মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

সপ্তম শ্রেণি: ভূগোল, অধ্যায় – 9 এশিয়া মহাদেশ, রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর

অধ্যায় 9: এশিয়া মহাদেশ
(দীর্ঘ উত্তরধর্মী বা রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর – মান: 5)

📝 5 নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ 6টি প্রশ্নোত্তর:

1. এশিয়া মহাদেশের জলবায়ুর বৈচিত্র্যের প্রধান কারণগুলি আলোচনা করো।

এশিয়া মহাদেশের জলবায়ু সব জায়গায় সমান নয়। এই বৈচিত্র্যের প্রধান কারণগুলি হলো:

  • অক্ষ্যাংশগত অবস্থান: এশিয়া মহাদেশ দক্ষিণে ১০° দক্ষিণ থেকে উত্তরে ৮২° উত্তর অক্ষরেখা পর্যন্ত বিস্তৃত। নিরক্ষরেখার কাছে আবহাওয়া গরম থাকলেও উত্তর মেরুর কাছে তা অত্যন্ত শীতল।
  • সমুদ্র থেকে দূরত্ব: এশিয়ার বিশাল ভূখণ্ডের অনেক জায়গা সমুদ্র থেকে অনেক দূরে অবস্থিত। ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে মনোরম আবহাওয়া থাকলেও মহাদেশের অভ্যন্তরে চরমভাবাপন্ন জলবায়ু দেখা যায়।
  • পর্বতের অবস্থান: হিমালয়ের মতো উঁচু পর্বতমালা উত্তরে শীতল বাতাসকে আসতে বাধা দেয় এবং দক্ষিণে জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাসকে আটকে প্রচুর বৃষ্টি ঘটায়।
  • উচ্চতা: উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে উষ্ণতা কমতে থাকে। একারণে একই অক্ষরেখায় অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও পাহাড়ী অঞ্চলের জলবায়ু সমভূমির চেয়ে শীতল হয়।
  • বায়ুপ্রবাহ: মৌসুমি বায়ু, পশ্চিমা বায়ু এবং মেরু বায়ুর প্রভাব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করে।

2. ইয়াংসি নদীর অববাহিকার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির কারণগুলি আলোচনা করো।

চিনের ইয়াংসি নদীর অববাহিকা এশিয়ার অন্যতম জনবহুল ও সমৃদ্ধ অঞ্চল। এর সমৃদ্ধির কারণগুলো হলো:

  • উন্নত কৃষি: এখানকার উর্বর পলিমাটি ও অনুকূল জলবায়ুর জন্য প্রচুর পরিমাণে ধান, তুলা, চা ও গম উৎপন্ন হয়। একে ‘চিনের শস্যভাণ্ডার’ বলা হয়।
  • শিল্পের উন্নতি: এই অববাহিকায় সাংহাই, নানকিং, উহান-এর মতো বড় বড় শিল্পকেন্দ্র গড়ে উঠেছে। লোহা-ইস্পাত, কার্পাস বয়ন ও রাসায়নিক শিল্পে এই অঞ্চল অত্যন্ত উন্নত।
  • খনিজ সম্পদ: এই অঞ্চলে প্রচুর কয়লা, লোহা ও তামা পাওয়া যায় যা শিল্পে সাহায্য করে।
  • পরিবহন ব্যবস্থা: ইয়াংসি নদী সারাবছর নৌ চলাচলের যোগ্য হওয়ায় জলপথে ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক সুবিধা রয়েছে।
  • বন্দর সুবিধা: সাংহাই বন্দর এই নদীর মোহনায় অবস্থিত হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিরাট সুবিধা পাওয়া যায়।

3. পামির গ্রন্থি থেকে বিস্তৃত এশিয়ার প্রধান পর্বতশ্রেণীগুলির বিবরণ দাও।

এশিয়ার মাঝখানে অবস্থিত পামির মালভূমি থেকে বিভিন্ন দিকে অসংখ্য পর্বতশ্রেণী বিস্তৃত হয়েছে:

  • দক্ষিণ-পূর্ব দিকে: পামির থেকে দক্ষিণ-পূর্বে পৃথিবীর উচ্চতম পর্বতশ্রেণী হিমালয় বিস্তৃত হয়েছে।
  • পূর্ব দিকে: পূর্ব দিকে কুয়েনলুন এবং উত্তর-পূর্ব দিকে কারাকোরামতিয়েনশান পর্বতমালা বিস্তৃত হয়েছে।
  • পশ্চিম দিকে: পামির থেকে পশ্চিম দিকে হিন্দুখুশ পর্বতমালা চলে গেছে।
  • আর্মেনীয় গ্রন্থি: পামিরের আরও পশ্চিমে আর্মেনীয় গ্রন্থি থেকে এলবুর্জ ও ককেশাস পর্বতমালা বিস্তৃত হয়েছে।

4. জাপানের টোকিও-ইয়োকোহামা শিল্পাঞ্চল গড়ে ওঠার প্রধান কারণগুলি কী কী?

জাপানের এই অঞ্চলটি বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী শিল্পাঞ্চল। এর প্রধান কারণগুলি হলো:

  • বন্দর ও জলপথ: টোকিও ও ইয়োকোহামা বন্দরে বড় বড় জাহাজ ভিড়তে পারে, যার মাধ্যমে সহজেই বিদেশ থেকে কাঁচামাল আনা যায়।
  • উন্নত প্রযুক্তি: জাপানিদের কঠোর পরিশ্রম এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের ব্যবহার এই অঞ্চলকে শীর্ষে নিয়ে গেছে।
  • জলবিদ্যুৎ ও শক্তি: পাহাড়ি খরস্রোতা নদীগুলি থেকে প্রচুর জলবিদ্যুৎ পাওয়া যায় যা কারখানা চালাতে সাহায্য করে।
  • ঘন বসতি: কাওয়াসাকি ও টোকিও সংলগ্ন অঞ্চলে প্রচুর জনসংখ্যা থাকায় সস্তায় দক্ষ শ্রমিক পাওয়া যায়।
  • বাজারের সুবিধা: উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করার জন্য উন্নত পরিবহন ও বিশ্ববাজারের সাথে সরাসরি সংযোগ রয়েছে।

5. এশিয়ার উত্তরবাহিনী নদীগুলির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।

ওব, ইয়েনিসে এবং লেনা নদীগুলি এশিয়ার উত্তরবাহিনী নদীর উদাহরণ। এদের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:

  • মোহনা বরফাবৃত: এই নদীগুলি হিমশীতল সুমেরু মহাসাগরে গিয়ে মিশেছে। বছরের প্রায় ৭-৮ মাস এদের মোহনা বরফে ঢাকা থাকে।
  • ভয়াবহ বন্যা: শীতকালে মোহনা অঞ্চল বরফে জমে গেলেও উৎস অঞ্চলে (দক্ষিণে) বরফ গলে জলপ্রবাহ বেড়ে যায়। এই জল মোহনায় বাধা পেয়ে নদীর দুই কূল ছাপিয়ে বিধ্বংসী বন্যা ঘটায়।
  • দীর্ঘ গতিপথ: এই নদীগুলি মহাদেশের মাঝখানের মালভূমি থেকে উৎপন্ন হয়ে উত্তরের বিশাল সমভূমি দিয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছে।
  • জলাভূমি সৃষ্টি: মোহনা অঞ্চলে বরফ জমে থাকার কারণে নদীর জল ঠিকমতো বের হতে পারে না, ফলে মোহনা সংলগ্ন এলাকা বড় বড় জলাভূমিতে পরিণত হয়েছে।

6. দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায় খনিজ তেলের গুরুত্ব আলোচনা করো।

সৌদি আরব, ইরান, কুয়েত ও ইরাকের মতো দেশগুলি খনিজ তেলের জন্য বিশ্ববিখ্যাত। এর গুরুত্ব অপরিসীম:

  • অর্থনীতির ভিত্তি: এই দেশগুলির মোট আয়ের সিংহভাগ আসে খনিজ তেল বিদেশে রপ্তানি করে। তেল বিক্রি করেই এই দেশগুলি প্রভূত উন্নতি করেছে।
  • বিশ্বের তেলের ভাণ্ডার: পৃথিবীর মোট গচ্ছিত তেলের ৬০ শতাংশেরও বেশি এখানে পাওয়া যায়। তাই বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ এখানকার ওপর নির্ভর করে।
  • শিল্পের কাঁচামাল: খনিজ তেল শুধু জ্বালানি নয়, এটি থেকে প্রাপ্ত উপজাত দ্রব্য দিয়ে প্লাস্টিক, সার ও ঔষধ শিল্প গড়ে উঠেছে।
  • পরিবহন ও শক্তিসম্পদ: বিশ্বজুড়ে বিমান, জাহাজ ও গাড়ি চলাচলের প্রধান শক্তি এই অঞ্চলের তেল থেকেই আসে।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার