মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

সপ্তম শ্রেণি : বাংলা, ভারত তীর্থ – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

অধ্যায়: ভারত তীর্থ
(সংক্ষিপ্ত / ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 2)

নিচের প্রশ্নগুলির প্রাসঙ্গিক ও বিস্তারিত উত্তর দাও:

1. “হে মোর চিত্ত, পুণ্য তীর্থে জাগো রে ধীরে” – ‘পুণ্য তীর্থ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? চিত্তকে সেখানে জাগতে বলা হয়েছে কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ভারত তীর্থ’ কবিতায় ‘পুণ্য তীর্থ’ বলতে পবিত্র ভারতবর্ষকে বোঝানো হয়েছে। ভারতবর্ষ যুগে যুগে নানা জাতি, ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের মহামিলন ক্ষেত্র। এখানে বিভেদ ভুলে সকলকে একাত্ম হতে হয়। তাই কবি নিজের চিত্ত বা মনকে সমস্ত সংকীর্ণতা ও অহংকার থেকে মুক্ত হয়ে ভারতের এই পবিত্র মহামিলনের আদর্শে ধীরে ধীরে জাগ্রত হতে বলেছেন।

2. “শক-হুন-দল পাঠান-মোগল এক দেহে হল লীন” – এই পংক্তিটির মধ্য দিয়ে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: ভারতবর্ষের চিরন্তন আদর্শ হলো বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য এবং গ্রহণ করার ক্ষমতা। যুগে যুগে বিভিন্ন বিদেশি আক্রমণকারী জাতি যেমন শক, হুন, পাঠান, মোগল যুদ্ধজয়ের উদ্দেশ্যে এই দেশে এলেও, তারা ভারতের উদার সংস্কৃতি ও মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। তারা আর কেউ ফিরে যায়নি, বরং নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় ভুলে ভারতের বিশাল জনসমুদ্রে বা মূল স্রোতে এক দেহে বিলীন হয়ে গেছে।

3. “এসো হে আর্য, এসো অনার্য…” – কবি কাদের, কেন আহ্বান করেছেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: কবি আর্য, অনার্য, হিন্দু, মুসলমান, ইংরাজ, খ্রিষ্টান, ব্রাহ্মণ এবং সমাজের তথাকথিত পতিত বা নিচু জাতের মানুষ—সকলকে আহ্বান করেছেন। কারণ, ভারতবর্ষ হলো মহামিলনের দেশ, এখানে জাতি, ধর্ম বা বর্ণের কোনো ভেদাভেদ নেই। ভারতমাতার অভিষেকের পবিত্র অনুষ্ঠানে সব বিভেদ, অপমান ও অহংকার ভুলে সকলকে এক হয়ে এই মহামিলনের উৎসবে যোগ দেওয়ার জন্যই কবির এই উদাত্ত আহ্বান।

4. “মার অভিষেকে এসো এসো ত্বরা” – এখানে ‘মা’ কে? তাঁর অভিষেকের জন্য কী করতে বলা হয়েছে?

উত্তর দেখো

উত্তর: কবিতায় ‘মা’ বলতে আমাদের মাতৃভূমি অর্থাৎ ভারতমাতাকে বোঝানো হয়েছে। তাঁর অভিষেকের জন্য কবি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল ভারতবাসীকে মনের সমস্ত অহংকার, ভেদাভেদ এবং ছুঁতমার্গ ভুলে একসঙ্গে দ্রুত (‘ত্বরা’) এগিয়ে আসতে বলেছেন। সকলের পবিত্র স্পর্শে মঙ্গলঘট বা তীর্থজল পূর্ণ করেই ভারতমাতার অভিষেক উৎসব সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

5. “সবার পরশে পবিত্র করা তীর্থনীরে” – তীর্থজল কীভাবে পবিত্র হবে বলে কবি মনে করেছেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: সাধারণত তীর্থজলকে মন্ত্র পড়ে পবিত্র মনে করা হয়। কিন্তু মানবতার পূজারি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতে, প্রকৃত পবিত্রতা লুকিয়ে আছে মানুষের মহামিলনে। যখন সমাজের উঁচু-নিচু, ব্রাহ্মণ-পতিত, হিন্দু-মুসলমান সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এক হয়ে মঙ্গলঘটের জল স্পর্শ করবে, তখন জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলের সেই মিলনের পরশ বা মিলিত স্পর্শেই ওই তীর্থজল প্রকৃত অর্থে পবিত্র হয়ে উঠবে।

অধ্যায়: ভারত তীর্থ
(অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর – মান: 2/3)

নিচের প্রশ্নগুলির প্রাসঙ্গিক ও বিস্তারিত উত্তর দাও:

1. “দুর্ণিবার স্রোতে এল কোথা হতে, সমুদ্রে হল হারা” – ‘দুর্ণিবার স্রোত’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? তারা কোথায় হারিয়ে গেল?

উত্তর দেখো

উত্তর: ‘দুর্ণিবার স্রোত’ বলতে যুগে যুগে ভারতের বুকে আসা বিভিন্ন বিদেশি জাতি (যেমন- আর্য, অনার্য, শক, হুন, পাঠান, মোগল) ও বিপুল বেগে তাদের আগমনকে বোঝানো হয়েছে। তারা ভারতের মহামানবের সাগরতীরে বা বিশাল জনসমুদ্রে এসে নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় হারিয়ে ভারতের উদার সংস্কৃতির মূল স্রোতের সঙ্গে মিশে বা একাত্ম হয়ে গেছে।

2. “রণধারা বাহি জয়গান গাহি উন্মাদ কলরবে” – কারা, কীভাবে এসেছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: একসময় ভারতের অপার ধনসম্পদে আকৃষ্ট হয়ে বহু বিদেশি আক্রমণকারী এবং বিজেতারা এই দেশে এসেছিল। তারা অত্যন্ত দুর্গম মরুভূমি এবং দুরতিক্রম্য পাহাড়-পর্বত পার হয়ে যুদ্ধের বেশে (‘রণধারা বাহি’), উন্মত্ত কোলাহল ও জয়ের উল্লাসে মত্ত হয়ে ভারতবর্ষে প্রবেশ করেছিল। কিন্তু কালের নিয়মে তারাও এই দেশের মহামিলনের সুরে বাঁধা পড়েছে।

3. “ধ্যানগম্ভীর এই-যে ভূধর, নদী-জপমালা-ধৃত প্রান্তর” – ভারতের প্রকৃতির এই রূপের মধ্যে দিয়ে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: কবি ভারতবর্ষকে একটি পুণ্য তীর্থ এবং পবিত্র তপোবন হিসেবে কল্পনা করেছেন। উত্তরের বিশাল হিমালয় পর্বতমালা যেন একজন স্থির ও ধ্যানমগ্ন ঋষির মতো দাঁড়িয়ে আছে, আর দেশের নদীগুলি যেন জপমালার মতো পবিত্র প্রান্তরকে জড়িয়ে রেখেছে। এর মাধ্যমে কবি মূলত ভারতের আধ্যাত্মিক, ধ্যানমগ্ন ও তপোবনের পবিত্র শান্ত রূপটিকেই ফুটিয়ে তুলেছেন।

4. “মারি ভেদাভেদ জ্ঞান” – কোন্ ভেদাভেদের কথা বলা হয়েছে? তা দূর করা প্রয়োজন কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: এখানে হিন্দু, মুসলমান, খ্রিষ্টান প্রভৃতি ধর্মের ভেদাভেদ এবং বিশেষ করে সমাজের ব্রাহ্মণ ও তথাকথিত নিচু জাত বা পতিতদের মধ্যে যে অস্পৃশ্যতা বা ছুঁতমার্গ রয়েছে, সেই ভেদাভেদের কথা বলা হয়েছে। ভারতবর্ষ হলো মহামিলনের তীর্থক্ষেত্র। ভেদাভেদ ও অস্পৃশ্যতার মতো এই হীন ও সংকীর্ণ মানসিকতা দূর না করলে ভারতমাতার পবিত্র অভিষেক বা মহামিলন কখনোই সম্ভব নয়।

5. “এসো এসো আজ তুমি ইংরাজ” – কবি ইংরাজদেরও এই মহামিলনে আহ্বান করেছেন কেন? এর মধ্যে দিয়ে কবির কোন্ মানসিকতার পরিচয় মেলে?

উত্তর দেখো

উত্তর: কবি ইংরাজদেরও ভারতমাতার অভিষেকের পবিত্র অনুষ্ঠানে আহ্বান করেছেন কারণ ভারতবর্ষ হলো সকলের মহামিলন তীর্থ, এখানে কেউ বহিরাগত বা পর নয়। ইংরেজরা ভারতের প্রভু বা শাসক হলেও, মানবতার মহান আদর্শে তারাও এই মহামিলনের সমান অংশীদার হতে পারে। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের চরম উদারতা, বিশ্বপ্রেম ও সর্বজনীন মহামিলনের মানসিকতারই পরিচয় মেলে।

6. “এসো হে পতিত, করো অপনীত সব অপমানভার” – ‘পতিত’ কাদের বলা হয়েছে? তাদের কী করতে বলা হয়েছে?

উত্তর দেখো

উত্তর: হিন্দু সমাজের জাতিভেদ প্রথার কারণে যারা যুগ যুগ ধরে নিপীড়িত, বঞ্চিত এবং যাদের তথাকথিত ‘অস্পৃশ্য’ বা নিচু জাত বলে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে, কবি তাদেরই ‘পতিত’ বলেছেন। কবি তাদের আহ্বান করে বলেছেন, সমাজের দেওয়া সেই বঞ্চনা ও অপমানের গ্লানি মন থেকে মুছে ফেলে মাথা উঁচু করে মহামিলনের এই পুণ্য তীর্থে যোগ দিতে।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার