নবম শ্রেণি: বাংলা, দাম – নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর মান 3
অধ্যায় 4: দাম
(সংক্ষিপ্ত / ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 3)
নিচের উক্তিগুলির প্রাসঙ্গিক ও বিস্তারিত উত্তর দাও:
1. “স্কুলে অঙ্কের মাস্টারমশাইকে আমরা যমের মতো ভয় করতুম।” – মাস্টারমশাইকে যমের মতো ভয় করার কারণ কী ছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ গল্পে কথক সুকুমার তাঁর ছেলেবেলার অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের কথা বলেছেন। এই মাস্টারমশাই ছিলেন অত্যন্ত কঠোর এবং কড়া ধাতের মানুষ। অঙ্ক না পারলে তিনি ছাত্রদের প্রচণ্ড বকাঝকা করতেন এবং প্রবল মারধর করতেন। তাঁর চড়ের জোর এত বেশি ছিল যে তা ছাত্রদের মাথায় রীতিমতো ঘুরপাক খাইয়ে দিত। তাঁর এই কঠোর শাসন এবং শারীরিক প্রহারের অসীম আতঙ্কের জন্যই সুকুমার এবং তাঁর বন্ধুরা মাস্টারমশাইকে যমের মতো ভয় পেত।
2. “পুরুষমানুষ হয়ে অঙ্ক পারিস নে!” – বক্তা কে? তাঁর এমন মন্তব্যের কারণ কী?
উত্তর দেখো
উত্তর: উদ্ধৃত উক্তিটির বক্তা হলেন সুকুমারের স্কুলের সেই বিভীষিকাময় অঙ্কের মাস্টারমশাই। মাস্টারমশাইয়ের মতে, মেয়েদের অঙ্ক না পারাটা একরকম ক্ষমা করা যায়, কারণ সে যুগে মেয়েদের অঙ্কের প্রতি ভীতি স্বাভাবিক বলে ধরা হতো। কিন্তু পুরুষমানুষ হয়ে অঙ্ক না পারাটাকে তিনি চরম লজ্জার বিষয় বলে মনে করতেন। পুরুষদের বুদ্ধিমত্তা এবং যুক্তিবাদী ক্ষমতার ওপর তাঁর অগাধ বিশ্বাস ছিল বলেই, কোনো ছেলে অঙ্ক না পারলে তিনি এই ব্যঙ্গাত্মক এবং কড়া মন্তব্যটি করতেন।
3. “প্লেটোর দোরগোড়ায় কী লেখা ছিল?” – বক্তা কে? তিনি কেন এই কথা বলতেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: উক্তিটির বক্তা হলেন গল্পের সেই অঙ্কের মাস্টারমশাই। প্রাচীন গ্রিসের বিখ্যাত দার্শনিক প্লেটোর শিক্ষায়তনের দোরগোড়ায় লেখা ছিল, ‘যে অঙ্ক জানে না, এখানে তার প্রবেশ নিষেধ’। মাস্টারমশাই ছাত্রদের বোঝাতে চাইতেন যে, জীবনে প্রতিষ্ঠা পেতে হলে এবং প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করতে হলে অঙ্কের জ্ঞান থাকা অপরিহার্য। অঙ্ক ছাড়া যে কোনো বিদ্যাই অসম্পূর্ণ, ছাত্রদের মনে এই ভয় এবং সম্মান জাগিয়ে তুলতেই তিনি প্লেটোর এই বিখ্যাত উক্তিটির কথা বারবার স্মরণ করিয়ে দিতেন।
4. “অঙ্কের হাত থেকে তো রেহাই পেলুম।” – কথক কীভাবে অঙ্কের হাত থেকে রেহাই পেয়েছিলেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: ছেলেবেলায় কথক সুকুমার অঙ্কে অত্যন্ত কাঁচা ছিলেন এবং মাস্টারমশাইয়ের ভয়ে সর্বদাই তটস্থ থাকতেন। কিন্তু স্কুল জীবন শেষ করে কলেজে ওঠার পর তিনি আর অঙ্ক বিষয়টি নিয়ে পড়েননি। তিনি নিজের পছন্দের বিষয় বাংলা নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন এবং পরবর্তীকালে একটি কলেজে বাংলার অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন। নিজের বিষয় পরিবর্তন করে বাংলার জগতে প্রবেশ করার মাধ্যমেই তিনি সেই বিভীষিকাময় অঙ্কের হাত থেকে চিরকালের মতো রেহাই পেয়েছিলেন।
5. “পত্রিকা কর্তৃপক্ষ খুশি হয়ে আমাকে দশটা টাকা দক্ষিণা দিয়েছিলেন।” – কোন্ লেখার জন্য কথককে এই দক্ষিণা দেওয়া হয়েছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: একটি পত্রিকা কর্তৃপক্ষ সুকুমারকে তাঁর ছেলেবেলার কোনো স্মৃতিকথা লেখার অনুরোধ করেছিল। সুকুমার সেই সুযোগে তাঁর ছেলেবেলার অঙ্কের মাস্টারমশাইকে নিয়ে একটি গল্প লেখেন। সেই গল্পে তিনি মাস্টারমশাইয়ের কঠোর শাসন, মারধর এবং তাঁর যমের মতো মূর্তিটিকে অত্যন্ত ব্যঙ্গ ও তীব্র সমালোচনার সাথে তুলে ধরেছিলেন। এই কড়া সমালোচনামূলক স্মৃতিকথাটি লিখেই তিনি পত্রিকা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে 10 টাকা দক্ষিণা বা পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন।
6. “আমি চমকে উঠলুম।” – কথকের চমকে ওঠার কারণ কী ছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: বাংলাদেশের একটি কলেজের অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিয়ে নেমে আসার পর সুকুমারের সাথে হঠাৎ এক বৃদ্ধ ভদ্রলোকের দেখা হয়। ওই বৃদ্ধ তাঁর কাছে এগিয়ে এসে সুকুমারের নাম ধরে ডাকেন এবং অত্যন্ত স্নেহভরে বলেন যে তিনি সুকুমারের বক্তৃতা শুনে খুব খুশি হয়েছেন। কণ্ঠস্বর এবং মুখের আদল দেখে সুকুমার বুঝতে পারেন যে ইনি আর কেউ নন, তাঁর ছেলেবেলার সেই বিভীষিকাময় অঙ্কের মাস্টারমশাই। বহু বছর পর সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিতভাবে ভিন দেশে মাস্টারমশাইকে দেখতে পেয়েই সুকুমার চমকে উঠেছিলেন।
7. “ওকে আমি চিনতে পারলুম।” – কথক কাকে চিনতে পেরেছিলেন? তাঁর শারীরিক অবস্থার বর্ণনা দাও。
উত্তর দেখো
উত্তর: কথক সুকুমার তাঁর ছেলেবেলার স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাইকে চিনতে পেরেছিলেন। বহু বছর পর দেখা হওয়া এই মাস্টারমশাইয়ের চেহারায় বয়সের গভীর ছাপ পড়েছিল। তাঁর চুল সম্পূর্ণ পেকে সাদা হয়ে গিয়েছিল, গাল ভেঙে গলার কলারের হাড় বেরিয়ে পড়েছিল। পরনে ছিল অত্যন্ত সাধারণ ও জীর্ণ ফতুয়া এবং একটি ময়লা ধুতি। ছেলেবেলার সেই কড়া ও ভয়ংকর চেহারার মানুষটি বয়সের ভারে এবং দারিদ্র্যে জীর্ণ এক বৃদ্ধে পরিণত হয়েছিলেন।
8. “কিন্তু আমার যে কী অবস্থা, তা আমিই জানি।” – কথকের এমন অবস্থার কারণ কী ছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: মাস্টারমশাই যখন নিজের পকেট থেকে সুকুমারের লেখা সেই পত্রিকাটা বের করলেন, তখন সুকুমারের অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়ে। কারণ, ওই পত্রিকায় সুকুমার মাস্টারমশাইয়ের কঠোরতার তীব্র সমালোচনা করেছিলেন এবং তাঁকে অত্যন্ত ব্যঙ্গ করেছিলেন। তিনি বুঝতে পারছিলেন যে মাস্টারমশাই ওই লেখাটি পড়েছেন। নিজের শিক্ষাগুরুকে নিয়ে এমন কড়া সমালোচনা করায় এখন মাস্টারমশাই তাঁর সম্পর্কে কী ভাবছেন বা তাঁকে কী শাস্তি দেবেন, সেই ভয় এবং তীব্র লজ্জাতেই সুকুমারের এমন দিশেহারা অবস্থা হয়েছিল।
9. “আমার ছাত্র আমাকে অমর করে দিয়েছে।” – বক্তা কে? কেন তিনি এমন কথা বলেছেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: উক্তিটির বক্তা হলেন সুকুমারের অঙ্কের মাস্টারমশাই। সুকুমার তাঁর লেখায় মাস্টারমশাইয়ের সমালোচনা করলেও, মাস্টারমশাই বিন্দুমাত্র রাগ করেননি। বরং তাঁর একসময়ের সাধারণ ছাত্র আজ বড়ো হয়ে একজন নামকরা অধ্যাপক হয়েছে এবং পত্রিকায় নিজের মাস্টারমশাইয়ের কথা স্মরণ করে গল্প লিখেছে— এটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড়ো গর্বের বিষয় ছিল। তিনি মনে করেছিলেন, ওই লেখার মাধ্যমেই ছাত্র তাঁকে চিরকালের জন্য মানুষের মাঝে বাঁচিয়ে রেখেছে বা অমর করে দিয়েছে। এই অগাধ স্নেহ ও গর্ববোধ থেকেই তিনি কথাটি বলেছিলেন।
10. “লজ্জায় দুঃখে আমার মাথা কাটা গেল।” – কথকের মাথা কাটা যাওয়ার কারণ কী ছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: কথক সুকুমার তাঁর লেখায় অঙ্কের মাস্টারমশাইকে অকারণে মারধর করা এক বিভীষিকাময় মানুষ হিসেবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন। কিন্তু মাস্টারমশাই সেই লেখা পড়ে রাগ করার বদলে পরম স্নেহে সুকুমারের মাথায় হাত রেখে তাঁকে আশীর্বাদ করেন। তিনি লেখাটি সযত্নে নিজের কাছে রেখে সবাইকে গর্বের সাথে দেখিয়ে বেড়াতেন। মাস্টারমশাইয়ের এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, ক্ষমা এবং তাঁর প্রতি এই অসীম স্নেহের কাছে নিজের সমালোচনাকে অত্যন্ত হীন বলে মনে হওয়ায় লজ্জায় ও অনুতাপে সুকুমারের মাথা কাটা গিয়েছিল।
11. “এ অপরাধ আমি কী করে স্খালন করব?” – কথক কোন্ অপরাধের কথা বলেছেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: কথক সুকুমার মাত্র 10 টাকা পারিশ্রমিকের লোভে একটি পত্রিকায় নিজের শিক্ষাগুরু অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের কঠোরতার তীব্র সমালোচনা করে গল্প লিখেছিলেন। তিনি বুঝতে পারেননি যে মাস্টারমশাইয়ের সেই কঠোর শাসনের পেছনে ছাত্রদের মানুষ করার অসীম স্নেহ লুকিয়ে ছিল। নিজের শিক্ষাগুরুকে না বুঝে টাকার বিনিময়ে জনসমক্ষে এভাবে অপমান ও ব্যঙ্গ করাকেই সুকুমার নিজের জীবনের এক চরম অপরাধ বলে মনে করেছেন, যা কোনোভাবেই মোচন বা স্খালন করা সম্ভব নয়।
12. “মাস্টারমশাইয়ের গলা ধরে এল।” – মাস্টারমশাইয়ের গলা ধরে আসার কারণ কী?
উত্তর দেখো
উত্তর: বহু বছর পর নিজের একসময়ের ছাত্র সুকুমারকে প্রতিষ্ঠিত অধ্যাপক এবং নামকরা বক্তা হিসেবে দেখতে পেয়ে মাস্টারমশাই অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন। সুকুমার তাঁকে নিয়ে পত্রিকায় গল্প লিখেছে, এই বিষয়টি তাঁকে এতটাই গর্বিত করেছিল যে তিনি আনন্দে আত্মহারা হয়ে যান। ছাত্রের প্রতি অগাধ স্নেহ এবং ছাত্রের এই সাফল্যের আনন্দে তাঁর চোখে জল এসে যায় এবং আবেগাক্রান্ত হয়েই তাঁর গলা ধরে এসেছিল বা কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল।
13. “আজকের দিনটি আমার বড়ো আনন্দের।” – মাস্টারমশাইয়ের আনন্দের কারণ কী ছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: মাস্টারমশাইয়ের সারাজীবনের লক্ষ্য ছিল ছাত্রদের উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা। বহু বছর পর তাঁর একসময়ের অঙ্কে কাঁচা ছাত্র সুকুমারকে তিনি বাংলাদেশের ওই কলেজে বাংলার অধ্যাপক ও সুবক্তা হিসেবে দেখতে পান। সুকুমারের অনর্গল বক্তৃতা শুনে এবং তাঁর লেখা গল্পটি পড়ে মাস্টারমশাই বুঝতে পারেন যে তাঁর শাসন বৃথা যায়নি। ছাত্রের এই চরম প্রতিষ্ঠা ও সাফল্য চোখের সামনে দেখতে পাওয়াটাই ছিল এক শিক্ষকের কাছে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড়ো আনন্দের বিষয়।
14. “অমন অকৃত্রিম স্নেহের দাম কি দশ টাকায় মেটানো যায়?” – উক্তিটির তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও।
উত্তর দেখো
উত্তর: উক্তিটির মধ্য দিয়ে সুকুমারের গভীর আত্মোপলব্ধি ফুটে উঠেছে। সুকুমার মাত্র 10 টাকার বিনিময়ে পত্রিকায় মাস্টারমশাইয়ের নামে কটূক্তি লিখেছিলেন। কিন্তু মাস্টারমশাই সেই লেখা পড়ে বিন্দুমাত্র রাগ না করে, বরং গর্ববোধ করেছেন এবং সুকুমারকে প্রাণভরে আশীর্বাদ করেছেন। সুকুমার বুঝতে পারেন যে মাস্টারমশাইয়ের এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, ক্ষমা এবং তাঁর প্রতি আশীর্বাদ একেবারেই অমূল্য। মাত্র 10 টাকার পারিশ্রমিকের সাথে এই অকৃত্রিম স্নেহের কোনোভাবেই তুলনা করা বা এর দাম মেটানো সম্ভব নয়।
15. “বক্তৃতা শুনে সবাই খুব হাততালি দিল।” – কোথায় এই হাততালি দেওয়া হয়েছিল এবং তারপর কী ঘটেছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: বাংলাদেশের একটি কলেজের বার্ষিক অনুষ্ঠানে সুকুমার অতিথি হিসেবে গিয়ে যখন চমৎকার ও অনর্গল বক্তৃতা দেন, তখন মুগ্ধ শ্রোতারা তাঁকে বিপুল হাততালি দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছিল।
বক্তৃতা শেষ করে মঞ্চ থেকে নেমে আসার পরই একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে। এক জীর্ণ পোশাক পরা বৃদ্ধ ভিড় ঠেলে এগিয়ে এসে সুকুমারের নাম ধরে ডাকেন এবং অত্যন্ত স্নেহভরে তাঁর পিঠ চাপড়ে দেন। সুকুমার বিস্ময়ের সাথে লক্ষ করেন যে ওই বৃদ্ধ আর কেউ নন, তাঁর ছেলেবেলার সেই বিভীষিকাময় অঙ্কের মাস্টারমশাই।
16. “আমি তখন আর ছোটো নেই, আমি বাংলার অধ্যাপক।” – সুকুমারের এই অহংকার কীভাবে চূর্ণ হয়েছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: সুকুমার ভেবেছিলেন তিনি এখন বাংলার অধ্যাপক এবং একজন নামকরা বক্তা, তাই তাঁকে আর ছোটোবেলার মতো অঙ্কের মাস্টারমশাইকে ভয় পেতে হবে না। কিন্তু মাস্টারমশাই যখন পকেট থেকে সুকুমারেরই লেখা সেই পত্রিকাটা বের করেন, তখন সুকুমারের সমস্ত অহংকার মাটিতে মিশে যায়। নিজের শিক্ষাগুরুকে নিয়ে লেখা ওই কড়া সমালোচনার কথা মনে পড়ায় তিনি লজ্জায় ও অনুতাপে এতই কুঁকড়ে যান যে, তাঁর মনে হয় তিনি আবার সেই মাস্টারমশাইয়ের সামনে ভয়ে কাঁপতে থাকা ছোট্ট ছাত্রটিতে পরিণত হয়েছেন।
17. “দীর্ঘজীবী হও, বাবা, যশস্বী হও।” – কে, কাকে, কখন এই আশীর্বাদ করেছিলেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: উক্তিটির বক্তা হলেন সুকুমারের অঙ্কের মাস্টারমশাই। তিনি তাঁর একসময়ের ছাত্র সুকুমারকে এই আশীর্বাদ করেছিলেন।
বাংলাদেশের কলেজে সুকুমারের অনর্গল বক্তৃতা শোনার পর এবং তাঁর লেখা সমালোচনামূলক গল্পটি পড়েও বিন্দুমাত্র রাগ না করে মাস্টারমশাই গর্ববোধ করেছিলেন। ছাত্রের এই প্রতিষ্ঠা দেখে আনন্দে এবং স্নেহে আপ্লুত হয়ে মাস্টারমশাই সুকুমারের মাথায় পরম মমতায় হাত রেখে এই অকৃত্রিম আশীর্বাদ করেছিলেন।
18. “এসব হলো স্নেহের দান, এর কি দাম দেওয়া যায়?” – ‘দাম’ গল্প অবলম্বনে উক্তিটির মর্মার্থ লেখো。
উত্তর দেখো
উত্তর: এই উক্তিটির মধ্য দিয়েই গল্পের নামকরণের মূল সার্থকতাটি ফুটে উঠেছে। সুকুমার 10 টাকার লোভে তাঁর শিক্ষাগুরুকে নিয়ে কড়া সমালোচনা লিখেছিলেন। কিন্তু শিক্ষাগুরু সেই লেখাটি পড়ে রাগ করার বদলে ছাত্রের জন্য গর্ববোধ করেন এবং তাঁকে মন থেকে আশীর্বাদ করেন। সুকুমার বুঝতে পারেন, মাস্টারমশাইয়ের শাসন, তাঁর ক্ষমা এবং তাঁর এই আশীর্বাদ আসলে পার্থিব অর্থের চেয়ে অনেক ঊর্ধ্বে। এই অকৃত্রিম স্নেহ হলো মহামূল্যবান, যা কোনো টাকা বা জাগতিক বস্তুর ‘দাম’ দিয়ে পরিমাপ করা যায় না।