মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

সপ্তম শ্রেণি: বাংলা, বঙ্গভূমির প্রতি – মাইকেল মধুসূদন দত্ত, সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

বঙ্গভূমির প্রতি: সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (15 টি)

1. “রেখ মা দাসেরে মনে”—এখানে কবি নিজেকে ‘দাস’ বলেছেন কেন?

উত্তর

উত্তর: কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত নিজের মাতৃভূমি বঙ্গদেশকে মা হিসেবে কল্পনা করেছেন। মায়ের কাছে সন্তান যেমন বিনম্র থাকে, কবিও তেমনি **অত্যন্ত বিনয় ও ভক্তির সঙ্গে** নিজেকে দেশমাতার সেবক বা **‘দাস’** হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।

2. “মক্ষিকাও গলে না গো পড়িলে অমৃত-হ্রদে”—উক্তিটির তাৎপর্য কী?

উত্তর

উত্তর: কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, কোনো সামান্য মাছিও যদি অমৃতের হ্রদে পড়ে তবে সে যেমন অমর হয়ে যায় এবং মরে না, তেমনি কোনো মানুষ যদি **দেশমাতার আশীর্বাদ ও ভালোবাসা** পায়, তবে সে **মৃত্যুর পরেও অমর হয়ে থাকে**।

3. কবি কেন বলেছেন যে মানুষের তনু বা শরীর চিরস্থায়ী নয়?

উত্তর

উত্তর: মহাকবি মধুসূদন দত্ত জীবনের নশ্বরতাকে তুলে ধরেছেন। মানুষ জন্মালে তাকে মরতেই হবে। **পদ্মপাতার ওপর জল** যেমন সাময়িক ও অস্থির, মানুষের **জীবনও ঠিক তেমনি ক্ষণস্থায়ী**। এই নশ্বর শরীর একদিন মাটিতে মিশে যাবেই।

4. যমরাজ বা শমনকে কবি ভয় পান না কেন?

উত্তর

উত্তর: কবি বিশ্বাস করেন যে, যদি তাঁর জন্মভূমি তাঁকে মনে রাখে এবং তাঁর দোষ ক্ষমা করে হৃদয়ে স্থান দেয়, তবে **মৃত্যু তাঁকে স্পর্শ করতে পারবে না**। দেশমাতার স্মৃতিতে বেঁচে থাকার আশ্বাসে তিনি **যমরাজকেও ভয় পান না**।

5. “হেন গুণ নাই মাগো”—কবি কেন নিজের গুণের অভাবের কথা বলেছেন?

উত্তর

উত্তর: এটি কবির **অত্যন্ত বিনয় ও নম্রতার প্রকাশ**। কবি মনে করেন তাঁর এমন কোনো মহৎ গুণ নেই যার জন্য দেশমাতা তাঁকে অমরত্বের বর দেবেন। তিনি নিজেকে কেবল **একজন সাধারণ অপরাধী সন্তান** হিসেবেই মায়ের সামনে তুলে ধরেছেন।

6. “বর দেহ দাসে, বরদে”—এখানে ‘বরদে’ শব্দের প্রয়োগ সার্থক কেন?

উত্তর

উত্তর: ‘বরদে’ শব্দের অর্থ হলো যিনি আশীর্বাদ বা বর দান করেন। বঙ্গভূমিকে কবি এই নামে সম্বোধন করেছেন কারণ **মা যেমন সন্তানকে ক্ষমা ও আশিস দেন**, জন্মভূমি বঙ্গভূমিও তেমনি কবিকে **অমরত্বের আশীর্বাদ দিতে পারেন**।

7. কবি কীভাবে মানুষের হৃদয়ে বা ‘মন-কোকনদে’ ফুটে থাকতে চান?

উত্তর

উত্তর: কবি আশা প্রকাশ করেছেন যে শরৎকালের স্বচ্ছ জলাশয়ে যেমন **লাল পদ্ম (কোকনদ)** ফুটে থাকে, তেমনি তিনিও যেন বাঙালির **স্মৃতি ও অন্তরের মণিকোঠায়** এক সুন্দর ও পবিত্র অনুভূতির মতো চিরকাল ফুটে থাকতে পারেন।

8. “মধুহীন করো না গো”—এই উক্তির মধ্য দিয়ে কবির কোন আকাঙ্ক্ষা প্রকাশিত হয়েছে?

উত্তর

উত্তর: এখানে ‘মধু’ বলতে কবি নিজের নাম **‘মধুসূদন’**-কে বুঝিয়েছেন। তাঁর বিনম্র প্রার্থনা হলো বঙ্গজননী যেন তাঁর এই সন্তানকে **বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে না দেন**। তাঁর নাম যেন বাঙালির হৃদয়ে চির জাগরুক থাকে।

9. কবি প্রবাসে যাওয়ার সময় বঙ্গভূমির কাছে কী মিনতি জানিয়েছেন?

উত্তর

উত্তর: কবি মিনতি জানিয়েছেন যে যদি সুদূর প্রবাসে তাঁর মৃত্যুও ঘটে, তবুও দেশমাতা যেন তাঁকে **ভুলে না যান**। তিনি যেন অন্তত **মায়ের স্মৃতিতে টিকে থাকতে পারেন**, এই সামান্য আশীর্বাদই তিনি চেয়েছিলেন।

10. “জন্মিলে মরিতে হবে”—এই চিরন্তন সত্যটি কবিতায় ব্যবহারের উদ্দেশ্য কী?

উত্তর

উত্তর: এই সত্যটি ব্যবহারের মাধ্যমে কবি নিজের **মৃত্যুর প্রস্তুতি এবং বিনয়** প্রকাশ করেছেন। তিনি জানেন যে মৃত্যু অনিবার্য, তাই তিনি অমরত্বের জন্য কোনো অতিপ্রাকৃত শক্তি নয়, বরং মানুষের **ভালোবাসা ও স্মৃতিকেই শ্রেষ্ঠ পাথেয়** মনে করেছেন।

11. ‘বঙ্গভূমির প্রতি’ কবিতায় বঙ্গভূমিকে কীভাবে চিত্রিত করা হয়েছে?

উত্তর

উত্তর: কবিতায় বঙ্গভূমিকে একজন **দয়াময়ী, আশীর্বাদকারিণী মা** হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। তিনি সন্তানের সব অপরাধ ক্ষমা করে তাকে নিজের আঁচলের তলে অর্থাৎ **স্মৃতির মন্দিরে আশ্রয় দিতে পারেন**—এমন এক মাতৃমূর্তিতেই তিনি ধরা দিয়েছেন।

12. “তামরস” শব্দের অর্থ কী এবং এটি কিসের প্রতীক?

উত্তর

উত্তর: ‘তামরস’ শব্দের অর্থ হলো **পদ্মফুল**। এটি এখানে **শুভ্রতা, পবিত্রতা এবং যশের প্রতীক** হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। কবি চেয়েছেন তাঁর স্মৃতি যেন এই পদ্মফুলের মতো বাঙালির হৃদয়ে অমলিন ও পবিত্র হয়ে থাকে।

13. কবি মধুসূদন দত্ত কেন নিজেকে দোষী মনে করেছেন?

উত্তর

উত্তর: কবি যৌবনে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির মোহে পড়ে নিজের **ভাষা ও জন্মভূমিকে অবজ্ঞা করেছিলেন**। প্রবাসে গিয়ে তিনি যখন নিজের ভুল বুঝতে পারেন, তখন সেই **দেশত্যাগের অনুশোচনা** থেকেই তিনি নিজেকে অপরাধী বা দোষী মনে করেছেন।

14. “জীবন-নদে” শব্দটির মাধ্যমে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?

উত্তর

উত্তর: ‘জীবন-নদে’ বলতে কবি **জীবনের প্রবাহকে নদীর সঙ্গে** তুলনা করেছেন। নদীর জল যেমন বহমান এবং স্থির নয়, মানুষের জীবনও তেমনি **চঞ্চল ও পরিবর্তনশীল**। এই বহমান জীবনের অনিশ্চয়তাকেই কবি এখানে ফুটিয়ে তুলেছেন।

15. ‘বঙ্গভূমির প্রতি’ কবিতার মূল উপজীব্য বিষয় কী?

উত্তর

উত্তর: এই কবিতার মূল বিষয় হলো **স্বদেশপ্রেম এবং বিনম্র আত্মনিবেদন**। কবির একান্ত ইচ্ছা হলো দেশজননীর চরণে আশ্রয় পাওয়া এবং নিজের ভুল সংশোধনের মাধ্যমে বাঙালির **হৃদয়ে চিরস্থায়ী স্থান লাভ করা**।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার