নবম শ্রেণি: বাংলা, ভাঙার গান – কাজী নজরুল ইসলাম, ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর মান 3
অধ্যায় 9: ভাঙার গান
(সংক্ষিপ্ত / ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 3)
নিচের উক্তিগুলির প্রাসঙ্গিক ও বিস্তারিত উত্তর দাও:
1. “কারার ঐ লৌহকপাট, / ভেঙে ফেল কর রে লোপাট” – ‘লৌহকপাট’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? তাকে লোপাট করতে বলা হয়েছে কেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: ‘লৌহকপাট’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ লোহার দরজা। কিন্তু কাজী নজরুল ইসলামের ‘ভাঙার গান’ কবিতায় এটি পরাধীন ভারতের ব্রিটিশ শক্তির লৌহকঠিন কারাগার এবং অন্যায় শাসনের নিষ্ঠুরতার প্রতীক।
পরাধীন দেশে স্বাধীনতাকামী বীর তরুণদের বন্দি করে রাখার জন্য ইংরেজরা এই কারাগার বানিয়েছিল। কবি দেশের নবীন সমাজকে আহ্বান জানিয়েছেন এই পরাধীনতার শৃঙ্খলকে ভেঙে টুকরো টুকরো বা ‘লোপাট’ করে দিতে, কারণ অন্যায়ের এই প্রাচীর ধ্বংস না করলে দেশের স্বাধীনতা কখনোই আসবে না।
2. “রক্ত-জমাট / শিকল-পূজার পাষাণ-বেদী।” – ‘রক্ত-জমাট’ ও ‘পাষাণ-বেদী’ কথা দুটির তাৎপর্য কী?
উত্তর দেখো
উত্তর: ‘রক্ত-জমাট’ শব্দটি দিয়ে কবি ব্রিটিশ কারাগারে বন্দি বিপ্লবীদের ওপর হওয়া অবর্ণনীয় এবং পাশবিক অত্যাচারের কথা বুঝিয়েছেন, যেখানে বন্দিদের রক্ত ঝরে জমাট বেঁধে আছে।
অন্যদিকে, ‘পাষাণ-বেদী’ হলো পাথর দিয়ে তৈরি বেদী। পরাধীন ভারতে ভীরু ও কাপুরুষ দেশবাসীরা যেন দাসত্বের শিকলকেই পুজো করতে শুরু করেছিল। ব্রিটিশ শক্তির সেই পাষাণ বা পাথর-কঠিন নিষ্ঠুর শাসনব্যবস্থা এবং দাসত্বের প্রতি মানুষের সেই অন্ধ আনুগত্যকেই কবি ‘শিকল-পূজার পাষাণ-বেদী’ বলে ধিক্কার জানিয়েছেন।
3. “ওরে ও তরুণ ঈশান! / বাজা তোর প্রলয়-বিষাণ!” – ‘তরুণ ঈশান’ কে? তাকে প্রলয়-বিষাণ বাজাতে বলা হয়েছে কেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী ‘ঈশান’ হলেন দেবাদিদেব মহাদেব বা শিব। এখানে ‘তরুণ ঈশান’ বলতে দেশের সেইসব বিপ্লবী ও তেজি তরুণদের বোঝানো হয়েছে, যাঁদের মধ্যে শিবের মতো প্রলয়ঙ্করী শক্তি লুকিয়ে আছে।
মহাদেব যেমন তাঁর বিষাণ (শিঙা) বাজিয়ে পৃথিবীতে প্রলয় ডেকে এনে জীর্ণতাকে ধ্বংস করেন, কবিও দেশের তরুণ সমাজকে সেই শিবের মতো প্রলয়-বিষাণ বাজিয়ে রুদ্রমূর্তিতে জাগতে বলেছেন। ব্রিটিশদের অন্যায় শাসনকে ধ্বংস করে নতুন ভারত গড়ার জন্যই এই আহ্বান।
4. “ধ্বংস-নিশান / উড়ুক প্রাচীর-প্রাচীর ভেদি।” – ধ্বংস-নিশান বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন? তা কেন ওড়াতে বলা হয়েছে?
উত্তর দেখো
উত্তর: ‘ধ্বংস-নিশান’ বলতে কবি অত্যাচারী শাসকগোষ্ঠীর পতন এবং পুরোনো, জীর্ণ, পরাধীন সমাজব্যবস্থাকে ধ্বংস করার প্রতীকী পতাকাকে বুঝিয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে ব্রিটিশ শাসকেরা ভারতের বুকে পরাধীনতা ও অন্যায়ের যে দুর্ভেদ্য প্রাচীর বা কারাগার তৈরি করেছিল, তাকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। কারণ পুরোনো ও অন্যায়কে ধ্বংস না করলে নতুন এবং স্বাধীন ভারতবর্ষের জন্ম হতে পারে না। তাই সেই অন্যায়ের প্রাচীর ভেদ করে বিপ্লবের ধ্বংস-নিশান ওড়ানোর ডাক দেওয়া হয়েছে।
5. “গাজনের বাজনা বাজা! / কে মালিক? কে সে রাজা?” – গাজনের বাজনা কীসের প্রতীক? উক্তিটির মধ্য দিয়ে কবির কোন্ মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে?
উত্তর দেখো
উত্তর: গাজন হলো চৈত্র মাসে অনুষ্ঠিত শিবের এক বিশেষ উৎসব, যা মূলত পুরোনো বছরের জীর্ণতাকে বিদায় জানিয়ে নতুনকে আবাহনের প্রতীক। এখানে ‘গাজনের বাজনা’ হলো পরাধীনতার শিকল ভেঙে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনার প্রবল বিদ্রোহের প্রতীক।
উক্তিটির মধ্য দিয়ে কবির তীব্র দেশপ্রেম, নির্ভীকতা এবং ব্রিটিশ শাসকের প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রকাশ পেয়েছে। ইংরেজরা এদেশের মালিক বা রাজা নয়, তারা বহিরাগত। তাই তাদের অন্যায় শাসনকে কবি তোয়াক্কা করেন না এবং তরুণ সমাজকেও সেই ভয়হীন বিদ্রোহের মন্ত্রে দীক্ষিত করতে চেয়েছেন।
6. “কে দেয় সাজা / মুক্ত স্বাধীন সত্যেরে?” – মুক্ত স্বাধীন সত্য বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন? তাকে কে সাজা দিতে চায় এবং কেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: ‘মুক্ত স্বাধীন সত্য’ বলতে কবি পরাধীন ভারতের মুক্তিকামী বিপ্লবীদের জন্মগত অধিকার এবং স্বাধীনতার ন্যায্য দাবিকে বুঝিয়েছেন। সত্য চিরকালই মুক্ত এবং অপরাজেয়।
ব্রিটিশ শাসকেরা, যারা অন্যায়ভাবে ভারতের ক্ষমতা দখল করেছিল, তারাই এই ‘সত্য’কে সাজা দিতে চায়। কারণ ভারতবাসীরা জেগে উঠলে এবং স্বাধীনতার সত্যকে আঁকড়ে ধরলে ইংরেজদের শোষণ ও শাসন বন্ধ হয়ে যাবে। তাই ভয় দেখিয়ে এবং কারারুদ্ধ করে তারা স্বাধীনতার সেই সত্য কণ্ঠকে রোধ করতে চেয়েছিল।
7. “হা হা হা পায় যে হাসি, / ভগবান পরবে ফাঁসি?” – কবির হাসির কারণ কী? ‘ভগবান পরবে ফাঁসি’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর দেখো
উত্তর: ইংরেজ শাসকেরা অত্যাচার এবং ফাঁসির ভয় দেখিয়ে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের দমিয়ে রাখতে চেয়েছিল। অত্যাচারীর এই বৃথা আস্ফালন এবং বোকামি দেখেই কবির ‘হা হা’ করে হাসি পেয়েছে।
কবি মনে করেন, ভারতবাসীর অন্তরে স্বাধীনতার যে প্রবল স্পৃহা এবং সত্যের প্রতি যে নিষ্ঠা রয়েছে, তা স্বয়ং ভগবানেরই রূপ। ভগবানকে যেমন কোনো পার্থিব ফাঁসির দড়িতে আটকে বা মেরে ফেলা যায় না, তেমনি অন্যায় শাস্তি দিয়ে বা ফাঁসি দিয়ে দেশের মুক্তি-আকাঙ্ক্ষাকেও কখনো নিশ্চিহ্ন করা সম্ভব নয়।
8. “ওরে ও পাগলা ভোলা! / দে রে দে প্রলয়-দোলা!” – ‘পাগলা ভোলা’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? তাঁর কাছে প্রলয়-দোলা চাওয়া হয়েছে কেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: ‘পাগলা ভোলা’ বলতে হিন্দু পৌরাণিক দেবতা দেবাদিদেব মহাদেব শিবকে বোঝানো হয়েছে। তিনি যেমন সৃষ্টিকর্তা, তেমনি প্রয়োজনে তিনি প্রলয়ঙ্করী নটরাজ মূর্তিতে ধ্বংসও ডেকে আনেন।
পরাধীনতার অন্ধকার থেকে দেশকে মুক্ত করতে গেলে ইংরেজদের তৈরি ওই ‘ভীম কারার’ বা ভয়ংকর কারাগারের মূল ভিত নাড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। সাধারণ শান্ত উপায়ে তা সম্ভব নয়, তাই কবি শিবের মতো পাগলাটে এবং অপ্রতিরোধ্য ধ্বংসাত্মক শক্তির কাছে ‘প্রলয়-দোলা’ বা প্রলয়ের ভূমিকম্প প্রার্থনা করেছেন, যাতে পরাধীনতার প্রাচীর সমূলে ধ্বংস হয়।
9. “শিকল পরার ছল ক’রে তুই শিকল প’রেই শিকল তোদের করবি বিকল” – উক্তিটির অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝিয়ে দাও।
উত্তর দেখো
উত্তর: এই পংক্তিটির মধ্যে দিয়ে কবি পরাধীন ভারতের তরুণ বিপ্লবীদের অসীম মানসিক জোর এবং কৌশলকে তুলে ধরেছেন। ব্রিটিশরা বিপ্লবীদের হাতে-পায়ে লোহার শিকল পরিয়ে তাদের দমিয়ে রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু মৃত্যুঞ্জয়ী বিপ্লবীরা সেই শিকলকে ভয় পায়নি, বরং তারা হাসিমুখে সেই শিকল বরণ করে নিয়েছে। তাদের এই হাসিমুখে শাস্তি মেনে নেওয়াটা আসলে অত্যাচারীকে উপহাস করারই একটি ‘ছল’। তাদের এই ভয়হীনতা এবং আত্মবলিদানের মাধ্যমেই ব্রিটিশদের তৈরি পরাধীনতার শিকল একদিন চিরতরে ‘বিকল’ বা পরাস্ত হবে বলে কবি দৃঢ় বিশ্বাস করেন।
10. “ওদের কি ভাই মৃত্যু-ক্ষুধা” – ‘ওদের’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে? তাদের মৃত্যু-ক্ষুধা বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর দেখো
উত্তর: ‘ভাঙার গান’ কবিতায় ‘ওদের’ বলতে ভারতের বুকে রাজত্ব করা বিদেশি অত্যাচারী ইংরেজ শাসকদের বোঝানো হয়েছে।
ইংরেজ শাসকেরা ভেবেছিল জেল, ফাঁসি এবং অকথ্য অত্যাচারের ভয় দেখিয়ে তারা ভারতীয়দের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে চিরতরে নিভিয়ে দেবে। কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি যে, এই অত্যাচার উলটে ভারতবাসীদের আরও বেশি বিদ্রোহী করে তুলবে। অত্যাচার করতে গিয়ে তারা নিজেরাই নিজেদের পতন বা মৃত্যুকে ডেকে আনছে। ইংরেজদের এই ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাওয়ার অন্ধ উন্মাদনাকেই কবি ‘মৃত্যু-ক্ষুধা’ বলে উল্লেখ করেছেন।
11. “ডাক ওরে ডাক / মৃত্যুরে ডাক জীবন-পানে!” – মৃত্যুকে জীবন-পানে ডাকার অর্থ কী?
উত্তর দেখো
উত্তর: সাধারণ মানুষ মৃত্যুকে ভয় পায় এবং তা থেকে পালিয়ে বাঁচতে চায়। কিন্তু দেশের স্বাধীনতার জন্য যারা সংগ্রাম করে, তাদের কাছে মৃত্যু কোনো ভয়ের বিষয় নয়। পরাধীনতার গ্লানি নিয়ে কাপুরুষের মতো বেঁচে থাকার চেয়ে বীরের মতো মৃত্যুবরণ করা অনেক বেশি সম্মানের। তাই কবি তরুণ সমাজকে বলেছেন মৃত্যুকে ভয় না পেয়ে তাকে বীরদর্পে বরণ করে নিতে। আত্মবলিদানের এই চরম সাহস দেখাতে পারলেই দেশ পরাধীনতার মৃত্যু থেকে জেগে উঠে নতুন জীবনের সন্ধান পাবে। এই জন্যই মৃত্যুকে জীবন-পানে ডাকতে বলা হয়েছে।
12. “নাচে ওই কাল-বোশাখী, / কাটাবি কাল বসে কি?” – ‘কাল-বোশাখী’ কীসের প্রতীক? কবি কেন বসে কাল কাটাতে নিষেধ করেছেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: ‘কাল-বোশাখী’ হলো চৈত্র-বৈশাখ মাসে বয়ে যাওয়া প্রলয়ঙ্করী ঝড়ের প্রতীক, যা প্রকৃতির সমস্ত জীর্ণতা এবং ধুলোবালি উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে নতুন সৃষ্টির পথ পরিষ্কার করে। এখানে এটি দেশের যুবসমাজের মধ্যে জেগে ওঠা বিপ্লবী চেতনার প্রতীক।
দেশের মুক্তির জন্য যখন বিপ্লবীরা কালবৈশাখীর মতো প্রবল শক্তিতে জেগে উঠেছে, তখন সাধারণ মানুষের পক্ষে অলসভাবে বা ভয়ে ঘরে বসে সময় (‘কাল’) কাটানো চরম লজ্জার। বিপ্লবের এই মাহেন্দ্রক্ষণে সকলকে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানাতেই কবি বসে কাল কাটাতে নিষেধ করেছেন।
13. “মার হাঁক হায়দারী হাঁক” – ‘হায়দারী হাঁক’ কী? কবি কেন এই হাঁক দিতে বলেছেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: ‘হায়দার’ হলো ইসলামের অন্যতম শৌর্যবীর্যের প্রতীক হজরত আলীর অপর নাম। যুদ্ধক্ষেত্রে তাঁর বজ্রগম্ভীর এবং বীরত্বপূর্ণ রণহুংকারকেই ‘হায়দারী হাঁক’ বলা হয়, যা শুনলে শত্রুপক্ষ ভয়ে কেঁপে উঠত।
ব্রিটিশ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য দেশের তরুণ সমাজের বুকে সেই রকম অসীম সাহস এবং রণহুংকার প্রয়োজন। অত্যাচারী শাসকদের মনে ভয় ধরিয়ে দিতে এবং ঘুমন্ত দেশবাসীকে জাগিয়ে তুলে যুদ্ধের রণবাদ্য বাজানোর উদ্দেশ্যেই কবি বিপ্লবীদের এই বজ্রগম্ভীর ‘হায়দারী হাঁক’ দিতে বলেছেন।
14. “যত সব বন্দী-শালায়— / আগুন জ্বালা, আগুন জ্বালা, ফেল উপাড়ি।” – বন্দীশালায় আগুন জ্বালিয়ে উপড়ে ফেলতে বলা হয়েছে কেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: ‘বন্দী-শালা’ বা কারাগার হলো পরাধীন দেশের মানুষের ওপর হওয়া ব্রিটিশ শক্তির অন্যায়, অবিচার এবং শোষণের সবচেয়ে বড় প্রতীক। এই কারাগারগুলি দেশপ্রেমিকদের কণ্ঠ রোধ করার জন্যই তৈরি করা হয়েছিল।
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম অন্যায়ের সাথে কোনো আপস করতে রাজি ছিলেন না। তাঁর মতে, শুধু পরাধীনতার শিকল ভাঙলেই হবে না, দাসত্বের সমস্ত চিহ্ন এবং অত্যাচারীর তৈরি প্রতিটি কারাগারকে আগুনে পুড়িয়ে সমূলে উপড়ে ফেলতে হবে, যাতে পরাধীনতার কোনো চিহ্নই দেশের বুকে আর বেঁচে না থাকে।
15. ‘ভাঙার গান’ কবিতায় কবির বিদ্রোহী সত্তা কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে তা সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর দেখো
উত্তর: ‘ভাঙার গান’ কবিতায় কাজী নজরুল ইসলামের স্বভাবসিদ্ধ নির্ভীক ও আপসহীন বিদ্রোহী সত্তা চরমভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তিনি ব্রিটিশ শক্তির ‘লৌহকপাট’ ভাঙার জন্য তরুণ সমাজকে প্রলয়-বিষাণ বাজাতে বলেছেন। তাঁর কলমে কোনো ভীরুতা বা করুণার স্থান নেই; তিনি সরাসরি কারাগার ভেঙে লোপাট করতে, তালাতে লাথি মারতে এবং বন্দিশালায় আগুন জ্বালিয়ে তা উপড়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। মৃত্যুকে জয় করে, শেকলকে বিকল করার এই অকুতোভয় রণহুংকারের মধ্য দিয়েই কবির শাশ্বত বিদ্রোহী রূপটি উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।