মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

সপ্তম শ্রেণি: বাংলা, ছন্দে শুধু কান রাখো – অজিত দত্ত, সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

ছন্দে শুধু কান রাখো: সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (১৫ টি)

1. “মন্দ কথায় কান দিও না”—কবির এমন উপদেশের কারণ কী?

উত্তর

উত্তর: কবির মতে, মন্দ কথা বা কুৎসা মানুষের মনের একাগ্রতা নষ্ট করে। মানুষ যদি **মন্দ কথা বা কলহে** মেতে থাকে, তবে সে প্রকৃতির গভীর ও সুক্ষ্ম **ছন্দ অনুভব করতে পারবে না**। তাই জীবনকে আনন্দময় করতে কবি এমন উপদেশ দিয়েছেন।

2. “কেউ লেখেনি আর কোথাও”—কিসের কথা বলা হয়েছে?

উত্তর

উত্তর: এখানে প্রকৃতির অন্তহীন ও অপূর্ব **ছন্দময় পদ্যের** কথা বলা হয়েছে। যদি কেউ সজাগ কানে বিশ্বপ্রকৃতির ছন্দ শুনতে পায়, তবে সে বুঝতে পারবে যে পৃথিবীর প্রতিটি কোণ এক একটি **অপূর্ব কবিতায় ভরা**, যা অন্য কোথাও আগে লেখা হয়নি।

3. “ঝরনা যেখানে পদ্য লেখে”—ঝরনা কীভাবে পদ্য লেখে?

উত্তর

উত্তর: পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা ঝরনার জলের যে **ছলাৎ ছলাৎ কলধ্বনি**, কবি তাকেই ছন্দের উৎস বলেছেন। নির্জনতায় সেই শব্দের মধ্যে এক **গভীর লয় বা তাল** লুকিয়ে থাকে, যা কবির কানে পদ্য বা কবিতার মতো ধরা দেয়।

4. চড়াই-উৎরাই পথে চাকার শব্দে কবি কী শুনতে পান?

উত্তর

উত্তর: উঁচু-নিচু বা চড়াই-উৎরাই পথে যখন কোনো যান চলে, তখন তার **চাকার ঘূর্ণনে** এক প্রকার নির্দিষ্ট ছন্দ তৈরি হয়। কবি এই **যান্ত্রিক শব্দের** মধ্যেও মহাবিশ্বের চিরন্তন ছন্দের উপস্থিতি অনুভব করেন।

5. “ছন্দ আছে ঝড়-বৃষ্টিতে”—ঝড়-বৃষ্টির ছন্দের পরিচয় দাও।

উত্তর

উত্তর: ঝড়ের মাতম এবং বৃষ্টির অবিরাম **ঝমঝম শব্দ** মোটেই বিশৃঙ্খল নয়। এদের মধ্যে একটি **প্রাকৃতিক নিয়ম ও তালের লয়** আছে। বৃষ্টির ফোঁটার পতন এবং বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ মিলে এক প্রকার প্রাকৃতিক সংগীত বা ছন্দ সৃষ্টি করে।

6. ঘড়ির কাঁটার ছন্দে কবি কোন সত্যটি তুলে ধরেছেন?

উত্তর

উত্তর: ঘড়ির কাঁটার **নিঁখুত ও অবিরাম ‘খটখট’** শব্দ সময়ের গতিশীলতাকে প্রকাশ করে। এই শব্দের মধ্যে যে ছন্দ আছে, তা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে **সময় বা জগত কোনো কিছুই স্থির নয়**, সব কিছুই এক নির্দিষ্ট নিয়মে বা ছন্দে এগিয়ে চলেছে।

7. জগতটাকে চেনার প্রধান শর্ত কী বলে কবি মনে করেন?

উত্তর

উত্তর: জগতটাকে সঠিকভাবে চেনার প্রধান শর্ত হলো **কান এবং মনকে সজাগ রাখা**। প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানের মধ্যে যে অলক্ষ্য ছন্দ রয়েছে, তাতে **মন সংযোগ করলেই** বিশ্বচরাচরের প্রকৃত রূপটি আমাদের কাছে ধরা পড়বে।

8. “পদ্য লেখা সহজ নয়”—কখন পদ্য লেখা কঠিন হয়?

উত্তর

উত্তর: যদি আমাদের মন দ্বন্দ্বে বা কলহে মগ্ন থাকে এবং আমরা যদি **পারিপার্শ্বিক ছন্দকে উপেক্ষা করি**, তবে পদ্য লেখা কঠিন হয়। অন্তরের কান দিয়ে **জগতের ছন্দ না শুনলে** সার্থক কবিতা বা পদ্য সৃষ্টি করা সম্ভব নয়।

9. দিনের বেলা ও রাতের কোন কোন বিষয়ের মধ্যে ছন্দ আছে?

উত্তর

উত্তর: দিনের বেলা **পাখির কলকাকলি বা ডাকের** মধ্যে ছন্দ আছে। আবার নিঝুম রাতে **ঝিঁঝিঁ পোকার ডাকের** মধ্যে এক প্রকার অবিরাম ও মন্ত্রমুগ্ধকর ছন্দ কবির কানে ধরা পড়ে।

10. “জীবন হবে পদ্যময়”—জীবন কীভাবে পদ্যময় হয়ে উঠবে?

উত্তর

উত্তর: মানুষ যদি মন থেকে **সব বিবাদ ও ঝগড়া মুছে ফেলে** প্রকৃতির ছন্দে কান পাতে, তবে জীবন অনেক সহজ ও আনন্দময় হবে। প্রকৃতির সাথে সুর মিলিয়ে চললে জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত একটি **সুন্দর কবিতার মতো** ছন্দবদ্ধ বা পদ্যময় হয়ে উঠবে।

11. জোছনা ও রোদের ছন্দ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?

উত্তর

উত্তর: জোছনা বা চাঁদের আলোর যে **স্নিগ্ধতা** এবং রোদের যে **প্রখরতা**, এগুলিও প্রকৃতির একটি নির্দিষ্ট নিয়মে বা ছন্দে ঘটে। এই আলো-ছায়ার খেলা এবং **ঋতু পরিবর্তনের আবর্তনকে** কবি দৃষ্টি ও অনুভবের ছন্দ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

12. “ভুবনটাকে চিনবে তারা”—কারা ভুবনটাকে চিনবে?

উত্তর

উত্তর: যারা বাইরের কোলাহল বা মানসিক দ্বন্দ্ব ত্যাগ করে **নিজের কান ও মনকে সজাগ রাখবে**, তারাই ভুবনটাকে চিনবে। জগতের প্রকৃত স্বরূপ চেনার জন্য **ছন্দ ও সুরের** প্রতি মনোযোগী হওয়া একান্ত প্রয়োজন।

13. নৌকোর ছন্দে জলের ভূমিকা কী?

উত্তর

উত্তর: নৌকো যখন জলের উপর দিয়ে চলে, তখন তার আঘাতে জলে যে **ছলাৎ ছলাৎ শব্দ** তৈরি হয়, তা এক প্রকার অপূর্ব ছন্দ। এই **জলের ঢেউয়ের তালের** ওপর নির্ভর করেই নৌকোর চলার ছন্দ নির্ধারিত হয়।

14. “মজা জমানো” বলতে কবি কী ইঙ্গিত করেছেন?

উত্তর

উত্তর: ‘মজা জমানো’ বলতে এখানে জাগতিক সব তুচ্ছ বিবাদ ভুলে প্রকৃতির **বিস্ময়কর ছন্দ ও সুরের** আনন্দ উপভোগ করাকে বোঝানো হয়েছে। প্রকৃতির নিয়মগুলি যখন আমরা অনুভব করি, তখন মনের মধ্যে যে **অনাবিল তৃপ্তি** আসে, কবি তাকেই মজা বলেছেন।

15. কবিতাটির মূল শিক্ষা বা বার্তা কী?

উত্তর

উত্তর: কবিতাটির মূল শিক্ষা হলো—প্রকৃতি ও জীবন সব সময়ই ছন্দময়। আমরা যদি **দ্বন্দ্ব ও বিদ্বেষ ত্যাগ করে** সজাগ মনে প্রকৃতির দিকে তাকাই, তবে জীবনের আসল আনন্দ খুঁজে পাব। **মন সংযোগ ও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা** আমাদের জীবনকে সুন্দর করতে পারে।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার