সপ্তম শ্রেণি: ভূগোল, অধ্যায় – ২ , ভূপৃষ্ঠে কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয়, দীর্ঘ রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর
অধ্যায় 2: ভূপৃষ্ঠে কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয়
(দীর্ঘ উত্তরধর্মী বা রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর – মান: 5)
📝 5 নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ 5টি প্রশ্নোত্তর:
1. অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার প্রধান পার্থক্যগুলি সারণির সাহায্যে আলোচনা করো।
[Image of latitudes and longitudes on a globe]
| বিষয় | অক্ষরেখা | দ্রাঘিমারেখা |
|---|---|---|
| বিস্তৃতি | পূর্ব থেকে পশ্চিমে বিস্তৃত। | উত্তর থেকে দক্ষিণে বিস্তৃত। |
| আকৃতি | পূর্ণবৃত্ত। | অর্ধবৃত্ত। |
| অবস্থান | পরস্পর সমান্তরাল। | সমান্তরাল নয়, মেরুতে মিলিত হয়। |
| সংখ্যা | মোট 179 টি। | মোট 360 টি। |
| ব্যবহার | জলবায়ু ও অবস্থান নির্ণয়। | সময় ও অবস্থান নির্ণয়। |
2. অক্ষরেখার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি বিস্তারিত আলোচনা করো।
উত্তর: অক্ষরেখাগুলির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
- আকৃতি: প্রতিটি অক্ষরেখা এক একটি কাল্পনিক পূর্ণবৃত্ত।
- সমান্তরাল: অক্ষরেখাগুলি পরস্পর সমান্তরালভাবে অবস্থান করে, এরা কেউ কাউকে কখনও স্পর্শ করে না।
- দৈর্ঘ্য: নিরক্ষরেখা থেকে মেরুর দিকে গেলে অক্ষরেখাগুলির পরিধি ক্রমশ কমতে থাকে। মেরুবিন্দুতে এটি কেবল একটি বিন্দুতে পরিণত হয়।
- বিস্তৃতি: এগুলি পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত এবং নিরক্ষরেখার উত্তরে বা দক্ষিণে কোনো স্থানের কৌণিক অবস্থান জানায়।
- কোণ: অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখা পরস্পরকে 90° কোণে ছেদ করে।
3. দ্রাঘিমারেখার প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা করো।
উত্তর: দ্রাঘিমারেখাগুলির বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলি নিচে দেওয়া হলো:
- আকৃতি: দ্রাঘিমারেখাগুলি অর্ধবৃত্তাকার কারণ এরা উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত।
- দৈর্ঘ্য: প্রতিটি দ্রাঘিমারেখার দৈর্ঘ্য সমান হয়।
- অসমান্তরাল: এগুলি পরস্পর সমান্তরাল নয়। নিরক্ষরেখায় এদের মধ্যে দূরত্ব সবচেয়ে বেশি থাকে এবং মেরুর দিকে এই দূরত্ব কমতে থাকে।
- সংখ্যা: 0° থেকে শুরু করে পূর্ব ও পশ্চিমে মোট 360 টি দ্রাঘিমারেখা রয়েছে (180° রেখাটি উভয় গোলার্ধের জন্য এক)।
- গুরুত্ব: দ্রাঘিমারেখার প্রধান কাজ হলো সময় নির্ণয় করা। প্রতি 1° দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময়ের পার্থক্য হয় 4 মিনিট।
4. ‘ভৌগোলিক জালক’ কী? এর সাহায্যে কীভাবে কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয় করা হয়?
উত্তর: ভৌগোলিক জালক: পৃথিবী পৃষ্ঠের ওপর পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত অক্ষরেখা এবং উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত দ্রাঘিমারেখাগুলি পরস্পরকে লম্বভাবে ছেদ করে যে জালের মতো কাঠামো তৈরি করে, তাকে ভৌগোলিক জালক বা গ্রিড (Grid) বলে।
অবস্থান নির্ণয় পদ্ধতি:
- ভূপৃষ্ঠের প্রতিটি বিন্দু বা স্থান একটি নির্দিষ্ট অক্ষরেখা এবং একটি নির্দিষ্ট দ্রাঘিমারেখার ওপর অবস্থিত।
- যদি আমরা জানি যে কোনো একটি শহর (যেমন কলকাতা) কত ডিগ্রি অক্ষাংশে এবং কত ডিগ্রি দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত, তবে মানচিত্রের ওপর সেই দুটি রেখার ছেদবিন্দুটিই হবে ওই শহরের সঠিক অবস্থান।
- আধুনিক কালে GPS (Global Positioning System) এই জালকের গাণিতিক হিসেব ব্যবহার করেই আমাদের মোবাইলে ম্যাপ বা সঠিক দিক নির্দেশ করে।
5. দ্রাঘিমার সাথে সময়ের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করো। প্রমাণ সময়ের প্রয়োজনীয়তা কী?
উত্তর: পৃথিবী তার নিজের অক্ষের ওপর 24 ঘণ্টায় 360° আবর্তন করে। সেই হিসেবে 1° ঘুরতে সময় লাগে (1440 মিনিট / 360) = 4 মিনিট। এই কারণে দ্রাঘিমা বদলালে স্থানীয় সময়ও বদলে যায়।
- সময়ের হিসাব: মূলমধ্যরেখা (0°) থেকে পূর্বে গেলে সময় বাড়ে এবং পশ্চিমে গেলে সময় কমে।
- প্রমাণ সময়ের প্রয়োজনীয়তা: একটি বড় দেশের ভেতর দিয়ে অনেকগুলো দ্রাঘিমারেখা যেতে পারে। যদি প্রতিটি শহর নিজের স্থানীয় সময় মেনে চলে, তবে ট্রেন, বিমান বা অফিসের সময়সূচি বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
- সমাধান: এই বিশৃঙ্খলা এড়াতে দেশের মাঝামাঝি একটি নির্দিষ্ট দ্রাঘিমারেখার সময়কে পুরো দেশের সময় হিসেবে মানা হয়। একেই প্রমাণ সময় বলে। যেমন ভারতের প্রমাণ সময় 82°30′ পূর্ব দ্রাঘিমা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।