সপ্তম শ্রেণি: বাংলা, স্মৃতিচিহ্ন – কামিনী রায়, MCQ ও অনান্য 1 নম্বরের প্রশ্নত্তোর
অধ্যায়: স্মৃতিচিহ্ন
(মূল রচনা: কামিনী রায়)
📖 বিষয় সূচনা
বিখ্যাত বাঙালি নারী কবি কামিনী রায় রচিত ‘স্মৃতিচিহ্ন’ কবিতাটি মানুষের অহংকার এবং প্রকৃত অমরত্বের এক অপূর্ব দলিল। এই কবিতায় কবি দেখিয়েছেন যে, যুগ যুগ ধরে ক্ষমতালোভী ও অহংকারী রাজারা বিশাল বিশাল পাথর ও ইটের স্তূপ দিয়ে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে পৃথিবীতে নিজেদের নাম চিরকাল অমর করে রাখতে চেয়েছে। কিন্তু মহাকালের নির্মম নিয়মে তাদের সেই অহংকার কীভাবে ধুলিস্যাৎ হয়ে যায়, তারই বাস্তব চিত্র কবি এখানে তুলে ধরেছেন। এর পাশাপাশি তিনি এও বুঝিয়েছেন যে, পাথরের স্মৃতিসৌধ নয়, মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সৎকর্মের মাধ্যমেই মানুষ প্রকৃত অমরত্ব লাভ করে।
🎯 বিষয় সংক্ষেপ
এই কবিতার মূল আলোচিত বিষয়গুলি হলো:
- অহংকারী মানুষের বৃথা চেষ্টা: যারা ভাবে বিশাল ইটের স্তূপ বা পাথরের সৌধ তৈরি করে নিজেদের নাম চিরকাল অক্ষুণ্ণ রাখবে, তারা আসলে বোকা বা মূঢ়।
- কালের প্রভাব: সময়ের নিয়মে বা মহাকালের কালস্রোতে সেই সব বিশাল অট্টালিকা একদিন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়, তাদের নাম ধুয়ে মুছে যায়।
- দরিদ্রের সমবেদনা: সেই ভগ্ন স্তূপ দেখে সাধারণ মানুষ উপহাস করে না, বরং তাদের এই ব্যর্থ অহংকারের জন্য মনে মনে করুণা বোধ করে।
- প্রকৃত অমরত্ব: যারা নিঃস্বার্থভাবে মানুষের কল্যাণ করে এবং মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসার মাধ্যমে নিজেদের স্থান করে নেয়, তারাই প্রকৃত অমর। তাদের নামের জন্য কোনো পাথরের স্মৃতিচিহ্নের প্রয়োজন হয় না।
স্মৃতিচিহ্ন: বহু বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্ন
সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো:
1. ‘স্মৃতিচিহ্ন’ কবিতাটির রচয়িতা কে?
- (ক) স্বর্ণকুমারী দেবী
- (খ) বেগম রোকেয়া
- (গ) কামিনী রায়
- (ঘ) সুফিয়া কামাল
উত্তর দেখো
উত্তর: (গ) কামিনী রায়
2. ‘ওরা ভেবেছিল মনে’—এখানে ‘ওরা’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?
- (ক) সাধারণ মানুষকে
- (খ) ক্ষমতাশালী ও অহংকারী শাসকদের
- (গ) গরিব প্রজাদের
- (ঘ) ধার্মিক মানুষদের
উত্তর দেখো
উত্তর: (খ) ক্ষমতাশালী ও অহংকারী শাসকদের
3. ক্ষমতাশালী শাসকেরা কী ভেবেছিল?
- (ক) তারা রাজ্য জয় করবে
- (খ) তাদের নাম চিরকাল পাথরে লেখা থাকবে
- (গ) তারা গরিবদের সাহায্য করবে
- (ঘ) তারা অনেক সম্পদ সঞ্চয় করবে
উত্তর দেখো
উত্তর: (খ) তাদের নাম চিরকাল পাথরে লেখা থাকবে
4. ‘মূঢ় ওরা’—কবি কাদের ‘মূঢ়’ বা বোকা বলেছেন?
- (ক) যারা ইটের স্তূপ গড়ে নাম রাখতে চায়
- (খ) যারা মানুষের উপকার করে
- (গ) যারা কবিতা লেখে
- (ঘ) যারা দেশপ্রেমিক
উত্তর দেখো
উত্তর: (ক) যারা ইটের স্তূপ গড়ে নাম রাখতে চায়
5. কালস্রোতে কী ভেসে যায়?
- (ক) মানুষের ভালো কাজ
- (খ) ইটের স্তূপ ও অহংকারীদের নাম
- (গ) প্রাকৃতিক সম্পদ
- (ঘ) জ্ঞান ও বিদ্যা
উত্তর দেখো
উত্তর: (খ) ইটের স্তূপ ও অহংকারীদের নাম
6. বিশাল অট্টালিকা বা স্মৃতিসৌধকে কবি কীসের সঙ্গে তুলনা করেছেন?
- (ক) শিল্পের নিদর্শন
- (খ) মাটির বোঝা বা ভার
- (গ) শক্তির প্রতীক
- (ঘ) সৌন্দর্যের প্রতীক
উত্তর দেখো
উত্তর: (খ) মাটির বোঝা বা ভার
7. ভগ্ন স্তূপের ওপর কী গজিয়ে ওঠে?
- (ক) শুষ্ক তৃণ বা শুকনো ঘাস
- (খ) বড়ো বড়ো গাছ
- (গ) রঙিন ফুল
- (ঘ) নতুন ইমারত
উত্তর দেখো
উত্তর: (ক) শুষ্ক তৃণ বা শুকনো ঘাস
8. ভগ্ন স্তূপ দেখে কারা উপহাস করে না?
- (ক) ধনী ব্যক্তিরা
- (খ) দরিদ্র ও সাধারণ মানুষ
- (গ) রাজারা
- (ঘ) বিদেশিরা
উত্তর দেখো
উত্তর: (খ) দরিদ্র ও সাধারণ মানুষ
9. ‘কালস্রোত’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
- (ক) নদীর স্রোত
- (খ) বাতাসের গতি
- (গ) সময়ের অবিরাম বয়ে চলা
- (ঘ) বন্যার জল
উত্তর দেখো
উত্তর: (গ) সময়ের অবিরাম বয়ে চলা
10. সাধারণ মানুষ ভগ্ন স্তূপ দেখে মনে মনে কী অনুভব করে?
- (ক) আনন্দ
- (খ) রাগ
- (গ) সমবেদনা বা করুণা
- (ঘ) ভয়
উত্তর দেখো
উত্তর: (গ) সমবেদনা বা করুণা
11. কাদের নাম কালস্রোতে ধুয়ে যায় না?
- (ক) যারা রাজ্য জয় করে
- (খ) যারা নিঃস্বার্থভাবে মানুষের কল্যাণ করে
- (গ) যারা অনেক সৌধ বানায়
- (ঘ) যারা অনেক ধনসম্পদ রেখে যায়
উত্তর দেখো
উত্তর: (খ) যারা নিঃস্বার্থভাবে মানুষের কল্যাণ করে
12. মানবহৃদয়ে কারা চিরস্থায়ী আসন লাভ করে?
- (ক) অহংকারী রাজারা
- (খ) দরদি ও মানবতাবাদী মানুষেরা
- (গ) যোদ্ধারা
- (ঘ) বিজ্ঞানীরা
উত্তর দেখো
উত্তর: (খ) দরদি ও মানবতাবাদী মানুষেরা
13. ‘স্মৃতিচিহ্ন’ কবিতায় প্রধানত কীসের অসারতা বা ব্যর্থতা প্রমাণিত হয়েছে?
- (ক) ভালোবাসার
- (খ) দয়া ও মায়ার
- (গ) ক্ষমতাদর্পী মানুষের অহংকারের
- (ঘ) শিক্ষার
উত্তর দেখো
উত্তর: (গ) ক্ষমতাদর্পী মানুষের অহংকারের
14. ‘প্রস্তর’ শব্দের অর্থ কী?
- (ক) মাটি
- (খ) পাথর
- (গ) লোহা
- (ঘ) ইট
উত্তর দেখো
উত্তর: (খ) পাথর
15. কবি মানবহৃদয়কে কীসের চেয়ে বেশি স্থায়ী বা মজবুত বলেছেন?
- (ক) ইটের স্তূপ বা পাথরের চেয়ে
- (খ) লোহার চেয়ে
- (গ) গাছের চেয়ে
- (ঘ) নদীর চেয়ে
উত্তর দেখো
উত্তর: (ক) ইটের স্তূপ বা পাথরের চেয়ে
16. যারা মানুষের মনে চিরকাল বেঁচে থাকে, তাদের জন্য কীসের প্রয়োজন হয় না?
- (ক) অর্থের
- (খ) পাথরের স্মৃতিচিহ্নের
- (গ) সৈন্যবাহিনীর
- (ঘ) প্রাসাদের
উত্তর দেখো
উত্তর: (খ) পাথরের স্মৃতিচিহ্নের
17. ‘উপেক্ষা’ শব্দের অর্থ কী?
- (ক) সম্মান করা
- (খ) অবহেলা বা গ্রাহ্য না করা
- (গ) সাহায্য করা
- (ঘ) মনে রাখা
উত্তর দেখো
উত্তর: (খ) অবহেলা বা গ্রাহ্য না করা
18. ‘ধূলিসাৎ’ শব্দের অর্থ কী?
- (ক) ধুলোয় মিশে যাওয়া বা ধ্বংস হওয়া
- (খ) পরিষ্কার করা
- (গ) নতুন করে তৈরি হওয়া
- (ঘ) মেঘের আড়ালে ঢাকা পড়া
উত্তর দেখো
উত্তর: (ক) ধুলোয় মিশে যাওয়া বা ধ্বংস হওয়া
19. কবি কাদের প্রতি তীব্র শ্লেষ বা ব্যঙ্গ প্রকাশ করেছেন?
- (ক) দয়ালু মানুষদের প্রতি
- (খ) ক্ষমতাশালী রাজাদের বৃথা অহংকারের প্রতি
- (গ) গরিব কৃষকদের প্রতি
- (ঘ) ধার্মিকদের প্রতি
উত্তর দেখো
উত্তর: (খ) ক্ষমতাশালী রাজাদের বৃথা অহংকারের প্রতি
20. ‘স্মৃতিচিহ্ন’ কবিতাটি পাঠকদের কী মূল বার্তা দেয়?
- (ক) বেশি করে অট্টালিকা বানাতে হবে
- (খ) পাথরে নাম লিখে রাখতে হবে
- (গ) মানুষের কল্যাণে নিঃস্বার্থ কর্মের মাধ্যমেই প্রকৃত অমরত্ব লাভ হয়
- (ঘ) গরিবদের উপহাস করতে হবে
উত্তর দেখো
উত্তর: (গ) মানুষের কল্যাণে নিঃস্বার্থ কর্মের মাধ্যমেই প্রকৃত অমরত্ব লাভ হয়
স্মৃতিচিহ্ন: এক নম্বরের প্রশ্নোত্তর (30 টি)
1. সত্য বা মিথ্যা নির্বাচন করো
1. ‘স্মৃতিচিহ্ন’ কবিতাটি সুফিয়া কামালের লেখা।
উত্তর দেখো
মিথ্যা (সঠিক: কবিতাটি কামিনী রায়ের লেখা)
2. ক্ষমতালোভী মানুষেরা ইটের স্তূপ গড়ে নিজেদের নাম অমর করতে চেয়েছিল।
উত্তর দেখো
সত্য
3. কালস্রোতে অহংকারী রাজাদের নাম চিরকাল পাথরে লেখা থাকে।
উত্তর দেখো
মিথ্যা (সঠিক: কালস্রোতে তাদের নাম ধুয়ে মুছে যায়)
4. যারা মানুষের মনে চিরস্থায়ী আসন লাভ করে, তাদের পাথরের স্মৃতিসৌধের প্রয়োজন হয় না।
উত্তর দেখো
সত্য
5. ভগ্ন স্তূপের ওপর শুষ্ক ঘাস বা তৃণ গজিয়ে ওঠে।
উত্তর দেখো
সত্য
2. শূন্যস্থান পূরণ করো
1. ‘স্মৃতিচিহ্ন’ কবিতাটির রচয়িতা হলেন ____।
উত্তর দেখো
কামিনী রায়
2. ওরা ভেবেছিল মনে আপনার ____।
উত্তর দেখো
নাম
3. ____ ওরা, ব্যর্থ মনস্কাম।
উত্তর দেখো
মূঢ়
4. প্রস্তর খসিয়া পড়ে ____ ‘পরে।
উত্তর দেখো
প্রস্তরের
5. চারিদিকে ____; তাহাদের তলে লুপ্ত স্মৃতি।
উত্তর দেখো
ভগ্নস্তূপ
6. মানব-হৃদয়-ভূমি করি ____।
উত্তর দেখো
অধিকার
7. করেছে প্রতিষ্ঠা যারা দৃঢ় ____।
উত্তর দেখো
সিংহাসন
8. ____ আছিল তারা; ছিল না সম্বল।
উত্তর দেখো
দরিদ্র
9. কালস্রোতে ধৌত নাম শুভ্র ____।
উত্তর দেখো
সমুজ্জ্বল
10. ‘স্মৃতিচিহ্ন’ কবিতায় ক্ষমতাদর্পীদের বৃথা ____ কথা বলা হয়েছে।
উত্তর দেখো
অহংকারের
3. অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
1. ‘স্মৃতিচিহ্ন’ কবিতাটি কার লেখা?
