সপ্তম শ্রেণি: ভূগোল, অধ্যায় – ২ , ভূপৃষ্ঠে কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয়, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
অধ্যায় 2: ভূপৃষ্ঠে কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয়
(সংক্ষিপ্ত ও বিশ্লেষণমূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 2/3)
✍️ 2/3 নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ 14টি প্রশ্নোত্তর:
1. অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার মধ্যে প্রধান তিনটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর: (i) অক্ষরেখাগুলি পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত এবং পরস্পর সমান্তরাল, কিন্তু দ্রাঘিমারেখাগুলি উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত এবং সমান্তরাল নয়। (ii) অক্ষরেখাগুলি পূর্ণবৃত্ত, কিন্তু দ্রাঘিমারেখাগুলি অর্ধবৃত্ত। (iii) অক্ষরেখার সাহায্যে অক্ষাংশ নির্ণয় করা হয়, আর দ্রাঘিমারেখার সাহায্যে দ্রাঘিমাংশ ও সময় নির্ণয় করা হয়।
2. নিরক্ষরেখাকে ‘মহাবৃত্ত’ বলা হয় কেন?
উত্তর: পৃথিবীকে বেষ্টনকারী কাল্পনিক অক্ষরেখাগুলির মধ্যে নিরক্ষরেখার পরিধি সবচেয়ে বেশি। এছাড়া নিরক্ষরেখার কেন্দ্র এবং পৃথিবীর কেন্দ্র একই বিন্দুতে অবস্থিত। এটি পৃথিবীকে সমান দুটি গোলার্ধে ভাগ করে বলে একে ‘মহাবৃত্ত’ বলা হয়।
3. মূলমধ্যরেখা কাকে বলে? এর মান কত?
উত্তর: লন্ডনের গ্রিনিচ মানমন্দিরের ওপর দিয়ে উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত যে প্রধান দ্রাঘিমারেখা কল্পনা করা হয়েছে, তাকে মূলমধ্যরেখা বলে। এর মান হলো 0°। এটি পৃথিবীকে পূর্ব ও পশ্চিম গোলার্ধে ভাগ করেছে।
4. দ্রাঘিমারেখার তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: (i) দ্রাঘিমারেখাগুলি অর্ধবৃত্ত এবং উত্তর-দক্ষিণে মেরু থেকে মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত। (ii) প্রতিটি দ্রাঘিমারেখার দৈর্ঘ্য সমান। (iii) দ্রাঘিমারেখাগুলি নিরক্ষরেখাকে সমকোণে বা 90° কোণে ছেদ করে।
5. স্থানীয় সময় ও প্রমাণ সময়ের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: আকাশে সূর্যের অবস্থান দেখে কোনো স্থানের যে সময় নির্ণয় করা হয় তাকে স্থানীয় সময় বলে। আর কোনো দেশের মাঝামাঝি অবস্থিত কোনো নির্দিষ্ট দ্রাঘিমারেখার স্থানীয় সময়কে যখন পুরো দেশের সময় হিসেবে গণ্য করা হয়, তাকে প্রমাণ সময় বলে।
6. ভারতের প্রমাণ সময় (IST) বলতে কী বোঝো?
উত্তর: ভারতের উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদের ওপর দিয়ে বিস্তৃত 82°30′ পূর্ব দ্রাঘিমারেখাকে ভারতের প্রমাণ দ্রাঘিমা ধরা হয়। এই রেখার স্থানীয় সময়কেই ভারতের সর্বত্র ‘প্রমাণ সময়’ হিসেবে মানা হয়। গ্রিনিচ সময়ের চেয়ে ভারতের সময় 5 ঘণ্টা 30 মিনিট এগিয়ে।
7. আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা কাকে বলে?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে 180° দ্রাঘিমারেখাকে অনুসরণ করে যে আঁকাবাঁকা কাল্পনিক রেখাটি টানা হয়েছে, তাকে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা বলে। এই রেখাটি অতিক্রম করলে জলযান বা আকাশযানের যাত্রীরা ক্যালেন্ডারের তারিখ এক দিন কমিয়ে বা বাড়িয়ে নেয়।
8. জিপিএস (GPS)-এর তিনটি ব্যবহার লেখো।
উত্তর: (i) পৃথিবীর যেকোনো স্থানের সঠিক অবস্থান (অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ) নির্ণয় করা। (ii) জাহাজ, বিমান বা গাড়ির যাতায়াতের পথ নির্দেশ করা। (iii) মানচিত্র তৈরি এবং উদ্ধারকার্যে সঠিক দিক খুঁজে পেতে সাহায্য করা।
9. ভৌগোলিক জালক বা গ্রিড কীভাবে অবস্থান নির্ণয়ে সাহায্য করে?
উত্তর: অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখা পরস্পরকে সমকোণে ছেদ করে পৃথিবীর ওপর একটি কাল্পনিক জালের মতো কাঠামো তৈরি করে, একেই ভৌগোলিক জালক বলে। ভূপৃষ্ঠের কোনো স্থান কোন্ অক্ষরেখা এবং কোন্ দ্রাঘিমারেখার ছেদবিন্দুতে অবস্থিত, তা জানলেই সেই স্থানের সঠিক অবস্থান পাওয়া যায়।
10. 1° দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময়ের পার্থক্য 4 মিনিট হয় কেন?
উত্তর: পৃথিবী নিজের অক্ষের ওপর 360° ঘুরতে সময় নেয় 24 ঘণ্টা বা (24 x 60) = 1440 মিনিট।
অর্থাৎ, 360° ঘোরে = 1440 মিনিটে
অতএব, 1° ঘোরে = (1440 / 360) = 4 মিনিটে।
এই কারণেই দ্রাঘিমার প্রতি 1° পার্থক্যে সময়ের তফাত হয় 4 মিনিট।
11. অক্ষরেখার প্রয়োজনীয়তা বা গুরুত্ব কী?
উত্তর: (i) কোনো স্থানের সঠিক উত্তর বা দক্ষিণ অবস্থান জানা যায়। (ii) অক্ষাংশ ভেদে তাপমাত্রার তারতম্য হয় বলে কোনো জায়গার জলবায়ু সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। (iii) অক্ষাংশ রেখার সাহায্যে দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্যের পার্থক্য বোঝা যায়।
12. অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ বলতে কী বোঝো?
উত্তর: পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে নিরক্ষরেখার উত্তরে বা দক্ষিণে কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বকে বলা হয় অক্ষাংশ। অন্যদিকে, মূলমধ্যরেখা থেকে পূর্ব বা পশ্চিমে কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বকে বলা হয় দ্রাঘিমাংশ।
13. দ্রাঘিমারেখাগুলি অর্ধবৃত্তাকার কেন?
উত্তর: দ্রাঘিমারেখাগুলি উত্তর মেরু বিন্দু থেকে শুরু হয়ে সরাসরি দক্ষিণ মেরু বিন্দুতে গিয়ে শেষ হয়। যেহেতু এরা পৃথিবীকে পুরোপুরি বেষ্টন করে না বরং এক মেরু থেকে অন্য মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে, তাই জ্যামিতিক ভাবে এরা এক একটি অর্ধবৃত্ত।
14. আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে আঁকাবাঁকা কেন?
উত্তর: এই রেখাটি 180° দ্রাঘিমারেখাকে অনুসরণ করে টানা হলেও মাঝে মাঝে বাঁকানো হয়েছে যাতে কোনো স্থলভাগ বা দ্বীপের ওপর দিয়ে এটি না যায়। যদি এটি কোনো দ্বীপের মাঝখান দিয়ে যেত, তবে একই দেশে দুই দিকে দুই রকমের তারিখ ও বার থাকত, যা দৈনন্দিন কাজে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করত।