মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

সপ্তম শ্রেণি: বাংলা, স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী – কমলা দাশগুপ্ত, রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর

অধ্যায়: স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী

(দীর্ঘ / রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর – মান: 5)

নিচের প্রশ্নগুলির প্রাসঙ্গিক ও বিস্তারিত উত্তর দাও:

1. ‘স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী’ পাঠ্যাংশে ননীবালা দেবীর অসীম সাহসিকতা এবং আত্মত্যাগের যে পরিচয় পাওয়া যায়, তা নিজের ভাষায় আলোচনা করো।

উত্তর দেখো

উত্তর: কমলা দাশগুপ্ত রচিত ‘স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী’ প্রবন্ধে ননীবালা দেবী একজন অকুতোভয় বীরাঙ্গনা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন।
বিপ্লবীদের অস্ত্র উদ্ধারের জন্য তিনি চরম সাহসের পরিচয় দিয়ে পলাতক বিপ্লবী রামচন্দ্র মজুমদারের স্ত্রী সেজে প্রেসিডেন্সি জেলে যান। পুলিশের কড়া পাহারার মধ্যেও তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে রামচন্দ্রবাবুর কাছ থেকে লুকিয়ে রাখা গুপ্ত মাউজার পিস্তলের খবর বের করে আনেন। পরবর্তীকালে পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর তাঁর ওপর চরম অমানবিক অত্যাচার শুরু হয়। পুলিশের স্পেশাল সুপারিন্টেনডেন্ট রামসদয় বাবু তাঁকে জেলের একটি অন্ধকার আন্ডারগ্রাউন্ড সেলে আটকে রেখে জেরা করেন। কিন্তু শত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করেও তিনি বিপ্লবীদের কোনো গোপন তথ্য ফাঁস করেননি।
এছাড়াও জেলের সুপারিন্টেনডেন্ট গোল্ডির হাতে চড় খাওয়ার পর রাজবন্দি হিসেবে নিজের মর্যাদা রক্ষার জন্য (বামুনের হাতে রান্নার দাবিতে) তিনি একটানা ২১ দিন অনশন করেন। ননীবালা দেবীর এই নির্বাক সহ্যশক্তি, বিপ্লবীদের প্রতি চরম আনুগত্য এবং দেশের প্রতি নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ তাঁকে ভারতের প্রথম মহিলা ‘স্টেট প্রিজনার’ বা রাজবন্দির সম্মানে ভূষিত করেছে।

2. বীরাঙ্গনা দুকড়িবালা দেবীর স্বাধীনতা সংগ্রামে কীরূপ ভূমিকা ছিল তা ‘স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী’ প্রবন্ধ অবলম্বনে লেখো।

উত্তর দেখো

উত্তর: কমলা দাশগুপ্তের লেখা ‘স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী’ প্রবন্ধ থেকে বীরাঙ্গনা দুকড়িবালা দেবীর স্বাধীনতা সংগ্রামে সক্রিয় ও দুঃসাহসিক অংশগ্রহণের কাহিনি জানা যায়।
দুকড়িবালা দেবী তাঁর ভাইপো নিবারণ ঘটকের বৈপ্লবিক আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে স্বদেশি মন্ত্রে দীক্ষা নিয়েছিলেন। সেই সময় বিপ্লবীরা দেশের কাজে ব্যবহারের জন্য রডা কোম্পানি থেকে অস্ত্র লুট করেছিলেন। নিবারণ ঘটকের কথায় দুকড়িবালা দেবী চরম ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও পরম সাহসিকতার সঙ্গে ৭টি মাউজার পিস্তল নিজের হেফাজতে লুকিয়ে রেখেছিলেন। তিনি জানতেন এই কাজের পরিণতি কতটা ভয়ংকর হতে পারে। অবশেষে পুলিশ খবর পেয়ে তাঁর বাড়ি তল্লাশি করে এবং ওই ৭টি পিস্তল উদ্ধার করে। এর পরিণতিতে দুকড়িবালা দেবীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অস্ত্র আইন বা আর্মস অ্যাক্টে দোষী সাব্যস্ত করে বিচারে তাঁকে দু-বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। হাসিমুখে দেশের জন্য তাঁর এই কারাবরণ স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর অমূল্য অবদানের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।

3. ননীবালা দেবী এবং দুকড়িবালা দেবীর জীবনের মধ্যে দিয়ে লেখিকা কমলা দাশগুপ্ত তৎকালীন সমাজের নারীদের কোন্ চিত্র তুলে ধরেছেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: লেখিকা কমলা দাশগুপ্ত তাঁর ‘স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী’ প্রবন্ধে ননীবালা দেবী ও দুকড়িবালা দেবীর জীবনের কাহিনির মধ্য দিয়ে তৎকালীন পরাধীন ভারতবর্ষের নারীদের এক অভূতপূর্ব জাগরণ ও সাহসিকতার চিত্র তুলে ধরেছেন।
তৎকালীন সমাজে নারীরা মূলত অন্দরমহলেই সীমাবদ্ধ থাকতেন। কিন্তু এই দুই বীরাঙ্গনার জীবন প্রমাণ করে যে, দেশের স্বাধীনতার ডাকে মহিলারা শুধু ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যে বসে থাকেননি। তাঁরা পুরুষ বিপ্লবীদের মতোই সমান সাহসে সশস্ত্র স্বাধীনতা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। বিপ্লবীদের অস্ত্র লুকিয়ে রাখা, পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে গুপ্ত খবর সংগ্রহ করা এবং পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর অবর্ণনীয় অকথ্য অত্যাচার সহ্য করা—সবকিছুই তাঁরা হাসিমুখে মেনে নিয়েছিলেন। তাঁরা প্রমাণ করেছিলেন যে, দেশের জন্য চরম আত্মত্যাগ এবং কঠোর কারাবরণ করার ক্ষেত্রে বাঙালি নারীরা পুরুষদের থেকে কোনো অংশেই পিছিয়ে নেই। তাঁরা হয়ে উঠেছিলেন ভবিষ্যৎ নারী সমাজের এক জ্বলন্ত অনুপ্রেরণা।

4. “সেই পিস্তলগুলি দুকড়িবালা দেবী নিজের হেফাজতে রাখিলেন।” – কোন্ পিস্তলের কথা বলা হয়েছে? দুকড়িবালা দেবী কেন এবং কীভাবে পিস্তলগুলি নিজের কাছে রেখেছিলেন? এর পরিণতি কী হয়েছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: এখানে রডা কোম্পানি থেকে বিপ্লবীদের দ্বারা চুরি করা ৭টি মাউজার পিস্তলের কথা বলা হয়েছে।
দুকড়িবালা দেবী তাঁর ভাইপো বিপ্লবী নিবারণ ঘটকের কাছ থেকে স্বদেশি মন্ত্রে দীক্ষা নিয়েছিলেন। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের কাজে বিপ্লবীদের সাহায্য করার জন্য এবং পুলিশের কড়া নজরদারির হাত থেকে ওই মহামূল্যবান অস্ত্রগুলোকে সুরক্ষিত রাখার উদ্দেশ্যেই তিনি চরম ঝুঁকি নিয়ে পিস্তলগুলো নিজের হেফাজতে রেখেছিলেন।
পরিণতি: ব্রিটিশ পুলিশের কাছে এই খবর গোপন থাকেনি। তারা খবর পেয়ে দুকড়িবালা দেবীর বাড়ি ঘিরে ফেলে এবং তল্লাশি চালিয়ে পিস্তলগুলো উদ্ধার করে। এই অপরাধে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বিচারে অস্ত্র আইনে (আর্মস অ্যাক্টে) তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়।

5. প্রেসিডেন্সি জেলে ননীবালা দেবীর ওপর যে অবর্ণনীয় পুলিশি নির্যাতনের বর্ণনা পাঠ্যাংশে রয়েছে, তা নিজের ভাষায় বর্ণনা করো এবং এর বিরুদ্ধে তিনি কী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: ননীবালা দেবী পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর তাঁকে কলকাতার প্রেসিডেন্সি জেলে আনা হয়। বিপ্লবীদের গোপন ঘাঁটির খবর জানার জন্য পুলিশের স্পেশাল সুপারিন্টেনডেন্ট রামসদয় বাবু তাঁর ওপর পৈশাচিক অত্যাচার শুরু করেন। তাঁকে জেলের একটি অন্ধকার আন্ডারগ্রাউন্ড সেলে (মাটির নীচের নির্জন প্রকোষ্ঠে) আটকে রাখা হয়েছিল, যেখানে সূর্যের আলো পৌঁছাত না। আধঘণ্টা অন্তর অন্তর রামসদয় বাবু সেখানে গিয়ে তাঁকে ভয়ংকরভাবে জেরা করতেন এবং নানাভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। কিন্তু ননীবালা দেবী একটি কথাও বলেননি।

পদক্ষেপ: রাজবন্দি হিসেবে প্রাপ্য সম্মান না পাওয়ায় এবং একজন বামুন রান্নার লোকের দাবি করায় জেলের সুপারিন্টেনডেন্ট গোল্ডি তাঁকে সজোরে একটি চড় মারেন। এই চরম অপমান এবং অকথ্য নির্যাতনের প্রতিবাদে ননীবালা দেবী জেলের মধ্যে একটানা ২১ দিন জলস্পর্শ না করে ঐতিহাসিক অনশন করেছিলেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার