সপ্তম শ্রেণি: ভূগোল, অধ্যায় -3 , বায়ুচাপ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর
অধ্যায় 3: বায়ুচাপ
(দীর্ঘ উত্তরধর্মী বা রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর – মান: 5)
📝 5 নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ 7টি প্রশ্নোত্তর:
1. বায়ুর চাপের পার্থক্যের প্রধান কারণগুলি আলোচনা করো।
উত্তর: পৃথিবী পৃষ্ঠে সব জায়গায় বায়ুর চাপ সমান থাকে না। এর প্রধান কারণগুলি হলো:
- উষ্ণতার পরিবর্তন: বায়ু উষ্ণ হলে প্রসারিত ও হালকা হয়ে উপরে উঠে যায়, ফলে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। শীতল বায়ু সংকুচিত ও ভারী হওয়ায় উচ্চচাপ সৃষ্টি করে।
- উচ্চতা: সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর চাপ সবচেয়ে বেশি। উচ্চতা বাড়লে বায়ুর ঘনত্ব কমে যায়, তাই বায়ুর চাপও কমে যায়।
- জলীয় বাষ্প: জলীয় বাষ্প সাধারণ বায়ুর চেয়ে হালকা। তাই বায়ুতে জলীয় বাষ্প বাড়লে বায়ুর চাপ কমে।
- পৃথিবীর আবর্তন গতি: পৃথিবীর আবর্তনের ফলে বায়ু দুই মেরুর দিকে ছিটকে যাওয়ার চেষ্টা করে, যার ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে বায়ুর চাপের তারতম্য ঘটে।
2. বায়ুর চাপের সাথে উচ্চতার সম্পর্ক ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: বায়ুর চাপের সাথে উচ্চতার ব্যস্তানুপাতিক সম্পর্ক বিদ্যমান, অর্থাৎ উচ্চতা বাড়লে বায়ুর চাপ কমে।
[Image of atmospheric pressure decreasing with altitude]
- ঘনত্বের হ্রাস: বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে বায়ুর কণাগুলো আলগা থাকে এবং ঘনত্ব কম হয়। তাই ওপরের স্তরে বায়ুর চাপ কম।
- অভিকর্ষজ টান: পৃথিবীর কেন্দ্রের টানে বায়ুর বেশিরভাগ অংশই ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি থাকে। ফলে নিচের স্তরে চাপ বেশি হয়।
- হ্রাস হার: প্রতি 110 মিটার উচ্চতা বৃদ্ধিতে প্রায় 1 সেমি পারদস্তম্ভের সমান বায়ুর চাপ কমতে থাকে।
- প্রভাব: উচ্চতা বাড়লে বায়ুর চাপ ও অক্সিজেন দুই-ই কমে যায় বলে পর্বতারোহীদের শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।
3. নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর নিম্নচাপ বলয় কেন বিরাজ করে?
উত্তর: নিরক্ষরেখার দুই পাশে 0° থেকে 5° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে নিম্নচাপ বলয় দেখা যায়। এর কারণগুলি হলো:
- সূর্যরশ্মির পতন: এই অঞ্চলে সূর্য সারাবছর লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে এখানকার বায়ু প্রচণ্ড উষ্ণ ও হালকা হয়ে উপরে উঠে যায়।
- জলীয় বাষ্পের আধিক্য: এই অঞ্চলে স্থলভাগের চেয়ে জলভাগের পরিমাণ বেশি। ফলে বায়ুতে প্রচুর জলীয় বাষ্প মিশে বায়ুকে হালকা করে দেয়।
- পৃথিবীর আবর্তন বেগ: নিরক্ষীয় অঞ্চলে পৃথিবীর আবর্তন বেগ সবচেয়ে বেশি হওয়ায় এখানকার বায়ু দুই পাশে ছিটকে যায়, ফলে বায়ু হালকা হয়ে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়।
4. উচ্চচাপ ও নিম্নচাপের মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি আলোচনা করো।
| বিষয় | উচ্চচাপ (High Pressure) | নিম্নচাপ (Low Pressure) |
|---|---|---|
| বায়ুর প্রকৃতি | শীতল ও ভারী বায়ু। | উষ্ণ ও হালকা বায়ু। |
| গতিপ্রকৃতি | বায়ু ওপর থেকে নিচে নামে। | বায়ু নিচ থেকে ওপরে ওঠে। |
| আবহাওয়া | পরিষ্কার ও শান্ত আবহাওয়া। | মেঘলা ও ঝোড়ো আবহাওয়া। |
| বায়ুপ্রবাহ | এখান থেকে বায়ু বাইরে যায়। | বাইরের বায়ু কেন্দ্রের দিকে আসে। |
5. বায়ুর চাপের সাথে আবহাওয়ার সম্পর্ক বিস্তারিত আলোচনা করো।
উত্তর: বায়ুর চাপের পরিবর্তন দেখে আমরা আগাম আবহাওয়ার পূর্বাভাস পেতে পারি:
- সুস্থ ও শান্ত আবহাওয়া: ব্যারোমিটারে পারদস্তম্ভের উচ্চতা ধীরে ধীরে বাড়লে বোঝা যায় আকাশ পরিষ্কার থাকবে এবং আবহাওয়া রৌদ্রোজ্জ্বল হবে।
- ঝড়-বৃষ্টির সংকেত: পারদস্তম্ভের উচ্চতা হঠাৎ কমে গেলে বোঝা যায় সেখানে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে আশেপাশের উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে বায়ু প্রবল বেগে ছুটে আসে, যা ঝড় বা বৃষ্টির কারণ।
- আর্দ্র আবহাওয়া: পারদস্তম্ভের উচ্চতা ধীরে ধীরে কমলে বুঝতে হবে বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাড়ছে, ফলে বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
6. ‘অশ্ব অক্ষাংশ’ (Horse Latitudes) বলতে কী বোঝো? এর নামকরণের কারণ কী?
উত্তর: উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে 25° থেকে 35° অক্ষাংশের মধ্যবর্তী শান্ত বলয়কে অশ্ব অক্ষাংশ বলা হয়।
- ভৌগোলিক কারণ: এই অঞ্চলে ওপর থেকে শীতল বায়ু নিচে নেমে আসে বলে বায়ুপ্রবাহ সমান্তরালভাবে প্রায় হয় না বললেই চলে। ফলে এই অঞ্চলে শান্ত ভাব বিরাজ করে।
- নামকরণের কারণ: প্রাচীনকালে পাল তোলা জাহাজগুলো যখন এই শান্ত অঞ্চলে আসত, তখন বায়ুর অভাবে জাহাজ প্রায় থেমে যেত। খাদ্য ও পানীয় জলের অভাব দেখা দিলে নাবিকরা ভার কমানোর জন্য জাহাজ থেকে জীবন্ত ঘোড়াগুলোকে (Horse) সমুদ্রে ফেলে দিত। এই ঘটনা থেকেই এই অঞ্চলের নাম হয়েছে ‘অশ্ব অক্ষাংশ’।
7. জলীয় বাষ্প কীভাবে বায়ুর চাপের ওপর প্রভাব ফেলে?
উত্তর: বায়ুতে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি বায়ুর চাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক।
- আণবিক গুরুত্ব: জলীয় বাষ্পের আণবিক গুরুত্ব শুষ্ক বায়ুর নাইট্রোজেন বা অক্সিজেনের চেয়ে কম। অর্থাৎ, জলীয় বাষ্প শুষ্ক বায়ুর চেয়ে অনেক হালকা।
- চাপের হ্রাস: যখন বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাড়ে (আর্দ্র বায়ু), তখন তা বায়ুমণ্ডলের মোট ওজনকে কমিয়ে দেয়। ফলে বায়ুর চাপও কমে যায়।
- মৌসুমি প্রভাব: উদাহরণস্বরূপ, বর্ষাকালে বায়ুতে জলীয় বাষ্প বেশি থাকায় বায়ুর চাপ কম থাকে। অন্যদিকে শীতকালে বায়ু শুষ্ক থাকে বলে বায়ুর চাপ বেশি হয়।