সপ্তম শ্রেণি: ভূগোল, অধ্যায় – ১, পৃথিবীর পরিক্রমণ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
অধ্যায় ১: পৃথিবীর পরিক্রমণ
(সংক্ষিপ্ত ও বিশ্লেষণমূলক প্রশ্নোত্তর – মান: ২/৩)
✍️ ২/৩ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ ১৪টি প্রশ্নোত্তর:
১. মুক্তিবেগ (Escape Velocity) কাকে বলে?
উত্তর: কোনো বস্তুকে প্রতি সেকেন্ডে ১১.২ কিমি বা তার বেশি গতিবেগে যদি মহাকাশে ছোঁড়া হয়, তবে তা পৃথিবীর মহাকর্ষীয় টান কাটিয়ে বাইরে চলে যায় এবং আর নিচে ফিরে আসে না। এই নির্দিষ্ট গতিবেগকেই মুক্তিবেগ বলা হয়। কৃত্রিম উপগ্রহ বা রকেট পাঠানোর সময় এই গতিবেগের প্রয়োজন হয়।
২. অধিবর্ষ বা লিপ ইয়ার (Leap Year) কেন করা হয়?
উত্তর: পৃথিবী একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড। কিন্তু আমরা সুবিধার জন্য এক বছরকে ৩৬৫ দিন ধরি। এই বাড়তি ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড সময়টিকে মেলানোর জন্য প্রতি ৪ বছর অন্তর ক্যালেন্ডারে একটি দিন (ফেব্রুয়ারি মাসে) বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে সময়ের সঠিক ভারসাম্য বজায় থাকে।
৩. অনুসূর ও অপসূর অবস্থানের মূল পার্থক্য লেখো।
উত্তর: ৩ জানুয়ারি কক্ষপথে পৃথিবীর অবস্থানের সময় সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব সবচেয়ে কম থাকে (১৪ কোটি ৭০ লক্ষ কিমি), একে অনুসূর বলে। অন্যদিকে, ৪ জুলাই পৃথিবীর দূরতম অবস্থান ঘটে (১৫ কোটি ২০ লক্ষ কিমি), একে অপসূর বলা হয়।
৪. সূর্যের আপাত বার্ষিক গতি বা রবিমার্গ কাকে বলে?
উত্তর: পৃথিবী তার কক্ষপথে সূর্যকে ঘোরার সময় পৃথিবী থেকে মনে হয় সূর্য সারা বছর ধরে আকাশের উত্তর থেকে দক্ষিণে এবং দক্ষিণ থেকে উত্তরে চলাচল করছে। সূর্যের এই কাল্পনিক পথ বা আপাত গতিকে রবিমার্গ বা আপাত বার্ষিক গতি বলা হয়।
৫. ‘বিষুব’ কথাটির অর্থ ও গুরুত্ব কী?
উত্তর: ‘বিষুব’ কথাটির অর্থ হলো ‘সমান দিন ও রাত’। বছরে দুবার (২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর) সূর্য নিরক্ষরেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। এর ফলে এই দুদিন পৃথিবীর সর্বত্র দিন এবং রাত সমান (১২ ঘণ্টা করে) হয়। এটি ঋতু পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
৬. মহাবিষুব ও জলবিষুব বলতে কী বোঝো?
উত্তর: ২১ মার্চ তারিখটিকে মহাবিষুব বলা হয় কারণ উত্তর গোলার্ধে তখন বসন্তকাল চলে। অন্যদিকে, ২৩ সেপ্টেম্বর দিনটিকে জলবিষুব বলা হয় কারণ এই সময় উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল বিরাজ করে। এই দুই দিনেই দিন-রাত সমান থাকে।
৭. উত্তর অয়নান্ত ও দক্ষিণ অয়নান্ত দিবস কাকে বলে?
উত্তর: ২১ জুন সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়, একে উত্তর অয়নান্ত দিবস বলে (উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন)। ২২ ডিসেম্বর সূর্য মকরক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়, একে দক্ষিণ অয়নান্ত দিবস বলে (দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন)।
৮. নিশীথ সূর্যের দেশ কাকে এবং কেন বলা হয়?
উত্তর: নরওয়ের হ্যামারফেস্ট বন্দরকে ‘নিশীথ সূর্যের দেশ’ বলা হয়। কারণ ২১ জুনের আশেপাশে উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে এতটাই ঝুঁকে থাকে যে, নরওয়ের মতো উচ্চ অক্ষাংশের দেশগুলোতে মাঝরাতেও দিগন্ত রেখায় সূর্যকে দেখা যায়। কয়েক মাস ধরে সেখানে সূর্যাস্ত হয় না।
৯. মেরুজ্যোতি বা অরোরা (Aurora) কী?
উত্তর: দুই মেরু অঞ্চলে (সুমেরু ও কুমেরু) একটানা ছয় মাস রাত থাকাকালীন আকাশের রঙিন আলোর বিচ্ছুরণ বা মহাজাগতিক আলোকছটা দেখা যায়। একে মেরুজ্যোতি বলে। সূর্যের বায়ুমণ্ডল থেকে আসা আধানযুক্ত কণা বায়ুমণ্ডলের গ্যাসের সাথে ধাক্কা খেলে এই অপূর্ব আলোর সৃষ্টি হয়।
১০. কর্কট সংক্রান্তি ও মকর সংক্রান্তি বলতে কী বোঝো?
উত্তর: ২১ জুন তারিখটিকে কর্কট সংক্রান্তি বলা হয় কারণ এই দিন সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার (২৩.৫ ডিগ্রি উত্তর) ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। অন্যদিকে, ২২ ডিসেম্বর তারিখটিকে মকর সংক্রান্তি বলা হয় কারণ এই দিন সূর্য মকরক্রান্তি রেখার (২৩.৫ ডিগ্রি দক্ষিণ) ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়।
১১. পৃথিবীর অক্ষ তার কক্ষতলের সঙ্গে কত ডিগ্রি কোণে হেলে থাকে? এর ফলাফল কী?
উত্তর: পৃথিবীর অক্ষ তার কক্ষতলের সঙ্গে ৬৬.৫ ডিগ্রি কোণে হেলে থাকে। এর ফলেই বছরের বিভিন্ন সময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন গোলার্ধ সূর্যের দিকে বেশি ঝুঁকে থাকে, যা ঋতু পরিবর্তন এবং দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য ছোট-বড় হওয়ার প্রধান কারণ।
১২. উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়ন বলতে কী বোঝো?
উত্তর: ২২ ডিসেম্বরের পর থেকে ২১ জুন পর্যন্ত সূর্যের উত্তরমুখী আপাত গতিকে উত্তরায়ন বলা হয়। আবার ২১ জুনের পর থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সূর্যের দক্ষিণমুখী আপাত গতিকে দক্ষিণায়ন বলা হয়।
১৩. মকর সংক্রান্তির সময় দক্ষিণ গোলার্ধে কোন্ ঋতু বিরাজ করে এবং কেন?
উত্তর: ২২ ডিসেম্বর বা মকর সংক্রান্তির সময় দক্ষিণ গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল বিরাজ করে। কারণ এই সময় দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের দিকে ঝুঁকে থাকে এবং সূর্য মকরক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়, ফলে সেখানে দিনের দৈর্ঘ্য রাতের চেয়ে অনেক বেশি হয়।
১৪. কক্ষপথ ও কক্ষতল বলতে কী বোঝো?
উত্তর: পৃথিবী যে নির্দিষ্ট কাল্পনিক ডিম্বাকৃতি পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে, তাকে কক্ষপথ বলে। আর এই কক্ষপথটি যে সমতলে অবস্থিত, তাকে কক্ষতল বলা হয়। পৃথিবীর পরিক্রমণ গতি বোঝার জন্য এই দুটি ধারণা অত্যন্ত জরুরি।