মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

সপ্তম শ্রেণি: বাংলা, জাদু কাহিনী – সত্যজিৎ রায়, দীর্ঘ রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর

অধ্যায়: জাদুকাহিনি

(দীর্ঘ / রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর – মান: 4)

নিচের প্রশ্নগুলির প্রাসঙ্গিক ও বিস্তারিত উত্তর দাও:

1. ‘আধুনিক জাদুর জনক’ কাকে বলা হয়? জাদুর ইতিহাসে তাঁর অবদান আলোচনা করো।

উত্তর দেখো

উত্তর: বিখ্যাত ফরাসি জাদুকর রবার্ট হুডিন-কে ‘আধুনিক জাদুর জনক’ বলা হয়।
জাদুর ইতিহাসে তাঁর অবদান: 19 শতকের মাঝামাঝি সময়ে রবার্ট হুডিন জাদুর জগতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনেন। তাঁর আগে জাদুকরেরা মানুষকে ভয় দেখানোর জন্য ঢিলেঢালা অদ্ভুত জোব্বা এবং লম্বা সুচালো টুপি পরতেন। হুডিনই প্রথম সেই প্রথা ভেঙে সাধারণ সভ্য মানুষের সান্ধ্যকালীন পোশাকে বা ‘ইভনিং ড্রেস’-এ মঞ্চে আসেন। পেশায় ঘড়ি তৈরির কারিগর হওয়ার সুবাদে তিনি তাঁর যান্ত্রিক জ্ঞানকে জাদুতে কাজে লাগান। তিনি প্রমাণ করেন যে, জাদুর সঙ্গে ভূত-প্রেত বা অলৌকিকতার কোনো সম্পর্ক নেই; এটি সম্পূর্ণ বিজ্ঞান, বুদ্ধি এবং হাতের কারসাজির একটি চমৎকার শিল্প। জাদুকে কুসংস্কারের অন্ধকার থেকে বের করে একটি রুচিশীল বিনোদনে পরিণত করার জন্যই তাঁকে আধুনিক জাদুর জনক বলা হয়।

2. প্রাচীনকালের জাদুর সঙ্গে আধুনিক জাদুর মূল পার্থক্যগুলি কী কী? ‘জাদুকাহিনি’ প্রবন্ধ অবলম্বনে লেখো।

উত্তর দেখো

উত্তর: সত্যজিৎ রায়ের ‘জাদুকাহিনি’ প্রবন্ধ থেকে প্রাচীন ও আধুনিক জাদুর মধ্যে বেশ কিছু সুস্পষ্ট পার্থক্য পাওয়া যায়:
1. উদ্দেশ্য ও ভিত্তি: প্রাচীনকালে জাদুবিদ্যা মূলত ধর্ম, তন্ত্রমন্ত্র এবং কুসংস্কারের সঙ্গে যুক্ত ছিল। মানুষকে ভয় দেখানো বা অলৌকিক ক্ষমতার দাবি করাই ছিল এর উদ্দেশ্য। কিন্তু আধুনিক জাদু হলো সম্পূর্ণ বিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান এবং বুদ্ধির ওপর নির্ভরশীল একটি সুস্থ বিনোদনমূলক শিল্প।
2. জাদুকরের বেশভূষা: প্রাচীন জাদুকরেরা রহস্যময় পরিবেশ তৈরির জন্য বিচিত্র জোব্বা ও অদ্ভুত টুপি পরতেন। আধুনিক জাদুকরেরা সাধারণ ভদ্দরলোকের পোশাকে (যেমন- স্যুট) মঞ্চে আসেন।
3. কৌশল: প্রাচীন জাদুতে ধোঁয়া, অন্ধকার এবং মন্ত্রপাঠের সাহায্যে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হতো। আধুনিক জাদুতে ‘স্লিট অফ হ্যান্ড’ (হাতের দ্রুত কারসাজি), আলোকবিজ্ঞান, এবং যান্ত্রিক কৌশল ব্যবহার করে দর্শকদের চোখের সামনে অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখানো হয়। আধুনিক জাদুকরেরা কখনোই নিজেদের অতিপ্রাকৃত ক্ষমতার অধিকারী বলে দাবি করেন না।

3. হ্যারি হুডিনির প্রকৃত নাম কী? তিনি কেন নাম পরিবর্তন করেন? তাঁর জাদুর বিশেষত্ব কী ছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: হ্যারি হুডিনির প্রকৃত নাম ছিল এরিক ওয়েইস
নাম পরিবর্তনের কারণ: এরিক ওয়েইস আধুনিক জাদুর পথিকৃৎ ফরাসি জাদুকর রবার্ট হুডিনকে নিজের আদর্শ গুরু বলে মানতেন এবং তাঁকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন। গুরুর প্রতি এই অসীম শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনের জন্যই তিনি রবার্ট হুডিনের নাম অনুসরণ করে নিজের নাম পরিবর্তন করে ‘হ্যারি হুডিনি’ রাখেন।
জাদুর বিশেষত্ব: হ্যারি হুডিনি ছিলেন ‘এস্কেপ ম্যাজিক’ বা বন্ধনমুক্তির জাদুতে সর্বকালের সেরা জাদুকর। তাঁকে শক্ত করে দড়ি দিয়ে বেঁধে, হাতকড়া বা লোহার শিকল পরিয়ে, তালাবন্ধ বাক্সে বা জলের ট্যাংকে ফেলে দিলেও তিনি অবিশ্বাস্য দ্রুততায় নিজেকে মুক্ত করে বেরিয়ে আসতে পারতেন। তাঁর এই দুঃসাহসিক শারীরিক সামর্থ্য এবং কৌশলই তাঁকে বিশ্বজুড়ে অমর করে রেখেছে।

4. বিশ্বদরবারে ভারতীয় জাদুকে কে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন? তাঁর জাদুর বিশেষত্ব ও অবদান আলোচনা করো।

উত্তর দেখো

উত্তর: বিশ্বদরবারে ভারতীয় জাদুকে সম্মানের সঙ্গে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন প্রখ্যাত বাঙালি জাদুকর পি. সি. সরকার (প্রতূল চন্দ্র সরকার)।
তাঁর জাদুর বিশেষত্ব ও অবদান: পি. সি. সরকার বুঝতে পেরেছিলেন যে শুধুমাত্র হাতের কারসাজি দিয়ে বিশ্বজয় করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন আকর্ষণীয় উপস্থাপনা। তাই তিনি তাঁর বিখ্যাত ম্যাজিক শো ‘ইন্দ্রজাল’ তৈরি করেন। তিনি ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী রাজা-মহারাজাদের মতো জমকালো পোশাক পরতেন। তাঁর জাদুতে প্রাচীন ভারতীয় জাদুর (যেমন- দড়ির জাদু বা এক্স-রে আইজ) সঙ্গে আধুনিক পাশ্চাত্য মঞ্চসজ্জা, চোখধাঁধানো আলোকসম্পাত এবং আবহসংগীতের এক অভূতপূর্ব সংমিশ্রণ ঘটেছিল। তাঁর এই চোখধাঁধানো উপস্থাপনা এবং নিজস্ব স্টাইল ভারতীয় জাদুকে আন্তর্জাতিক স্তরে তুমুল জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছিল এবং তিনি সারা বিশ্বে ভারতের নাম উজ্জ্বল করেছিলেন।

5. “জাদুবিদ্যা কোনো অলৌকিক ক্ষমতা নয়, বরং বিজ্ঞান ও কৌশলের মেলবন্ধন” — ‘জাদুকাহিনি’ প্রবন্ধ অবলম্বনে উক্তিটির যথার্থতা বিচার করো।

উত্তর দেখো

উত্তর: সত্যজিৎ রায় তাঁর ‘জাদুকাহিনি’ প্রবন্ধে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রমাণ করেছেন যে জাদুর মধ্যে অতিপ্রাকৃত বা অলৌকিক বলে কিছু নেই।
আধুনিক জাদুর পুরো ভিত্তিটাই হলো বিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান এবং দীর্ঘ অনুশীলনের ফলে অর্জিত হাতের কৌশল বা ‘স্লিট অফ হ্যান্ড’। একজন জাদুকর বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা যেমন— আলোকবিজ্ঞান (আয়না বা লেন্সের ব্যবহার), রসায়ন এবং যন্ত্রবিজ্ঞানকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তাঁর জাদুতে প্রয়োগ করেন। এর পাশাপাশি জাদুকর মানুষের মনোবিজ্ঞান বা মনস্তত্ত্ব নিয়ে খেলেন। তিনি কথা বলে বা অঙ্গভঙ্গি করে দর্শকদের মনোযোগ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেন (যাকে পারসপেক্টিভ বা দৃষ্টিভ্রম বলা হয়), আর ঠিক সেই মুহূর্তেই তিনি তাঁর আসল কাজটি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সেরে ফেলেন। রবার্ট হুডিন থেকে পি. সি. সরকার—প্রত্যেকেই এই বৈজ্ঞানিক কৌশল ও বুদ্ধির জোরেই মানুষকে আনন্দ দিয়েছেন। তাই আলোচ্য উক্তিটি সর্বৈব সত্য এবং বিজ্ঞানসম্মত।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার