মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

সপ্তম শ্রেণি: বাংলা, একুশের তাৎপর্য – আবুল ফজল, সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

একুশের তাৎপর্য: সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (মান: 3)

1. “একুশ মানে মাথা নত না করা”—কথাটির তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও।

উত্তর দেখো
উদ্ধৃত কথাটির অর্থ হলো যেকোনো অন্যায়, অবিচার ও স্বৈরাচারী শক্তির কাছে আত্মসমর্পণ না করা। 1952 সালের 21 শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানি শাসকদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে বাঙালি ছাত্র-জনতা মাতৃভাষার অধিকার আদায়ে যে অবিচল সাহস দেখিয়েছিল, সেই অদম্য প্রতিবাদী চেতনাই এই বাক্যের মাধ্যমে মূর্ত হয়ে উঠেছে।

2. একুশে ফেব্রুয়ারির ইতিহাসকে কেন ত্যাগের ইতিহাস বলা হয়?

উত্তর দেখো
1952 সালের এই দিনে রফিক, সালাম, বরকত, জব্বার প্রমুখ অগণিত ভাষা সংগ্রামী নিজেদের মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বুকের তাজা রক্ত রাজপথে ঢেলে দিয়েছিলেন। অধিকার আদায়ের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করার এই বিরল আত্মবলিদানের কারণেই একুশের ইতিহাসকে ত্যাগের ইতিহাস বলা হয়।

3. মাতৃভাষার অধিকার হরণ করার অর্থ কী বলে প্রবন্ধকার মনে করেন?

উত্তর দেখো
প্রবন্ধকার আবুল ফজলের মতে, মাতৃভাষার অধিকার হরণ করার অর্থ হলো একটি জাতির আত্মপরিচয় ও মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া। ভাষা কেড়ে নিলে মানুষের চিন্তাশক্তি ও সংস্কৃতির বিকাশ রুদ্ধ হয়ে যায়, ফলে জাতি মানসিকভাবে দাসত্বে শৃঙ্খলিত হয়।

4. একুশের আন্দোলনকে জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ বলা হয় কেন?

উত্তর দেখো
ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি প্রথম উপলব্ধি করেছিল যে তারা ধর্ম বা অঞ্চলের চেয়েও ভাষাগত ও সাংস্কৃতিকভাবে একটি স্বতন্ত্র জাতি। নিজেদের এই আত্মপরিচয় রক্ষার লড়াই থেকেই তাদের মনে জাতীয়তাবাদের জন্ম হয়, যা পরবর্তীতে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেরণা জুগিয়েছিল।

5. পাকিস্তানি শাসকেরা কেন উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করতে চেয়েছিল?

উত্তর দেখো
তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকেরা চেয়েছিল সমগ্র পাকিস্তানের ওপর তাদের নিরঙ্কুশ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আধিপত্য বজায় রাখতে। উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দিয়ে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে তাদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করার গভীর ষড়যন্ত্র করেছিল।

6. একুশের আন্দোলনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা কেমন ছিল?

উত্তর দেখো
একুশের আন্দোলনে ছাত্রসমাজ অগ্রণী ও সবচেয়ে সাহসী ভূমিকা পালন করেছিল। 144 ধারা ভঙ্গ করে তারা রাজপথে নেমে আসে এবং পুলিশের গুলির সামনে বুক পেতে দেয়। তাদের এই নির্ভীক নেতৃত্ব ও আত্মত্যাগের ফলেই সাধারণ জনতা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়।

7. “একুশের তাৎপর্য” প্রবন্ধে লেখকের মূল বক্তব্য কী?

উত্তর দেখো
লেখকের মূল বক্তব্য হলো—একুশে ফেব্রুয়ারি কেবল একটি শোকের দিন নয়, এটি বাঙালির শৌর্য, বীর্য ও অধিকার আদায়ের শাশ্বত প্রেরণা। এই প্রবন্ধের মাধ্যমে তিনি একুশের চেতনাকে অন্তরে ধারণ করে সব ধরনের শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

8. একুশে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ ঘোষণার গুরুত্ব কী?

উত্তর দেখো
জাতিসংঘ বা ইউনেস্কো কর্তৃক একুশে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ ঘোষণা করার ফলে বাঙালির ভাষা আন্দোলন বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি লাভ করেছে। এর মাধ্যমে বিশ্বের প্রতিটি মাতৃভাষার প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং ক্ষুদ্র জাতিসত্তার ভাষাগুলো রক্ষার বৈশ্বিক সচেতনতা তৈরি হয়েছে।

9. একুশ কীভাবে আমাদের শৃঙ্খল ভাঙার প্রেরণা জোগায়?

উত্তর দেখো
1952 সালে বাঙালিরা প্রমাণ করেছিল যে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করলে যেকোনো প্রবল শক্তিশালী স্বৈরাচারী শৃঙ্খল ভেঙে ফেলা সম্ভব। একুশের সেই নির্ভীক প্রতিবাদী চেতনা যুগে যুগে বাঙালিকে যেকোনো রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরাধীনতার বিরুদ্ধে লড়াই করার অফুরন্ত সাহস ও প্রেরণা জোগায়।

10. ভাষার জন্য প্রাণ দেওয়াকে পৃথিবীতে বিরল বলা হয় কেন?

উত্তর দেখো
পৃথিবীর ইতিহাসে ধর্ম, ভূখণ্ড বা রাজনৈতিক ক্ষমতার জন্য প্রচুর যুদ্ধ ও প্রাণহানি হয়েছে। কিন্তু শুধুমাত্র নিজের মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার রক্ষার দাবিতে রাজপথে নেমে হাসিমুখে বুলেটের সামনে বুক পেতে দেওয়ার ইতিহাস একমাত্র বাঙালিদেরই আছে, যা বিশ্ব ইতিহাসে এক বিরল ও অনন্য দৃষ্টান্ত।

11. একুশের আন্দোলন কি কেবল ভাষার অধিকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল?

উত্তর দেখো
না, একুশের আন্দোলন কেবল ভাষার অধিকারে সীমাবদ্ধ ছিল না। ভাষার অধিকার আদায়ের এই লড়াইয়ের গভীরে নিহিত ছিল বাঙালির অর্থনৈতিক মুক্তি, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং স্বৈরাচারী শাসন থেকে স্বাধীন হওয়ার সুতীব্র আকাঙ্ক্ষা। এটি ছিল সামগ্রিক অধিকার আদায়ের প্রথম পদক্ষেপ।

12. “রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা”—কথাটি কীভাবে একুশের সাথে যুক্ত?

উত্তর দেখো
বাঙালি জাতি কখনোই বিনা সংগ্রামে কিছু পায়নি। 1952 সালে ভাষা শহিদদের রক্তের বিনিময়ে প্রথম শৃঙ্খল মুক্তির যে সংগ্রাম শুরু হয়েছিল, তার পথ ধরেই 1971 সালের মুক্তিযুদ্ধে লাখো প্রাণের বিনিময়ে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা অর্জিত হয়। তাই একুশের রক্তস্নাত পথ ধরেই স্বাধীনতার সূর্য উদিত হয়েছিল।

13. একুশের চেতনা কীভাবে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রাসঙ্গিক?

উত্তর দেখো
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমরা যখনই কোনো দুর্নীতি, বৈষম্য বা অন্যায়ের সম্মুখীন হই, তখন একুশের চেতনাই আমাদের মাথা উঁচু করে প্রতিবাদ করতে শেখায়। নিজের ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি সর্বস্তরে মাতৃভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে একুশের চেতনা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

14. আবুল ফজলের প্রবন্ধ রচনার শৈলী এই পাঠ্যাংশে কীভাবে ফুটে উঠেছে?

উত্তর দেখো
প্রাবন্ধিক আবুল ফজল অত্যন্ত তীক্ষ্ণ, বস্তুনিষ্ঠ এবং মননশীল ভঙ্গিতে এই প্রবন্ধটি রচনা করেছেন। আবেগের পাশাপাশি তিনি যুক্তিনির্ভর বিশ্লেষণের মাধ্যমে একুশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে পাঠকের সামনে সহজ অথচ গভীর আবেদনময় ভাষায় তুলে ধরেছেন।

15. এই প্রবন্ধ পাঠে আমরা প্রধানত কী শিক্ষা লাভ করি?

উত্তর দেখো
এই প্রবন্ধ পাঠ থেকে আমরা শিক্ষা লাভ করি যে, মাতৃভাষা হলো আমাদের অস্তিত্বের মূল ভিত্তি। একে রক্ষা করার জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে এবং অন্যায়ের কাছে কোনো অবস্থাতেই মাথানত করা চলবে না। আত্মমর্যাদাবোধই একটি জাতির বেঁচে থাকার প্রধান শর্ত।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার