মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

সপ্তম শ্রেণি: বাংলা, বইটই – অচিন্ত্য কুমার সেনগুপ্ত, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

অধ্যায়: বইটই
(সংক্ষিপ্ত / ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 2)

নিচের প্রশ্নগুলির প্রাসঙ্গিক ও বিস্তারিত উত্তর দাও:

1. ‘বইটই’ প্রবন্ধে ‘বই’ শব্দের সঙ্গে ‘টই’ যুক্ত করার তাৎপর্য কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: লেখক অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত ‘বইটই’ বলতে কেবল ছাপার অক্ষরের বইকে বোঝাননি। ‘টই’ শব্দটি হলো বই পড়ার আনুষঙ্গিক আনন্দ, পরিবেশ, নতুন বইয়ের গন্ধ এবং পড়ার স্বতঃস্ফূর্ত নেশার দ্যোতক। অর্থাৎ, একটি বই পড়ার সময় পাঠকের মনে যে অনুভূতির জগৎ তৈরি হয়, তাকে সম্পূর্ণতা দিতেই লেখক ‘বইটই’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন।

2. লেখক কেন বইকে মানুষের ‘নিঃসঙ্গতার সঙ্গী’ বা ‘কথা-বলা বন্ধু’ বলেছেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: মানুষের জীবনের নিঃসঙ্গ বা একাকী মুহূর্তগুলোতে যখন চারপাশে কথা বলার মতো কেউ থাকে না, তখন বই-ই হয়ে ওঠে পরম বিশ্বস্ত বন্ধু। বইয়ের পাতার মধ্যে দিয়ে লেখক যেন পাঠকের সাথে সরাসরি কথা বলেন। বই মানুষের নিঃসঙ্গতা দূর করে তাকে এক নতুন ও আনন্দময় জগতে নিয়ে যায় বলেই লেখক বইকে কথা-বলা বন্ধু বলেছেন।

3. পরীক্ষার পড়া এবং গল্পের বই পড়ার মধ্যে লেখক কী মূল পার্থক্য দেখিয়েছেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: লেখকের মতে, পরীক্ষার পড়া হলো এক ধরনের বাধ্যবাধকতা; যা পাশ করার জন্য বা ডিগ্রি লাভের উদ্দেশ্যে জোড় করে গিলতে হয়। এর মধ্যে কোনো স্বতঃস্ফূর্ততা নেই। কিন্তু নিজের আনন্দের জন্য গল্পের বা সাহিত্যের বই পড়া হলো সম্পূর্ণ স্বাধীন ও স্বতঃস্ফূর্ত। এই পড়া মনের তৃপ্তি মেটায় এবং স্থায়ী জ্ঞান দান করে।

4. ভ্রমণকাহিনি ও ইতিহাসের বই আমাদের কী কী আনন্দ দেয়?

উত্তর দেখো

উত্তর: ভ্রমণকাহিনি আমাদের ঘরের আরামদায়ক পরিবেশে বসেই মানসিকভাবে দূর-দূরান্তের অজানা দেশ ও ভূখণ্ডে ঘুরিয়ে আনে। অন্যদিকে, ইতিহাসের বই আমাদের টাইম-মেশিনের মতো অতীতে নিয়ে যায় এবং মৃত সভ্যতা ও সেকালের মানুষদের সাথে প্রত্যক্ষ পরিচয় করায়। দুটি বই-ই অজানাকে জানার আনন্দ দেয়।

5. লাইব্রেরিকে বা গ্রন্থাগারকে লেখক ‘মহতী মিলনক্ষেত্র’ বলেছেন কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: লাইব্রেরিতে দেশ-বিদেশ, অতীত-বর্তমান সব যুগের শ্রেষ্ঠ মানুষেরা তাঁদের রচিত বইয়ের রূপ ধরে শান্তিতে অবস্থান করেন। এখানে কোনো দেশ বা কালের ভেদাভেদ নেই। লাইব্রেরিতে গেলে পাঠকের মনে হয় যেন সে বিশ্বমানবের এক মহামিলন তীর্থে এসে উপস্থিত হয়েছে। এই বিশ্বজনীন রূপের জন্যই একে ‘মহতী মিলনক্ষেত্র’ বলা হয়েছে।

6. বিজ্ঞানের বই এবং কবিতার বইয়ের পড়ার অনুভূতির পার্থক্য কোথায়?

উত্তর দেখো

উত্তর: বিজ্ঞানের বই পড়ার মাধ্যমে আমরা বিশ্বরহস্য ভেদ করতে শিখি; এটি আমাদের মনকে কুসংস্কারমুক্ত ও যুক্তিবাদী করে তোলে। অন্যদিকে, কবিতার বই সরাসরি আমাদের হৃদয়ে আবেদন করে; এটি মনের সূক্ষ্ম অনুভূতি, অকৃত্রিম আবেগ এবং কল্পনাপ্রবণ সত্তাকে জাগিয়ে তোলে।

7. “আমরা বিশ্বসভ্যতার সঞ্চিত জ্ঞানের উত্তরাধিকারী” — লেখক কীভাবে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: যুগ যুগ ধরে মানুষ যা কিছু শিখেছে, আবিষ্কার করেছে বা ভেবেছে, তার সবকিছুই বইয়ের পাতায় যত্ন করে লিপিবদ্ধ আছে। পূর্বপুরুষদের এই বিপুল অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের ভাণ্ডার আমরা একমাত্র বই পড়ার মাধ্যমেই সহজে অর্জন করতে পারি। তাই লেখক মনে করেন, বই-ই আমাদের বিশ্বসভ্যতার উত্তরাধিকারী করে তোলে।

8. ডিকশনারি বা অভিধান পড়ার মধ্যে লেখক কী অদ্ভুত আনন্দ খুঁজে পেয়েছেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: সাধারণ মানুষ ডিকশনারিকে কেবল শব্দের অর্থ খোঁজার একটি শুষ্ক বই মনে করলেও, লেখক এর মধ্যে এক অন্যরকম আনন্দ পেতেন। ডিকশনারির পাতা উলটে তিনি শব্দের জন্ম-ইতিহাস, ভাষার বিচিত্র রূপ এবং শব্দের পিছনের রহস্য খোঁজার এক অদ্ভুত রোমাঞ্চ লাভ করতেন।

9. নতুন বইয়ের গন্ধ সম্পর্কে লেখকের নিজস্ব অনুভূতি কেমন ছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: লেখকের মতে, ছাপাখানা থেকে সদ্য বের হওয়া নতুন বইয়ের পাতার একটা নিজস্ব অদ্ভুত গন্ধ আছে। এই গন্ধ পাঠককে গভীরভাবে আকর্ষণ করে। নতুন বই হাতে নিয়ে তার গন্ধ শোঁকার মধ্যেই এক অনাবিল আনন্দ লুকিয়ে থাকে, যা বই পড়ার নেশা ও আগ্রহকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

10. ‘বইটই’ প্রবন্ধটির মূল সুর বা বার্তাটি সংক্ষেপে কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: প্রবন্ধটির মূল বার্তা হলো বইয়ের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং আনন্দের জন্য গ্রন্থপাঠের উপযোগিতা। মানুষের মানসিক বিকাশ, নিঃসঙ্গতা দূরীকরণ এবং বিশ্বজ্ঞানের অধিকারী হতে গেলে সিলেবাসের বাইরে গিয়ে নিজের আনন্দের জন্য বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার