সপ্তম শ্রেণি: ভূগোল, অধ্যায় – 7 জল দূষণ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
অধ্যায় 7: জল দূষণ
(সংক্ষিপ্ত ও বিশ্লেষণমূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 2/3)
✍️ 2/3 নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ 14টি প্রশ্নোত্তর:
1. জল দূষণ বলতে কী বোঝো?
উত্তর: প্রাকৃতিক বা মনুষ্যসৃষ্ট কারণে জলের সঙ্গে কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক বা জৈব পদার্থ মিশে গিয়ে যখন জলের ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক গুণমান নষ্ট করে এবং জলকে মানুষ বা অন্য প্রাণীর ব্যবহারের অযোগ্য করে তোলে, তখন তাকে জল দূষণ বলে।
2. কৃষিকাজ কীভাবে জল দূষণ ঘটায়?
উত্তর: কৃষিতে ফলন বাড়াতে প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিক সার (যেমন- ফসফেট, নাইট্রেট) এবং পোকামাকড় মারার জন্য বিষাক্ত কীটনাশক (যেমন- DDT) ব্যবহার করা হয়। বৃষ্টির জল এই সার ও কীটনাশক ধুইয়ে নিয়ে গিয়ে পাশের পুকুর বা নদীতে মেশালে জল মারাত্মকভাবে দূষিত হয়।
3. ইউট্রোফিকেশন (Eutrophication) কী?
উত্তর: চাষের জমি থেকে ধুয়ে আসা ফসফেট জাতীয় সারের প্রভাবে জলাশয়ে শৈবাল ও আগাছা (যেমন- কচুরিপানা) অত্যন্ত দ্রুত হারে বেড়ে যায়। এর ফলে জলের অক্সিজেন কমে যায় এবং জলজ প্রাণীরা মারা যেতে শুরু করে। এই প্রক্রিয়াকেই ইউট্রোফিকেশন বলে।
4. জাপানের মিনামাটা শহর বিখ্যাত কেন?
উত্তর: 1950-এর দশকে জাপানের মিনামাটা উপসাগরের তীরে একটি প্লাস্টিক কারখানা থেকে বিষাক্ত পারদ মেশানো বর্জ্য সমুদ্রের জলে ফেলা হতো। ওই দূষিত জলের মাছ খেয়ে মানুষের শরীরে স্নায়বিক রোগ দেখা দেয়, যা ‘মিনামাটা রোগ’ নামে পরিচিত। এই ঐতিহাসিক ঘটনার জন্যই শহরটি জল দূষণের ইতিহাসে কুখ্যাত।
5. আর্সেনিক দূষণ ও ব্ল্যাক ফুট ব্যাধি বলতে কী বোঝো?
উত্তর: ভূগর্ভস্থ জল থেকে অতিরিক্ত জল তুলে নেওয়ার ফলে মাটির নিচের স্তরে থাকা আর্সেনিক জলের সাথে মিশে যায়। দীর্ঘকাল ধরে এই আর্সেনিকযুক্ত জল পান করলে হাতের তালু ও পায়ের তলায় কালো কালো ঘা বা দাগ তৈরি হয়, যাকে ব্ল্যাক ফুট ব্যাধি বলে।
6. শিল্পকেন্দ্র বা কারখানা কীভাবে জল দূষণ ঘটায়?
উত্তর: চর্মশিল্প, রাসায়নিক শিল্প, রঙ ও প্লাস্টিক কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত বর্জ্য এবং অ্যাসিড মিশ্রিত গরম জল সরাসরি নদী বা নালায় ফেলা হয়। এই বর্জ্যে সিসা, পারদ, ক্যাডমিয়ামের মতো ভারী ধাতু থাকে যা নদীর জলকে বিষাক্ত করে তোলে।
7. তৈল দূষণ (Oil Spill) কী? এর প্রভাব লেখো।
উত্তর: সমুদ্রে খনিজ তেলবাহী বড় জাহাজ দুর্ঘটনায় পড়লে বা জাহাজ ধোয়ার ফলে যখন প্রচুর পরিমাণ তেল জলের ওপর ভেসে বেড়ায়, তাকে তৈল দূষণ বলে। এর ফলে সমুদ্রের জলে অক্সিজেনের ঘাটতি হয় এবং হাজার হাজার সামুদ্রিক মাছ ও পাখি মারা যায়।
8. ক্যাডমিয়াম দূষণে কী রোগ হয়? এর উপসর্গ কী?
উত্তর: ক্যাডমিয়াম দূষণে ইটাই-ইটাই (বা ওউচ-ওউচ) রোগ হয়। এই রোগে মানুষের হাড় খুব ভঙ্গুর হয়ে যায় এবং প্রচণ্ড ব্যথার সৃষ্টি হয়। কিডনি ও ফুসফুসেরও মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
9. গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান (GAP) কেন নেওয়া হয়েছিল?
উত্তর: ভারতের প্রধান নদী গঙ্গার জল শিল্পজাত বর্জ্য ও নর্দমার নোংরা জলের ফলে অত্যন্ত দূষিত হয়ে পড়ছিল। 1985 সালে ভারত সরকার গঙ্গার জলকে দূষণমুক্ত করা ও তার নাব্যতা রক্ষার জন্য এক বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করে, যাকে গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান বলা হয়।
10. তাপীয় দূষণ (Thermal Pollution) বলতে কী বোঝো?
উত্তর: তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে যন্ত্র ঠান্ডা করার জন্য জল ব্যবহার করা হয়। ব্যবহারের পর সেই অত্যন্ত গরম জল যখন পুনরায় জলাশয় বা নদীতে মেশে, তখন জলের তাপমাত্রা হঠাৎ বেড়ে গিয়ে জলজ বাস্তুতন্ত্র নষ্ট করে। একেই তাপীয় দূষণ বলে।
11. জল দূষণ প্রতিরোধের যে কোনো তিনটি উপায় লেখো।
উত্তর: (i) কারখানার বর্জ্য জল শোধনাগারে পরিষ্কার করে তবেই নদীতে ফেলতে হবে। (ii) চাষের জমিতে রাসায়নিক সারের বদলে জৈব সার এবং কীটনাশকের বদলে প্রাকৃতিক শত্রু ব্যবহার করতে হবে। (iii) প্লাস্টিক বা পলিথিন জলাশয়ে ফেলা বন্ধ করতে হবে।
12. ফ্লোরাইড দূষণ কেন হয়? এর ক্ষতিকর প্রভাব কী?
উত্তর: ভূগর্ভস্থ শিলাস্তরের বিশেষ কিছু খনিজ জলের সাথে মিশে গেলে ফ্লোরাইড দূষণ হয়। এর ফলে মানুষের দাঁত হলদেটে ও এবড়ো-খেবড়ো হয়ে যায় এবং হাড় বেঁকে যেতে পারে, যাকে ‘ফ্লুরোসিস’ বলা হয়।
13. জলবাহিত কয়েকটি রোগের নাম লেখো।
উত্তর: দূষিত জল পান করলে বা ব্যবহার করলে যে রোগগুলো হয় তার মধ্যে প্রধান হলো— কলেরা, টাইফয়েড, আমাশয়, হেপাটাইটিস (জন্ডিস) এবং বিভিন্ন চর্মরোগ।
14. আবর্জনা শোধনের দুটি বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি কী কী?
উত্তর: (i) ফিল্ট্রেশন বা পরিশ্রবণ: ছাঁকনির মাধ্যমে বড় কঠিন পদার্থগুলিকে আলাদা করা। (ii) ক্লোরিনেশন: নির্দিষ্ট পরিমাণ ব্লিচিং পাউডার বা ক্লোরিন মিশিয়ে জলের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াগুলিকে ধ্বংস করা।