সপ্তম শ্রেণি: ভূগোল, অধ্যায় – 6 শিলা ও মাটি, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
অধ্যায় 6: শিলা ও মাটি
(সংক্ষিপ্ত ও বিশ্লেষণমূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 2/3)
✍️ 2/3 নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ 14টি প্রশ্নোত্তর:
1. শিলা বলতে কী বোঝো? এটি কয় প্রকার?
উত্তর: এক বা একাধিক খনিজ পদার্থের মিশ্রণে গঠিত ভূত্বকের কঠিন অংশকে শিলা বলে। শিলা মূলত তিন প্রকারের হয়— (i) আগ্নেয় শিলা, (ii) পাললিক শিলা এবং (iii) রূপান্তরিত শিলা।
2. আগ্নেয় শিলাকে ‘আদি শিলা’ বলা হয় কেন?
উত্তর: পৃথিবী সৃষ্টির শুরুতে যখন অত্যন্ত উত্তপ্ত ও তরল অবস্থায় ছিল, তখন সেই তরল ম্যাগমা ঠান্ডা ও জমাট বেঁধে সর্বপ্রথম আগ্নেয় শিলা তৈরি হয়েছিল। অন্য সব শিলা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই শিলা থেকেই তৈরি হয়, তাই একে আদি বা প্রাথমিক শিলা বলা হয়।
3. পাললিক শিলা কীভাবে গঠিত হয়?
উত্তর: নদী, বায়ু বা হিমবাহের দ্বারা শিলা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে পলি আকারে সমুদ্র বা হ্রদের নিচে স্তরে স্তরে জমা হয়। লক্ষ লক্ষ বছর ধরে ওপরের স্তরের চাপে এবং ভূগর্ভের তাপে এই পলি জমাট বেঁধে পাললিক শিলা তৈরি করে। যেমন— বেলেপাথর, চুনাপাথর।
[Image of sedimentary rock layers formation]
4. জীবশ্ম (Fossil) কী? এটি কোন্ শিলাতে দেখা যায়?
উত্তর: পাললিক শিলা গঠনের সময় অনেক সময় উদ্ভিদ বা প্রাণীর দেহাবশেষ পাথরের স্তরের মাঝে চাপা পড়ে যায়। দীর্ঘকাল পাথরের চাপে এদের ছাপ পাথরের গায়ে স্থায়ীভাবে থেকে যায়, একেই জীবশ্ম বলে। এটি কেবলমাত্র পাললিক শিলাতেই দেখা যায়।
5. রূপান্তরিত শিলা কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর: অত্যাধিক তাপ, চাপ বা রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে আগ্নেয় বা পাললিক শিলা যখন তার মূল বৈশিষ্ট্য হারিয়ে সম্পূর্ণ নতুন ও কঠিন শিলাতে পরিণত হয়, তখন তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে। যেমন— চুনাপাথর থেকে মার্বেল, গ্রানাইট থেকে নিস।
6. শিলাচক্র (Rock Cycle) বলতে কী বোঝো?
উত্তর: প্রকৃতিতে আগ্নেয়, পাললিক ও রূপান্তরিত শিলা একটি নির্দিষ্ট নিয়মে ক্রমাগত এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তিত হয়ে চলেছে। শিলার এই চক্রাকার পরিবর্তনের প্রক্রিয়াকেই শিলাচক্র বলা হয়।
7. আবহবিকার (Weathering) কাকে বলে?
উত্তর: বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন উপাদান যেমন— উষ্ণতা, বৃষ্টিপাত বা আদ্রতার প্রভাবে ভূপৃষ্ঠের শিলাসমূহ যখন যান্ত্রিকভাবে চূর্ণ-বিচূর্ণ বা রাসায়নিকভাবে বিয়োজিত হয়ে মূল শিলার ওপরই অবস্থান করে, তখন তাকে আবহবিকার বলে। এটি মাটি তৈরির প্রাথমিক ধাপ।
8. রেগোলিথ (Regolith) কী?
উত্তর: দীর্ঘদিনের আবহবিকারের ফলে আদি শিলা যখন চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে একটি শিথিল ও নরম আস্তরণ তৈরি করে, তাকে রেগোলিথ বলে। এই রেগোলিথের সাথে জৈব পদার্থ মিশেই পরবর্তীকালে মাটি তৈরি হয়।
9. হিউমাস (Humus) বলতে কী বোঝো? এর গুরুত্ব কী?
উত্তর: মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ অণুজীবের সাহায্যে পচে গিয়ে মাটির ওপর যে কালচে রঙের আঠালো জৈব পদার্থ তৈরি করে, তাকে হিউমাস বলে। এটি মাটির উর্বরতা বাড়ায় এবং মাটির জল ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
10. মৃত্তিকা পরিলেখ (Soil Profile) কাকে বলে?
উত্তর: ভূপৃষ্ঠ থেকে ভূগর্ভের আদি শিলা পর্যন্ত মাটির যে বিভিন্ন স্তর দেখা যায়, তার উলম্ব প্রস্থচ্ছেদকে মৃত্তিকা পরিলেখ বলে। একটি আদর্শ মাটিতে সাধারণত O, A, B এবং C— এই চারটি প্রধান স্তর থাকে।
11. অ্যালুভিয়েশন ও ইলুভিয়েশন বলতে কী বোঝো?
উত্তর: মাটির ওপরের স্তর (A স্তর) থেকে খনিজ পদার্থ ধুয়ে নিচের স্তরে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে অ্যালুভিয়েশন বলে। অন্যদিকে, সেই ধুয়ে আসা খনিজ পদার্থগুলি যখন মাটির নিচের স্তরে (B স্তর) এসে জমা হয়, তাকে ইলুভিয়েশন বলে।
12. মৃত্তিকা গঠনের যে কোনো তিনটি নিয়ন্ত্রক লেখো।
উত্তর: (i) আদি শিলা: আদি শিলার রং ও খনিজের ওপর মাটির চরিত্র নির্ভর করে। (ii) জলবায়ু: বৃষ্টিপাত ও উষ্ণতা আবহবিকারের মাধ্যমে মাটি তৈরির গতি নিয়ন্ত্রণ করে। (iii) সময়: মাটি একটি ধীর প্রক্রিয়া, তাই যত বেশি সময় পাওয়া যায় মাটির স্তর তত গভীর হয়।
13. আগ্নেয় শিলার যে কোনো তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: (i) এই শিলা খুব কঠিন ও ভারী হয়। (ii) এই শিলাতে কোনো স্তর বা জীবশ্ম দেখা যায় না। (iii) এই শিলা কেলাসাঙ্কিত বা স্ফটিকাকৃতির হয়ে থাকে।
14. পাললিক শিলার তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: (i) এই শিলা স্তরে স্তরে গঠিত হয় বলে একে স্তরীভূত শিলা বলে। (ii) এই শিলাতে জীবশ্ম দেখা যায়। (iii) এই শিলা আগ্নেয় শিলার চেয়ে নরম এবং হালকা হয়।