নবম শ্রেণি: বাংলা, ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ – কালিদাস MCQ ও অনান্য 1 নম্বরের প্রশ্নত্তোর
অধ্যায় 2: ধীবর-বৃত্তান্ত
(মূল রচনা: মহাকবি কালিদাস | তর্জমা: সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর)
📖 বিষয় সূচনা
‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশটি মহাকবি কালিদাসের বিশ্ববিখ্যাত সংস্কৃত নাটক ‘অভিজ্ঞানশকুন্তলম’-এর ষষ্ঠ অঙ্ক থেকে গৃহীত। মহর্ষি দুর্বাসার অভিশাপে রাজা দুষ্মন্ত তাঁর স্ত্রী শকুন্তলাকে ভুলে যান। শকুন্তলার আঙুল থেকে হারিয়ে যাওয়া রাজকীয় আংটিটি একটি রুই মাছ গিলে ফেলে। সেই মাছটি এক জেলের (ধীবর) জালে ধরা পড়ে। আংটি বিক্রির সময় ধীবরকে চোর সন্দেহে রাজরক্ষীরা বন্দি করে। এই নাট্যাংশে ধীবরের সততা, রাজরক্ষীদের নিষ্ঠুর ও ব্যঙ্গাত্মক আচরণ এবং পরিশেষে রাজার আদেশে ধীবরের নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার চমৎকার কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। সমাজের উঁচু তলার মানুষের অহংকার এবং নিচু তলার মানুষের সততার এক সুন্দর বৈপরীত্য এখানে ফুটে উঠেছে।
🎯 বিষয় সংক্ষেপ
এই নাট্যাংশের মূল ঘটনাক্রমগুলি হলো:
- আংটি উদ্ধার ও ধীবরের বন্দিদশা: শচী তীর্থে স্নান করার সময় শকুন্তলার হাত থেকে রাজার দেওয়া আংটিটি জলে পড়ে যায়। সেটি একটি রুই মাছ গিলে ফেলে। শক্রাবতার নিবাসী এক জেলে সেই মাছটি ধরে এবং মাছ কাটতে গিয়ে তার পেট থেকে মণি খচিত রাজকীয় আংটিটি পায়।
- রক্ষীদের নিষ্ঠুরতা: আংটি বিক্রির সময় নগররক্ষায় নিযুক্ত রাজশ্যালক এবং দুই রক্ষী (সূচক ও জানুক) ধীবরকে চোর সন্দেহে ধরে ফেলে। তারা ধীবরকে চরম অপমান করে, গালিগালাজ করে ও মারধর করতে উদ্যত হয়।
- ধীবরের সততা: ধীবর শান্তভাবে নিজের পেশার কথা জানায় এবং বলে যে জন্মগত পেশা যতই নিচু হোক না কেন, তা কখনো নিন্দনীয় নয়। সে নির্ভয়ে আংটি পাওয়ার সমস্ত ঘটনা খুলে বলে।
- রাজার কাছে আংটি প্রেরণ ও ধীবরের মুক্তি: রাজশ্যালক রাজার কাছে আংটিটি নিয়ে যায়। আংটি দেখে রাজার স্মৃতি ফিরে আসে এবং তিনি ধীবরকে আংটির সমমূল্যের অর্থ পুরস্কার হিসেবে দেন।
- বন্ধুত্ব স্থাপন: ধীবরের সততা প্রমাণিত হওয়ায় সে মুক্তি পায়। ধীবর তার পুরস্কারের অর্থের অর্ধেক রক্ষীদের মদের দাম হিসেবে দিয়ে দেয়। এতে রক্ষীদের মনোভাব সম্পূর্ণ বদলে যায় এবং তারা ধীবরকে নিজেদের পরম বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে।
📊 বিস্তারিত ও সম্ভাব্য নম্বর বিভাজন
এই অধ্যায় থেকে নবম শ্রেণির পরীক্ষায় সম্ভাব্য মোট নম্বর: 5 থেকে 8
| প্রশ্নের ধরন | মান | সম্ভাব্য প্রশ্ন সংখ্যা | সম্ভাব্য মোট নম্বর |
|---|---|---|---|
| বহু বিকল্প ভিত্তিক (MCQ) | 1 | 1 থেকে 2 টি | 1 – 2 |
| অতি সংক্ষিপ্ত (VSAQ) | 1 | 1 থেকে 2 টি | 1 – 2 |
| ব্যাখ্যামূলক (SAQ) | 3 | 1 টি | 3 |
| বর্ণনামূলক (LAQ) | 5 | 1 টি (বিকল্পসহ আসে) | 5 |
অধ্যায় 2: ধীবর-বৃত্তান্ত
(বহু বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্ন)
সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো:
1. ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশটির মূল রচয়িতা কে?
- (ক) ভবভূতি
- (খ) মহাকবি কালিদাস
- (গ) শূদ্রক
- (ঘ) ভাস
উত্তর দেখো
উত্তর: (খ) মহাকবি কালিদাস
2. পাঠ্য ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ অংশটি কোন্ মূল সংস্কৃত নাটকের অংশ?
- (ক) মেঘদূতম্
- (খ) রঘুবংশম্
- (গ) কুমারসম্ভবম্
- (ঘ) অভিজ্ঞানশকুন্তলম্
উত্তর দেখো
উত্তর: (ঘ) অভিজ্ঞানশকুন্তলম্
3. সংস্কৃত নাটকটিকে বাংলায় কে তর্জমা (অনুবাদ) করেছেন?
- (ক) বিদ্যাসাগর
- (খ) সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর
- (গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- (ঘ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর দেখো
উত্তর: (খ) সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর
4. ধীবর কোথায় থাকত বা তার বাড়ি কোথায় ছিল?
- (ক) হস্তিনাপুরে
- (খ) শক্রাবতারে
- (গ) উজ্জয়িনীতে
- (ঘ) কন্ব মুনির আশ্রমে
উত্তর দেখো
উত্তর: (খ) শক্রাবতারে
5. ধীবরের পেশা কী ছিল?
- (ক) কাঠ কাটা
- (খ) চাষবাস করা
- (গ) মাছ ধরে সংসার চালানো
- (ঘ) চুরি করা
উত্তর দেখো
উত্তর: (গ) মাছ ধরে সংসার চালানো
6. ধীবর কোন্ মাছের পেট থেকে রাজকীয় আংটিটি পেয়েছিল?
- (ক) বোয়াল মাছ
- (খ) কাতলা মাছ
- (গ) রুই মাছ
- (ঘ) ইলিশ মাছ
উত্তর দেখো
উত্তর: (গ) রুই মাছ
7. আংটিটিতে কার নাম খোদাই করা ছিল?
- (ক) শকুন্তলার
- (খ) কন্ব মুনির
- (গ) মহর্ষি দুর্বাসার
- (ঘ) রাজা দুষ্মন্তের
উত্তর দেখো
উত্তর: (ঘ) রাজা দুষ্মন্তের
8. এই আংটিটি কার কাছে ছিল, যা জলে হারিয়ে গিয়েছিল?
- (ক) শকুন্তলার কাছে
- (খ) রাজশ্যালকের কাছে
- (গ) গৌতমীর কাছে
- (ঘ) প্রিয়ংবদার কাছে
উত্তর দেখো
উত্তর: (ক) শকুন্তলার কাছে
9. শকুন্তলার হাত থেকে আংটিটি কোথায় পড়ে গিয়েছিল?
- (ক) গঙ্গায়
- (খ) শচী তীর্থে স্নান করার সময়
- (গ) যমুনায়
- (ঘ) কন্ব মুনির আশ্রমে
উত্তর দেখো
উত্তর: (খ) শচী তীর্থে স্নান করার সময়
10. আংটি বিক্রির সময় ধীবরকে কারা ধরেছিল?
- (ক) সাধারণ মানুষ
- (খ) রাজা স্বয়ং
- (গ) রাজশ্যালক এবং দুই রক্ষী
- (ঘ) অন্য জেলেরা
উত্তর দেখো
উত্তর: (গ) রাজশ্যালক এবং দুই রক্ষী
11. নাট্যাংশে উল্লিখিত দুই রাজরক্ষীর নাম কী ছিল?
- (ক) সূচক ও জানুক
- (খ) মাধব ও শৌনক
- (গ) রাম ও শ্যাম
- (ঘ) বীর ও ধীর
উত্তর দেখো
উত্তর: (ক) সূচক ও জানুক
12. রাজরক্ষীরা ধীবরকে কী বলে গালাগালি দিচ্ছিল?
- (ক) মিথ্যাবাদী
- (খ) গাঁটকাটা বা চোর
- (গ) বোকা
- (ঘ) ভিখারি
উত্তর দেখো
উত্তর: (খ) গাঁটকাটা বা চোর
13. রাজশ্যালক ধীবরের পেশা নিয়ে ব্যঙ্গ করলে ধীবর কী বলেছিল?
- (ক) সে লজ্জিত হয়েছিল
- (খ) সে রেগে গিয়ে মারামারি করেছিল
- (গ) যে বৃত্তিতে মানুষ জন্মায়, তা নিন্দনীয় হলেও ছাড়া উচিত নয়
- (ঘ) সে পেশা ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছিল
উত্তর দেখো
উত্তর: (গ) যে বৃত্তিতে মানুষ জন্মায়, তা নিন্দনীয় হলেও ছাড়া উচিত নয়
14. আংটিটি পাওয়ার পর রাজশ্যালক সেটিকে কার কাছে নিয়ে গিয়েছিল?
- (ক) রানির কাছে
- (খ) রাজার কাছে
- (গ) মন্ত্রীর কাছে
- (ঘ) বিচারপতির কাছে
উত্তর দেখো
উত্তর: (খ) রাজার কাছে
15. আংটিটি দেখে রাজা দুষ্মন্তের কী অবস্থা হয়েছিল?
- (ক) তিনি অত্যন্ত রেগে গিয়েছিলেন
- (খ) তিনি আংটিটি ফেলে দিয়েছিলেন
- (গ) তিনি মুহূর্তের জন্য বিহ্বল বা স্তব্ধ হয়ে পড়েছিলেন
- (ঘ) তিনি হাসতে শুরু করেছিলেন
উত্তর দেখো
উত্তর: (গ) তিনি মুহূর্তের জন্য বিহ্বল বা স্তব্ধ হয়ে পড়েছিলেন
16. রাজা আংটিটি পাওয়ার পর ধীবরকে কী নির্দেশ দিয়েছিলেন?
- (ক) তাকে জেলে বন্দি করার নির্দেশ দেন
- (খ) তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন
- (গ) তাকে মুক্তি দিতে এবং আংটির সমমূল্যের অর্থ পুরস্কার দিতে বলেন
- (ঘ) তাকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দিতে বলেন
উত্তর দেখো
উত্তর: (গ) তাকে মুক্তি দিতে এবং আংটির সমমূল্যের অর্থ পুরস্কার দিতে বলেন
17. পুরস্কারের অর্থ পেয়ে ধীবর রক্ষীদের কী প্রস্তাব দিয়েছিল?
- (ক) পুরো অর্থটাই তাদের দিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব
- (খ) অর্ধেক অর্থ মদের দাম হিসেবে গ্রহণ করার প্রস্তাব
- (গ) তাদের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব
- (ঘ) তাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব
উত্তর দেখো
উত্তর: (খ) অর্ধেক অর্থ মদের দাম হিসেবে গ্রহণ করার প্রস্তাব
18. ধীবরের সততা ও উদারতায় মুগ্ধ হয়ে রাজশ্যালক কী করেছিল?
- (ক) তাকে পুনরায় বন্দি করেছিল
- (খ) তার কাছ থেকে সব টাকা কেড়ে নিয়েছিল
- (গ) তাকে নিজের পরম বন্ধু বলে গ্রহণ করেছিল
- (ঘ) তাকে অপমান করেছিল
উত্তর দেখো
উত্তর: (গ) তাকে নিজের পরম বন্ধু বলে গ্রহণ করেছিল
19. “মারতে হয় মারুন, ছেড়ে দিতে হয় ছেড়ে দিন” – এই উক্তিটি কার?
- (ক) রাজশ্যালকের
- (খ) সূচকের
- (গ) জানুকের
- (ঘ) ধীবরের
উত্তর দেখো
উত্তর: (ঘ) ধীবরের
20. এই নাট্যাংশে সমাজের কোন্ শ্রেণির মানুষের সততা ও আত্মসম্মান ফুটে উঠেছে?
- (ক) রাজপরিবারের
- (খ) রক্ষীদের
- (গ) সমাজের নিচুতলার খেটেখাওয়া মানুষের
- (ঘ) বণিক শ্রেণির
উত্তর দেখো
উত্তর: (গ) সমাজের নিচুতলার খেটেখাওয়া মানুষের
অধ্যায় 2: ধীবর-বৃত্তান্ত
(সত্য/মিথ্যা নির্ণয় – সম্পূর্ণ 20 টি প্রশ্ন)
নিচের বাক্যগুলি সত্য না মিথ্যা তা নির্ণয় করো:
1. ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশটি মহাকবি কালিদাসের লেখা ‘অভিজ্ঞানশকুন্তলম’ নাটকের অংশ।
উত্তর দেখো
উত্তর: সত্য
2. মহাকবি কালিদাস ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশটি বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন।
উত্তর দেখো
উত্তর: মিথ্যা
(সঠিক তথ্য: নাট্যাংশটি বাংলায় অনুবাদ বা তর্জমা করেছিলেন পণ্ডিত সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর।)
3. আংটি পাওয়া জেলে বা ধীবরের বাড়ি ছিল শক্রাবতারে।
উত্তর দেখো
উত্তর: সত্য
4. ধীবর পেশায় একজন সৎ কাঠুরিয়া ছিল।
উত্তর দেখো
উত্তর: মিথ্যা
(সঠিক তথ্য: ধীবর পেশায় একজন জেলে ছিল, যে জাল, বঁড়শি দিয়ে মাছ ধরে সংসার চালাত।)
5. ধীবর একটি রুই মাছের পেট থেকে রাজার আংটিটি পেয়েছিল।
উত্তর দেখো
উত্তর: সত্য
6. মাছের পেট থেকে পাওয়া আংটিটিতে শকুন্তলার নাম খোদাই করা ছিল।
উত্তর দেখো
উত্তর: মিথ্যা
(সঠিক তথ্য: মণি খচিত আংটিটিতে স্বয়ং রাজা দুষ্মন্তের নাম খোদাই করা ছিল।)
7. আংটিটি শচী তীর্থে স্নান করার সময় শকুন্তলার হাত থেকে জলে পড়ে গিয়েছিল।
উত্তর দেখো
উত্তর: সত্য
8. আংটি বিক্রির সময় রাজশ্যালক এবং দুই রক্ষী ধীবরকে খুব সম্মান ও খাতির করেছিল।
উত্তর দেখো
উত্তর: মিথ্যা
(সঠিক তথ্য: রাজশ্যালক ও রক্ষীরা ধীবরকে চোর সন্দেহে অত্যন্ত অপমান, গালাগালি এবং মারধর করতে উদ্যত হয়েছিল।)
9. নাট্যাংশে উল্লিখিত দুই রাজরক্ষীর নাম ছিল সূচক এবং জানুক।
উত্তর দেখো
উত্তর: সত্য
10. রক্ষীদের ভয়ে ধীবর নিজের পেশা লুকাতে চেয়েছিল।
উত্তর দেখো
উত্তর: মিথ্যা
(সঠিক তথ্য: ধীবর অত্যন্ত শান্তভাবে এবং নির্ভয়ে নিজের পেশার কথা রক্ষীদের জানিয়েছিল।)
11. ধীবরের মতে, যে পেশায় মানুষ জন্মায় তা নিন্দনীয় হলেও মানুষের তা ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।
উত্তর দেখো
উত্তর: সত্য
12. আংটিটি পাওয়ার পর রাজশ্যালক সেটিকে বিচারপতির কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন।
উত্তর দেখো
উত্তর: মিথ্যা
(সঠিক তথ্য: রাজশ্যালক রাজার আদেশ নেওয়ার জন্য আংটিটি সোজা রাজা দুষ্মন্তের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন।)
13. আংটিটি দেখে রাজা দুষ্মন্তের মুহূর্তের জন্য স্মৃতিবিভ্রম বা স্তব্ধ ভাব দেখা দিয়েছিল।
উত্তর দেখো
উত্তর: সত্য
14. রাজা চুরির অপরাধে ধীবরকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আদেশ দিয়েছিলেন।
উত্তর দেখো
উত্তর: মিথ্যা
(সঠিক তথ্য: রাজা ধীবরের নির্দোষিতা বুঝতে পেরে তাকে মুক্তি দেওয়ার এবং আংটির সমমূল্যের অর্থ পুরস্কার দেওয়ার আদেশ দিয়েছিলেন।)
15. ধীবর তার পাওয়া পুরস্কারের অর্ধেক অর্থ রক্ষীদের মদের দাম হিসেবে উপহার দেয়।
উত্তর দেখো
উত্তর: সত্য
16. এই নাট্যাংশে রক্ষীদের অত্যন্ত দয়ালু, ভদ্র এবং সহানুভূতিশীল হিসেবে দেখানো হয়েছে।
উত্তর দেখো
উত্তর: মিথ্যা
(সঠিক তথ্য: রক্ষীদের অত্যন্ত অহংকারী, নিষ্ঠুর, ব্যঙ্গাত্মক এবং ঘুষখোর প্রকৃতির হিসেবে দেখানো হয়েছে।)
17. রক্ষীদের মনোভাব বদলানোর পর রাজশ্যালক ধীবরকে পরম বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছিল।
উত্তর দেখো
উত্তর: সত্য
18. ধীবর আংটিটি চুরি করেছিল বলে ভয়ে রক্ষীদের কাছে স্বীকার করে নিয়েছিল।
উত্তর দেখো
উত্তর: মিথ্যা
(সঠিক তথ্য: ধীবর কখনো মিথ্যা বলেনি, সে মাছের পেট থেকে আংটি পাওয়ার সত্য ঘটনাটাই প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত দৃঢ়ভাবে বলে এসেছিল।)
19. “মারতে হয় মারুন, ছেড়ে দিতে হয় ছেড়ে দিন” – কথাটি ধীবর রাজশ্যালককে উদ্দেশ্য করে বলেছিল।
উত্তর দেখো
উত্তর: সত্য
20. ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে সমাজের নিচুতলার একজন সাধারণ মানুষের সততা এবং আত্মসম্মানবোধের জয় হয়েছে।
উত্তর দেখো
উত্তর: সত্য
অধ্যায় 2: ধীবর-বৃত্তান্ত
(শূন্যস্থান পূরণ করো – সম্পূর্ণ 20 টি প্রশ্ন)
উপযুক্ত শব্দ বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো:
1. ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশটি বিশ্ববিখ্যাত মহাকবি ________ লেখা।
উত্তর দেখো
উত্তর: কালিদাসের
2. এই নাট্যাংশটি মূল সংস্কৃত নাটক ________-এর ষষ্ঠ অঙ্ক থেকে গৃহীত।
উত্তর দেখো
উত্তর: অভিজ্ঞানশকুন্তলম
3. মূল সংস্কৃত নাটকটিকে বাংলায় তর্জমা বা অনুবাদ করেছেন পণ্ডিত ________ ঠাকুর।
উত্তর দেখো
উত্তর: সত্যেন্দ্রনাথ
4. আংটি পাওয়া ধীবর বা জেলের বাড়ি ছিল ________।
উত্তর দেখো
উত্তর: শক্রাবতারে
5. ধীবর জাল, বঁড়শি ইত্যাদি দিয়ে ________ ধরে নিজের সংসার চালাত।
উত্তর দেখো
উত্তর: মাছ
6. ধীবর একটি খণ্ডিত ________ মাছের পেট থেকে মহামূল্যবান আংটিটি পেয়েছিল।
উত্তর দেখো
উত্তর: রুই
7. মাছের পেট থেকে পাওয়া আংটিটিতে রাজা ________ নাম খোদাই করা ছিল।
উত্তর দেখো
উত্তর: দুষ্মন্তের
8. আংটিটি ________ তীর্থে স্নান করার সময় শকুন্তলার হাত থেকে জলে পড়ে গিয়েছিল।
উত্তর দেখো
উত্তর: শচী
9. বাজারে আংটি বিক্রির সময় ধীবরকে ধরেছিল রাজশ্যালক এবং দুই ________।
উত্তর দেখো
উত্তর: রক্ষী
10. নাট্যাংশে উল্লিখিত দুই রাজরক্ষীর নাম হলো সূচক এবং ________।
উত্তর দেখো
উত্তর: জানুক
11. রক্ষীরা ধীবরকে পেশা নিয়ে তীব্র ব্যঙ্গ করে তাকে চোর বা ________ বলেছিল।
উত্তর দেখো
উত্তর: গাঁটকাটা
12. ধীবরের মতে, যে বৃত্তিতে মানুষ জন্মায় তা নিন্দনীয় হলেও কখনো ________ উচিত নয়।
উত্তর দেখো
উত্তর: ছাড়া (বা ত্যাগ করা)
13. ধীবরের কাছে আংটিটি পাওয়ার পর রাজশ্যালক সেটিকে স্বয়ং ________ কাছে নিয়ে যান।
উত্তর দেখো
উত্তর: রাজার (বা দুষ্মন্তের)
14. নিজের নামের আংটিটি দেখে রাজার মুহূর্তের জন্য এক ________ বা বিহ্বল ভাব দেখা দিয়েছিল।
উত্তর দেখো
উত্তর: স্তব্ধ
15. আংটি দেখে রাজার মনে কোনো প্রিয়জনের স্মৃতি মনে পড়ায় তিনি স্বভাবতই ________ হয়ে পড়েন।
উত্তর দেখো
উত্তর: গম্ভীর
16. রাজা ধীবরের নির্দোষিতা বুঝতে পেরে তাকে আংটির সমমূল্যের অর্থ ________ হিসেবে দিতে বলেন।
উত্তর দেখো
উত্তর: পুরস্কার
17. পুরস্কারের অর্থ পেয়ে ধীবর তার অর্ধেক রক্ষীদের ________ দাম হিসেবে উপহার দেয়।
উত্তর দেখো
উত্তর: ফুলের (মদের দাম হিসেবে)
18. ধীবরের সততা ও উদারতায় মুগ্ধ হয়ে রাজশ্যালক তাকে পরম ________ বলে গ্রহণ করে।
উত্তর দেখো
উত্তর: বন্ধু
19. “মারতে হয় মারুন, ছেড়ে দিতে হয় ছেড়ে দিন” – রক্ষীদের উদ্দেশ্য করে কথাটি বলেছিল স্বয়ং ________।
উত্তর দেখো
উত্তর: ধীবর
20. ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে সমাজের নিচুতলার মানুষের অকৃত্রিম ________ ও আত্মসম্মানের জয় হয়েছে।
উত্তর দেখো
উত্তর: সততার
অধ্যায় 2: ধীবর-বৃত্তান্ত
(অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর – মান: 1)
নিচের প্রশ্নগুলির একটি বা দুটি বাক্যে উত্তর দাও:
1. ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশটির রচয়িতা কে?
উত্তর দেখো
উত্তর: ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশটির রচয়িতা হলেন সংস্কৃত সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ নাট্যকার মহাকবি কালিদাস।
2. আলোচ্য নাট্যাংশটি কোন্ মূল সংস্কৃত নাটকের অংশ?
উত্তর দেখো
উত্তর: আলোচ্য নাট্যাংশটি মহাকবি কালিদাসের লেখা বিশ্ববিখ্যাত ‘অভিজ্ঞানশকুন্তলম’ নাটকের ষষ্ঠ অঙ্কের অংশ।
3. মূল সংস্কৃত নাটকটিকে বাংলায় কে তর্জমা বা অনুবাদ করেছেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: মূল সংস্কৃত নাটকটিকে বাংলায় অত্যন্ত সুন্দরভাবে তর্জমা করেছেন পণ্ডিত সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
4. ধীবর কোথায় বাস করত?
উত্তর দেখো
উত্তর: আংটি পাওয়া জেলের বা ধীবরের বাড়ি ছিল শক্রাবতারে।
5. ধীবরের জীবিকা বা পেশা কী ছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: ধীবরের পেশা ছিল জাল, বঁড়শি ইত্যাদি দিয়ে মাছ ধরা এবং তা দিয়ে নিজের সংসার চালানো।
6. ধীবর আংটিটি কোথা থেকে পেয়েছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: ধীবর একটি খণ্ডিত রুই মাছের পেটের ভেতর থেকে মহামূল্যবান আংটিটি পেয়েছিল।
7. ধীবরের পাওয়া আংটিটি দেখতে কেমন ছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: আংটিটি মহামূল্যবান মণি খচিত ছিল এবং তাতে রাজার নাম খোদাই করা ছিল।
8. আংটিতে কার নাম খোদাই করা ছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: আংটিতে স্বয়ং রাজা দুষ্মন্তের নাম খোদাই করা ছিল।
9. বাজারে আংটি বিক্রির সময় কারা ধীবরকে বন্দি করেছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: বাজারে রাজকীয় আংটিটি বিক্রির সময় নগররক্ষায় নিযুক্ত রাজশ্যালক এবং দুই রক্ষী ধীবরকে চোর সন্দেহে বন্দি করেছিল।
10. নাট্যাংশে উল্লিখিত দুই রক্ষীর নাম কী ছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: নাট্যাংশে উল্লিখিত দুই রাজরক্ষীর নাম ছিল সূচক এবং জানুক।
11. রক্ষীরা ধীবরকে কী বলে গালাগালি দিচ্ছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: রক্ষীরা ধীবরকে চোর, গাঁটকাটা এবং অত্যন্ত নিচ পেশার মানুষ বলে গালাগালি দিচ্ছিল।
12. রাজশ্যালক ধীবরের পেশা নিয়ে কী ব্যঙ্গ করেছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: রাজশ্যালক ধীবরের পেশা নিয়ে ব্যঙ্গ করে বলেছিল যে, “তা তোর পেশাটা দেখছি বেশ পবিত্র!”
13. পেশা নিয়ে ব্যঙ্গের উত্তরে ধীবর কী বলেছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: ধীবর অত্যন্ত শান্তভাবে বলেছিল যে, যে বৃত্তিতে মানুষ জন্মায় তা নিন্দনীয় হলেও কখনো ত্যাগ করা বা ছাড়া উচিত নয়।
14. নিজের পেশার সমর্থনে ধীবর কার উদাহরণ দিয়েছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: নিজের পেশার সমর্থনে ধীবর বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণের উদাহরণ দিয়ে বলেছিল যে, ব্রাহ্মণ স্বভাবে দয়ালু হলেও যজ্ঞের সময় তাকে পশুবধ করতে হয়।
15. রাজশ্যালক আংটি পাওয়ার পর কার কাছে গিয়েছিলেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: আংটিটি পাওয়ার পর ধীবরের কথা সত্য কি না এবং রাজার আদেশ কী তা জানার জন্য রাজশ্যালক রাজা দুষ্মন্তের কাছে গিয়েছিলেন।
16. আংটি দেখে রাজার কেমন প্রতিক্রিয়া হয়েছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: নিজের নামের আংটিটি দেখে রাজার মনে কোনো প্রিয়জনের স্মৃতি মনে পড়ায় তিনি মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ বা বিহ্বল হয়ে পড়েছিলেন।
17. রাজা ধীবরের জন্য কী আদেশ দিয়েছিলেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: রাজা ধীবরের নির্দোষিতা বুঝতে পেরে তাকে মুক্তি দেওয়ার এবং আংটির সমমূল্যের অর্থ পুরস্কার হিসেবে দেওয়ার আদেশ দিয়েছিলেন।
18. পুরস্কারের অর্থ পেয়ে ধীবর কী করেছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: পুরস্কারের অর্থ পেয়ে ধীবর তার অর্ধেক অংশ রক্ষীদের ফুলের বা মদের দাম হিসেবে উপহার দিয়েছিল।
19. ধীবরের উদারতা দেখে রাজশ্যালক কী বলেছিলেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: ধীবরের সততা ও উদারতায় মুগ্ধ হয়ে রাজশ্যালক বলেছিলেন যে আজ থেকে ধীবর তাঁর একজন পরম বন্ধু হলো।
20. “মারতে হয় মারুন, ছেড়ে দিতে হয় ছেড়ে দিন” – কথাটি কে, কাকে বলেছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: কথাটি আংটি পাওয়া ধীবর বা জেলে নগররক্ষায় নিযুক্ত রাজশ্যালক ও দুই রক্ষীকে উদ্দেশ্য করে বলেছিল।
21. আংটিটি কার হাত থেকে জলে পড়ে গিয়েছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: আংটিটি রাজা দুষ্মন্তের স্ত্রী শকুন্তলার হাত থেকে জলে পড়ে গিয়েছিল।
22. কোথায় স্নান করার সময় আংটিটি জলে পড়ে যায়?
উত্তর দেখো
উত্তর: শচী তীর্থে স্নান করার সময় অঞ্জলি দিতে গিয়ে শকুন্তলার হাত থেকে আংটিটি জলে পড়ে গিয়েছিল।
23. আংটিটি রাজা দুষ্মন্তের কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল কেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: আংটিটি ছিল শকুন্তলার সাথে রাজার প্রণয়ের চিহ্ন, যা দেখলে মহর্ষি দুর্বাসার অভিশাপ কেটে গিয়ে রাজার স্মৃতি ফিরে আসত।
24. রাজা দুষ্মন্ত কেন শকুন্তলাকে ভুলে গিয়েছিলেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: রগচটা মুনি মহর্ষি দুর্বাসার দেওয়া এক ভয়ংকর অভিশাপের কারণেই রাজা দুষ্মন্ত শকুন্তলাকে ভুলে গিয়েছিলেন।
25. ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে সমাজের কোন্ শ্রেণির মানুষের সততার জয় দেখানো হয়েছে?
উত্তর দেখো
উত্তর: এই নাট্যাংশে সমাজের নিচুতলার সৎ, কর্মঠ এবং খেটেখাওয়া সাধারণ মানুষের সততার জয় দেখানো হয়েছে।