মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

সপ্তম শ্রেণি: ভূগোল, অধ্যায়- ভূমিরূপ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর, রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর

অধ্যায় 4: ভূমি রূপ
(দীর্ঘ উত্তরধর্মী বা রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর – মান: 5)

📝 5 নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ 5টি প্রশ্নোত্তর:

1. ভঙ্গিল পর্বতের উৎপত্তি ও প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।

উৎপত্তি: ভূ-আলোড়নের ফলে যখন ভূপৃষ্ঠের শিলাস্তরে প্রবল পার্শ্বচাপের সৃষ্টি হয়, তখন নরম পাললিক শিলাস্তরে ভাঁজ পড়ে। এই ভাঁজ ক্রমশ উঁচু হয়ে ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টি করে। (যেমন: হিমালয়, আল্পস)।

  • ভাঁজের উপস্থিতি: এই পর্বতে অসংখ্য ভাঁজ ও চ্যুতি দেখা যায়।
  • পাললিক শিলা: ভঙ্গিল পর্বত মূলত পাললিক শিলা দিয়ে গঠিত, তাই এখানে মাঝেমধ্যে সামুদ্রিক জীবাশ্ম দেখা যায়।
  • শৃঙ্গ: এই পর্বতের উচ্চতা অনেক বেশি হয় এবং অসংখ্য তুষারাবৃত শৃঙ্গ থাকে।
  • বিশালতা: ভঙ্গিল পর্বতগুলি সাধারণত কয়েক হাজার কিমি দীর্ঘ ও চওড়া হয়।

2. স্তূপ পর্বত ও গ্রস্থ উপত্যকা কীভাবে সৃষ্টি হয়? চিত্রসহ ব্যাখ্যা করো।

সৃষ্টি প্রক্রিয়া: ভূ-আলোড়নের ফলে অনেক সময় ভূত্বকে ফাটল বা চ্যুতির সৃষ্টি হয়। এই ফাটল বরাবর ভূত্বকের একাংশ ওপরে উঠে যেতে পারে বা নিচে বসে যেতে পারে।

  • স্তূপ পর্বত: দুটি চ্যুতির মাঝখানের অংশ যদি চাপের ফলে ওপরে উঠে যায়, তবে তা স্তূপ পর্বত গঠন করে। এর উপরিভাগ প্রায় সমতল এবং চারপাশ খাড়া ঢালযুক্ত হয়। যেমন: ভারতের সাতপুরা।
  • গ্রস্থ উপত্যকা: বিপরীতভাবে, দুটি চ্যুতির মাঝখানের অংশ যদি নিচে বসে যায়, তবে তাকে গ্রস্থ উপত্যকা বলে। যেমন: নর্মদা নদীর উপত্যকা।

3. উৎপত্তি ও বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে মালভূমির শ্রেণিবিভাগ করো।

উত্তর: মালভূমিকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়:

  • পর্বতবেষ্টিত মালভূমি: যে মালভূমি চারদিকে উঁচু পর্বতশ্রেণী দিয়ে ঘেরা থাকে। যেমন: তিব্বত মালভূমি।
  • লাভা গঠিত মালভূমি: ভূগর্ভের ম্যাগমা বা লাভা ফাটল দিয়ে বেরিয়ে এসে সঞ্চিত হয়ে যে মালভূমি তৈরি করে। যেমন: ভারতের দাক্ষিণাত্যের মালভূমি।
  • ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি: নদী বা অন্য প্রাকৃতিক শক্তির ফলে কোনো উঁচু মালভূমি যখন বিচ্ছিন্ন হয়ে গভীর উপত্যকা তৈরি করে। যেমন: ছোটনাগপুর মালভূমি।

[Image showing different types of plateaus: intermontane, lava, and dissected plateaus]

4. বিভিন্ন প্রকার সমভূমি গঠনের প্রক্রিয়াগুলি আলোচনা করো।

উত্তর: উৎপত্তির কারণ অনুযায়ী সমভূমি প্রধানত তিন প্রকারের হয়:

  • পলল সমভূমি (Deposition Plain): নদী যখন পার্বত্য অঞ্চল থেকে পলি, বালি বয়ে এনে সমতলে জমা করে। যেমন: ভারতের সিন্ধু-গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সমভূমি।
  • লোয়েস সমভূমি (Loess Plain): মরুভূমি অঞ্চল থেকে বায়ুপ্রবাহের সাহায্যে সূক্ষ্ম বালুকণা উড়ে গিয়ে বহুদূরে নিচু স্থানে সঞ্চিত হয়ে এই সমভূমি তৈরি করে। যেমন: উত্তর চীনের সমভূমি।
  • লাভা সমভূমি: আগ্নেয়গিরির লাভা নিম্নভূমিতে সঞ্চিত হয়ে তৈরি হয়। যেমন: আইসল্যান্ডের সমভূমি।

5. মানুষের জীবনে বিভিন্ন ভূমি রূপের প্রভাব আলোচনা করো।

উত্তর: মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কাজের ওপর ভূমি রূপের প্রভাব অপরিসীম:

  • সমভূমি অঞ্চল: সমতল ভূমি হওয়ায় এখানে কৃষিকাজ, যাতায়াত ব্যবস্থা এবং কলকারখানা তৈরি করা সহজ। তাই পৃথিবীর বেশিরভাগ জনবসতি এখানেই গড়ে ওঠে।
  • পার্বত্য অঞ্চল: বন্ধুর ভূ-প্রকৃতির জন্য এখানে জীবনযাপন কঠিন। তবে এই অঞ্চল পর্যটন শিল্প, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বনজ সম্পদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
  • মালভূমি অঞ্চল: মালভূমি অঞ্চল খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হয়, তাই এখানে খনি ও ধাতব শিল্প গড়ে ওঠে।
  • উপসংহার: মানুষ নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তির সাহায্যে পাহাড় বা মালভূমি অঞ্চলেও জীবনধারণের প্রতিকূলতাকে জয় করার চেষ্টা করে চলেছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার