সপ্তম শ্রেণি: ভূগোল, অধ্যায় – 6 শিলা ও মাটি, রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর
অধ্যায় 6: শিলা ও মাটি
(দীর্ঘ উত্তরধর্মী বা রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর – মান: 5)
📝 5 নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ 6টি প্রশ্নোত্তর:
1. শিলার সংজ্ঞা দাও। উৎপত্তি অনুসারে শিলার শ্রেণিবিভাগ করে আলোচনা করো।
শিলা: এক বা একাধিক খনিজ পদার্থের মিশ্রণে গঠিত ভূত্বকের কঠিন উপাদানকে শিলা বলে। উৎপত্তি অনুসারে শিলাকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়:
- আগ্নেয় শিলা: পৃথিবী সৃষ্টির সময় উত্তপ্ত ও তরল ম্যাগমা জমাট বেঁধে এই শিলা তৈরি হয়। একে আদি শিলাও বলে। যেমন— গ্রানাইট, ব্যাসল্ট।
- পাললিক শিলা: পলি স্তরে স্তরে জমা হয়ে এই শিলা তৈরি হয়। এতে জীবশ্ম দেখা যায়। যেমন— বেলেপাথর, চুনাপাথর।
- রূপান্তরিত শিলা: আগ্নেয় বা পাললিক শিলা প্রচণ্ড তাপ ও চাপে পরিবর্তিত হয়ে এই শিলা গঠন করে। যেমন— মার্বেল, স্লেট।
2. চিত্রসহ শিলাচক্র (Rock Cycle) বর্ণনা করো।
শিলাচক্র: প্রকৃতিতে শিলা এক রূপ থেকে অন্য রূপে ক্রমাগত পরিবর্তিত হয়ে চলেছে, এই চক্রাকার আবর্তনকে শিলাচক্র বলে।
- ম্যাগমা ঠান্ডা হয়ে আগ্নেয় শিলা তৈরি হয়।
- আবহবিকারের ফলে এই শিলা চূর্ণ হয়ে পলিতে পরিণত হয় এবং পরে তা পাললিক শিলা গঠন করে।
- তাপ ও চাপে এই দুই প্রকার শিলা রূপান্তরিত হয়ে রূপান্তরিত শিলা তৈরি করে।
- আবার প্রচণ্ড তাপে রূপান্তরিত শিলা গলে গিয়ে পুনরায় ম্যাগমায় পরিণত হয়। এভাবেই চক্রটি চলতে থাকে।
3. মাটি বা মৃত্তিকা তৈরির প্রক্রিয়া বা ধাপগুলি বিস্তারিত আলোচনা করো।
মাটি তৈরির ধাপ: শিলা থেকে মাটি তৈরি একটি ধীর প্রক্রিয়া (পেডোজেনেসিস), যা কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়:
- আবহবিকার: রোদ, বৃষ্টি ও বায়ুর প্রভাবে আদি শিলা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে রেগোলিথ তৈরি করে।
- জৈব পদার্থের সংযোজন: রেগোলিথের সাথে মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ মিশে হিউমাস তৈরি হয়।
- জৈব-রাসায়নিক বিক্রিয়া: হিউমাস ও খনিজ পদার্থের মধ্যে বিক্রিয়ার ফলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।
- স্তর গঠন: দীর্ঘ সময় ধরে খনিজ পদার্থ ও জল চলাচলের ফলে মাটিতে নির্দিষ্ট স্তর বা প্রোফাইল তৈরি হয়।
4. মৃত্তিকা গঠনের প্রধান নিয়ন্ত্রকগুলি আলোচনা করো।
নিয়ন্ত্রকসমূহ: মৃত্তিকা বিজ্ঞানীদের মতে মাটির চরিত্র পাঁচটি প্রধান উপাদানের ওপর নির্ভর করে:
- জলবায়ু: উষ্ণতা ও বৃষ্টিপাত শিলার আবহবিকারের গতি নিয়ন্ত্রণ করে।
- আদি শিলা: আদি শিলার রং ও খনিজের ওপর ভিত্তি করে মাটির রং ও গুণাগুণ ঠিক হয়।
- ভূ-প্রকৃতি: খাড়া ঢালে মাটি সঞ্চিত হতে পারে না, তাই সেখানে মাটির স্তর পাতলা হয়।
- জৈব পদার্থ: উদ্ভিদ ও অণুজীবের উপস্থিতিতে মাটির উর্বরতা ও হিউমাস নির্ধারিত হয়।
- সময়: মাটি তৈরিতে কয়েকশ বছর সময় লাগে, যত বেশি সময় পাওয়া যায় মাটি তত পরিণত হয়।
5. চিত্রসহ মৃত্তিকা পরিলেখ (Soil Profile) বর্ণনা করো।
মৃত্তিকা পরিলেখ: ভূপৃষ্ঠ থেকে ভূগর্ভের আদি শিলা পর্যন্ত মাটির উলম্ব স্তরবিন্যাসকে পরিলেখ বলে। এর স্তরগুলো হলো:
- O-স্তর: মাটির একদম ওপরের জৈব স্তর যেখানে পাতা পচে থাকে।
- A-স্তর: এটি উপরিস্তর বা ধোয়া-মোছা স্তর (Eluviation), এখান থেকে খনিজ নিচে ধুইয়ে যায়।
- B-স্তর: এটি সঞ্চয় স্তর (Iluviation), যেখানে ওপর থেকে আসা খনিজ জমা হয়।
- C-স্তর: এখানে চূর্ণ-বিচূর্ণ আদি শিলা বা রেগোলিথ থাকে।
- D/R-স্তর: এটি একদম নিচের কঠিন আদি শিলার স্তর।
6. আগ্নেয় ও পাললিক শিলার মধ্যে প্রধান পাঁচটি পার্থক্য লেখো।
| বিষয় | আগ্নেয় শিলা | পাললিক শিলা |
|---|---|---|
| উৎপত্তি | ম্যাগমা জমাট বেঁধে তৈরি। | পলি সঞ্চিত হয়ে তৈরি। |
| গঠন | স্তরবিহীন ও দানাদার। | স্তরযুক্ত ও অদানাদার। |
| জীবশ্ম | দেখা যায় না। | দেখা যায়। |
| কঠিনতা | খুব শক্ত ও ভারী। | নরম ও হালকা। |
| উদাহরণ | গ্রানাইট, ব্যাসল্ট। | বেলেপাথর, চুনাপাথর। |