সপ্তম শ্রেণি: ভূগোল, অধ্যায় – 7, মাটি দূষণ, রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর
অধ্যায় 7: জল দূষণ
(দীর্ঘ উত্তরধর্মী বা রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর – মান: 5)
📝 5 নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ 5টি প্রশ্নোত্তর:
1. জল দূষণের প্রধান কারণগুলি আলোচনা করো।
উত্তর: জল দূষণ মূলত তিনটি প্রধান উৎস থেকে ঘটে থাকে:
[Image showing sources of water pollution: industrial, agricultural and domestic]
- গৃহস্থালির বর্জ্য: শহর ও গ্রামের নর্দমার নোংরা জল, জামাকাপড় কাচার সাবান ও ডিটারজেন্ট সরাসরি নদী বা পুকুরে মিশে জল দূষিত করে।
- শিল্পজাত বর্জ্য: চর্মশিল্প, রাসায়নিক সার কারখানা ও রঙ কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য (যেমন- সিসা, পারদ) নদীর জলকে ব্যবহারের অযোগ্য করে তোলে।
- কৃষিজ বর্জ্য: চাষের জমিতে ব্যবহৃত অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও বিষাক্ত কীটনাশক বৃষ্টির জলে ধুয়ে জলাশয়ে মিশলে মারাত্মক দূষণ ঘটে।
- অন্যান্য কারণ: সমুদ্রের জলে তেলের জাহাজ থেকে তেল নিঃসরণ এবং মৃত প্রাণীর দেহাবশেষ জলাশয়ে ফেলার ফলে দূষণ হয়।
2. মানবস্বাস্থ্যের ওপর জল দূষণের প্রভাবগুলি বিস্তারিত আলোচনা করো।
উত্তর: দূষিত জল পান ও ব্যবহার করলে মানুষের শরীরে মারাত্মক সব রোগ দেখা দেয়:
- জলবাহিত রোগ: দূষিত জলের মাধ্যমে কোলেরা, টাইফয়েড, আমাশয় ও হেপাটাইটিস (জন্ডিস) এর মতো রোগ ছড়ায়।
- আর্সেনিক দূষণ: দীর্ঘকাল আর্সেনিক যুক্ত জল পান করলে হাতে ও পায়ে কালো ক্ষত বা ব্ল্যাক ফুট ব্যাধি হয়।
- ফ্লুরোসিস: জলে অতিরিক্ত ফ্লোরাইড থাকলে দাঁত ও হাড়ের ক্ষয় ঘটে এবং হাড় বেঁকে যায়।
- ধাতব বিষক্রিয়া: পারদ দূষণে জাপানে মিনামাটা রোগ হয়েছিল। আবার ক্যাডমিয়াম দূষণে ইটাই-ইটাই রোগ হয় যা হাড়ের যন্ত্রণার কারণ।
3. ইউট্রোফিকেশন (Eutrophication) বলতে কী বোঝো? এর ফলাফল লেখো।
সংজ্ঞা: চাষের জমি থেকে ধুয়ে আসা ফসফেট ও নাইট্রেট সারের প্রভাবে জলাশয়ে শৈবাল ও আগাছা যখন অত্যন্ত দ্রুত বৃদ্ধি পায়, তখন তাকে ইউট্রোফিকেশন বলে।
ফলাফল:
- অক্সিজেনের ঘাটতি: শৈবালগুলি পচে যাওয়ার সময় জলের অক্সিজেন দ্রুত কমিয়ে দেয়, একে Biological Oxygen Demand (BOD) বৃদ্ধি পাওয়া বলে।
- জলজ প্রাণীর মৃত্যু: অক্সিজেনের অভাবে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী মারা যায়।
- জলাভূমি ভরাট: মৃত শৈবাল ও কাদা জমে জলাশয়টি ধীরে ধীরে অগভীর হয়ে বুজে যেতে থাকে।
4. জল দূষণ প্রতিরোধের উপায়গুলি বিস্তারিত আলোচনা করো।
উত্তর: জল দূষণ কমাতে গেলে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি নেওয়া জরুরি:
- শিল্পজাত বর্জ্য শোধন: কলকারখানার বিষাক্ত জল সরাসরি নদীতে না ফেলে শোধনাগারে (Treatment Plant) পরিষ্কার করে তবেই ফেলতে হবে।
- জৈব চাষে গুরুত্ব: কৃষিকাজে ক্ষতিকর রাসায়নিক সারের বদলে গোবর সার বা কম্পোস্ট এবং কীটনাশকের বদলে জৈব পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে।
- জনসচেতনতা: জলাশয়ে প্লাস্টিক, আবর্জনা বা মৃতদেহ ফেলা বন্ধ করতে হবে এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে।
- জল ফোটানো ও ক্লোরিনেশন: পানীয় জল ব্যবহারের আগে অন্তত 20 মিনিট ফোটানো বা নির্দিষ্ট পরিমাণে হ্যালোজেন ট্যাবলেট (ক্লোরিন) মিশিয়ে জীবাণুমুক্ত করা প্রয়োজন।
5. গঙ্গা নদী দূষণের কারণ ও গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান সম্পর্কে টীকা লেখো।
দূষণের কারণ: গঙ্গার তীরে অবস্থিত অসংখ্য কলকারখানার বর্জ্য এবং এলাহাবাদ, বারাণসী ও কলকাতার মতো বড় শহরের পৌরসভার নোংরা জল গঙ্গার দূষণের প্রধান কারণ। এছাড়া গঙ্গায় পুণ্যস্নান ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের বর্জ্যও দূষণ বাড়ায়।
গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান (GAP):
- সূচনা: 1985 সালে ভারত সরকার গঙ্গার জলকে দূষণমুক্ত করার জন্য এই পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।
- উদ্দেশ্য: (i) নর্দমার জল পরিশোধন করা। (ii) শিল্পজাত বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ করা। (iii) গঙ্গার পাড়ে শৌচাগার নির্মাণ ও ইলেকট্রিক চুল্লির ব্যবস্থা করা।
- ফলাফল: বর্তমানে এই প্রকল্পটি ‘নমামি গঙ্গে’ প্রকল্পের মাধ্যমে আরও উন্নতভাবে গঙ্গা রক্ষার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।