মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

সপ্তম শ্রেণি: ভূগোল, অধ্যায়- ভূমিরূপ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

অধ্যায় 4: ভূমি রূপ
(সংক্ষিপ্ত ও বিশ্লেষণমূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 2/3)

✍️ 2/3 নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ 14টি প্রশ্নোত্তর:

1. পর্বত ও পাহাড়ের মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?

উত্তর: পর্বত হলো সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে 900 মিটারের বেশি উঁচু, পাথুরে এবং খাড়া ঢালযুক্ত বিশাল ভূমি রূপ। অন্যদিকে, পাহাড় হলো সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাধারণত 300 থেকে 600 মিটার উঁচু অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতাসম্পন্ন ভূমি রূপ। পর্বতের শৃঙ্গ থাকে, কিন্তু পাহাড়ের ওপরের অংশ অনেক সময় গোলাকার বা ভোঁতা হয়।

2. ভঙ্গিল পর্বত কীভাবে সৃষ্টি হয়?

উত্তর: ভূ-আলোড়নের ফলে যখন ভূপৃষ্ঠের শিলাস্তরে প্রবল পার্শ্বচাপ পড়ে, তখন নরম পাললিক শিলাস্তরে ঢেউয়ের মতো ভাঁজ সৃষ্টি হয়। এই ভাঁজ যখন ক্রমশ উঁচু হয়ে পর্বত গঠন করে, তখন তাকে ভঙ্গিল পর্বত বলে। এশিয়া মহাদেশের হিমালয় এবং ইউরোপের আল্পস হলো এর অন্যতম উদাহরণ।

3. স্তূপ পর্বত ও গ্রস্থ উপত্যকা কাকে বলে?

উত্তর: ভূ-আলোড়নের ফলে ভূত্বকে ফাটল বা চ্যুতির সৃষ্টি হয়। যখন দুটি ফাটলের মধ্যবর্তী অংশ উপরে উঠে যায়, তখন তাকে স্তূপ পর্বত বলে (যেমন: সাতপুরা)। আবার দুটি ফাটলের মাঝখানের অংশ নিচে বসে গিয়ে যে উপত্যকা তৈরি করে, তাকে গ্রস্থ উপত্যকা বলে (যেমন: নর্মদা নদীর উপত্যকা)।

4. আগ্নেয় পর্বত বা সঞ্চয়জাত পর্বত বলতে কী বোঝো?

উত্তর: অগ্নুৎপাতের সময় পৃথিবীর গভীর থেকে গরম ম্যাগমা, ছাই ও পাথর বাইরে বেরিয়ে আসে। এই পদার্থগুলি আগ্নেয়গিরির মুখে জমা হয়ে শঙকু আকৃতির যে পর্বত তৈরি করে, তাকে আগ্নেয় পর্বত বলে। যেহেতু এটি পদার্থ সঞ্চয়ের ফলে সৃষ্টি হয়, তাই একে সঞ্চয়জাত পর্বতও বলা হয়। যেমন: জাপানের ফ্যুজিয়ামা।

5. ক্ষয়জাত পর্বত বা অবশিষ্ট পর্বত কীভাবে গঠিত হয়?

উত্তর: নদী, বায়ু বা হিমবাহের মতো প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে কোনো প্রাচীন উঁচু মালভূমি বা পর্বত দীর্ঘদিন ধরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। এর নরম অংশগুলি ধুয়ে যায় কিন্তু কঠিন অংশগুলি ক্ষয় প্রতিরোধ করে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকে। এভাবেই ক্ষয়জাত বা অবশিষ্ট পর্বতের সৃষ্টি হয়। যেমন: ভারতের আরাবল্লী।

6. মালভূমিকে কেন ‘টেবিল ল্যান্ড’ বলা হয়?

উত্তর: মালভূমির উপরিভাগ সমভূমির মতো একদম সমতল না হলেও অনেকটা ঢেউ খেলানো বা প্রায় সমতল হয়। এছাড়া মালভূমির চারপাশ খাড়া ঢালযুক্ত হয়ে নিচের সমভূমির সঙ্গে মিশে যায়। দেখতে অনেকটা টেবিলের মতো উঁচু কিন্তু ওপরটা সমতল হওয়ায় মালভূমিকে ‘টেবিল ল্যান্ড’ (Table Land) বলা হয়।

7. পর্বত-বেষ্টিত মালভূমি বলতে কী বোঝো?

উত্তর: যে মালভূমিগুলি চারদিকে উঁচু পর্বতশ্রেণী দ্বারা ঘেরা থাকে, তাদের পর্বত-বেষ্টিত মালভূমি বলা হয়। ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টির সময় এই মালভূমিগুলি তৈরি হয়। তিব্বত মালভূমি বিশ্বের বৃহত্তম পর্বত-বেষ্টিত মালভূমির উদাহরণ।

8. ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি কীভাবে গঠিত হয়?

উত্তর: কোনো বিস্তীর্ণ মালভূমি যখন নদী উপত্যকা বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং মাঝে গভীর উপত্যকা তৈরি হয়, তখন তাকে ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি বলে। ভারতের ছোটনাগপুর মালভূমি একটি উল্লেখযোগ্য ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি।

9. লাভা গঠিত মালভূমি বা ডেকান ট্র্যাপ কী?

উত্তর: ভূত্বকের কোনো ফাটল দিয়ে ভূগর্ভের লাভা বাইরে বেরিয়ে এসে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বছরের পর বছর ধরে স্তরে স্তরে জমা হয়ে যে মালভূমি তৈরি করে, তাকে লাভা গঠিত মালভূমি বলে। ভারতের দাক্ষিণাত্য মালভূমির উত্তর-পশ্চিম অংশ বা ডেকান ট্র্যাপ এভাবে সিঁড়ির মতো স্তরে স্তরে গঠিত হয়েছে।

10. সমভূমি অঞ্চলের তিনটি প্রধান গুরুত্ব লেখো।

উত্তর: (i) সমতল ভূমি হওয়ায় এখানে কৃষিকাজ খুব ভালো হয়। (ii) সমভূমিতে রাস্তাঘাট ও রেলপথ তৈরি করা সহজ, তাই যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হয়। (iii) অনুকূল পরিবেশের জন্য পৃথিবীর বেশিরভাগ জনবসতি ও বড় বড় শহর সমভূমি অঞ্চলেই গড়ে ওঠে।

11. পলি গঠিত সমভূমি বা পলল সমভূমি কীভাবে তৈরি হয়?

উত্তর: নদী যখন পার্বত্য অঞ্চল থেকে পলি, বালি ও কাঁকর বয়ে এনে সমতল অঞ্চলে বা নদীর মোহনায় জমা করে, তখন তাকে পলি গঠিত বা পলল সমভূমি বলে। ভারতের গাঙ্গেয় সমভূমি এভাবে লক্ষ লক্ষ বছর ধরে পলি জমার ফলেই তৈরি হয়েছে।

12. লোয়েস সমভূমি (Loess Plain) কী?

উত্তর: মরুভূমি অঞ্চল থেকে বায়ুর দ্বারা বালুকণা বহুদূরে উড়ে গিয়ে কোনো নিচু স্থানে বছরের পর বছর ধরে সঞ্চিত হয়। এই সূক্ষ্ম বালুকণা সঞ্চিত হয়ে যে সমভূমি গঠিত হয়, তাকে লোয়েস সমভূমি বলে। চীনের হুয়াংহো নদীর অববাহিকায় এই ধরণের সমভূমি দেখা যায়।

13. মালভূমি কেন খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হয়?

উত্তর: মালভূমিগুলি সাধারণত অত্যন্ত প্রাচীন এবং কঠিন আগ্নেয় ও রূপান্তরিত শিলা দ্বারা গঠিত হয়। পৃথিবীর অনেক মালভূমি একসময় ভূগর্ভস্থ ম্যাগমা জমার ফলেই তৈরি হয়েছে। এই কারণে মালভূমি অঞ্চলে লোহা, কয়লা, তামা ও ম্যাঙ্গানিজের মতো প্রচুর খনিজ সম্পদ পাওয়া যায়।

14. পাহাড়ী অঞ্চলে জনবসতি কম হওয়ার দুটি প্রধান কারণ কী?

উত্তর: (i) বন্ধুর বা অসমান ভূ-প্রকৃতির জন্য পাহাড়ী অঞ্চলে কৃষিকাজ করা এবং ঘরবাড়ি তৈরি করা অত্যন্ত কঠিন। (ii) দুর্গম পাহাড়ী পথে যাতায়াত ও পরিবহন ব্যবস্থা খুবই কষ্টসাধ্য এবং জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাব থাকে।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার