মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

সপ্তম শ্রেণি: বাংলা, পাগলা গনেশ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, দীর্ঘ রচনাধর্মী প্রশ্ন উত্তর

পাগলা গণেশ: বড় প্রশ্নোত্তর (মান: 5)

1. “পাগলা গণেশ” গল্পটি একটি সার্থক কল্পবিজ্ঞানমূলক গল্প—আলোচনা করো। (5)

উত্তর দেখো
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ‘পাগলা গণেশ’ গল্পটি কল্পবিজ্ঞানের একটি চমৎকার উদাহরণ। এর সার্থকতা বিচার করা যায় নিচের পয়েন্টগুলির মাধ্যমে:

ভবিষ্যতের পটভূমি: গল্পটি **3589 সালের** এক সুদূর ভবিষ্যতের কথা বলে, যা কল্পবিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।
উন্নত প্রযুক্তি: এখানে মানুষ মৃত্যুকে জয় করেছে **‘মৃত্যুঞ্জয় টনিক’** আবিষ্কার করে। মহাকাশযানের গতিবৃদ্ধি এবং অন্য গ্রহের সাথে নিবিড় যোগাযোগ বিজ্ঞানের চরম উন্নতির সাক্ষ্য দেয়।
সামাজিক প্রভাব: কেবল আবিষ্কার নয়, বিজ্ঞানের প্রভাবে মানুষের সামাজিক ও মানসিক পরিবর্তনও এখানে দেখানো হয়েছে। মানুষ এখন যন্ত্রের মতো আবেগহীন হয়ে পড়েছে।
বৈজ্ঞানিক যুক্তি: গল্পের সব ঘটনাই কোনো না কোনো **কাল্পনিক বৈজ্ঞানিক যুক্তির** ওপর দাঁড়িয়ে।

পরিশেষে, বিজ্ঞানের জয়জয়কারের মাঝে দাঁড়িয়েও মানবিকতা ও শিল্পের প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরে গল্পটি একটি **উচ্চমানের এবং সার্থক কল্পবিজ্ঞানমূলক কাহিনী** হয়ে উঠেছে।

2. “পৃথিবীটা বড় বেশি যান্ত্রিক হয়ে গেছে”—গণেশ কেন এমন মনে করেছিলেন? তাঁর এই ভাবনার সপক্ষে যুক্তি দাও। (5)

উত্তর দেখো
গল্পের প্রধান চরিত্র গণেশ মনে করেছিলেন যে আধুনিক পৃথিবী তার প্রাণশক্তি হারিয়ে কেবল একটি যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। তাঁর এই ভাবনার পেছনের কারণগুলি হলো:

শিল্পের বিনাশ: মানুষ এখন কবিতা লেখে না, গান গায় না বা ছবি আঁকে না। দয়া-মায়া-মমতার মতো **কোমল অনুভূতিগুলো মানুষের মন থেকে মুছে গেছে**।
তথ্যের প্রাধান্য: ওলিম্পিক গেমসের মতো ইভেন্ট এখন কেবল **বিজ্ঞান সম্মেলনে** পরিণত হয়েছে। মানুষ এখন কেবল তথ্য ও প্রযুক্তি নিয়ে মত্ত।
অমরত্বের একঘেয়েমি: মৃত্যুঞ্জয় টনিক খেয়ে মানুষ অমর হলেও জীবনের নতুনত্ব হারিয়েছে। তাদের কাছে **কল্পনা বা স্বপ্নের কোনো স্থান নেই**।
পরিবেশের বিপর্যয়: মহাকাশযানের নির্গত ধোঁয়ায় নীল আকাশ ঢাকা পড়ে গেছে এবং মানুষ প্রকৃতির থেকে অনেক দূরে সরে গেছে।

গণেশ উপলব্ধি করেছিলেন যে **হৃদয় ও অনুভূতির চর্চা ছাড়া** মানুষ আসলে রোবটে পরিণত হয়েছে। এই চরম যান্ত্রিকতা থেকে মুক্তি পেতেই তিনি হিমালয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

3. গল্পের শেষে গণেশ কেন মনে করেছিলেন যে তাঁর আন্দোলন সার্থক হতে চলেছে? (5)

উত্তর দেখো
গণেশ চেয়েছিলেন পৃথিবীকে আবার সংবেদনশীল ও শিল্পমনস্ক করে তুলতে। গল্পের শেষে বেশ কয়েকটি ঘটনার মাধ্যমে তিনি তাঁর এই আন্দোলনের সার্থকতা অনুভব করেন:

মানুষের আগমন: শুরুতে পুলিশ অফিসার তাঁকে গান গাইতে বারণ করলেও, পরে দেখা যায় বিভিন্ন মানুষ তাঁর গান ও কবিতার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে হিমালয়ে আসছে।
দম্পতির পরিবর্তন: এক দম্পতি যখন এসে জানায় যে গণেশের গান শুনে তাদের **স্মৃতি ও আনন্দ** জেগে উঠেছে, তখন গণেশ প্রথম সাফল্যের আলো দেখতে পান।
লাসার মহিলার উৎসাহ: তিব্বতের লাসা থেকে আসা এক মহিলা যখন গণেশের কাছে **কবিতা ও শিল্প নিয়ে আলোচনা** করতে আগ্রহ দেখান, তখন গণেশ বুঝতে পারেন তাঁর আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছে।
সাংস্কৃতিক জাগরণ: গণেশ জানতে পারেন যে পৃথিবীতে আবার গান ও শিল্পের প্রতি মানুষের টান বাড়ছে।

এই ইতিবাচক পরিবর্তনগুলো গণেশকে আশান্বিত করে। তিনি বোঝেন যে **মানুষের হৃদয় চিরকাল যন্ত্র হয়ে থাকতে পারে না**; শিল্পের সুরই তাকে শেষ পর্যন্ত ফিরিয়ে আনবে।

4. গণেশকে কেন ‘পাগলা গণেশ’ বলা হয়েছে? এই নামকরণের যৌক্তিকতা বিচার করো। (5)

উত্তর দেখো
‘পাগলা গণেশ’ নামকরণটি গল্পের মূল ভাবের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এর যৌক্তিকতা নিচে আলোচনা করা হলো:

প্রচলিত ধারার বিপরীত: যখন গোটা বিশ্ব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নেশায় বুঁদ, তখন গণেশ সেই ধারা ত্যাগ করে **কবিতা ও সংগীতের মতো শিল্পচর্চায়** মন দিয়েছেন। যান্ত্রিক সমাজের চোখে এটি একপ্রকার উন্মাদনা।
আচরণগত বৈশিষ্ট্য: নির্জন হিমালয়ের গুহায় বসে একা একা গান গাওয়া, পেন্সিল দিয়ে ছবি আঁকা এবং কবিতা লিখে বাতাসে উড়িয়ে দেওয়া—এই কাজগুলো সাধারণের কাছে **অস্বাভাবিক বা পাগলামি** মনে হয়েছে।
সাফল্য: গণেশের এই ‘পাগলামি’ আসলে ছিল **মানবজাতিকে রক্ষার এক প্রচেষ্টা**। তাঁর এই জেদ বা পাগলামিই শেষ পর্যন্ত মানুষকে আবার শিল্পের পথে ফিরিয়ে এনেছে।

সুতরাং, তথাকথিত সভ্য সমাজের চোখে গণেশ পাগল হলেও, মানবিকতার বিচারে তিনি ছিলেন এক **বিপ্লবী পুরুষ**। তাই চরিত্রটির বিশেষত্ব ফুটিয়ে তুলতে ‘পাগলা গণেশ’ নামকরণটি অত্যন্ত **যৌক্তিক ও সার্থক** হয়েছে।

5. ‘পাগলা গণেশ’ গল্পে লেখক বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে শিল্পের দ্বন্দ্বকে কীভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন? (5)

উত্তর দেখো
এই গল্পে লেখক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় বিজ্ঞানের জয়যাত্রা এবং শিল্পের বিলুপ্তিকে এক চমৎকার দ্বন্দ্বে সাজিয়েছেন:

যান্ত্রিক বনাম আবেগ: বিজ্ঞান মানুষকে অমরত্ব দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু তাঁর **হৃদয়কে কঠিন করে দিয়েছে**। বিজ্ঞানের প্রভাবে মানুষ এখন আর আবেগপ্রবণ নয়, কেবল যুক্তিপ্রবণ।
প্রয়োজন বনাম অপ্রয়োজন: যান্ত্রিক যুগের মানুষের কাছে বিজ্ঞান হলো ‘প্রয়োজনীয়’ আর শিল্প হলো ‘অপ্রয়োজনীয় সময় নষ্ট’। গণেশের গান শুনে পুলিশ অফিসারের ধমক এই মানসিকতাকেই স্পষ্ট করে।
পরিবেশগত দ্বন্দ্ব: বিজ্ঞানের প্রয়োজনে আকাশ অন্ধকার হয়ে গেছে, যা প্রকৃতির **স্বাভাবিক সৌন্দর্য বা শিল্পের পরিপন্থী**।
চুড়ান্ত জয়: তবে গল্পের শেষে লেখক দেখিয়েছেন যে বিজ্ঞান শরীরকে রক্ষা করতে পারলেও **মনের খোরাক দিতে পারে না**। মানুষের মনের একঘেয়েমি দূর করতে শিল্পের জয়গানই শেষ কথা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

লেখক প্রমাণ করেছেন যে বিজ্ঞান ও শিল্প একে অপরের বিরোধী নয়, বরং **দুয়ের ভারসাম্যই জীবনকে সুন্দর করে তোলে**।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার