মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

সপ্তম শ্রেণি: ভূগোল, অধ্যায় – 7 আবহাওয়া ও জলবায়ু, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

অধ্যায় 7: আবহাওয়া ও জলবায়ু
(সংক্ষিপ্ত ও বিশ্লেষণমূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 2/3)

✍️ 2/3 নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ 14টি প্রশ্নোত্তর:

1. আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে প্রধান তিনটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর: (i) আবহাওয়া হলো কোনো নির্দিষ্ট স্থানের বায়ুমণ্ডলের প্রতিদিনের সাময়িক অবস্থা, কিন্তু জলবায়ু হলো কোনো বিস্তীর্ণ অঞ্চলের অন্তত 30-35 বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থা। (ii) আবহাওয়া খুব দ্রুত পরিবর্তিত হয়, কিন্তু জলবায়ু সহজে পরিবর্তিত হয় না। (iii) আবহাওয়া স্বল্প পরিসরে নির্ণয় করা হয়, কিন্তু জলবায়ু একটি বৃহৎ অঞ্চলের ওপর নির্ভর করে।

2. ল্যাপস রেট (Normal Lapse Rate) বা উষ্ণতা হ্রাসের স্বাভাবিক হার বলতে কী বোঝো?

উত্তর: বায়ুমণ্ডলের নিচের স্তর অর্থাৎ ট্রপোস্ফিয়ারে উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে বায়ুর উষ্ণতা কমতে থাকে। প্রতি 1000 মিটার বা 1 কিমি উচ্চতা বৃদ্ধিতে বায়ুর তাপমাত্রা 6.4°C হারে হ্রাস পায়। একেই উষ্ণতা হ্রাসের স্বাভাবিক হার বা ল্যাপস রেট বলা হয়।

3. অ্যালবেডো (Albedo) কাকে বলে?

উত্তর: সূর্য থেকে আসা মোট সৌরকিরণের সবটুকু পৃথিবীকে উত্তপ্ত করে না। আগত সৌরশক্তির প্রায় 34% অংশ বায়ুমণ্ডলের মেঘ, ধূলিকণা এবং ভূত্বক থেকে প্রতিফলিত হয়ে সরাসরি মহাশূন্যে ফিরে যায়। সূর্যরশ্মির এই ফিরে যাওয়া অংশকেই অ্যালবেডো বলা হয়।

4. পরিচলন বৃষ্টিপাত (Convectional Rainfall) কীভাবে ঘটে?

উত্তর: প্রখর সূর্যের তাপে কোনো অঞ্চলের জলভাগ ও স্থলভাগ অত্যন্ত উত্তপ্ত হলে সেই সংস্পর্শে থাকা বায়ুও উষ্ণ ও হালকা হয়ে ওপরে উঠে যায়। ওপরে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে এই জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু ঘনীভূত হয়ে মেঘ তৈরি করে এবং সরাসরি প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটায়। নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রতিদিন বিকেলে এই বৃষ্টি হয়।

5. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত (Orographic Rainfall) বলতে কী বোঝো?

উত্তর: সমুদ্র থেকে আসা জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু যখন কোনো পর্বত বা পাহাড়ে বাধা পায়, তখন সেই বায়ু পর্বতের ঢাল বেয়ে ওপরে উঠে যায়। ওপরে উঠে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে পর্বতের যে ঢালে বাধা পেয়েছে, সেই প্রতিবাত ঢালে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। একে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত বলে।

6. বৃষ্টির ছায়া অঞ্চল (Rain Shadow Area) বলতে কী বোঝো?

উত্তর: শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাতের সময় জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু পর্বতের প্রতিবাত ঢালে বৃষ্টিপাত ঘটানোর পর যখন পর্বতের উল্টো দিকের ঢালে (অনুবাত ঢাল) পৌঁছায়, তখন বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ খুব কমে যায়। ফলে সেই ঢালে বৃষ্টি হয় না বললেই চলে। এই শুষ্ক অঞ্চলকেই বৃষ্টির ছায়া অঞ্চল বলে। যেমন: পশ্চিমঘাট পর্বতের পূর্ব ঢাল।

7. সমোষ্ণরেখা বা আইসোথার্ম (Isotherm)-এর তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: (i) সমোষ্ণরেখাগুলি পৃথিবীর মানচিত্রে সমান উষ্ণতা বিশিষ্ট স্থানগুলোকে যুক্ত করে। (ii) এগুলি সাধারণত অক্ষরেখার সমান্তরালে পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত থাকে। (iii) জলভাগ ও স্থলভাগের সংযোগস্থলে এই রেখাগুলি বেঁকে যায় কারণ জল ও স্থলের উষ্ণতা গ্রহণের হার আলাদা।

8. চরমভাবাপন্ন ও সমভাবাপন্ন জলবায়ুর মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর: সমুদ্র থেকে দূরে অবস্থিত স্থানে গ্রীষ্মে খুব গরম এবং শীতে খুব ঠান্ডা অনুভূত হয়, একে চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বলে (যেমন দিল্লি)। অন্যদিকে, সমুদ্রের কাছাকাছি অঞ্চলে জলীয় বাষ্পের প্রভাবে বছরের কোনো সময় খুব গরম বা খুব ঠান্ডা লাগে না, একে সমভাবাপন্ন জলবায়ু বলে (যেমন মুম্বাই)।

9. আপেক্ষিক আর্দ্রতা (Relative Humidity) বলতে কী বোঝো?

উত্তর: নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় একটি নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে যে পরিমাণ জলীয় বাষ্প আছে এবং ওই তাপমাত্রায় সেই বায়ুকে সম্পৃক্ত করতে যে পরিমাণ জলীয় বাষ্প প্রয়োজন— এই দুইয়ের অনুপাতকে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বলে। একে শতকরা (%) হিসেবে প্রকাশ করা হয়।

10. কালবৈশাখী কী? এটি কেন হয়?

উত্তর: গ্রীষ্মকালে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে বিকেলের দিকে মাঝে মাঝে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে যে বিধ্বংসী ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টি প্রবাহিত হয়, তাকে কালবৈশাখী বলে। গ্রীষ্মের দুপুরে অতিরিক্ত উষ্ণতার ফলে স্থানীয়ভাবে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয় এবং শীতল বায়ু ছুটে এসে এই ঝড়ের সৃষ্টি করে।

11. অক্ষাংশ কীভাবে কোনো স্থানের জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ করে?

উত্তর: নিরক্ষরেখা থেকে যত উত্তর বা দক্ষিণে যাওয়া যায়, সূর্যরশ্মি তত বেশি তির্যকভাবে পড়ে। লম্বভাবে পড়া সূর্যরশ্মি অল্প জায়গায় প্রবল তাপ দেয় (গরম বেশি), কিন্তু তির্যক রশ্মি অনেক বড় জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে তাপ কম দেয় (গরম কম)। এই কারণে নিম্ন অক্ষাংশে গরম বেশি এবং উচ্চ অক্ষাংশে বা মেরু অঞ্চলে অত্যন্ত শীত থাকে।

12. ঘনীভবন (Condensation) কী? এর বিভিন্ন রূপগুলি কী কী?

উত্তর: বায়ুর উষ্ণতা কমলে বায়ুমণ্ডলের জলীয় বাষ্প তরল জলকণা বা কঠিন তুষারকণায় পরিণত হয়, একে ঘনীভবন বলে। ঘনীভবনের বিভিন্ন রূপগুলো হলো— শিশির, কুয়াশা, মেঘ এবং তুষার।

13. লু (Loo) এবং আঁধি (Andhi) বলতে কী বোঝো?

উত্তর: গ্রীষ্মকালে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম ভারতে প্রবাহিত অত্যন্ত উষ্ণ ও শুষ্ক স্থানীয় বায়ুকে **লু** বলে। আবার এই একই সময়ে রাজস্থান অঞ্চলে যে প্রবল ধূলিঝড় দেখা যায় তাকে **আঁধি** বলে। আঁধি প্রবাহিত হলে অনেক সময় দৃশ্যমানতা কমে যায় এবং আকাশ অন্ধকার হয়ে যায়।

14. শিশিরাঙ্ক (Dew Point) বলতে কী বোঝো?

উত্তর: যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় পৌঁছালে বায়ুতে থাকা জলীয় বাষ্প বায়ুটিকে সম্পৃক্ত করে দেয় এবং ঘনীভবন শুরু হয়, সেই তাপমাত্রাকে ওই বায়ুর শিশিরাঙ্ক বলা হয়। বায়ুর উষ্ণতা শিশিরাঙ্কের নিচে নেমে গেলে কুয়াশা বা শিশির সৃষ্টি হয়।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার