সপ্তম শ্রেণি: ভূগোল, অধ্যায় – 10 আফ্রিকা মহাদেশ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
অধ্যায় 10: আফ্রিকা মহাদেশ
(সংক্ষিপ্ত ও বিশ্লেষণমূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 2/3)
✍️ 2/3 নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ 14টি প্রশ্নোত্তর:
1. আফ্রিকা মহাদেশকে কেন ‘আঁধার মহাদেশ’ বলা হতো?
উত্তর: উনবিংশ শতাব্দীর আগে পর্যন্ত এই মহাদেশের দুর্গম ভূ-প্রকৃতি, বিশাল মরুভূমি, ঘন অরণ্য এবং অস্বাস্থ্যকর জলবায়ুর কারণে সভ্য জগতের কাছে এর অধিকাংশ অংশ অজানা ছিল। এই ভৌগোলিক অজ্ঞতা এবং দুর্গমতার কারণেই একে ‘আঁধার মহাদেশ’ বলা হতো।
2. গ্রস্থ উপত্যকা বা রিফট ভ্যালি কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে?
উত্তর: ভূ-আলোড়নের ফলে ভূত্বকের ওপর সমান্তরাল দুটি ফাটল বা চ্যুতির সৃষ্টি হলে তার মধ্যবর্তী অংশ নিচে বসে গিয়ে যে দীর্ঘ উপত্যকা তৈরি করে, তাকে গ্রস্থ উপত্যকা বলে। আফ্রিকার পূর্ব দিকে লোহিত সাগর থেকে জাম্বেসি নদী পর্যন্ত বিস্তৃত ‘গ্রেট রিফট ভ্যালি’ বিশ্বের দীর্ঘতম গ্রস্থ উপত্যকা।
3. “মিশর নীল নদের দান” — ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: নীল নদ না থাকলে মরুভূমির প্রবল দহনে মিশর আজ ধু ধু বালুচরে পরিণত হতো। নীল নদের পলিসমৃদ্ধ মাটি এবং এর জলসেচ সুবিধার জন্যই মিশরে উন্নত কৃষি ও সভ্যতা গড়ে উঠেছে। এই গুরুত্ব বিবেচনা করেই ঐতিহাসিক হেরোডোটাস মিশরকে নীল নদের দান বলেছেন।
4. ওয়াদি ও হামাদা বলতে কী বোঝো?
ওয়াদি: সাহারা মরুভূমিতে বৃষ্টির সময় সৃষ্টি হওয়া ছোট ও স্বল্পস্থায়ী জলস্রোতের শুকনো খাতকে ওয়াদি বলে।
হামাদা: মরুভূমির যে সমস্ত এলাকা বালির পরিবর্তে শক্ত পাথর বা পাথুরে ভূমি দিয়ে গঠিত, তাকে হামাদা বলা হয়।
5. আফ্রিকার সাভানা তৃণভূমির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী?
উত্তর: (i) এই তৃণভূমি ক্রান্তীয় জলবায়ু অঞ্চলে অবস্থিত। (ii) এখানে ঘাসগুলি ৩ থেকে ৪ মিটার পর্যন্ত উঁচু এবং মোটা হয়। (iii) ঘাসের মধ্যে ছাতার মতো আকৃতির বাবলা বা বাওবাব গাছ বিক্ষিপ্তভাবে জন্মানোর ফলে এই অঞ্চলকে ‘বিগ গেম কান্ট্রি’ বলা হয়।
6. আসোয়ান বাঁধ কেন নির্মাণ করা হয়েছে?
উত্তর: নীল নদের বিধ্বংসী বন্যা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এবং সারাবছর চাষের জমিতে জলসেচ করার উদ্দেশ্যে মিশরে আসোয়ান বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া এই বাঁধ থেকে প্রচুর পরিমাণ জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয়।
7. কঙ্গো নদীর অববাহিকায় কেন ঘন অরণ্য দেখা যায়?
উত্তর: কঙ্গো নদীর অববাহিকা নিরক্ষীয় অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় এখানে সারাবছর প্রচণ্ড উত্তাপ এবং বিকেলবেলায় নিয়মিত বৃষ্টিপাত (পরিচলন বৃষ্টি) হয়। এই অতিবৃষ্টি ও উষ্ণতার সমন্বয়ে এখানে চিরহরিৎ বা চিরসবুজ গাছের নিবিড় অরণ্য গড়ে উঠেছে।
8. সাহারা মরুভূমির জলবায়ু কেমন প্রকৃতির?
উত্তর: সাহারা মরুভূমির জলবায়ু অত্যন্ত উষ্ণ ও শুষ্ক। গ্রীষ্মকালে দিনের বেলা তাপমাত্রা ৫০° সেলসিয়াসের ওপরে চলে যায় কিন্তু রাতে আবার তাপমাত্রা অনেকটা কমে যায়। আকাশ মেঘমুক্ত থাকায় এখানে বৃষ্টিপাত প্রায় হয় না বললেই চলে।
9. ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে শীতকালে কেন বৃষ্টি হয়?
উত্তর: সূর্যের উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়নের ফলে বায়ুবলয়গুলি স্থান পরিবর্তন করে। শীতকালে এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে জলীয় বাষ্পপূর্ণ ‘পশ্চিমা বায়ু’ প্রবাহিত হওয়ার ফলে ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলীয় এলাকায় পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়।
10. আফ্রিকার চিরহরিৎ অরণ্যের দুটি উদ্ভিদের নাম ও বৈশিষ্ট্য লেখো।
উদ্ভিদ: মেহগনি, রোজউড এবং আবলুস।
বৈশিষ্ট্য: (i) গাছের পাতাগুলি একসাথে কখনো ঝরে যায় না, তাই সারাবছর সবুজ দেখায়। (ii) গাছের কাঠ অত্যন্ত শক্ত ও ভারী হয়। (iii) গাছগুলি খুব লম্বা ও ডালপালাযুক্ত হওয়ায় অরণ্যের উপরিভাগে চাঁদোয়ার মতো আস্তরণ তৈরি করে।
11. নীল নদের ব-দ্বীপ অঞ্চলটি কেমন?
উত্তর: নীল নদ উত্তর দিকে প্রবাহিত হয়ে ভূমধ্যসাগরে মেশার সময় প্রচুর পলি সঞ্চয় করে এক বিশাল ধনুকাকৃতি ব-দ্বীপ তৈরি করেছে। এই অঞ্চলটি অত্যন্ত উর্বর এবং এখানেই মিশরের রাজধানী কায়রো ও প্রধান বন্দর আলেকজান্দ্রিয়া অবস্থিত।
12. সাভানা তৃণভূমিকে ‘বিগ গেম কান্ট্রি’ বলা হয় কেন?
উত্তর: সাভানা তৃণভূমিতে প্রচুর পরিমাণে তৃণভোজী প্রাণী (যেমন- জেব্রা, হরিণ) এবং তাদের শিকারী মাংসাশী প্রাণী (যেমন- সিংহ, চিতা) বাস করে। একসময় এই অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে পশু শিকার করা হতো বলে একে ‘বিগ গেম কান্ট্রি’ বলা হয়।
13. সাহারার মরুদ্যানে জনবসতি গড়ে ওঠার কারণ কী?
উত্তর: মরুভূমির শুষ্ক রুক্ষ পরিবেশের মাঝে যেখানে জল পাওয়া যায়, সেখানে মরুদ্যান গড়ে ওঠে। এখানে জল পাওয়ার কারণে মানুষ চাষবাস (যেমন- খেজুর, গম) করতে পারে এবং যাযাবর মানুষরা তৃষ্ণার্ত পশুদের জল খাওয়াতে পারে। একারণেই মরুদ্যানকে ঘিরে স্থায়ী বসতি গড়ে ওঠে।
14. ‘ভেল্ড’ নাতিশীতোষ্ণ তৃণভূমির গুরুত্ব লেখো।
উত্তর: দক্ষিণ আফ্রিকার ভেল্ড অঞ্চল পশুপালনের জন্য বিখ্যাত। এখানকার মৃদু জলবায়ু ও তৃণভূমি পশুদের বিশেষ করে মেরিনো মেষ পালনের জন্য খুব উপযোগী। পশম উৎপাদন ও ডেইরি শিল্পের জন্য এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম।