নবম শ্রেণি: বাংলা, নব নব সৃষ্টি -সৈয়দ মুজতবা আলী ৩ নম্বরের প্রশ্নত্তোর
অধ্যায় 6: নব নব সৃষ্টি
(সংক্ষিপ্ত / ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 3)
নিচের উক্তিগুলির প্রাসঙ্গিক ও বিস্তারিত উত্তর দাও:
1. “সংস্কৃত ভাষা আত্মনির্ভরশীল।” – প্রাবন্ধিক কেন সংস্কৃত ভাষাকে আত্মনির্ভরশীল বলেছেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: প্রখ্যাত ভাষাবিদ সৈয়দ মুজতবা আলী তাঁর ‘নব নব সৃষ্টি’ প্রবন্ধে সংস্কৃত ভাষাকে সম্পূর্ণ আত্মনির্ভরশীল বলেছেন। কারণ, নতুন কোনো চিন্তা, অনুভূতি বা বস্তুকে বোঝানোর জন্য নতুন শব্দের প্রয়োজন হলে সংস্কৃত ভাষা কখনও অন্য কোনো ভাষার কাছে ঋণ গ্রহণ করে না বা হাত পাতে না। বরং সে নিজের শব্দভাণ্ডারে থাকা প্রাচীন নিজস্ব ধাতু বা শব্দাবয়বের সামান্য অদলবদল ঘটিয়ে প্রয়োজনীয় নতুন শব্দটি তৈরি করে নেয়। প্রাচীন যুগের হিব্রু বা গ্রিক ভাষার মতো সংস্কৃত ভাষার এই নিজস্ব অগাধ সম্পদ ও শব্দ সৃষ্টির স্বাধীন ক্ষমতাই তাকে আত্মনির্ভরশীল করে তুলেছে।
2. “বর্তমান যুগের ইংরেজি ও বাংলা আত্মনির্ভরশীল নয়।” – প্রাবন্ধিকের এমন মন্তব্যের কারণ কী?
উত্তর দেখো
উত্তর: সংস্কৃত ভাষার মতো নিজস্ব ধাতু বা শব্দভাণ্ডার থেকে নতুন শব্দ সৃষ্টির একক ক্ষমতা বাংলা বা ইংরেজি ভাষার নেই, তাই প্রাবন্ধিক এই ভাষাগুলিকে আত্মনির্ভরশীল বলেননি। প্রয়োজনের তাগিদে, নতুন জ্ঞানবিজ্ঞান বা সংস্কৃতির সংস্পর্শে এসে বাংলা এবং ইংরেজি ভাষা যুগে যুগে আরবি, ফারসি, পর্তুগিজ বা ফরাসি ভাষার মতো বিদেশি শব্দাবলি নিজের শব্দভাণ্ডারে অনায়াসে গ্রহণ করেছে। এই ব্যাপক শব্দ ধার করার ফলেই ভাষাগুলি মিশ্র প্রকৃতির ভাষায় পরিণত হয়েছে এবং অন্য ভাষার ওপর এই নির্ভরশীলতার কারণেই এদের আত্মনির্ভরশীল বলা যায় না।
3. “বিদেশি শব্দ নেওয়া ভালো না মন্দ সে প্রশ্ন অবান্তর।” – প্রাবন্ধিক এমন কথা বলেছেন কেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলীর মতে, ভাষার মূল উদ্দেশ্য হলো ভাবের সার্থক প্রকাশ এবং যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা। পৃথিবীতে ধর্ম, রাজনীতি বা সংস্কৃতির সংঘাত ও মিলনের ফলে এক ভাষার শব্দ অন্য ভাষায় প্রবেশ করবেই, এটি একটি স্বাভাবিক ঐতিহাসিক প্রক্রিয়া। বাংলা ভাষাতেও প্রয়োজনের তাগিদে প্রচুর আরবি, ফারসি ও ইংরেজি শব্দ প্রবেশ করেছে এবং সেগুলি ভাষার অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়ে ভাষাকে প্রাণবন্ত করেছে। তাই বিদেশি শব্দ গ্রহণ করা ভাষার পক্ষে ভালো না মন্দ, সেই অহেতুক বিচার-বিশ্লেষণ করাটা প্রাবন্ধিকের কাছে সম্পূর্ণ অর্থহীন বা অবান্তর বলে মনে হয়েছে।
4. “হিন্দি উপস্থিত সেই চেষ্টা করছে…” – কোন্ চেষ্টার কথা বলা হয়েছে? তাকে পণ্ডশ্রম বলা হয়েছে কেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: হিন্দি ভাষার রক্ষণশীল সাহিত্যিক ও পণ্ডিতেরা বর্তমানে হিন্দি ভাষা থেকে আরবি, ফারসি এবং অন্যান্য বিদেশি শব্দ বেছে বেছে তাড়িয়ে দেওয়ার যে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন, এখানে সেই চেষ্টার কথাই বলা হয়েছে। প্রাবন্ধিক এই প্রচেষ্টাকে ‘পণ্ডশ্রম’ বা সম্পূর্ণ বৃথা কাজ বলেছেন। কারণ, বহু যুগের মেলামেশায় বিদেশি শব্দগুলি ভাষার অস্থিমজ্জায় এমনভাবে মিশে যায় যে তাদের জোর করে আলাদা করা যায় না। তাছাড়া, যুগের প্রয়োজনে নতুন বিদেশি শব্দের আগমনও ঠেকানো সম্ভব নয়, তাই এমন শুদ্ধিকরণের চেষ্টা কেবল পণ্ডশ্রমই ডেকে আনে।
5. “বাঙালির চরিত্রে বিদ্রোহ বিদ্যমান।” – প্রাবন্ধিক কীভাবে এই মন্তব্যের যথার্থতা প্রমাণ করেছেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলী ইতিহাস ও সমাজ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বাঙালির চরিত্রে এই সহজাত বিদ্রোহের রূপটি আবিষ্কার করেছেন। বাঙালি চিরকালই গতানুগতিকতা এবং অন্ধ অনুকরণের বিরোধী। রাজনীতি, ধর্ম কিংবা সাহিত্য— জীবনের যে কোনো ক্ষেত্রেই বাঙালি যখনই সত্য ও সুন্দরের অভাব, অন্যায় বা জোর-জুলুম দেখেছে, তখনই তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে বাঙালি নিজের প্রাচীন ঐতিহ্যকেও ভাঙতে দ্বিধা করেনি। সত্যকে গ্রহণ করা এবং অন্যায়কে বর্জন করার এই স্বাধীন ও অদম্য মানসিকতাই বাঙালির চরিত্রকে বিদ্রোহী করে তুলেছে।
6. “ধর্ম বদলালেই জাতির মাতৃভাষা বদলায় না।” – উক্তিটির অন্তর্নিহিত তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও।
উত্তর দেখো
উত্তর: উদ্ধৃত মন্তব্যটির মাধ্যমে প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলী ভাষা ও সংস্কৃতির এক গভীর এবং অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের কথা বুঝিয়েছেন। ধর্ম মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাস বা উপাসনার মাধ্যম হতে পারে, কিন্তু মাতৃভাষা হলো একটি জাতির অস্তিত্ব, আবেগ ও আত্মপরিচয়ের মূল ভিত্তি। বাঙালি মুসলমান সমাজ ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেও তারা আরবি, ফারসি বা উর্দু ভাষাকে মাতৃভাষা হিসেবে মেনে নেয়নি। তারা বাংলার মাটি, বাংলার সাহিত্য এবং বাংলা ভাষাকেই পরম মমতায় আপন করে রেখেছে। এই ঐতিহাসিক সত্যটি প্রমাণ করেই প্রাবন্ধিক উক্তিটি করেছেন।
7. “আলাওল, ভারতচন্দ্র অহরহ আরবি-ফারসি শব্দ ব্যবহার করেছেন।” – কেন তাঁরা এমনটা করতেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: প্রাচীন যুগের বাঙালি কবি আলাওল এবং ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর তাঁদের কাব্যে অনায়াসে এবং অত্যন্ত সার্থকভাবে প্রচুর আরবি ও ফারসি শব্দ ব্যবহার করেছেন। এর প্রধান কারণ হলো, সে যুগে রাষ্ট্রীয় শাসন, আইন-আদালত এবং দৈনন্দিন জীবনের সর্বত্র আরবি-ফারসি ভাষার ব্যাপক প্রভাব ছিল। সমাজের সাধারণ মানুষের মুখের ভাষায় এই বিদেশি শব্দগুলি এমনভাবে মিশে গিয়েছিল যে, কাব্যের পাত্রপাত্রীর মুখে বাস্তবসম্মত ভাষা তুলে দিতে এবং যুগোপযোগী সাহিত্য রচনার প্রয়োজনেই এই কবিরা বিদেশি শব্দের এমন সাবলীল ও সফল প্রয়োগ ঘটিয়েছিলেন।
8. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম কীভাবে বিদেশি শব্দের সার্থক প্রয়োগ ঘটিয়েছেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম দুজনেই বাংলা সাহিত্যের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং তাঁরা কেউই বিদেশি শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো সংকীর্ণতা দেখাননি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর রচনায় অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে আরবি-ফারসি সহ নানা বিদেশি শব্দ প্রয়োগ করে ভাষাকে সাবলীল করেছেন। অন্যদিকে, কাজী নজরুল ইসলাম তো তাঁর কবিতায় আরবি ও ফারসি শব্দের এক বিপুল এবং বৈপ্লবিক ব্যবহার ঘটিয়ে বাংলা কবিতাকে এক নতুন ও তেজস্বী মাত্রা দিয়েছেন। তাঁদের এই সার্থক প্রয়োগই প্রমাণ করে যে বিদেশি শব্দ ভাষার সৌন্দর্য ও জোর বৃদ্ধি করে।
9. “বঙ্কিমচন্দ্র এ পন্থার পক্ষপাতী ছিলেন না।” – কোন্ পন্থা? তিনি কী করেছিলেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: উনিশ শতকের বাংলা গদ্য সাহিত্যে একদিকে যেমন বিদ্যাসাগরী কঠিন সংস্কৃতঘেঁষা রীতির প্রচলন ছিল, অন্যদিকে তেমনি হুতোম প্যাঁচার নকশার মতো অত্যন্ত লঘু বা ‘আলালী’ ভাষারও চল ছিল। সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই দুই চরম পন্থার কোনোটিরই পক্ষপাতী ছিলেন না। তিনি একটি মাঝামাঝি পথ বা সমন্বয়ের পথ বেছে নিয়েছিলেন। তাঁর রচনায় তিনি প্রয়োজনমতো সংস্কৃত শব্দের গাম্ভীর্যের সঙ্গে আরবি-ফারসি বা বিদেশি শব্দের নিপুণ মিশ্রণ ঘটিয়ে বাংলা গদ্যকে এক অপূর্ব সাবলীলতা এবং আভিজাত্য প্রদান করেছিলেন।
10. বিদেশি শব্দ ধার করার ক্ষেত্রে প্রাবন্ধিক ইংরেজি ভাষাকে সর্বশ্রেষ্ঠ বলেছেন কেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: বর্তমান যুগে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, দর্শন এবং আন্তর্জাতিক জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষার কোনো বিকল্প নেই। নিত্যনতুন আবিষ্কার এবং আধুনিক চিন্তাধারা প্রকাশের জন্য প্রতিনিয়ত নতুন শব্দের প্রয়োজন হয়। ইংরেজি ভাষা নিজের শব্দভাণ্ডারের গণ্ডিতে আবদ্ধ না থেকে, সারা পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষা থেকে অনায়াসে এবং অকৃপণভাবে নতুন শব্দ ধার করে চলেছে। বিদেশি শব্দ আত্মসাৎ করার এই অসাধারণ গ্রহণক্ষমতা এবং যুগোপযোগী প্রসারণশীলতার জন্যই লেখক বর্তমান যুগে শব্দ ধার করার ক্ষেত্রে ইংরেজিকে সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষা বলেছেন।
11. ‘নব নব সৃষ্টি’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কী আশা প্রকাশ করেছেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলী বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অত্যন্ত আশাবাদী। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে বাংলা একটি মিশ্র এবং প্রাণবন্ত ভাষা, যার বিদেশি শব্দ গ্রহণ করে নিজেকে সমৃদ্ধ করার অপরিসীম ক্ষমতা রয়েছে। যতদিন পৃথিবীতে বাঙালি জাতি এবং বাঙালির এই নিজস্ব বিদ্রোহী ও গ্রহণশীল মানসিকতা টিকে থাকবে, ততদিন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যও সগৌরবে বিরাজ করবে। নব নব সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলা ভাষা যুগে যুগে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে বলেই লেখকের স্থির বিশ্বাস।
12. “বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্য সৃষ্টি পদাবলী কীর্তন।” – কেন প্রাবন্ধিক এমন কথা বলেছেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলীর মতে, বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ এবং খাঁটি সাহিত্য সৃষ্টি হলো ‘পদাবলী কীর্তন’। এর কারণ হলো, পদাবলী কীর্তনের পদকর্তারা বাঙালির আত্মপরিচয় এবং প্রাণের ভাষাকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তুলে ধরেছিলেন। তাঁরা কোনো বিদেশি ভাষার অন্ধ অনুকরণ না করে, অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে এবং অনায়াসে বলতে পেরেছিলেন— “আমি বাংলায় কথা কই”। বাঙালির নিজস্ব প্রেম, ভক্তি, বিরহ এবং অন্তরের গভীরতম আবেগ বাংলা ভাষার মাধ্যমেই পদাবলী সাহিত্যে সবচেয়ে নিখুঁত ও সুন্দরভাবে মূর্ত হয়ে উঠেছে।
13. পাঠান-মোগল এবং ব্রিটিশ যুগের প্রভাবে বাংলা ভাষায় কী পরিবর্তন এসেছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: পাঠান এবং মোগল যুগে ভারতের রাষ্ট্রীয় শাসন, আইন-আদালত এবং খাজনা-খারিজের প্রধান ভাষা ছিল ফারসি। ফলে দীর্ঘকাল ধরে প্রশাসনিক কাজকর্মের তাগিদে প্রচুর ফারসি এবং আরবি শব্দ স্বাভাবিকভাবেই বাংলা ভাষায় প্রবেশ করে। পরবর্তীকালে ব্রিটিশ শাসনে ইংরেজি ভাষা রাজকার্যের এবং শিক্ষার প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে। তখন নতুন জ্ঞানবিজ্ঞান ও আধুনিক সভ্যতার হাত ধরে বিপুল পরিমাণ ইংরেজি শব্দ বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডারে যুক্ত হয়, যা ভাষাকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও মিশ্র রূপ প্রদান করে।
15. বিদেশি শব্দের অনুপ্রবেশ বাংলা ভাষাকে কীভাবে সমৃদ্ধ করেছে বলে প্রাবন্ধিক মনে করেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: সৈয়দ মুজতবা আলীর মতে, ভাষা কোনো বদ্ধ জলাশয় নয়, তা প্রবহমান নদীর মতো। যুগের প্রয়োজনে, ভিন্ন সংস্কৃতির সংস্পর্শে এলে ভাষায় নতুন বিদেশি শব্দের আগমন ঘটবেই। বাংলা ভাষা তার মিশ্র প্রকৃতির কারণে অনায়াসে আরবি, ফারসি, ইংরেজি শব্দ গ্রহণ করেছে। এই গ্রহণক্ষমতা ভাষার কোনো দুর্বলতা নয়, বরং এটি ভাষাকে আরও শক্তিশালী, প্রাণবন্ত এবং প্রকাশের দিক থেকে উন্নত করে তোলে। বিদেশি শব্দ গ্রহণ করার এই ‘নব নব সৃষ্টি’র মাধ্যমেই বাংলা ভাষা চিরঞ্জীব ও সমৃদ্ধ হয়েছে।
15. “অর্জুন… বলেছিলেন, ‘আমি বাংলায় কথা কই'” – এই মন্তব্যের মাধ্যমে লেখক কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: এখানে ‘অর্জুন’ বলতে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে নয়, বরং বাঙালির নিজস্ব জাতিসত্তা এবং মাতৃভাষার প্রতি গভীর অনুরাগকে বোঝানো হয়েছে। প্রাবন্ধিক বোঝাতে চেয়েছেন যে, ধর্মের পরিবর্তন বা বিদেশি সংস্কৃতির প্রবল আগ্রাসন সত্ত্বেও বাঙালি জাতি নিজের শিকড়কে কখনো ভুলে যায়নি। তারা আরবি বা ফারসিকে নয়, বাংলাকেই নিজেদের প্রাণের ভাষা হিসেবে বেছে নিয়েছে। মাতৃভাষার প্রতি এই অকৃত্রিম অহংকার এবং আত্মমর্যাদাবোধকেই লেখক অত্যন্ত গর্বের সাথে তুলে ধরেছেন।