উত্তর দেখো
কবিতাটি বিখ্যাত নারী কবি কামিনী রায়ের লেখা।
2. কবিতায় ‘ওরা’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?
উত্তর দেখো
‘ওরা’ বলতে অহংকারী ও ক্ষমতাদর্পী রাজাদের বা শাসকদের বোঝানো হয়েছে।
3. অহংকারী রাজারা কী ভেবেছিল?
উত্তর দেখো
তারা ভেবেছিল বিশাল স্মৃতিসৌধ বানিয়ে নিজেদের নাম পৃথিবীতে চিরকাল অমর করে রাখবে।
4. কবি কাদের ‘মূঢ়’ বলেছেন?
উত্তর দেখো
কবি যারা পাথরের সৌধ বানিয়ে নাম অমর করতে চায়, তাদের ‘মূঢ়’ বা বোকা বলেছেন।
5. মূঢ়দের মনস্কাম বা ইচ্ছা কেমন হয়েছে?
উত্তর দেখো
তাদের মনস্কাম সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
6. সময়ের প্রভাবে কী খসে পড়ে?
উত্তর দেখো
সময়ের প্রভাবে রাজাদের বানানো ইমারতের প্রস্তর বা পাথর খসে পড়ে।
7. ‘প্রস্তর’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর দেখো
‘প্রস্তর’ শব্দের অর্থ হলো পাথর।
8. ভগ্নস্তূপের তলায় কাদের স্মৃতি লুপ্ত হয়ে গেছে?
উত্তর দেখো
ভগ্নস্তূপের তলায় অহংকারী রাজাদের স্মৃতি লুপ্ত হয়ে গেছে।
9. ‘কালস্রোত’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর দেখো
‘কালস্রোত’ বলতে মহাকালের বয়ে চলাকে বা সময়ের অবিরাম গতিকে বোঝানো হয়েছে।
10. কালস্রোতে কী ভেসে যায়?
উত্তর দেখো
কালস্রোতে অহংকারী রাজাদের বৃথা নাম ও অহংকার ভেসে যায়।
11. কারা মানব-হৃদয়-ভূমি অধিকার করে আছে?
উত্তর দেখো
যারা মানুষের কল্যাণ করেছে, সেইসব মানবদরদি মানুষেরা মানুষের হৃদয় অধিকার করে আছে।
12. মানবদরদি মানুষদের কী জড়ো করার সম্বল ছিল না?
উত্তর দেখো
তাদের প্রস্তরের বোঝা বা পাথরের স্তূপ জড়ো করার মতো ধনসম্পদ ছিল না।
13. কাদের রাজত্ব কালস্রোতেও অক্ষুণ্ণ থাকে?
উত্তর দেখো
গরিব হলেও যারা ভালোবাসার মাধ্যমে মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে, তাদের রাজত্ব অক্ষুণ্ণ থাকে।
14. কালস্রোতে ধৌত নাম কেমন দেখায়?
উত্তর দেখো
কালস্রোতে ধৌত নাম শুভ্র ও সমুজ্জ্বল দেখায়।
15. এই কবিতায় প্রকৃত অমরত্ব কীভাবে লাভ করা যায় বলে জানানো হয়েছে?
উত্তর দেখো
প্রকৃত অমরত্ব কেবল মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং নিঃস্বার্থ কর্মের মাধ্যমেই লাভ করা যায়।