড়ে ধরে রেখে মৃত্তিকা ক্ষয় রোধ করে।
- আবর্জনা শোধন: শিল্প বর্জ্য ও গৃহস্থালির আবর্জনা যত্রতত্র না ফেলে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে নির্দিষ্ট স্থানে গর্ত করে চাপা দিতে হবে।
- সচেতনতা বৃদ্ধি: সাধারণ মানুষকে মাটির গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করতে হবে এবং পশুচারণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
4. মৃত্তিকা ক্ষয়ের কারণ ও ফলাফলগুলি সংক্ষেপে বর্ণনা করো।
কারণ: প্রবল বৃষ্টিপাত, বায়ুপ্রবাহ এবং ঢালু জমিতে জলপ্রবাহের ফলে মাটির ওপরের উর্বর স্তর সরে যায়। এছাড়া নির্বিচারে গাছ কাটা ও অত্যাধিক পশুচারণের ফলে মৃত্তিকা ক্ষয় বাড়ে।
ফলাফল:
- মাটির উর্বরতা কমে যায় এবং চাষের ফলন অনেক হ্রাস পায়।
- নদী বা জলাশয়ে পলি জমে যাওয়ার ফলে বন্যার প্রকোপ বৃদ্ধি পায়।
- ভূপৃষ্ঠের সমতা নষ্ট হয় এবং চাষের জমি বড় বড় নালায় পরিণত হয়।
5. বর্জ্য পদার্থের বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থাপনাই পারে মাটিকে রক্ষা করতে— ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মাটি দূষণ রোধের একটি প্রধান অস্ত্র। এর জন্য তিনটি বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে:
- বর্জ্যের পরিমাণ কমানো: আমরা যাতে কম বর্জ্য তৈরি করি সেদিকে খেয়াল রাখা (যেমন— ওয়ান টাইম প্লাস্টিক এড়িয়ে চলা)।
- পুনরায় ব্যবহার: অনেক বর্জ্য পদার্থ সরাসরি না ফেলে সেগুলিকে ধুয়ে বা পরিষ্কার করে আবার ব্যবহার করা যেতে পারে।
- পুনর্নবীকরণ: লোহা, কাগজ বা প্লাস্টিককে কারখানায় গলিয়ে আবার নতুন দ্রব্য তৈরি করলে মাটির ওপর আবর্জনার চাপ কমে।
- জৈব সার তৈরি: শাকসবজির খোসা বা পচনশীল আবর্জনা মাটিতে গর্ত করে চাপা দিয়ে রাখা হলে তা চমৎকার সার হিসেবে কাজ করে।