নবম শ্রেণি: বাংলা, আমরা – সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর মান 3
অধ্যায় 11: আমরা
(সংক্ষিপ্ত / ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 3)
নিচের উক্তিগুলির প্রাসঙ্গিক ও বিস্তারিত উত্তর দাও:
1. “মুক্তবেণীর গঙ্গা যেথায় মুক্তি বিতরে রঙ্গে” – ‘মুক্তবেণী’ শব্দের অর্থ কী? গঙ্গা কীভাবে মুক্তি বিতরণ করে? (1+2=3)
উত্তর দেখো
উত্তর: ‘মুক্তবেণী’ শব্দের অর্থ হলো খোলা বিনুনি। এখানে গঙ্গা নদী যমুনা ও সরস্বতীর থেকে আলাদা হয়ে বাংলার বুকে একাকী প্রবাহিত হয়েছে বলে তাকে মুক্তবেণী বলা হয়েছে।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী গঙ্গা অত্যন্ত পবিত্র নদী। গঙ্গার পুণ্য সলিলে স্নান করলে মানুষের সমস্ত পাপ ধুয়ে যায় এবং মানুষ জাগতিক মোহ থেকে মুক্তি বা মোক্ষ লাভ করে। বাংলার বুক চিরে বয়ে চলা সেই গঙ্গা নদীই যেন আনন্দের সঙ্গে (‘রঙ্গে’) বঙ্গবাসীকে এই পরম মুক্তি বিতরণ করে চলেছে।
2. “বাঘের সঙ্গে যুদ্ধ করিয়া আমরা বাঁচিয়া আছি।” – উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। (3)
উত্তর দেখো
উত্তর: প্রাচীনকাল থেকেই বাংলার ভৌগোলিক পরিবেশ এবং প্রকৃতি ছিল অত্যন্ত রুক্ষ ও দুর্গম। নদীমাতৃক এই দেশের গভীর অরণ্যে এবং সুন্দরবনের মতো অঞ্চলে হিংস্র বাঘের আনাগোনা ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। বাংলার সাধারণ মানুষকে বন থেকে কাঠ, মধু সংগ্রহ করে বা চাষবাস করে জীবিকা নির্বাহ করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত বাঘের মতো হিংস্র পশুর সঙ্গে লড়াই করতে হতো। এই উক্তির মধ্য দিয়ে কবি বাঙালি জাতির অসীম সাহস, জীবনসংগ্রাম এবং প্রতিকূল পরিবেশকে জয় করে টিকে থাকার সেই গৌরবময় ইতিহাসকেই তুলে ধরেছেন।
3. “আমরা হেলায় নাগেরে খেলাই, নাগেরি মাথায় নাচি।” – এ কথার মধ্য দিয়ে বাঙালির কোন্ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটেছে? (3)
উত্তর দেখো
উত্তর: এই কথার মধ্য দিয়ে বাঙালির অসীম সাহসিকতা, নির্ভীকতা এবং চরম বিপদের মুখে দাঁড়িয়েও অবিচলিত থাকার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটেছে। ‘নাগ’ হলো বিষধর সাপ, যা মৃত্যুর প্রতীক। কিন্তু বাংলার মানুষ সেই ভয়ংকর মৃত্যুকে ভয় না পেয়ে অবলীলায় বা ‘হেলায়’ তাকে পোষ মানিয়ে খেলা দেখায়। শুধু তাই নয়, চাঁদ সওদাগরের গল্পে যেমন দেখতে পাই, বাঙালি দেবী মনসার মতো অশুভ শক্তির বিরুদ্ধেও রুখে দাঁড়াতে পিছপা হয়নি। মৃত্যুর বুকে দাঁড়িয়ে এই নির্ভীক জীবনযাপন বাঙালির এক অনন্য ঐতিহ্য।
4. “এক হাতে মোরা মোগল দমিয়া, আর হাতে দমি মগ” – মোগল ও মগ দমনের ঐতিহাসিক প্রসঙ্গটি সংক্ষেপে লেখো। (1+2=3)
উত্তর দেখো
উত্তর: এই পঙ্ক্তিতে বাংলার স্বাধীন শাসক এবং বারো ভুঁইয়াদের বীরত্বের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।
সপ্তদশ শতাব্দীতে যখন পরাক্রমশালী মোগল সম্রাট আকবর এবং জাহাঙ্গীরের সেনাপতিরা বাংলা দখল করতে আসে, তখন বাংলার প্রতাপাদিত্য, কেদার রায়ের মতো বারো ভুঁইয়ারা প্রবল সাহসে তাদের আক্রমণ প্রতিহত করেন। আবার ঠিক একই সময়ে সমুদ্রপথে আরাকান থেকে আসা দুর্ধর্ষ ‘মগ’ বা জলদস্যুদেরও বাঙালি বীরেরা দমন করেন। একইসঙ্গে দুটি শক্তিশালী শত্রুকে প্রতিহত করার এই ঘটনা বাঙালির বীরত্বের শ্রেষ্ঠ প্রমাণ।
5. “চাঁদ-প্রতাপের আদেশে হঠিতে হয়েছে দিল্লি-নাথে।” – ‘চাঁদ-প্রতাপ’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে? দিল্লি-নাথের পিছিয়ে যাওয়ার কারণ কী? (1+2=3)
উত্তর দেখো
উত্তর: ‘চাঁদ-প্রতাপ’ বলতে বাংলার বারো ভুঁইয়াদের অন্যতম দুই শ্রেষ্ঠ বীর শ্রীপুরের চাঁদ রায় এবং যশোরের প্রতাপাদিত্যকে বোঝানো হয়েছে।
দিল্লির সম্রাট বা ‘দিল্লি-নাথ’ মোগল বাহিনী প্রেরণ করেছিলেন বাংলা দখল করার জন্য। কিন্তু চাঁদ রায় এবং প্রতাপাদিত্য মাতৃভূমির স্বাধীনতা রক্ষার জন্য মোগলদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তাঁদের প্রবল শৌর্য-বীর্য এবং যুদ্ধকৌশলের কাছে পরাস্ত হয়ে দিল্লির বিশাল মোগল বাহিনীকে সেসময় পিছু হটতে বা হঠতে হয়েছিল।
6. “জ্ঞানের নিধান আদি-বিদ্বান কপিল সাংখ্যকার” – কপিল মুনিকে ‘আদি-বিদ্বান’ বলা হয়েছে কেন? (3)
উত্তর দেখো
উত্তর: মহর্ষি কপিল ছিলেন প্রাচীন ভারতের একজন অত্যন্ত জ্ঞানী এবং প্রখ্যাত মুনি। তিনি ভারতীয় ষড়দর্শনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ‘সাংখ্য দর্শন’ রচনা করেছিলেন। তাঁর জন্মস্থান নিয়ে পণ্ডিতদের মতভেদ থাকলেও, তিনি যে বাংলার মাটিতেই সাধনা করেছিলেন এবং তিনি যে বাঙালি ছিলেন, সে বিষয়ে অনেকেই একমত। সাংখ্য দর্শনে তিনি সৃষ্টিতত্ত্ব সম্পর্কে যে গভীর এবং বিজ্ঞানসম্মত জ্ঞানের পরিচয় দিয়েছিলেন, তা সে যুগে ছিল অভাবনীয়। তাঁর এই অতুলনীয় পাণ্ডিত্য এবং প্রজ্ঞার কারণেই কবি তাঁকে জ্ঞানের আধার বা ‘আদি-বিদ্বান’ বলে উল্লেখ করেছেন।
7. “বাঙালি অতীশ লঙ্ঘিল গিরি তুষারে-ভয়ংকর,” – অতীশ কে ছিলেন? তাঁর এই দুর্গম যাত্রার উদ্দেশ্য কী ছিল? (1+2=3)
উত্তর দেখো
উত্তর: অতীশ ছিলেন প্রাচীন বিক্রমপুর (বর্তমানে বাংলাদেশে)-এ জন্মগ্রহণকারী বাঙালি পণ্ডিত এবং বৌদ্ধ ধর্মগুরু অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান। তিনি ছিলেন বিক্রমশীলা বিহারের অধ্যক্ষ।
একাদশ শতাব্দীতে তিব্বতের রাজা জ্ঞানপ্রভের আমন্ত্রণে বৌদ্ধ ধর্মের সংস্কার এবং প্রকৃত জ্ঞান প্রচারের উদ্দেশ্যে তিনি তিব্বত যাত্রা করেছিলেন। বয়স এবং অসুস্থতা সত্ত্বেও কেবল জ্ঞানের প্রদীপ জ্বালানোর মহান উদ্দেশ্যে তিনি হিমালয়ের ভয়ংকর তুষারাবৃত দুর্গম গিরিপথ অতিক্রম করে তিব্বতে গিয়েছিলেন।
8. “বাঙালির হিয়া অমিয় মথিয়া নিমাই ধরেছে কায়া।” – পঙ্ক্তিটির অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝিয়ে দাও। (3)
উত্তর দেখো
উত্তর: নিমাই অর্থাৎ শ্রীচৈতন্যদেব ছিলেন বাংলার ভক্তি ও প্রেমধর্মের এক মহান প্রবর্তক। বাঙালির হৃদয়ে (‘হিয়া’) প্রেম, ভক্তি, করুণা এবং মানবতার যে অমৃত (‘অমিয়’) লুকিয়ে ছিল, শ্রীচৈতন্যদেব যেন তারই এক মূর্ত প্রতীক। তিনি জাতি-ভেদ, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমাজের সমস্ত মানুষকে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করেছিলেন। বাঙালির অন্তরের সেই গভীর প্রেম আর ভক্তিই যেন মন্থিত হয়ে নিমাই বা শ্রীচৈতন্যের শরীর (‘কায়া’) ধারণ করে বাংলার মাটিতে অবতীর্ণ হয়েছিল, কবি এখানে সেই কথাই বুঝিয়েছেন।
9. “বাঙালি ধীমান, বিটপাল আজো…” – ধীমান ও বিটপাল কে ছিলেন? তাঁদের সম্পর্কে কবি কী বলেছেন? (1+2=3)
উত্তর দেখো
উত্তর: ধীমান এবং বিটপাল (বা বীতপাল) ছিলেন প্রাচীন বাংলার পাল যুগের দুই বিখ্যাত বাঙালি ভাস্কর এবং চিত্রশিল্পী। তাঁরা পিতা-পুত্র ছিলেন।
কবি বলেছেন যে, এই দুই প্রখ্যাত শিল্পীর অসাধারণ শিল্পকর্ম ও ভাস্কর্য এতটাই উন্নত এবং নিখুঁত ছিল যে, ভারতের বাইরেও তাদের শিল্পের যথেষ্ট কদর ছিল। আজও তাঁদের সৃষ্টি করা অপূর্ব শিল্পকলা বাঙালির শিল্পনৈপুণ্য এবং সৃজনশীলতার গৌরবময় সাক্ষী হয়ে আছে।
10. “বাঙালি বিজ্ঞানবিৎ সেজে…” – এখানে কোন্ বিজ্ঞানীর কথা বলা হয়েছে? তাঁর যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী ছিল? (1+2=3)
উত্তর দেখো
উত্তর: এখানে বিশ্ববিখ্যাত বাঙালি বিজ্ঞানী আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর কথা বলা হয়েছে।
তাঁর যুগান্তকারী আবিষ্কারটি ছিল যে, কেবল প্রাণীদেরই নয়, উদ্ভিদের বা গাছেরও প্রাণ আছে। তিনি তাঁর আবিষ্কৃত ‘ক্রেসকোগ্রাফ’ যন্ত্রের সাহায্যে প্রমাণ করে দেখিয়েছিলেন যে, জড় পদার্থ বলে মনে হওয়া উদ্ভিদরাও আঘাত পেলে মানুষের মতোই সাড়া দেয়। তাঁর এই আবিষ্কার বিশ্ববিজ্ঞানের দরবারে বাঙালির নামকে উজ্জ্বল করেছিল।
11. “বাঙালির ছেলে ব্যাঘ্রে বৃষভে ঘটাবে সমন্বয়।” – ‘ব্যাঘ্রে বৃষভে সমন্বয়’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? (3)
উত্তর দেখো
উত্তর: বাঘ এবং ষাঁড় (বৃষভ) হলো সম্পূর্ণ বিপরীত এবং ঘোর শত্রুভাবাপন্ন দুটি প্রাণী। বাঘ মাংসাশী ও হিংস্র, আর ষাঁড় হলো বাঘের শিকার। স্বাভাবিক নিয়মে এদের মধ্যে কখনোই বন্ধুত্ব বা সমন্বয় সম্ভব নয়। কিন্তু কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত এখানে বাঙালির জ্ঞান, প্রেম এবং অসীম বুদ্ধিমত্তার জয়গান গেয়েছেন। তিনি বলতে চেয়েছেন যে, বাঙালির মধ্যে সেই আধ্যাত্মিক এবং বৌদ্ধিক ক্ষমতা রয়েছে, যা দিয়ে সে সমাজের চরম বিপরীতমুখী মতাদর্শ বা শত্রুভাবাপন্ন দুই মেরুর মানুষকেও এক সূত্রে গেঁথে মহামিলন ঘটাতে পারে।
12. “আমাদেরি সেনা যুদ্ধ করেছে সজিয়া চতুরঙ্গ,” – ‘চতুরঙ্গ সেনা’ কী? তারা কার সঙ্গে যুদ্ধ করেছিল? (1+2=3)
উত্তর দেখো
উত্তর: ‘চতুরঙ্গ সেনা’ হলো প্রাচীন ভারতের চার প্রকার সেনাবাহিনী। এই চার অঙ্গ হলো— হস্তী (হাতি), অশ্ব (ঘোড়া), রথ এবং পদাতিক (পায়ে হাঁটা সৈন্য)।
কবি ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ টেনে বলেছেন যে, এই বাঙালি চতুরঙ্গ সেনা একসময় প্রবল সাহসের সঙ্গে মহাকাব্য রামায়ণের নায়ক রামচন্দ্রের প্রপিতামহ অর্থাৎ রঘুরাজের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্মুখসমরে লিপ্ত হয়েছিল। বাঙালির এই সামরিক বীরত্বকেই কবি গৌরবের সঙ্গে স্মরণ করেছেন।
13. “বাম হাতে যার কমলার ফুল, ডাহিনে মধুকা-মালা।” – পঙ্ক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। (3)
উত্তর দেখো
উত্তর: এই পঙ্ক্তিতে কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলার মনোরম এবং বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের একটি অপূর্ব চিত্র এঁকেছেন। ‘কমলা’ বলতে এখানে দেবী লক্ষ্মী বা পদ্মফুলকে বোঝানো হয়েছে, যা বাংলার উর্বর, শস্যশ্যামলা ও ধনধান্যে পূর্ণ রূপের প্রতীক। অন্যদিকে ‘মধুকা-মালা’ বা মহুয়ার মালা হলো বাংলার রুক্ষ, লালমাটি ও অরণ্যঘেরা আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলের প্রতীক। বাংলার বাম এবং ডান হাতে এই দুটি রূপই যে সমানভাবে বিরাজমান, তা বোঝাতেই কবি এই চমৎকার রূপকটি ব্যবহার করেছেন।
14. “বাণিজ্যে তরী ভাসাল সাগরে বাঙালির ছেলে চাঁদ।” – চাঁদ কে? তাঁর বাণিজ্যে তরী ভাসানোর তাৎপর্য কী? (1+2=3)
উত্তর দেখো
উত্তর: ‘চাঁদ’ হলেন মধ্যযুগের মনসামঙ্গল কাব্যের বিখ্যাত বাঙালি বণিক চরিত্র চাঁদ সওদাগর।
তাঁর বাণিজ্যে তরী ভাসানোর তাৎপর্য হলো, প্রাচীনকালের বাঙালিরা কেবল ঘরে বসে থাকত না। তারা অত্যন্ত উদ্যোগী এবং সাহসী ছিল। তারা নিজেদের তৈরি বাণিজ্য-তরী বা নৌকোয় করে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে দূরদূরান্তে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে যেত। বাঙালির এই সামুদ্রিক অভিযান এবং বিশ্বজুড়ে ব্যবসা বিস্তারের গৌরবময় ইতিহাসকেই কবি এই পঙ্ক্তির মধ্য দিয়ে তুলে ধরেছেন।
15. “জয়দেব কবি বর্ষণ করে নব-নবরস-ধারা।” – জয়দেব কে ছিলেন? ‘নব-নবরস-ধারা’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন? (1+2=3)
উত্তর দেখো
উত্তর: জয়দেব ছিলেন প্রাচীন বাংলার লক্ষণ সেনের রাজসভার একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি। তিনি রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা নিয়ে সংস্কৃত ভাষায় বিখ্যাত ‘গীতগোবিন্দ’ কাব্য রচনা করেছিলেন।
জয়দেবের ‘গীতগোবিন্দ’ কাব্যে ভক্তি ও প্রেমের এক অপূর্ব মিশ্রণ দেখা যায়। তাঁর কাব্যের ছন্দে ও ভাবে এমন এক লালিত্য এবং মাধুর্য ছিল, যা পড়ে মানুষের মনে নতুন নতুন আনন্দ বা রসের সঞ্চার হতো। বাঙালির এই সাহিত্যিক উৎকর্ষ এবং সৃষ্টিশীলতার আনন্দকেই কবি ‘নব-নবরস-ধারা’ বলে উল্লেখ করেছেন।