মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

সপ্তম শ্রেণি: বাংলা, স্মৃতিচিহ্ন – কামিনী রায়, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

অধ্যায়: স্মৃতিচিহ্ন
(সংক্ষিপ্ত / ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 2)

নিচের প্রশ্নগুলির প্রাসঙ্গিক ও বিস্তারিত উত্তর দাও:

1. ‘স্মৃতিচিহ্ন’ কবিতায় ‘ওরা’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে? তারা কী ভেবেছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: কবি কামিনী রায় তাঁর ‘স্মৃতিচিহ্ন’ কবিতায় ‘ওরা’ বলতে অতীতের সেইসব ক্ষমতাশালী, ধনগর্বী এবং অহংকারী রাজাদের বা শাসকদের কথা বুঝিয়েছেন। এই অহংকারী শাসকেরা ভেবেছিল যে, তারা প্রচুর অর্থ ব্যয় করে বিশাল পাথরের স্মৃতিসৌধ বা ইটের স্তূপ নির্মাণ করে পৃথিবীর বুকে নিজেদের নাম চিরকালের জন্য অক্ষয় বা অমর করে রেখে যাবে।

2. “মূঢ় ওরা, ব্যর্থ মনস্কাম।” – কবি কাদের এবং কেন ‘মূঢ়’ বলেছেন? তাদের মনস্কাম কীভাবে ব্যর্থ হয়েছে?

উত্তর দেখো

উত্তর: যারা ভেবেছিল পাথরের বিশাল ইমারত বা সৌধ বানিয়ে পৃথিবীতে নিজেদের নাম চিরকাল অমর করে রাখবে, কবি তাদেরই ‘মূঢ়’ বা বোকা বলেছেন। কারণ, মহাকালের অমোঘ নিয়মে কোনো ইট বা পাথরের সৌধই চিরস্থায়ী হয় না। সময়ের সাথে সাথে সেইসব বিশাল সৌধ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং তার সাথে সাথে সেই অহংকারী রাজাদের নামও চিরতরে মুছে গেছে। এভাবেই তাদের নিজেদের নাম অমর রাখার ইচ্ছা বা মনস্কাম সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

3. “প্রস্তর খসিয়া পড়ে প্রস্তরের ‘পরে।” – এই পংক্তিটির অন্তর্নিহিত তাৎপর্য কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: এই পংক্তিটির মধ্য দিয়ে কবি মানুষের অহংকারের পতনের বাস্তব চিত্রটি তুলে ধরেছেন। ক্ষমতালোভী রাজারা নিজেদের ঐশ্বর্যের অহংকারে যে বিশাল পাথরের স্মৃতিসৌধ বা প্রাসাদ নির্মাণ করেছিল, তা মহাকালের স্রোতে ধ্বংস হতে শুরু করেছে। সময়ের প্রবল প্রভাবে সেই ইমারতের পাথরগুলি খসে খসে নিচের পাথরের ওপর পড়ছে। অর্থাৎ, কোনো পার্থিব সম্পদ বা অহংকারই যে কালের গ্রাস থেকে রক্ষা পায় না, এখানে সেই চরম সত্যটিই বোঝানো হয়েছে।

4. “চারিদিকে ভগ্নস্তূপ” – এই ভগ্নস্তূপ কীসের প্রতীক? সেখানে কীসের সৃষ্টি হয়েছে?

উত্তর দেখো

উত্তর: ‘স্মৃতিচিহ্ন’ কবিতায় উল্লেখিত ‘ভগ্নস্তূপ’ হলো ক্ষমতাশালী ও অহংকারী রাজাদের বৃথা আস্ফালন এবং পতনের প্রতীক। কালের নিয়মে সেই বিশাল স্মৃতিসৌধগুলি ভেঙে মাটিতে মিশে গেছে। আর সেই ধুলোয় মিশে যাওয়া ভগ্নস্তূপের ওপর অযত্নে জন্মেছে শুষ্ক তৃণ বা শুকনো ঘাস। অর্থাৎ, প্রকৃতির নিয়ম অহংকারের সৌধকে গ্রাস করে সেখানে তার নিজের সাধারণ রূপকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

5. “কেহ নাহি তলে তার একবিন্দু জল” – এর মাধ্যমে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: ধনগর্বী ও অহংকারী রাজারা নিজেদের ক্ষমতার জোরে সাধারণ মানুষকে শোষণ করত। তারা মানুষের কল্যাণের জন্য কোনো কাজ করেনি, শুধু নিজেদের নাম অমর করতে ইট-পাথরের সৌধ বানিয়েছিল। তাই তাদের সেই সৌধ যখন ভেঙে পড়ে, তখন সাধারণ মানুষের মনে তাদের জন্য কোনো দুঃখ বা সমবেদনা জাগে না। কেউ তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক ফোঁটা চোখের জলও ফেলে না। মানুষের মনে তাদের জন্য কোনো ভালোবাসা ছিল না বলেই এমন পরিণতি হয়েছে।

6. “উপেক্ষা প্রচ্ছন্ন হাসি ফুটে ওঠে তায়।” – কার উপহাস এবং কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: এখানে সাধারণ দরিদ্র মানুষের নীরব উপহাস বা মহাকালের ব্যঙ্গাত্মক হাসির কথা বলা হয়েছে। রাজারা ভেবেছিল তাদের তৈরি বিশাল পাথরের সৌধ কালের নিয়মকে হারিয়ে চিরকাল টিকে থাকবে। কিন্তু সেই সৌধ যখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় এবং তার ওপর শুকনো ঘাস গজিয়ে ওঠে, তখন অহংকারীদের এই চরম ব্যর্থতা দেখে সাধারণ মানুষ বা সময় যেন নীরব উপেক্ষায় হেসে ওঠে। এই হাসি আসলে মানুষের বৃথা অহংকারের প্রতি এক প্রচ্ছন্ন ব্যঙ্গ।

7. “মানব-হৃদয়-ভূমি করি অধিকার” – কারা, কীভাবে মানব-হৃদয় অধিকার করে?

উত্তর দেখো

উত্তর: যারা মানুষের কল্যাণে ব্রতী, যারা সমাজদরদি এবং সাধারণ মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা পোষণ করে, তারাই মানব-হৃদয় বা মানুষের মন অধিকার করে। এই অধিকার কোনো পাথরের সৌধ বা ইমারত তৈরি করে পাওয়া যায় না। নিঃস্বার্থ সেবা, দয়া, মায়া এবং মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমেই এই মানবতাবাদী মানুষেরা সাধারণ মানুষের মনে চিরস্থায়ী ভালোবাসার সিংহাসন তৈরি করে নেয়।

8. “দরিদ্র আছিল তারা; ছিল না সম্বল” – কাদের কথা বলা হয়েছে? তাদের প্রকৃত সম্বল কী ছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: এখানে সেইসব মানবদরদি ও মহান মানুষদের কথা বলা হয়েছে, যাঁরা মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে আছেন। রাজাদের মতো পাথরের বিশাল স্মৃতিসৌধ বা প্রাসাদ নির্মাণ করার মতো অর্থ বা জাগতিক সম্বল হয়তো তাদের ছিল না, তাই বাহ্যিক দৃষ্টিতে তারা ছিলেন দরিদ্র। কিন্তু তাদের অন্তরে ছিল সাধারণ মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং মানবকল্যাণের প্রবল ইচ্ছা। এই ভালোবাসাই ছিল তাঁদের সবচেয়ে বড়ো এবং প্রকৃত সম্বল।

9. “কালস্রোতে ধৌত নাম শুভ্র সমুজ্জ্বল” – কাদের নাম এবং তা কেন সমুজ্জ্বল থাকে?

উত্তর দেখো

উত্তর: যারা নিঃস্বার্থভাবে মানবকল্যাণ করেন এবং ভালোবাসার মাধ্যমে মানুষের মনে জায়গা করে নেন, এখানে তাঁদের নিষ্কলুষ নামের কথা বলা হয়েছে। অহংকারী রাজাদের পাথরের সৌধ কালের স্রোতে ধুয়ে মুছে ধ্বংস হয়ে যায়। কিন্তু এই মহান মানুষদের পুণ্য নাম কালের স্রোতে ধ্বংস না হয়ে বরং আরও বেশি পবিত্র ও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার কারণেই মহাকাল তাঁদের নাম সযত্নে রক্ষা করে।

10. ‘স্মৃতিচিহ্ন’ কবিতায় কালস্রোত বা সময়ের ভূমিকা কীভাবে তুলে ধরা হয়েছে?

উত্তর দেখো

উত্তর: এই কবিতায় কালস্রোত বা সময়কে এক অমোঘ এবং চরম বিচারক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সময়ের নিয়মে পার্থিব সম্পদ, ক্ষমতা এবং অহংকার—সব কিছুই ধ্বংস হয়ে যায়। রাজাদের তৈরি বিশাল পাথরের স্মৃতিসৌধ কালের স্রোতে ভেঙে মাটিতে মিশে যায়। কিন্তু একই কালস্রোত মানবদরদি মানুষদের সৎকর্ম ও ভালোবাসাকে ধ্বংস করতে পারে না, বরং তাঁদের নামকে আরও বেশি উজ্জ্বল করে তোলে। অর্থাৎ, কালস্রোত অহংকারকে ভাঙে এবং সত্যকে অমর করে।

11. অহংকারী রাজাদের তৈরি স্মৃতিসৌধের বর্তমান অবস্থা কেমন?

উত্তর দেখো

উত্তর: অহংকারী রাজারা ভেবেছিল তাদের তৈরি স্মৃতিসৌধ চিরকাল অটুট থাকবে। কিন্তু বর্তমানে সেই ইটের স্তূপ বা পাথরের বিশাল ইমারত ভেঙে ধুলোয় মিশে গেছে। ইমারতের পাথরগুলি খসে খসে পড়ছে এবং চারিদিকে কেবল ধ্বংসস্তূপ পড়ে রয়েছে। সেই ভগ্নস্তূপের তলায় রাজাদের অহংকার ঢাকা পড়েছে এবং তার ওপর অত্যন্ত অযত্নে শুকনো ঘাস বা শুষ্ক তৃণ গজিয়ে উঠেছে।

12. কবি কামিনী রায় মানুষের প্রকৃত অমরত্ব বলতে কী বুঝিয়েছেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: কবি কামিনী রায়ের মতে, ইট-পাথরের সৌধ নির্মাণ করে কেউ অমর হতে পারে না, কারণ তা কালের স্রোতে ধ্বংস হয়ে যায়। প্রকৃত অমরত্ব হলো মানুষের মনে চিরকাল বেঁচে থাকা। যারা নিঃস্বার্থভাবে মানুষের কল্যাণ করেন, সমাজকে ভালোবাসেন, তাঁরা সাধারণ মানুষের মনের গভীরে একটি স্থায়ী সিংহাসন লাভ করেন। মানুষের এই ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধার মাঝে বেঁচে থাকাই হলো প্রকৃত অমরত্ব।

13. “তাহাদের তলে লুপ্ত স্মৃতি।” – কীভাবে স্মৃতি লুপ্ত হয়?

উত্তর দেখো

উত্তর: ক্ষমতাদর্পী রাজারা নিজেদের নাম স্মরণীয় রাখার জন্য যেসব অট্টালিকা বা স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেছিল, কালের প্রভাবে তা ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে ভগ্নস্তূপে পরিণত হয়েছে। যেহেতু এই রাজারা মানুষের জন্য কোনো ভালো কাজ করেনি, তাই তাদের তৈরি ওই সৌধগুলো ভেঙে যাওয়ার সাথে সাথে পৃথিবীর বুক থেকে তাদের নাম, পরিচয় এবং স্মৃতিও চিরতরে হারিয়ে বা লুপ্ত হয়ে গেছে।

14. পাথরের স্মৃতিসৌধ এবং মানুষের মনের সিংহাসন – এই দুটির মধ্যে কোনটি শ্রেষ্ঠ এবং কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: এই দুটির মধ্যে মানুষের মনের সিংহাসন বা মানব-হৃদয়-ভূমি হলো সর্বশ্রেষ্ঠ। পাথরের স্মৃতিসৌধ যতই বিশাল এবং ব্যয়বহুল হোক না কেন, তা জড় বস্তু এবং কালের স্রোতে তা একদিন নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। অন্যদিকে, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও সৎকর্মের মাধ্যমে মানুষের মনে যে সিংহাসন বা স্থান তৈরি হয়, তা মহাকালের স্রোতেও অবিনশ্বর থাকে। ভালোবাসা দিয়ে তৈরি এই সিংহাসন কখনোই ধ্বংস হয় না।

15. ‘স্মৃতিচিহ্ন’ কবিতার মূল বার্তাটি সংক্ষেপে আলোচনা করো।

উত্তর দেখো

উত্তর: ‘স্মৃতিচিহ্ন’ কবিতার মূল বার্তা হলো মানুষের ক্ষমতা, অর্থ এবং অহংকার সম্পূর্ণ বৃথা। মানুষ নিজের বাহুবল বা ধনের অহংকারে ইট-পাথরের সৌধ বানিয়ে নিজেকে অমর করতে পারে না। পৃথিবীতে মানুষের একমাত্র শ্রেষ্ঠ এবং স্থায়ী পরিচয় হলো তার নিঃস্বার্থ সৎকর্ম এবং ভালোবাসা। মানুষের সেবার মাধ্যমে যারা মানব-হৃদয় জয় করতে পারে, একমাত্র তারাই কালের সীমানা পেরিয়ে পৃথিবীতে প্রকৃত অমরত্ব লাভ করে।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার