সপ্তম শ্রেণি: বাংলা, রাস্তায় ক্রিকেট খেলা – মাইকেল অ্যান্টনি, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
অধ্যায়: রাস্তায় ক্রিকেট খেলা
(সংক্ষিপ্ত / ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 3)
নিচের প্রশ্নগুলির প্রাসঙ্গিক ও বিস্তারিত উত্তর দাও:
1. ত্রিনিদাদের বর্ষাকালের আবহাওয়া কেমন ছিল বলে গল্পে বর্ণনা করা হয়েছে?
উত্তর দেখো
উত্তর: ‘রাস্তায় ক্রিকেট খেলা’ গল্পে ত্রিনিদাদের বর্ষাকালের এক চমৎকার বর্ণনা রয়েছে। সেখানে বর্ষাকালে আকাশ প্রায়শই মেঘে ঢাকা থাকে এবং যেকোনো মুহূর্তে বৃষ্টি নামতে পারে। অনেক সময় রোদ থাকা অবস্থাতেও হুট করে বৃষ্টি চলে আসে। এই অনিশ্চিত এবং খেয়ালি আবহাওয়াই ত্রিনিদাদের বর্ষাকালের প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে গল্পে তুলে ধরা হয়েছে।
2. বৃষ্টি নামলে অ্যামি এবং ভার্নের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: ছোটোদের কাছে বৃষ্টি কোনো বাধা নয়, বরং আনন্দের নতুন উপকরণ। গল্পে যখন বৃষ্টি নামত, তখন অ্যামি বিরক্ত না হয়ে বা ঘরে না লুকিয়ে উলটে অত্যন্ত খুশি হতো। সে মুখ ওপরের দিকে তুলে হাঁ করে বৃষ্টির জল খাওয়ার ভান করত এবং আনন্দে হাসতে থাকত। অ্যামির এই কাণ্ড দেখে তার দেখাদেখি ভার্নও ঠিক একইভাবে বৃষ্টির জল খাওয়ার ভান করে আনন্দে মেতে উঠত।
3. রাস্তায় ক্রিকেট খেলার সময় প্রধান কী কী বাধা আসত এবং ছেলেমেয়েরা তা কীভাবে মোকাবিলা করত?
উত্তর দেখো
উত্তর: রাস্তায় ক্রিকেট খেলার সময় প্রধান বাধা ছিল হুটহাট বৃষ্টি এবং চলন্ত গাড়ি। বৃষ্টি নামলে তারা খেলা একেবারে বন্ধ না করে বৃষ্টিতে ভিজেই আনন্দ করত এবং সুযোগ পেলেই আবার খেলা শুরু করে দিত। অন্যদিকে, রাস্তার ওপর খেলার সময় যখনই কোনো গাড়ি আসত, তখন তারা বাধ্য হয়ে খেলা থামিয়ে রাস্তার পাশে বা ফুটপাতে সরে দাঁড়াত এবং গাড়ি চলে গেলেই আবার দ্বিগুণ উৎসাহে খেলায় মেতে উঠত।
4. ছোটোদের কাছে ক্রিকেট খেলার সরঞ্জাম কেমন ছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: ছোটোদের রাস্তায় ক্রিকেট খেলার জন্য পেশাদার খেলোয়াড়দের মতো দামী ব্যাট, নতুন বল বা বিশাল ঘাসের মাঠের প্রয়োজন হতো না। তারা সাধারণত কোনো পুরোনো, ফাটা বা ঘষা বল এবং সাধারণ কাঠের টুকরোকে ব্যাট বানিয়ে খেলত। রাস্তার ওপর ইট, কাঠ বা অন্য কোনো জিনিস দিয়ে উইকেট বানিয়েই তারা পরম আনন্দে খেলায় মেতে উঠত।
5. ‘রাস্তায় ক্রিকেট খেলা’ গল্পটি আমাদের শৈশবের কোন চিরন্তন সত্যের কথা মনে করিয়ে দেয়?
উত্তর দেখো
উত্তর: এই গল্পটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে শৈশবের আনন্দ কোনো নির্দিষ্ট নিয়মকানুন, দামী সরঞ্জাম বা অনুকূল পরিবেশের ওপর নির্ভর করে না। ছোটোরা তাদের নিজেদের কল্পনার জগতেই রাজা। বৃষ্টির বাধা হোক বা গাড়ির উৎপাত—কোনো কিছুই তাদের খেলার প্রতি অকৃত্রিম টান এবং মুক্ত, বাঁধনহারা আনন্দকে নষ্ট করতে পারে না। খেলাধুলার এই নির্মল আনন্দই শৈশবের সবচেয়ে বড়ো এবং চিরন্তন সত্য।
অধ্যায়: রাস্তায় ক্রিকেট খেলা
(অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর – মান: 2/3)
নিচের প্রশ্নগুলির প্রাসঙ্গিক ও বিস্তারিত উত্তর দাও:
1. ত্রিনিদাদের রাস্তায় ক্রিকেট খেলার ক্ষেত্রে পথচারী বা গাড়ি কীভাবে বাধা সৃষ্টি করত এবং তাতে শিশুদের প্রতিক্রিয়া কেমন হতো?
উত্তর দেখো
উত্তর: যেহেতু তারা নির্দিষ্ট কোনো খেলার মাঠে নয়, বরং রাস্তার ওপর ক্রিকেট খেলত, তাই মাঝে মাঝেই চলন্ত গাড়ি বা পথচারী চলে আসত। তখন তাদের বাধ্য হয়ে খেলা থামাতে হতো এবং বিপদের হাত থেকে বাঁচতে রাস্তার পাশে বা ফুটপাতে সরে দাঁড়াতে হতো। এতে তাদের খেলায় বারবার বিঘ্ন ঘটায় তারা কিছুটা বিরক্ত হলেও, তাদের খেলার উৎসাহ একটুও কমত না। গাড়ি চলে গেলেই তারা আবার দ্বিগুণ আনন্দে খেলা শুরু করে দিত।
2. অ্যামি ও ভার্নের বৃষ্টির জল খাওয়ার ভান করার দৃশ্যটি তাদের চরিত্রের কোন্ দিকটি ফুটিয়ে তোলে?
উত্তর দেখো
উত্তর: এই দৃশ্যটি শৈশবের অকৃত্রিম, নিষ্পাপ এবং বাঁধনহারা আনন্দের দিকটি ফুটিয়ে তোলে। বড়োরা যেখানে বৃষ্টিতে বিরক্ত হয় এবং ঘরে আশ্রয় নেয়, সেখানে অ্যামি ও ভার্ন বৃষ্টিকে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা খেলা বন্ধের কারণ হিসেবে দেখেনি। বরং তারা বৃষ্টির জল খাওয়ার ভান করে সেটিকেও তাদের খেলার একটি মজাদার অংশে পরিণত করেছিল। এটি তাদের প্রতিকূলতার মধ্যেও আনন্দ খুঁজে নেওয়ার মানসিকতাকেই নির্দেশ করে।
3. “রাস্তায় ক্রিকেট খেলা” গল্পে শিশুদের এই খেলার মধ্যে দিয়ে তাদের কোন্ মানসিকতার প্রকাশ ঘটেছে?
উত্তর দেখো
উত্তর: গল্পের শিশুদের মধ্যে যেকোনো প্রতিকূল পরিবেশকে জয় করে আনন্দ খুঁজে নেওয়ার এক অদ্ভুত মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে। তাদের কাছে পেশাদার ক্রিকেট খেলার মতো দামী ব্যাট বা নতুন বল ছিল না, ছিল না কোনো বড়ো ঘাসের মাঠ। কিন্তু বৃষ্টি, কাদা, গাড়ির উৎপাত বা সঠিক সরঞ্জামের অভাব—কোনো কিছুই তাদের ক্রিকেট খেলার অদম্য উৎসাহকে দমাতে পারেনি। তারা সাধারণ কাঠের টুকরো এবং পুরোনো বল দিয়েই পরম তৃপ্তি লাভ করত।
4. ত্রিনিদাদের আবহাওয়াকে লেখক কীভাবে বর্ণনা করেছেন এবং তা খেলার ওপর কী প্রভাব ফেলত?
উত্তর দেখো
উত্তর: লেখক জানিয়েছেন যে ত্রিনিদাদে বর্ষাকালে আকাশ প্রায়শই মেঘে ঢাকা থাকত এবং যখন-তখন বৃষ্টি নামত। আবহাওয়া ছিল অত্যন্ত খামখেয়ালি; অনেক সময় কড়া রোদ থাকলেও হঠাৎ করে বৃষ্টি চলে আসত। এই অনিশ্চিত আবহাওয়া তাদের রাস্তায় ক্রিকেট খেলায় বারবার বাধা সৃষ্টি করত ঠিকই, কিন্তু তাদের মনের উৎসাহ এবং খেলার প্রতি অদম্য টানকে কখনোই ম্লান করতে পারত না।
5. ‘রাস্তায় ক্রিকেট খেলা’ গল্পটি পড়ে তোমার শৈশবের খেলাধুলার আনন্দ সম্পর্কে কী ধারণা জন্মায়?
উত্তর দেখো
উত্তর: গল্পটি পড়ে এই ধারণাই জন্মায় যে, শৈশবের খেলাধুলার আনন্দ কোনো নির্দিষ্ট নিয়মকানুন বা বাহ্যিক উপকরণের দাস নয়। ছোটোরা খুব সামান্য উপকরণ নিয়েও নিজেদের কল্পনার জগতে মেতে উঠতে পারে। তাদের কাছে আনন্দটাই মুখ্য, পরিবেশ বা পরিস্থিতি গৌণ। এই অকৃত্রিম, সরল এবং মুক্ত আনন্দই শৈশবকে এত সুন্দর এবং চিরস্মরণীয় করে রাখে।