মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

সপ্তম শ্রেণি: বাংলা, নোটবই – সুকুমার রায়, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

অধ্যায়: নোট বই
(সংক্ষিপ্ত / ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 3)

নিচের প্রশ্নগুলির প্রাসঙ্গিক ও বিস্তারিত উত্তর দাও:

1. ‘নোট বই’ কবিতায় বক্তা তাঁর নোট বইতে কী ধরনের বিষয় লিখে রাখেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায়ের লেখা ‘নোট বই’ কবিতায় বক্তার সর্বদা জ্ঞান অর্জনের একটি অদ্ভুত কৌতূহল রয়েছে। তিনি কান পেতে যা কিছু ‘ভালো কথা’ শোনেন, তা চটপট তাঁর নোট বইতে লিখে নেন। এছাড়া চারপাশের জগৎ সম্পর্কে তাঁর মনে যেসব উদ্ভট ও অদ্ভুত প্রশ্ন জাগে, যেমন—ফড়িঙের কটা ঠ্যাঙ, আরশোলা কী খায়, আঙুলে আঠা দিলে কেন চটচট করে ইত্যাদি, সেই সব অবান্তর প্রশ্ন ও তাদের কাল্পনিক উত্তর তিনি খুব যত্ন করে তাঁর নোট বইতে লিখে রাখেন।

2. “জবাবটা জেনে নেব মেজদাকে খুঁচিয়ে” – বক্তা মেজদার কাছ থেকে কোন্ কোন্ প্রশ্নের জবাব জানতে চান?

উত্তর দেখো

উত্তর: বক্তার মনে দৈনন্দিন জীবনের নানা বিষয় এবং শরীরের নানা প্রতিক্রিয়া নিয়ে অনেক অদ্ভুত প্রশ্ন জমা হয়েছে, যার উত্তর তিনি নিজে জানেন না। এই অমীমাংসিত প্রশ্নগুলি হলো—পেটে কেন যাতনা বা ব্যথা করে, পিলে কেন চমকায়, দুন্দুভি কার নাম এবং অরণি কাকে বলে। এই কঠিন এবং কিছুটা অবৈজ্ঞানিক ও উদ্ভট প্রশ্নগুলির সঠিক উত্তর জানার জন্যই বক্তা তাঁর মেজদাকে খুঁচিয়ে বা বিরক্ত করে জবাব জেনে নেওয়ার কথা বলেছেন।

3. “বলবে কি, তোমরাও নোট বই পড়োনি” – বক্তা কাদের উদ্দেশে এবং কেন এ কথা বলেছেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: উদ্ধৃত উক্তিটি বক্তা তাঁর চারপাশের শ্রোতা বা পাঠকদের উদ্দেশে বলেছেন। বক্তা মনে করেন যে তাঁর নোট বইটিতে জগতের সমস্ত অমূল্য জ্ঞান ও প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে। তাই তিনি শ্রোতাদের কয়েকটি অদ্ভুত প্রশ্ন করেন, যেমন—লঙ্কায় ঝাল কেন, তেজপাতে তেজ কেন অথবা নাক কেন ডাকে। যদি শ্রোতারা এই সব উদ্ভট প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারে, তবে বক্তা অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে ধরে নেবেন যে শ্রোতারাও তাঁর মতো এমন অমূল্য ‘নোট বই’ কখনও পড়েনি।

4. ‘নোট বই’ কবিতায় বক্তার কৌতূহলগুলি সাধারণ কৌতূহলের চেয়ে কীভাবে আলাদা?

উত্তর দেখো

উত্তর: সাধারণ মানুষের কৌতূহল সাধারণত কোনো অজানা তথ্য জানা বা প্রকৃতির কোনো রহস্য ভেদ করার উদ্দেশ্যে তৈরি হয়। কিন্তু ‘নোট বই’ কবিতায় বক্তার কৌতূহলগুলি একেবারেই অবান্তর এবং হাস্যকর। গোরুকে কাতুকুতু দিলে কেন সে ছটফট করে, আঙুলে আঠা দিলে কেন চটচট করে বা ফড়িঙের কটা পা—এই ধরনের প্রশ্নগুলির কোনো বৈজ্ঞানিক বা শিক্ষামূলক গুরুত্ব নেই। এগুলো নেহাৎই এক খেয়ালি মনের উদ্দেশ্যহীন ও উদ্ভট চিন্তার ফসল, যা সাধারণ যুক্তিবাদী কৌতূহলের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা।

5. ‘নোট বই’ কবিতার মধ্য দিয়ে কবি কী ধরনের হাস্যরস ও ব্যঙ্গ প্রকাশ করেছেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: ‘নোট বই’ কবিতায় কবি সুকুমার রায় অত্যন্ত মজার ছলে শিশু মনের অদ্ভুত ও সীমাহীন কৌতূহলকে তুলে ধরেছেন। এর পাশাপাশি এখানে একটি প্রচ্ছন্ন ব্যঙ্গও লুকিয়ে আছে। সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন যাঁরা প্রকৃত জ্ঞান অর্জন না করে কেবল অপ্রয়োজনীয়, উদ্ভট এবং অর্থহীন বিষয় নিয়ে মাথা ঘামান এবং নিজেদের খুব জ্ঞানী বলে মনে করেন। নোট বইয়ের বক্তার চরিত্রটির মধ্য দিয়ে কবি আসলে সেইসব নকল জ্ঞানী ও বিদ্যাভিমানী মানুষদেরই মৃদু ব্যঙ্গ করেছেন, যাঁরা কাজের কথার চেয়ে অকাজের কথাতেই বেশি গুরুত্ব দেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার