সপ্তম শ্রেণি: ভূগোল, অধ্যায় – 9 এশিয়া মহাদেশ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
অধ্যায় 9: এশিয়া মহাদেশ
(সংক্ষিপ্ত ও বিশ্লেষণমূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 2/3)
✍️ 2/3 নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ 14টি প্রশ্নোত্তর:
1. এশিয়া মহাদেশকে ‘বৈচিত্র্যের মহাদেশ’ বলা হয় কেন?
উত্তর: এশিয়া মহাদেশে যেমন পৃথিবীর উচ্চতম শৃঙ্গ এভারেস্ট আছে, তেমনি নিচুতম স্থান মৃত সাগরও আছে। আবার এখানে যেমন একদিকে আরবের উষ্ণ মরুভূমি আছে, অন্যদিকে সাইবেরিয়ার প্রচণ্ড শীতল তুন্দ্রা অঞ্চলও বর্তমান। এই প্রাকৃতিক, জলবায়ুগত এবং সাংস্কৃতিক বিশাল পার্থক্যের কারণেই একে বৈচিত্র্যের মহাদেশ বলা হয়।
2. পামির গ্রন্থি থেকে কোন্ কোন্ পর্বতমালা কোন্ দিকে বিস্তৃত হয়েছে?
উত্তর: পামির গ্রন্থি থেকে— (i) দক্ষিণ-পূর্বে হিমালয়, (ii) পূর্বে কুয়েনলুন, (iii) পশ্চিমে হিন্দুখুশ এবং (iv) উত্তর-পূর্বে কারাকোরাম ও তিয়েনশান পর্বতমালা বিস্তৃত হয়েছে।
3. এশিয়ার উত্তরবাহিনী নদীগুলিতে কেন ঘন ঘন বন্যা হয়?
উত্তর: ওব, ইয়েনিসে ও লেনা নদীগুলির উৎস অঞ্চল দক্ষিণে এবং মোহনা অঞ্চল উত্তরে সুমেরু সাগরে। শীতকালে মোহনা অঞ্চল বরফে ঢাকা থাকে কিন্তু উৎস অঞ্চলে বরফ গলে জল আসে। এই জল মোহনায় বরফে বাধা পেয়ে দুকূল ছাপিয়ে বিধ্বংসী বন্যার সৃষ্টি করে।
4. অন্তরবাহিনী নদী বলতে কী বোঝো? এশিয়ার দুটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: যে সমস্ত নদী কোনো মহাদেশের অভ্যন্তরে উৎপন্ন হয়ে সমুদ্র বা মহাসাগরে না পড়ে কোনো হ্রদ বা মরুভূমিতে শেষ হয়ে যায়, তাদের অন্তরবাহিনী নদী বলে। যেমন— আমু দরিয়া ও সির দরিয়া।
5. ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী?
উত্তর: (i) এই জলবায়ু অঞ্চলে গ্রীষ্মকাল শুষ্ক এবং শীতকাল আর্দ্র হয়। (ii) পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে শীতকালে এখানে বৃষ্টিপাত হয়। (iii) আকাশ সাধারণত পরিষ্কার থাকে এবং রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া বজায় থাকে।
6. ইয়াংসি নদীর অববাহিকাকে ‘চিনের শস্যভাণ্ডার’ বলা হয় কেন?
উত্তর: ইয়াংসি নদীর অববাহিকায় উর্বর পলিমাটি ও অনুকূল জলবায়ুর কারণে প্রচুর পরিমাণে ধান, গম, চা ও তুলা উৎপন্ন হয়। বিশেষ করে হুনান প্রদেশ চিনের প্রধান ধান উৎপাদক অঞ্চল হওয়ায় একে শস্যভাণ্ডার বলা হয়।
7. জাপানের টোকিও-ইয়োকোহামা শিল্পাঞ্চল গড়ে ওঠার কারণ কী?
উত্তর: (i) উন্নত বন্দর সুবিধা ও কাঁচামাল আমদানির সুবিধা। (ii) সরকারি সহযোগিতা ও দক্ষ শ্রমিক। (iii) পর্যাপ্ত জল সরবরাহ এবং উন্নত পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা।
8. এশিয়ার দক্ষিণবাহিনী নদীগুলির গুরুত্ব লেখো।
উত্তর: গঙ্গা, সিন্ধু, ব্রহ্মপুত্র, মেকং নদীগুলি পলি সঞ্চয় করে বিশাল উর্বর সমভূমি তৈরি করেছে। এই নদীগুলির ওপর ভিত্তি করে প্রাচীন কৃষি সভ্যতা গড়ে উঠেছে এবং বর্তমানে এগুলি জলসেচ ও জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান উৎস।
9. ‘আরব উপদ্বীপ’ বলতে কী বোঝো? এর বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত তিনদিকে জলবেষ্টিত ভূভাগকে আরব উপদ্বীপ বলে। এটি মূলত একটি প্রাচীন মালভূমি এবং খনিজ তেল সমৃদ্ধ অঞ্চল। এখানকার জলবায়ু অত্যন্ত উষ্ণ ও শুষ্ক।
10. এশিয়ার স্বাভাবিক উদ্ভিদ জলবায়ু দ্বারা নিয়ন্ত্রিত— একটি উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: এশিয়ার নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রচণ্ড গরম ও সারাবছর বৃষ্টি হওয়ায় সেখানে ঘন চিরহরিৎ বনভূমি গড়ে উঠেছে (যেমন— মেহগনি, রোজউড)। অন্যদিকে, উত্তর গোলার্ধের প্রচণ্ড শীতল তুন্দ্রা অঞ্চলে জলবায়ুর কারণেই ল্যাঙ্কেন বা শৈবাল জাতীয় উদ্ভিদ জন্মায়। অর্থাৎ জলবায়ু বদলে গেলেই উদ্ভিদও বদলে যায়।
11. দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায় তৈল উত্তোলনের গুরুত্ব কী?
উত্তর: সৌদি আরব, ইরান, কুয়েত ও ইরাক পৃথিবীর বৃহত্তম খনিজ তেল ভাণ্ডার। এই তেলের ওপর ভিত্তি করেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে এবং সারা বিশ্বের শক্তির চাহিদা পূরণ হয়।
12. এশিয়ার ‘পবিত্র নদী’ গঙ্গার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।
উত্তর: গঙ্গা হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। এটি ভারতের দীর্ঘতম নদী এবং এই নদীর তীরে বারাণসী, প্রয়াগরাজ ও কলকাতার মতো ঐতিহাসিক শহর অবস্থিত।
13. টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর গুরুত্ব কী?
উত্তর: এই দুটি নদীর অববাহিকায় প্রাচীন মেসোপটেমিয়া সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। বর্তমানে ইরাক ও সিরিয়ার কৃষি ও জলসেচের প্রধান উৎস এই নদী দুটি। এদের মিলিত প্রবাহ শাত-ইল-আরব নামে পরিচিত।
14. ওসাকা শহরকে ‘জাপানের ম্যানচেস্টার’ বলা হয় কেন?
উত্তর: ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার শহরের মতো জাপানের ওসাকা শহরেও প্রচুর কার্পাস বয়ন শিল্প বা বস্ত্রবয়ন কারখানা গড়ে উঠেছে। জাপানের বৃহত্তম বস্ত্রবয়ন কেন্দ্র হওয়ার কারণেই এই শহরকে ‘জাপানের ম্যানচেস্টার’ বলা হয়।