সপ্তম শ্রেণি: বাংলা, দিন ফুরালে – শঙ্খ ঘোষ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর
অধ্যায়: দিন ফুরোলে
(সংক্ষিপ্ত / ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 2)
নিচের প্রশ্নগুলির প্রাসঙ্গিক ও বিস্তারিত উত্তর দাও:
1. “আকাশজুড়ে এক্ষুনি এক ঈশ্বর / রঙের বাক্স খুলে বসে দেখছে কেউবা” – পংক্তিটির তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও।
উত্তর দেখো
উত্তর: কবি শঙ্খ ঘোষ সূর্যাস্তের সময়কার আকাশের এক অপরূপ সৌন্দর্যের কথা এখানে বলেছেন। দিন ফুরিয়ে আসার সময় পশ্চিম আকাশে নানা রঙের খেলা দেখা যায়। সেই মায়াবী দৃশ্য দেখে কবির মনে হয়েছে, যেন স্বয়ং ঈশ্বর আকাশে তাঁর রঙের বাক্স খুলে বসেছেন এবং একশো বা লক্ষ রঙের তুলি দিয়ে এই চমৎকার দৃশ্যটি এঁকে চলেছেন। প্রকৃতির এই জাদুকরী রূপ দেখে মুগ্ধ শিশুরা অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।
2. “ফিরতে হবে মন খারাপের গর্তে” – ‘মন খারাপের গর্ত’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে এবং কেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: ‘মন খারাপের গর্ত’ বলতে এখানে শিশুদের নিজস্ব বাড়ি বা পড়ার ঘরকে বোঝানো হয়েছে।
শিশুরা খোলা মাঠে স্বাধীনভাবে খেলাধুলো করতে ভালোবাসে। কিন্তু দিন ফুরোলে বা সন্ধে নামলে তাদের সেই আনন্দময় মুক্ত পরিবেশ ছেড়ে চার দেওয়ালের গণ্ডিতে ফিরে আসতে হয়। সেখানে তাদের ইচ্ছেমতো কিছু করার উপায় থাকে না, শুধু পড়াশোনা আর বড়োদের শাসনের মধ্যে থাকতে হয়। স্বাধীনতা হারানোর এই কষ্টের জন্যই বাড়ির আবদ্ধ পরিবেশকে তারা ‘মন খারাপের গর্ত’ বলে মনে করে।
3. “বাবা বলবে, এইটুকু সব বাচ্চা / দিন ফুরোলেও মাঠ ছাড়ে না” – বাবার এই কথার মধ্যে দিয়ে বড়োদের কোন্ মানসিকতা ফুটে উঠেছে?
উত্তর দেখো
উত্তর: বাবার এই কথার মধ্য দিয়ে বড়োদের শাসনতান্ত্রিক ও বাস্তববাদী মানসিকতা ফুটে উঠেছে। বড়োরা সবসময় চান ছেলেমেয়েরা নিয়ম মেনে চলুক এবং সন্ধে হওয়ার আগেই মাঠ ছেড়ে ঘরে ফিরে পড়াশোনায় মন দিক। শিশুদের খেলার প্রতি যে একটা নির্ভেজাল টান বা আবেগ আছে, অনেক সময় বড়োরা সেই মানসিকতার কদর করতে ভুলে যান। তাই দিন ফুরোনোর পরেও শিশুদের মাঠে পড়ে থাকতে দেখলে তারা বিরক্তি ও শাসনের সুরেই কথাগুলো বলেন।
4. “মা বলবে, ঠ্যাং দুটো কী কুচ্ছি / এক গঙ্গা জল দিয়ে তাই ধুচ্ছি” – মায়ের এই কথাটির মধ্য দিয়ে মায়ের কোন্ রূপের পরিচয় পাওয়া যায়?
উত্তর দেখো
উত্তর: এই কথাটির মধ্য দিয়ে মায়ের স্নেহমিশ্রিত বকুনি এবং সন্তানের স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতনতার পরিচয় পাওয়া যায়। সারাদিন মাঠে ধুলো-কাদায় খেলে শিশুরা যখন বাড়ি ফেরে, তখন তাদের পা অত্যন্ত নোংরা থাকে। মা সেই নোংরা পা দেখে ‘কুচ্ছি’ বা বিশ্রী বলে রাগ দেখালেও, পরক্ষণেই ‘এক গঙ্গা জল’ অর্থাৎ প্রচুর জল দিয়ে পরম যত্নে সেই পা পরিষ্কার করে দেন। এই আপাত রাগের আড়ালেই লুকিয়ে থাকে মায়ের গভীর ভালোবাসা।
5. ‘দিন ফুরোলে’ কবিতায় পাখিদের ঘরে ফেরা এবং শিশুদের ঘরে ফেরার মধ্যে পার্থক্য কোথায়?
