মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

সপ্তম শ্রেণি: বাংলা, রাস্তায় ক্রিকেট খেলা – মাইকেল এন্টনি, রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর

অধ্যায়: রাস্তায় ক্রিকেট খেলা

(দীর্ঘ / রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর – মান: 4)

নিচের প্রশ্নগুলির প্রাসঙ্গিক ও বিস্তারিত উত্তর দাও:

1. ‘রাস্তায় ক্রিকেট খেলা’ গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।

উত্তর দেখো

উত্তর: সাহিত্যের নামকরণ সাধারণত রচনার মূল বিষয়বস্তু, চরিত্র বা অন্তর্নিহিত কোনো গভীর ব্যঞ্জনাকে নির্দেশ করে। মাইকেল অ্যানটনি রচিত আলোচ্য গল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটিমাত্র বিষয়ই প্রাধান্য পেয়েছে—তা হলো ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েদের রাস্তায় ক্রিকেট খেলার প্রবল উন্মাদনা।
গল্পটিতে দেখা যায়, ত্রিনিদাদের বর্ষাকালে বৃষ্টি এবং চলন্ত গাড়ির মতো হাজারো বাধা থাকা সত্ত্বেও কথক এবং তার বন্ধুরা রাস্তার ওপর ক্রিকেট খেলতে ছাড়ে না। তাদের কাছে পেশাদার খেলার সরঞ্জাম বা বিশাল মাঠ নেই, কিন্তু আছে খেলাধুলার প্রতি অকৃত্রিম ও অদম্য টান। বৃষ্টি নামলে বা গাড়ি এলে তারা সাময়িকভাবে খেলা থামায় ঠিকই, কিন্তু সুযোগ পেলেই আবার দ্বিগুণ উৎসাহে খেলা শুরু করে। গল্পটির আদি, মধ্য এবং অন্ত—সবটাই এই রাস্তায় ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে। যেহেতু গল্পের মূল উপজীব্য বিষয়ই হলো এটি, তাই ‘রাস্তায় ক্রিকেট খেলা’ নামকরণটি সম্পূর্ণ অর্থবহ, সার্থক এবং যথার্থ হয়েছে।

2. “বৃষ্টিতে খেলা পণ্ড হয়ে গেলেও আমাদের কিন্তু কোনো দুঃখ ছিল না।” – কাদের কথা বলা হয়েছে? বৃষ্টিতে খেলা পণ্ড হলেও তাদের দুঃখ ছিল না কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: মাইকেল অ্যানটনি রচিত ‘রাস্তায় ক্রিকেট খেলা’ গল্পে ত্রিনিদাদের রাস্তায় খেলা কথক, অ্যামি, ভার্ন এবং তাদের অন্যান্য বন্ধুদের কথা এখানে বলা হয়েছে।
বৃষ্টিতে খেলা পণ্ড হলেও তাদের মনে কোনো দুঃখ ছিল না, কারণ শৈশবের আনন্দ কোনো একটি নির্দিষ্ট খেলার ওপর বা নির্দিষ্ট নিয়মের ওপর নির্ভরশীল নয়। শৈশব হলো মুক্ত এবং বাঁধনহারা। বড়োরা যেখানে বৃষ্টি দেখলে বিরক্ত হয়, সেখানে এই ছোটো ছেলেমেয়েদের কাছে বৃষ্টি ছিল আনন্দের এক নতুন উৎস। বৃষ্টি নামলে খেলা বন্ধ করতে হলেও, তারা সেই বৃষ্টির জলেই নতুন মজা খুঁজে নিত। অ্যামি এবং তার দেখাদেখি ভার্ন যেভাবে মুখ উঁচু করে বৃষ্টির জল খাওয়ার ভান করে হাসতে শুরু করত, তা থেকেই বোঝা যায় যে তারা প্রতিকূলতাকেও আনন্দে পরিণত করতে জানত। প্রকৃতির এই খামখেয়ালি রূপ তাদের শিশুমনকে হতাশ করার বদলে উলটে এক নির্মল আনন্দ প্রদান করত বলেই খেলা পণ্ড হলেও তাদের কোনো আক্ষেপ বা দুঃখ ছিল না।

3. ‘রাস্তায় ক্রিকেট খেলা’ গল্প অবলম্বনে ত্রিনিদাদের বর্ষাকালীন প্রকৃতির এবং রাস্তার পরিবেশের যে পরিচয় পাওয়া যায়, তা বর্ণনা করো।

উত্তর দেখো

উত্তর: ‘রাস্তায় ক্রিকেট খেলা’ গল্পে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ ত্রিনিদাদের বর্ষাকালের এক জীবন্ত এবং অনিশ্চিত রূপের পরিচয় পাওয়া যায়।
প্রকৃতির রূপ: ত্রিনিদাদের বর্ষাকালের আবহাওয়া অত্যন্ত খামখেয়ালি। আকাশ প্রায়শই গুরুগম্ভীর এবং মেঘে ঢাকা থাকে। মেঘ দেখে মনে হয় এই বুঝি বৃষ্টি নামবে। আবার অনেক সময় কড়া রোদ থাকা অবস্থাতেও হঠাৎ করে কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই অঝোরে বৃষ্টি শুরু হয়ে যায়।
রাস্তার পরিবেশ: অন্যদিকে, গল্পের রাস্তার পরিবেশটিও শিশুদের খেলার জন্য খুব একটা অনুকূল বা নিরাপদ ছিল না। সেটি কোনো ফাঁকা মাঠ ছিল না, বরং একটি ব্যস্ত রাস্তা ছিল। তাই সেখানে মাঝে মাঝেই পথচারী এবং চলন্ত গাড়ি চলে আসত। গাড়ি এলে বিপদ এড়াতে ছেলেমেয়েদের বাধ্য হয়ে খেলা থামাতে হতো এবং তড়িঘড়ি করে রাস্তার পাশে বা ফুটপাতে উঠে দাঁড়াতে হতো। সব মিলিয়ে বৃষ্টি এবং গাড়ির উৎপাত রাস্তার পরিবেশকে বারবার বিঘ্নিত করত।

4. “বিদেশি গল্প হলেও ‘রাস্তায় ক্রিকেট খেলা’ গল্পটি যেন আমাদের সবার শৈশবের কথাই বলে” – মন্তব্যটির সার্থকতা বুঝিয়ে দাও।

উত্তর দেখো

উত্তর: দেশ, কাল এবং ভৌগোলিক সীমানার গণ্ডি পেরিয়ে শৈশবের রূপ এবং আনন্দ সব জায়গাতেই প্রায় একই রকম হয়। মাইকেল অ্যানটনি রচিত গল্পটি ত্রিনিদাদের পটভূমিতে লেখা হলেও, এর মূল সুরটি আমাদের সবার কাছেই অত্যন্ত পরিচিত।
গল্পে যেমন দেখা যায় যে ছোটো ছেলেমেয়েরা কোনো নিয়মকানুন বা দামী সরঞ্জামের তোয়াক্কা না করে রাস্তায় ইট-কাঠ দিয়ে উইকেট বানিয়ে, ভাঙা ব্যাট ও পুরোনো বল নিয়ে ক্রিকেটে মেতে উঠেছে, আমাদের দেশের প্রতিটি গলি বা পাড়াতেই এমন দৃশ্য খুব সাধারণ। বড়োদের বকুনি, গাড়ির হর্ন বা বৃষ্টির চোখরাঙানি—কোনো কিছুই যেমন ত্রিনিদাদের ওই শিশুদের দমাতে পারেনি, তেমনি আমাদের শৈশবের আনন্দও ছিল ঠিক এরকমই বাঁধনহারা ও অকৃত্রিম। বৃষ্টিতে ভেজা, কাদায় মাখামাখি হওয়া বা সামান্য উপকরণ নিয়েই নিজেদের কল্পনার জগতে রাজা হয়ে ওঠা—শৈশবের এই চিরন্তন এবং সার্বজনীন আনন্দই গল্পটিতে ফুটে উঠেছে। তাই নির্দ্বিধায় বলা যায় যে এটি একটি বিদেশি গল্প হলেও, এটি প্রতিটি মানুষের শৈশবের এক নিখুঁত এবং নস্টালজিক প্রতিচ্ছবি।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার