সপ্তম শ্রেণি: ভূগোল, অধ্যায় – 10 আফ্রিকা মহাদেশ, রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর
অধ্যায় 10: আফ্রিকা মহাদেশ
(দীর্ঘ উত্তরধর্মী বা রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর – মান: 5)
📝 5 নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ 5টি প্রশ্নোত্তর:
1. “মিশর নীল নদের দান” — ভৌগোলিক কারণসহ ব্যাখ্যা করো।
ঐতিহাসিক হেরোডোটাস মিশরকে ‘নীল নদের দান’ বলেছিলেন। এর কারণগুলি হলো:
- মরুভূমির কবল থেকে রক্ষা: নীল নদ না থাকলে সাহারা মরুভূমির প্রভাবে মিশর আজ একটি বিশাল বালুস্তূপে পরিণত হতো।
- পলি সঞ্চয় ও উর্বরতা: প্রতি বছর নীল নদে বন্যা হয় এবং বন্যার জল সরে গেলে জমিতে উর্বর পলিমাটি পড়ে থাকে। এই পলিমাটিতে প্রচুর পরিমাণে ধান, গম ও উন্নতমানের তুলা চাষ হয়।
- জলসেচ ব্যবস্থা: নীল নদের জলকে খালের মাধ্যমে মরু অঞ্চলে নিয়ে গিয়ে চাষবাস ও পশুপালনের উপযোগী করা হয়েছে।
- পরিবহন ও বাণিজ্য: নীল নদ প্রাচীন কাল থেকেই মিশরের প্রধান জলপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, যা ব্যবসা-বাণিজ্যে সাহায্য করে।
- পানীয় জলের উৎস: মিশরের প্রায় সব বড় শহর এই নদীর তীরেই গড়ে উঠেছে কারণ এটিই মরু অঞ্চলের প্রধান পানীয় জলের উৎস।
2. আফ্রিকার নিরক্ষীয় চিরহরিৎ অরণ্যের বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।
আফ্রিকার কঙ্গো নদীর অববাহিকায় নিরক্ষীয় চিরহরিৎ অরণ্য দেখা যায়। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
- চিরসবুজ প্রকৃতি: সারাবছর প্রচুর বৃষ্টিপাত ও গরমে গাছের পাতাগুলি একসাথে কখনো ঝরে যায় না, তাই এই অরণ্য সবসময় সবুজ দেখায়।
- নিবিড় ও দুর্গম: গাছগুলি খুব ঘনভাবে জন্মায় এবং লতাপাতায় জড়িয়ে এক দুর্গম পরিবেশ তৈরি করে। সূর্যের আলো বনের মেঝেতে পৌঁছাতে পারে না।
- কাঠের প্রকৃতি: এখানকার মেহগনি, রোজউড ও আবলুস গাছের কাঠ অত্যন্ত শক্ত ও ভারী হয়।
- স্তরে বিন্যাস: অরণ্যের গাছগুলি উচ্চতা অনুযায়ী বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত। বড় গাছগুলি ৫০-৬০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে উপরে চাঁদোয়ার মতো আস্তরণ তৈরি করে।
3. সাহারা মরুভূমির ভূ-প্রকৃতির সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
সাহারা মরুভূমি শুধু বালির স্তূপ নয়, এর ভূ-প্রকৃতি বেশ বৈচিত্র্যময়:
- আর্গ (Erg): বালুকাময় মরুভূমিকে সাহারায় আর্গ বলা হয়। এখানে বিশাল বিশাল বালির ঢিবি বা বালিয়াড়ি দেখা যায়।
- হামাদা (Hamada): পাথুরে মরুভূমি অঞ্চলকে হামাদা বলা হয়। এখানে বালি কম এবং বড় বড় শিলাখণ্ড বেশি দেখা যায়।
- ওয়াদি (Wadi): মরুভূমির মধ্যে শুকনো নদীর খাতগুলিকে ওয়াদি বলে। বৃষ্টির সময় এগুলিতে জল এলেও বছরের অধিকাংশ সময় শুষ্ক থাকে।
- মরুদ্যান (Oasis): মরুভূমির নিচু জায়গায় যেখানে ভূগর্ভস্থ জল বেরিয়ে আসে, সেখানে সবুজ গাছপালা ও জনবসতি গড়ে ওঠে, একে মরুদ্যান বলে।
[Image showing different landforms of the Sahara desert like Erg, Hamada and Wadi]
4. সাভানা তৃণভূমিকে কেন ‘বিগ গেম কান্ট্রি’ বলা হয়?
আফ্রিকার ক্রান্তীয় তৃণভূমি বা সাভানা অঞ্চলকে ‘বিগ গেম কান্ট্রি’ বলার কারণগুলি হলো:
- তৃণভোজী প্রাণীর আধিক্য: এখানে প্রচুর লম্বা ঘাস থাকায় জেব্রা, হরিণ, জিরাফ ও হাতির মতো বিশাল বিশাল তৃণভোজী প্রাণী বাস করে।
- মাংসাশী প্রাণীর প্রাচুর্য: এই তৃণভোজী প্রাণীদের শিকার করার জন্য এখানে প্রচুর সিংহ, চিতা ও হায়না দেখা যায়।
- শিকারের ইতিহাস: একসময় ইউরোপীয়রা এই অঞ্চলে বড় বড় পশুদের শিকার করার জন্য আসত। শিকারের নেশায় এই অঞ্চলটি বিখ্যাত হয়ে ওঠায় একে ‘বিগ গেম কান্ট্রি’ বলা হয়।
- সাফারি: বর্তমানে এটি একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং পর্যটকদের বন্যপ্রাণী দেখার প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
5. আফ্রিকার গ্রস্থ উপত্যকা বা রিফট ভ্যালি কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে?
আফ্রিকার পূর্ব অংশে পৃথিবীর দীর্ঘতম ‘গ্রেট রিফট ভ্যালি’ অবস্থিত। এর উৎপত্তির কারণ হলো:
- ভূ-আলোড়ন: ভূ-অভ্যন্তরে পরিচলন স্রোতের প্রভাবে ভূত্বকের শিলাস্তরে যখন প্রবল টান সৃষ্টি হয়, তখন শিলাস্তরে ফাটল বা চ্যুতির সৃষ্টি হয়।
- মধ্যবর্তী অংশের বসে যাওয়া: সমান্তরাল দুটি ফাটলের মধ্যবর্তী ভূভাগ যখন নিচে বসে যায়, তখন তাকে গ্রস্থ উপত্যকা বলে।
- বিস্তার: আফ্রিকার এই উপত্যকাটি উত্তরে লোহিত সাগর থেকে দক্ষিণে জাম্বেসি নদী পর্যন্ত প্রায় ৬০০০ কিমি বিস্তৃত। এই উপত্যকাতেই ভিক্টোরিয়া ও টাঙ্গানিকার মতো বড় বড় হ্রদ সৃষ্টি হয়েছে।