উত্তর দেখো
উত্তর: দিন ফুরোলে বা সন্ধে নামলে পাখিরা সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে নিজেদের ইচ্ছেয় ধানের গুচ্ছে বা নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে যায়। তাদের ঘরে ফেরাটা খুবই স্বাভাবিক এবং শান্তির।
কিন্তু শিশুদের ঘরে ফেরাটা স্বতঃস্ফূর্ত বা আনন্দের নয়। তারা মাঠের মুক্ত পরিবেশ ছেড়ে ঘরে ফিরতে একেবারেই চায় না। তাদের জোর করে শাসন করে বাড়ি ফেরানো হয়, যা তাদের কাছে ‘মন খারাপের গর্তে’ বন্দি হওয়ার মতো যন্ত্রণাদায়ক।
অধ্যায়: দিন ফুরোলে
(অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর – মান: 2/3)
নিচের প্রশ্নগুলির প্রাসঙ্গিক ও বিস্তারিত উত্তর দাও:
1. “সূর্যি কি আর নিজের ইচ্ছেয় ডুব দিয়েছে?” – এমন সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে কেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: সূর্য ডোবার সাথে সাথে শিশুদের স্বাধীনভাবে খেলার সময় শেষ হয়ে যায় এবং তাদের চার দেওয়ালের আবদ্ধ ঘরে ফিরে যেতে হয়। কিন্তু শিশুরা চায় না তাদের এই আনন্দময় খেলা থামুক। তাই তাদের শিশুসুলভ মনে এই আক্ষেপ ও সন্দেহ তৈরি হয় যে, সূর্য হয়তো নিজের ইচ্ছায় ডোবেনি, কেউ হয়তো জোর করে তাকে ডুবিয়ে দিয়েছে যাতে তাদের খেলা বন্ধ করে বাড়ি ফিরতে হয়।
2. ‘দিন ফুরোলে’ কবিতায় সন্ধ্যাকালীন প্রকৃতির যে অপরূপ রূপের বর্ণনা রয়েছে, তা সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর দেখো
উত্তর: কবিতায় কবি শঙ্খ ঘোষ এক মায়াবী সন্ধ্যাকালীন প্রকৃতির ছবি এঁকেছেন। সূর্য অস্ত যাওয়ার সময় আকাশ যেন লক্ষ বা একশো রঙের খেলায় মেতে ওঠে। মনে হয় যেন স্বয়ং ঈশ্বর তাঁর রঙের বাক্স খুলে আকাশজুড়ে অপরূপ দৃশ্য তৈরি করছেন। এরপর ধীরে ধীরে অন্ধকার ঘনিয়ে আসে এবং পাখিরা ধানের গুচ্ছের মতো সারি বেঁধে অন্ধকার আকাশে উড়ে নিজেদের নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ফিরে যায়।
3. “দিন ফুরোলেও মাঠ ছাড়ে না” – শিশুদের মাঠ ছাড়তে না চাওয়ার প্রধান কারণ কী?
উত্তর দেখো
উত্তর: খোলা মাঠ হলো শিশুদের কাছে অবাধ স্বাধীনতা ও অকৃত্রিম আনন্দের জায়গা। সেখানে চার দেওয়ালের বন্দিদশা বা বড়োদের কোনো কড়া শাসন থাকে না; থাকে শুধু আকাশ, হাওয়া আর ছুটে বেড়ানোর মুক্তি। খেলার এই নির্মল আনন্দ এবং মুক্তির স্বাদ ছেড়ে তারা কিছুতেই নিজেদের পড়াঘরের ‘মন খারাপের গর্তে’ ফিরতে চায় না বলেই দিন ফুরোলেও তারা মাঠ ছাড়তে চায় না।
4. “এক গঙ্গা জল দিয়ে তাই ধুচ্ছি” – ‘এক গঙ্গা জল’ কথাটির তাৎপর্য কী?
উত্তর দেখো
উত্তর: ‘এক গঙ্গা জল’ বলতে এখানে মূলত প্রচুর পরিমাণ জলের কথা বোঝানো হয়েছে। সারাদিন মাঠে ছুটে বেড়ানোর ফলে শিশুদের পা ধুলো-কাদায় অত্যন্ত নোংরা বা ‘কুচ্ছি’ হয়ে থাকে। তাই সেই কদর্য নোংরা পরিষ্কার করতে মায়ের যে প্রচুর জলের প্রয়োজন হয় এবং তিনি যে পরম যত্নে সন্তানের পা ধুইয়ে দেন, তা বোঝাতেই এই প্রবাদপ্রতিম কথাটি ব্যবহার করা হয়েছে।
5. ‘দিন ফুরোলে’ কবিতায় শিশুমনস্তত্ত্বের কোন্ বিশেষ দিকটি উন্মোচিত হয়েছে?
উত্তর দেখো
উত্তর: কবিতায় দেখা যায়, শিশুদের মন প্রকৃতির মতোই উন্মুক্ত ও বাঁধনহারা থাকতে চায়। তারা খোলা মাঠে স্বাধীনভাবে খেলতে ভালোবাসে এবং ঘরের চার দেওয়ালকে বন্দিদশা বলে মনে করে। বড়োদের কড়া শাসন এবং নিয়মের বেড়াজালে আটকে পড়ে শিশু মনের এই স্বাধীনতা হারানোর বেদনা, আক্ষেপ ও অসহায়তার দিকটিই এই কবিতায় অত্যন্ত বাস্তবসম্মতভাবে উন্মোচিত হয়েছে।