সপ্তম শ্রেণি: বাংলা, জাদু কাহিনী – সত্যজিৎ রায়, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
অধ্যায়: জাদুকাহিনি
(গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর – মান: 2)
1. প্রাচীনকালে জাদুকরদের কেন মানুষ ভয় পেত?
উত্তর দেখো
উত্তর: প্রাচীনকালে জাদুবিদ্যা মূলত ধর্ম, কুসংস্কার এবং অলৌকিক শক্তির সঙ্গে যুক্ত ছিল। জাদুকরেরা দাবি করতেন যে তাঁদের কাছে অতিপ্রাকৃত ক্ষমতা আছে যার সাহায্যে তাঁরা অসাধ্য সাধন করতে পারেন। সাধারণ মানুষ জাদুর পেছনের কৌশল জানত না বলে একে দৈব বা শয়তানি শক্তি মনে করে ভয় পেত।
2. রবার্ট হুডিনকে ‘আধুনিক জাদুর জনক’ বলা হয় কেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: ফরাসি জাদুকর রবার্ট হুডিনই প্রথম জাদুকে কুসংস্কার ও অলৌকিকতার অন্ধকার থেকে বের করে এনেছিলেন। তিনি জাদুর মঞ্চে বিজ্ঞান, ঘড়ি তৈরির সূক্ষ্ম কারিগরি এবং বুদ্ধিকে কাজে লাগান। তিনি জাদুকে একটি রুচিশীল শিল্প ও বিনোদনের পর্যায়ে উন্নীত করেন বলেই তাঁকে আধুনিক জাদুর জনক বলা হয়।
3. জাদুকরের পোশাকে রবার্ট হুডিন কী ধরনের পরিবর্তন এনেছিলেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: আগেকার জাদুকরেরা ভয় জাগানোর জন্য বিচিত্র নকশা করা ঢিলেঢালা জোব্বা এবং লম্বা সুচালো টুপি পরতেন। রবার্ট হুডিন এই প্রথা ভেঙে একদম সাধারণ সভ্য মানুষের সান্ধ্যকালীন পোশাক বা ‘ইভনিং ড্রেস’ পরে মঞ্চে জাদু দেখানো শুরু করেন। এর ফলে জাদুর মধ্যে থাকা রহস্যময় ভয় দূর হয়ে যায়।
4. হ্যারি হুডিনির জাদুর বিশেষত্ব কী ছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: হ্যারি হুডিনি ছিলেন ‘এস্কেপ ম্যাজিক’ বা বন্ধনমুক্তির জাদুতে সর্বশ্রেষ্ঠ। তিনি লোহার শিকল, হাতকড়া, তালা লাগানো বাক্স বা জলের ট্যাংক থেকে নিজেকে অবিশ্বাস্য দ্রুততায় মুক্ত করতে পারতেন। তাঁর এই দুঃসাহসিক এবং শারীরিক সামর্থ্যের পরিচয় দেওয়া জাদুই তাঁকে বিশ্ববিখ্যাত করেছিল।
5. পি. সি. সরকারের ‘ইন্দ্রজাল’ জাদুর জগতকে কীভাবে প্রভাবিত করেছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: পি. সি. সরকার (প্রতূল চন্দ্র সরকার) ভারতীয় জাদুকে বিশ্বদরবারে এক সম্মানজনক স্থানে নিয়ে যান। তাঁর বিখ্যাত শো ‘ইন্দ্রজাল’-এ তিনি ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী জাদুর সঙ্গে পাশ্চাত্য প্রযুক্তি, আধুনিক আলোকসম্পাত এবং সঙ্গীতের চমৎকার মিলন ঘটিয়েছিলেন, যা সারা বিশ্বের দর্শকদের মুগ্ধ করে।
6. ‘স্লিট অফ হ্যান্ড’ (Sleight of Hand) জাদুকরের জন্য কতটা জরুরি?
উত্তর দেখো
উত্তর: আধুনিক জাদুর একটি প্রধান ভিত্তি হলো স্লিট অফ হ্যান্ড বা হাতের নিখুঁত কারসাজি। জাদুকরকে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে তাঁর হাত চালাতে হয় যাতে দর্শকেরা বুঝতে না পারেন কখন তিনি বস্তুটি সরাচ্ছেন। এই কৌশলে জাদুকর দর্শকদের চোখের মণি ও মনোযোগকে বিভ্রান্ত করেন।
7. জাদুর ক্ষেত্রে বিজ্ঞান কীভাবে সাহায্য করে?
উত্তর দেখো
উত্তর: জাদুতে আলোকবিজ্ঞান (Optics), যন্ত্রবিজ্ঞান (Mechanics) এবং রসায়নের বহুল ব্যবহার আছে। আয়নার প্রতিফলন ব্যবহার করে অদৃশ্য হওয়ার কৌশল বা রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে রঙ পরিবর্তন—সবই বিজ্ঞানের প্রয়োগ। আধুনিক জাদুকরেরা যান্ত্রিক কৌশলের মাধ্যমেই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখান।
8. জাদুর মঞ্চে ‘পারসপেক্টিভ’ (Perspective) বা দৃষ্টিভ্রম কেন তৈরি করা হয়?
উত্তর দেখো
উত্তর: দর্শকদের মনোযোগ অন্য দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার নামই দৃষ্টিভ্রম। জাদুকর এমন কিছু কথা বলেন বা অঙ্গভঙ্গি করেন যাতে দর্শকেরা তাঁর হাতের আসল কাজটি দেখতে না পান। এই কৌশলী মনোযোগ পরিবর্তনের মাধ্যমেই বড় বড় জাদুকরী ঘটনা ঘটানো সম্ভব হয়।
9. জাদুকাহিনি প্রবন্ধে জাদুকরদের কী নামে অভিহিত করা হয়েছে এবং কেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: প্রবন্ধে জাদুকরদের ‘প্র্যাকটিকাল ম্যাজিশিয়ান’ বা কৌশলবিদ বলা হয়েছে। কারণ তাঁরা কোনো অলৌকিক শক্তি ব্যবহার করেন না, বরং বুদ্ধি, শ্রম এবং দীর্ঘ অভ্যাসের মাধ্যমে অর্জিত কৌশল দিয়ে মানুষকে আনন্দ দেন।
10. জাদুর ইতিহাসে ‘গোল্ডেন এজ’ বা সুবর্ণ যুগ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর দেখো
উত্তর: ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ থেকে বিংশ শতাব্দীর শুরু পর্যন্ত সময়কে জাদুর সুবর্ণ যুগ বলা হয়। এই সময়েই রবার্ট হুডিন, হ্যারি হুডিনি এবং পরবর্তীকালে পি. সি. সরকারের মতো মহান জাদুকরেরা জাদুকে এক নতুন শিল্পরূপ দিয়েছিলেন এবং এটি বিশ্বজুড়ে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।
11. জাদুকর হওয়ার আগে রবার্ট হুডিন কী কাজ করতেন এবং তা তাঁকে কীভাবে সাহায্য করেছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: রবার্ট হুডিন পেশায় একজন ঘড়ি তৈরির দক্ষ কারিগর ছিলেন। ঘড়ির সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি ও গিয়ার নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে জাদুর নতুন নতুন বৈজ্ঞানিক যন্ত্র উদ্ভাবন করতে এবং যান্ত্রিক জাদু প্রদর্শনে দারুণভাবে সাহায্য করেছিল।
12. ‘জাদুকাহিনি’ প্রবন্ধের মাধ্যমে সত্যজিৎ রায় জাদুর কোন স্বরূপ তুলে ধরেছেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: সত্যজিৎ রায় জাদুকে কোনো অতিপ্রাকৃত রহস্য হিসেবে দেখাননি। তিনি জাদুর পেছনে থাকা ইতিহাস, বিবর্তন, জাদুকরদের হাড়ভাঙা খাটুনি এবং বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনার স্বরূপটিই পাঠকদের সামনে তুলে ধরেছেন।
13. ম্যাজিক এবং মনোবিজ্ঞানের সম্পর্ক কী?
উত্তর देखो
উত্তর: ম্যাজিক মূলত মনোবিজ্ঞানের খেলা। মানুষের মন কীভাবে কাজ করে, কোন দিকে তাকালে সে অন্য দিকে খেয়াল রাখতে পারে না—জাদুকরেরা সেই মনস্তাত্ত্বিক দুর্বলতাকে ব্যবহার করে নিখুঁতভাবে দর্শকদের বোকা বানান।
14. হ্যারি হুডিনির প্রকৃত নাম কী ছিল এবং তিনি কেন নাম পরিবর্তন করেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: হ্যারি হুডিনির প্রকৃত নাম ছিল এরিক ওয়েইস। তিনি আধুনিক জাদুর পথিকৃৎ রবার্ট হুডিনকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন। তাঁর নাম অনুসরণ করেই এরিক নিজের নাম রাখেন হ্যারি হুডিনি।
15. ভারতীয় জাদুর প্রাচীন ঐতিহ্যের একটি উদাহরণ দাও যা প্রবন্ধে উল্লিখিত।
উত্তর দেখো
উত্তর: প্রবন্ধে ভারতীয় প্রাচীন জাদুর শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হিসেবে ‘ইন্ডিয়ান রোপ ট্রিক’ বা দড়ির জাদুর কথা বলা হয়েছে। যদিও আধুনিক অনেক জাদুকর এর বাস্তব অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তবুও ঐতিহাসিকভাবে ভারতীয় জাদুর এটি একটি বিশ্ববিখ্যাত প্রতীক।