মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

সপ্তম শ্রেণি: ভূগোল, অধ্যায় – 5 নদী, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

অধ্যায় 5: নদী
(সংক্ষিপ্ত ও বিশ্লেষণমূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 2/3)

✍️ 2/3 নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ 14টি প্রশ্নোত্তর:

1. ধারণ অববাহিকা (Catchment Area) বলতে কী বোঝো?

উত্তর: পাহাড়ের ওপর যে বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বৃষ্টি বা বরফ গলা জল ছোট ছোট জলধারার মাধ্যমে বয়ে এসে নদীর উৎস তৈরি করে, সেই অঞ্চলটিকে বলা হয় ওই নদীর ধারণ অববাহিকা। কোনো নদীর ধারণ অববাহিকা যত বড় হয়, সেই নদীতে জলের পরিমাণও তত বেশি হয়।

2. জলবিভাজিকা (Water Divide) কাকে বলে?

উত্তর: যে উচ্চভূমি (যেমন পর্বত বা মালভূমি) পাশাপাশি অবস্থিত দুটি নদী অববাহিকাকে পৃথক করে রাখে, তাকে জলবিভাজিকা বলে। বৃষ্টির জল এই উচ্চভূমির দুই ঢাল দিয়ে বয়ে গিয়ে আলাদা আলাদা নদী সৃষ্টি করে। যেমন— মধ্য এশিয়ার পর্বতমালা বা হিমালয় পর্বতমালা একটি বিশাল জলবিভাজিকা।

3. ‘আদর্শ নদী’ বলতে কী বোঝায়? উদাহরণ দাও।

উত্তর: যে নদীর গতিপথে উচ্চগতি (পার্বত্য প্রবাহ), মধ্যগতি (সমভূমি প্রবাহ) এবং নিম্নগতি (বদ্বীপ প্রবাহ)— এই তিনটি স্তরই স্পষ্টভাবে দেখা যায়, তাকে আদর্শ নদী বলে। ভারতের গঙ্গা একটি আদর্শ নদী।

4. নদীর ‘ষষ্ঠঘাতের সূত্র’ (Sixth Power Law) ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: নদীর বহন ক্ষমতা তার গতিবেগের ওপর নির্ভরশীল। কোনো কারণে নদীর গতিবেগ যদি দ্বিগুণ (2 গুণ) বাড়ে, তবে তার বহন ক্ষমতা 2-এর মাথায় 6 ঘাত অর্থাৎ 2⁶ বা 64 গুণ বৃদ্ধি পায়। বিজ্ঞানী হপকিনস ১৮৪২ সালে এই সূত্রটি প্রদান করেন।

5. গিরিখাত ও ক্যানিয়নের মধ্যে প্রধান দুটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর: (i) গিরিখাত: আর্দ্র বা বৃষ্টিবহুল পার্বত্য অঞ্চলে তৈরি হয় এবং এটি ইংরেজি ‘V’ অক্ষরের মতো হয়।
(ii) ক্যানিয়ন: শুষ্ক মরুপ্রায় পার্বত্য অঞ্চলে তৈরি হয় এবং এটি অত্যন্ত গভীর ও সংকীর্ণ ইংরেজি ‘I’ অক্ষরের মতো হয়।

6. পলল ব্যজনী (Alluvial Fan) কীভাবে সৃষ্টি হয়?

উত্তর: নদী যখন পাহাড়ের খাড়া ঢাল ছেড়ে সমতলে নেমে আসে, তখন ভূমির ঢাল হঠাৎ কমে যাওয়ায় নদীর গতিবেগ ও বহন ক্ষমতা কমে যায়। ফলে পাহাড় থেকে বয়ে আনা পলি, বালি, কাঁকর পাহাড়ের পাদদেশে জমা হয়ে হাতপাখার মতো যে ভূমি রূপ তৈরি করে তাকে পলল ব্যজনী বলে।

7. মিয়েন্ডার (Meander) বা নদীর বাঁক বলতে কী বোঝো?

উত্তর: নদীর মধ্যগতিতে ভূমির ঢাল খুব কম থাকে বলে নদী সোজাপথে না চলে একেবেঁকে চলতে শুরু করে। নদীর এই ইংরেজি ‘S’ অক্ষরের মতো একেবেঁকে চলাকেই মিয়েন্ডার বা নদীর বাঁক বলে। তুরস্কের ‘মিয়েন্ডার’ নদীর নামানুসারে এর নামকরণ হয়েছে।

8. অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ (Ox-bow Lake) কীভাবে গঠিত হয়?

উত্তর: নদী খুব বেশি বাঁক নিয়ে চললে অনেক সময় দুটি বাঁকের মধ্যবর্তী অংশটি ক্ষয়ে ক্ষয়ে খুব সংকীর্ণ হয়ে যায়। একসময় নদী বাঁকটি ছেড়ে দিয়ে সোজাপথে বইতে শুরু করে। তখন পরিত্যক্ত বাঁকটি ঘোড়ার খুরের মতো হ্রদ আকারে পড়ে থাকে। একেই অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ বলে।

[Image of the formation of an oxbow lake]

9. স্বাভাবিক বাঁধ (Natural Levee) কী?

উত্তর: বর্ষাকালে নদীর নিম্নগতিতে দুপাশে বন্যার সৃষ্টি হয়। বন্যার জলের সাথে আসা পলি, বালি নদীর দুই তীরে জমা হতে হতে উঁচু হয়ে আল বা বাঁধের মতো অবস্থান করে। প্রকৃতিগতভাবে নিজে থেকে এই বাঁধ তৈরি হয় বলে একে স্বাভাবিক বাঁধ বলে।

10. সব নদীর মোহনায় বদ্বীপ (Delta) গড়ে ওঠে না কেন?

উত্তর: বদ্বীপ গড়ার জন্য কিছু অনুকূল পরিবেশ লাগে। যদি মোহনায় সমুদ্রের গভীরতা খুব বেশি হয়, জোয়ার-ভাটা খুব প্রবল হয় অথবা নদীতে পলির পরিমাণ কম থাকে, তবে বদ্বীপ গঠিত হতে পারে না। যেমন— নর্মদা ও তাপতী নদীর মোহনায় বদ্বীপ নেই।

11. নদীর নিম্নগতিতে বদ্বীপ বা ডেল্টা কীভাবে তৈরি হয়?

উত্তর: নদীর মোহনায় জলের স্রোত খুব কমে যায়। তখন নদী বাহিত পলি সমুদ্রের অগভীর অংশে বছরের পর বছর জমা হয়ে গ্রিক অক্ষর ডেল্টা (Δ) বা বাংলা ‘ব’ অক্ষরের মতো যে সমভূমি তৈরি করে তাকেই বদ্বীপ বলে। যেমন— গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ।

[Image of river delta formation at the mouth of a river]

12. উপনদী ও শাখা নদীর মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর: কোনো ছোট নদী যখন প্রধান নদীতে এসে মেশে, তখন তাকে উপনদী (Tributary) বলে (যেমন যমুনা গঙ্গার উপনদী)। আর প্রধান নদী থেকে যখন কোনো জলধারা বেরিয়ে গিয়ে অন্য কোথাও বয়ে যায়, তখন তাকে শাখা নদী (Distributary) বলে (যেমন ভাগীরথী-হুগলি গঙ্গার শাখা নদী)।

13. খাঁড়ি (Estuary) বলতে কী বোঝো?

উত্তর: জোয়ার-ভাটার প্রভাবযুক্ত নদীর চওড়া ও ফানেলের মতো আকৃতির মোহনাকে খাঁড়ি বলে। এখানে নদীর মিষ্টি জল সমুদ্রের নোনা জলের সাথে মেশে। সুন্দরবন অঞ্চলের নদীগুলোতে অনেক খাঁড়ি দেখা যায়।

14. নদীর উচ্চগতিতে ‘V’ আকৃতির উপত্যকা সৃষ্টি হওয়ার কারণ কী?

উত্তর: উচ্চগতিতে পার্বত্য ঢাল খাড়া থাকায় নদীর গতিবেগ ও শক্তির পরিমাণ খুব বেশি থাকে। এই সময় নদী তার পার্শ্বক্ষয়ের চেয়ে নিম্নক্ষয় (তলায় ক্ষয়) বেশি করে। এর ফলে নদী উপত্যকা গভীর ও সংকীর্ণ হয়ে ইংরেজি ‘V’ অক্ষরের মতো রূপ ধারণ করে।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার