মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

নবম শ্রেণি: বাংলা, আবহমান – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর মান 3

অধ্যায় 13: আবহমান
(সংক্ষিপ্ত / ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 3)

নিচের উক্তিগুলির প্রাসঙ্গিক ও বিস্তারিত উত্তর দাও:

1. “যা গিয়ে ওই উঠানে তোর দাঁড়া / লাউমাচাটার পাশে,” – কাকে, কেন এই কথা বলা হয়েছে? (1+2=3)

উত্তর দেখো

উত্তর: জীবিকার তাগিদে বা নাগরিক সভ্যতার আকর্ষণে যে মানুষটি পল্লিগ্রাম ছেড়ে একসময় শহরে চলে গিয়েছিল, কবি তাকে উদ্দেশ্য করে এই কথা বলেছেন।
মানুষটি শহরে গিয়ে কৃত্রিম ও যান্ত্রিক জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়লেও তার মনের মধ্যে জন্মভূমি বা শেকড়ের প্রতি এক গভীর টান রয়ে গেছে। শহরের ক্লান্তিকর জীবনে সে শান্তি পায় না। তাই কবি তাকে তার হারানো শান্তি এবং অতীত স্মৃতি ফিরে পাওয়ার জন্য গ্রামের সেই পুরোনো উঠোনে, চিরপরিচিত লাউমাচাটির পাশে গিয়ে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

2. “কে এইখানে ঘর বেঁধেছিল নিবিড় অনুরাগে,” – ‘নিবিড় অনুরাগে’ ঘর বাঁধার তাৎপর্য কী? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: ‘নিবিড় অনুরাগ’ বলতে গভীর ভালোবাসা ও অটুট মমতাকে বোঝানো হয়েছে। গ্রামের সাধারণ মানুষ অত্যন্ত যত্ন, মায়া এবং ভালোবাসা দিয়ে প্রকৃতির কোলে নিজের ছোটো ঘরটি বাঁধে। খড়, বাঁশ, মাটি দিয়ে তৈরি সেই ঘর হয়তো শহরের অট্টালিকার মতো মজবুত নয়, কিন্তু তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানুষের আবেগ এবং স্বপ্ন। কবি এই উক্তির মাধ্যমে পল্লিবাংলার প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের আত্মার সেই অবিচ্ছেদ্য এবং চিরন্তন সম্পর্কের কথাই বুঝিয়েছেন।

3. “কে এইখানে হারিয়ে গিয়েও / আবার ফিরে আসে,” – কে হারিয়ে যায়? তার ফিরে আসার কারণ কী? (1+2=3)

উত্তর দেখো

উত্তর: যে মানুষটি জীবিকার প্রয়োজনে পল্লিগ্রামের স্নিগ্ধতা ছেড়ে শহরের কংক্রিটের জঙ্গলে পাড়ি দিয়েছে এবং শহরের ভিড়ে নিজের আসল পরিচয় হারিয়েছে, এখানে তার কথাই বলা হয়েছে।
তার ফিরে আসার প্রধান কারণ হলো মাটির টান বা শেকড়ের টান। শহরের কৃত্রিম এবং ব্যস্ত জীবনে মানুষ হয়তো অর্থ বা প্রতিপত্তি লাভ করে, কিন্তু মনের আসল শান্তি সেখানে থাকে না। জন্মভূমির ঘাসের গন্ধ, সন্ধ্যার হাওয়া এবং চেনা উঠোন তাকে বারবার ডাকে। এই নাড়ির টানেই সে বারবার গ্রামে ফিরে আসতে বাধ্য হয়।

4. “ফুরোয় না তার কিছুই ফুরোয় না” – কার কথা বলা হয়েছে? তার কী ফুরোয় না? (1+2=3)

উত্তর দেখো

উত্তর: এখানে সেই শেকড়সন্ধানী ‘একগুঁয়ে’ মানুষটির কথা বলা হয়েছে, যে গ্রাম ছেড়ে শহরে গেলেও জন্মভূমিকে ভুলতে পারে না।
তার গ্রামের প্রতি ভালোবাসা, টান এবং স্মৃতি কোনোদিন ফুরোয় না। সে বারবার তার পুরোনো চেনা উঠোনে ফিরে আসতে চায়। তার ঘাসের গন্ধ মাখা, তারায় তারায় স্বপ্ন দেখা, জন্মভূমির প্রতি তার এই ফিরে আসার অদম্য ইচ্ছা এবং মাতৃভূমির বুকে শান্তি খোঁজার যে চিরন্তন পিপাসা— তা সময়ের সাথে সাথে কখনোই শেষ বা ফুরিয়ে যায় না।

5. “নোটেগাছটা বুড়িয়ে ওঠে, কিন্তু মুড়োয় না।” – কথাটির অন্তর্নিহিত অর্থ কী? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: বাঙালি মায়েদের মুখে শোনা রূপকথার গল্প শেষ হয় ‘নটেগাছটি মুড়োলো’— এই কথার মাধ্যমে। অর্থাৎ, গাছের মুড়িয়ে যাওয়ার অর্থ হলো সমাপ্তি। কিন্তু কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী তাঁর ‘আবহমান’ কবিতায় বলেছেন যে, পল্লিগ্রামের এই নটেগাছটি সময়ের নিয়মে বুড়িয়ে যায় বা প্রাচীন হয় ঠিকই, কিন্তু তা কখনও মুড়িয়ে যায় না বা শেষ হয়ে যায় না। এর অন্তর্নিহিত অর্থ হলো, গ্রামবাংলার শাশ্বত প্রকৃতির রূপ এবং গ্রামের প্রতি মানুষের নাড়ির টান অত্যন্ত প্রাচীন হলেও তা কোনোদিন শেষ বা বিলুপ্ত হয় না।

6. “সারাটা দিন আপনমনে ঘাসের গন্ধ মাখে,” – কে, কেন ঘাসের গন্ধ মাখে? (1+2=3)

উত্তর দেখো

উত্তর: শহরের কৃত্রিম জীবনে হাঁপিয়ে ওঠা শেকড়সন্ধানী মানুষটি যখন গ্রামে ফিরে আসে, তখন সে সারাটা দিন আপনমনে ঘাসের গন্ধ মাখে।
গ্রামের মাটির সঙ্গে, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের যে জন্মজন্মান্তরের সম্পর্ক, তা শহরের ইট-কাঠের মধ্যে হারিয়ে যায়। তাই গ্রামে ফিরে এসে সেই মানুষটি আবার প্রকৃতির খুব কাছাকাছি যেতে চায়। ঘাসের গন্ধ মাখার মধ্য দিয়ে আসলে সে পল্লিপ্রকৃতির অকৃত্রিম রূপ ও স্নিগ্ধতাকে নিজের সমস্ত সত্তায় গভীরভাবে অনুভব করতে চায়।

7. “সারাটা রাত তারায়-তারায় স্বপ্ন এঁকে রাখে।” – তারায় তারায় স্বপ্ন আঁকার তাৎপর্য কী? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: পল্লিবাংলার রাতের আকাশ অত্যন্ত পরিষ্কার এবং তারায় ভরা থাকে, যা শহরের ধোঁয়াটে আকাশে দেখা যায় না। মানুষ যখন গ্রামের খোলা আকাশের নিচে শুয়ে সেই তারাদের দিকে তাকায়, তখন তার মনের মধ্যে পুরোনো স্মৃতি এবং নতুন আশা জেগে ওঠে। তারায় তারায় স্বপ্ন আঁকা বলতে কবি মানুষের সেই অসীম কল্পনা এবং ভবিষ্যতের সুন্দর স্বপ্নের কথা বুঝিয়েছেন, যা পল্লিপ্রকৃতির শান্ত পরিবেশেই সবচেয়ে ভালোভাবে পল্লবিত হতে পারে।

8. “ফুরোয় না তার যাওয়া এবং ফুরোয় না তার আসা।” – কার যাওয়া-আসার কথা বলা হয়েছে? তা ফুরোয় না কেন? (1+2=3)

উত্তর দেখো

উত্তর: এখানে মাতৃভূমির প্রতি টান অনুভব করা গ্রাম থেকে শহরে যাওয়া সেই মানুষের যাওয়া এবং আসার কথা বলা হয়েছে।
মানুষ জীবিকার প্রয়োজনে বা আধুনিকতার মোহে বাধ্য হয়ে শহরমুখী হয় (যাওয়া)। কিন্তু শহরের যান্ত্রিক জীবনে সে শান্তি পায় না। তার মন সবসময় জন্মভূমির মাটির জন্য কাঁদে। তাই মনের শান্তি খোঁজার জন্য এবং শেকড়ের অমোঘ আকর্ষণে সে বারবার গ্রামে ফিরে আসতে বাধ্য হয় (আসা)। মানুষের এই প্রয়োজন এবং আবেগের দ্বন্দ্ব চিরন্তন বলেই তার এই যাওয়া-আসা কখনও ফুরোয় না।

9. “নেভে না তার যন্ত্রণা যে, দুঃখ হয় না বাসি,” – কার যন্ত্রণার কথা বলা হয়েছে? তার দুঃখ বাসি হয় না কেন? (1+2=3)

উত্তর দেখো

উত্তর: যে মানুষটি গ্রাম ছেড়ে শহরে গিয়ে শেকড় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং শহুরে জীবনের যান্ত্রিকতায় হাঁপিয়ে উঠেছে, এখানে তার যন্ত্রণার কথাই বলা হয়েছে।
মানুষটি জানে যে তার প্রকৃত শান্তি রয়েছে গ্রামের সেই পুরোনো পরিবেশে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতির কারণে সে স্থায়ীভাবে গ্রামে ফিরে যেতে পারে না। জন্মভূমি থেকে এই দূরত্বের যে দুঃখ বা বিরহ-বেদনা, তা তার হৃদয়ে চিরকাল সতেজ থাকে। সময়ের প্রলেপেও এই মাতৃভূমির প্রতি টান বা বেদনা কখনও ম্লান বা বাসি হয়ে যায় না।

10. “হারায় না তার বাগান থেকে কুন্দফুলের হাসি।” – ‘কুন্দফুলের হাসি’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? তা হারায় না কেন? (1+2=3)

উত্তর দেখো

উত্তর: ‘কুন্দফুলের হাসি’ বলতে কবি পল্লিবাংলার চিরন্তন, স্নিগ্ধ এবং অকৃত্রিম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে বুঝিয়েছেন। কুন্দফুল তার শুভ্রতা এবং পবিত্রতার জন্য পরিচিত, যা বাংলার রূপের প্রতীক।
মানুষের জীবনে যতই দুঃখ, যন্ত্রণা বা পরিবর্তন আসুক না কেন, প্রকৃতির নিয়মে কোনো পরিবর্তন হয় না। প্রকৃতি আপন নিয়মে চলে। গ্রামের বাগানে আবহমান কাল ধরে যেমন কুন্দফুল ফোটে, তেমনই ফুটে চলবে। মানুষের অনুপস্থিতি বা যন্ত্রণায় প্রকৃতির এই শাশ্বত এবং চিরন্তন সৌন্দর্যের ধারা কখনোই হারিয়ে যায় না বা বন্ধ হয়ে যায় না।

11. “তেমনি করেই সূর্য ওঠে তেমনি করেই ছায়া / নামলে আবার ছুটে আসে সান্ধ্য নদীর হাওয়া।” – পঙ্‌ক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: এই পঙ্‌ক্তির মাধ্যমে কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী প্রকৃতির চিরন্তন এবং শাশ্বত নিয়মের কথা তুলে ধরেছেন। মানুষের জীবনে পরিবর্তন আসে, মানুষ গ্রাম ছেড়ে শহরে যায়, আবার গ্রামে ফিরে আসে। মানুষের এই চঞ্চলতার মাঝেও পল্লিবাংলার প্রকৃতি থাকে অবিচল। সেখানে আবহমান কাল ধরে যেমনভাবে নিয়ম করে সূর্য ওঠে, ঠিক তেমনিভাবেই সন্ধ্যায় শান্ত ছায়া নেমে আসে এবং নদীর বুক থেকে শীতল হাওয়া বয়ে যায়। প্রকৃতির এই চক্রাকার নিয়মের কোনোদিন সমাপ্তি ঘটে না।

12. “ফুরোয় না সেই একগুঁয়েটার দুরন্ত পিপাসা,” – একগুঁয়েটার পরিচয় দাও। তার দুরন্ত পিপাসা বলতে কী বোঝানো হয়েছে? (1+2=3)

উত্তর দেখো

উত্তর: ‘একগুঁয়ে’ বলতে সেই মানুষটিকে বোঝানো হয়েছে যে গ্রাম ছেড়ে শহরে গিয়েও মাতৃভূমির প্রতি তার নাড়ির টানকে সযত্নে লালন করে। শত প্রতিকূলতার মাঝেও সে একরোখাভাবে তার জন্মভূমিকে ভালোবেসে যায়।
‘দুরন্ত পিপাসা’ হলো তার শেকড় বা জন্মভূমির কোলে ফিরে আসার অদম্য আকাঙ্ক্ষা। শহরের চাকচিক্য তাকে সাময়িকভাবে ভুলিয়ে রাখলেও, তার মনের গভীরে গ্রামের ঘাসের গন্ধ, লাউমাচা এবং শান্ত নদীর হাওয়ার জন্য যে অনন্ত তৃষ্ণা লুকিয়ে থাকে, কবি তাকেই দুরন্ত পিপাসা বলেছেন, যা কোনোদিন মেটে না।

13. “এই মাটিকে এই হাওয়াকে আবার ভালোবাসে।” – কে, কেন এই মাটি ও হাওয়াকে ভালোবাসে? (1+2=3)

উত্তর দেখো

উত্তর: গ্রাম ছেড়ে শহরে পাড়ি দেওয়া সেই শেকড়সন্ধানী মানুষটি আবার তার জন্মভূমির মাটি এবং হাওয়াকে ভালোবাসে।
শহরের কৃত্রিম, যান্ত্রিক এবং ব্যস্ত জীবনে মানুষ আসলে ভীষণ একা ও ক্লান্ত বোধ করে। সেখানে প্রকৃতির অকৃত্রিম ছোঁয়া নেই। তাই মনের প্রশান্তি খুঁজতে মানুষ বারবার ফিরে আসে তার ফেলে যাওয়া গ্রামের মাটিতে। এই মাটির সোঁদা গন্ধ এবং গ্রামের শান্ত হাওয়া মানুষের আত্মাকে শান্তি দেয় বলেই সে তার এই জন্মস্থানকে বারবার নতুন করে ভালোবাসতে বাধ্য হয়।

14. “ছোট্ট একটা ফুল দুলছে ফুল দুলছে ফুল সন্ধ্যার বাতাসে।” – এই প্রাকৃতিক চিত্রটির মাধ্যমে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: ‘ছোট্ট একটা ফুল’ হলো পল্লিবাংলার অত্যন্ত সাধারণ, তুচ্ছ কিন্তু অকৃত্রিম সৌন্দর্যের প্রতীক। উঠোনের লাউমাচায় সন্ধ্যার বাতাসে ফুলটির এই দুলুনি প্রমাণ করে যে প্রকৃতির আপন ছন্দ কখনো থেমে থাকে না। মানুষ চলে যায়, আবার ফিরে আসে, মানুষের জীবনে সুখ-দুঃখের ঢেউ ওঠে, কিন্তু প্রকৃতি তার নিজের নিয়মে অবিচল এবং সুন্দর থাকে। প্রকৃতির এই শাশ্বত, স্নিগ্ধ এবং শান্ত রূপটি ফুটিয়ে তুলতেই কবি এই পঙ্‌ক্তিটি কবিতায় বারবার ব্যবহার করেছেন।

15. ‘আবহমান’ কবিতায় ‘আবহমান’ শব্দটির সার্থকতা বা প্রাসঙ্গিকতা কোথায়? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: ‘আবহমান’ শব্দটির অর্থ হলো অনন্তকাল ধরে যা নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রবহমান বা ঘটে চলেছে। এই কবিতায় আমরা দুটি আবহমান সত্য দেখতে পাই। প্রথমত, পল্লিবাংলার প্রকৃতির নিয়ম (যেমন- সূর্য ওঠা, ছায়া নামা, ফুল ফোটা) যা অনন্তকাল ধরে একইভাবে চলছে। দ্বিতীয়ত, জন্মভূমি বা শেকড়ের প্রতি মানুষের যে প্রবল টান বা ভালোবাসা, তা যুগ যুগ ধরে একইরকম আছে। মানুষের এই ঘরে ফেরার আকুলতা এবং প্রকৃতির এই চিরন্তন রূপ— এই উভয় অর্থেই কবিতায় ‘আবহমান’ শব্দটি অত্যন্ত সার্থক ও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার