মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

সপ্তম শ্রেণি: বাংলা, নোটবই – সুকুমার রায়, রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর

অধ্যায়: নোট বই
(দীর্ঘ / রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর – মান: 4)

নিচের প্রশ্নগুলির প্রাসঙ্গিক ও বিস্তারিত উত্তর দাও:

1. ‘নোট বই’ কবিতার নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।

উত্তর দেখো

উত্তর: সাহিত্যের নামকরণের মধ্য দিয়ে রচনার মূল ভাবটি প্রকাশ পায়। শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় রচিত কবিতাটির ‘নোট বই’ নামকরণটি সম্পূর্ণ সার্থক। কারণ, কবিতার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটি নোট বই বা খাতার কথাই বলা হয়েছে। বক্তা একটি নোট বই নিজের কাছে রাখেন এবং যখনই কোনো ‘ভালো কথা’ শোনেন, তা লিখে নেন। এছাড়া ফড়িঙের কটা ঠ্যাঙ, আরশোলা কী খায়, গোরুকে কাতুকুতু দিলে সে কেন ছটফট করে—এমন অসংখ্য উদ্ভট ও অর্থহীন প্রশ্ন তিনি ওই নোট বইতেই লিখে রাখেন। বক্তার জীবনের সমস্ত কৌতূহল এবং জ্ঞান ওই নোট বইটিকে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে। তাই বিষয়বস্তুর সঙ্গে সাযুজ্য রেখে ‘নোট বই’ নামকরণটি অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত ও সার্থক হয়েছে।

2. ‘নোট বই’ কবিতায় বক্তার চরিত্রের কোন্ দিকটি ফুটে উঠেছে তা নিজের ভাষায় লেখো।

উত্তর দেখো

উত্তর: সুকুমার রায়ের ‘নোট বই’ কবিতায় বক্তা হলেন একজন অদ্ভুত স্বভাবের কৌতূহলী মানুষ। তিনি সব সময় পকেটে একটি নোট বই ও পেনসিল রাখেন। কেউ কোনো ভালো কথা বললে তিনি যেমন তা টুকে নেন, তেমনি নিজের মনে জাগা নানা উদ্ভট প্রশ্নও সেখানে লিখে রাখেন। তাঁর প্রশ্নগুলির মধ্যে কোনো যুক্তি বা বিজ্ঞান নেই। ফড়িঙের কটা পা, আঙুলে আঠা দিলে কেন চটচট করে, লঙ্কায় কেন ঝাল—এমন সব অবান্তর বিষয় নিয়ে তিনি মাথা ঘামান। এর থেকে বোঝা যায় যে, বক্তা নিজেকে খুব জ্ঞানী মনে করলেও আসলে তিনি বোকা এবং তাঁর কৌতূহলগুলি নিতান্তই শিশুসুলভ ও অর্থহীন। তিনি এমন এক শ্রেণির মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন, যাঁরা নকল জ্ঞানের অহংকার করেন।

3. “বলবে কি, তোমরাও নোট বই পড়োনি” – বক্তা কাদের উদ্দেশে এ কথা বলেছেন? তাঁর এমন মন্তব্যের কারণ কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: উদ্ধৃত কথাটি বক্তা কবিতার পাঠক বা শ্রোতাদের উদ্দেশে বলেছেন।
বক্তা তাঁর নোট বইটিতে পৃথিবীর সমস্ত অদ্ভুত এবং অবান্তর প্রশ্ন ও তার উত্তর লিখে রেখেছেন। তাঁর মতে, ওই নোট বইটি হলো জ্ঞানের এক অমূল্য ভাণ্ডার। তিনি পাঠকদের জিজ্ঞাসা করেছেন যে লঙ্কায় ঝাল কেন, তেজপাতে তেজ কেন অথবা পিলে কেন চমকায়। বক্তার ধারণা, এই অদ্ভুত প্রশ্নগুলির উত্তর সাধারণ মানুষের জানা নেই। আর যেহেতু তারা উত্তর দিতে পারবে না, তাই বক্তা অত্যন্ত অহংকারের সঙ্গে ব্যঙ্গ করে ধরে নেবেন যে তারা তাঁর মতো এমন মহামূল্যবান ‘নোট বই’ কখনো পড়েনি। নিজের নকল জ্ঞানের বড়াই করার জন্যই তিনি এই মন্তব্য করেছেন।

4. ‘নোট বই’ কবিতায় কবি কীভাবে হাস্যরস ও ব্যঙ্গ ফুটিয়ে তুলেছেন তা আলোচনা করো।

উত্তর দেখো

উত্তর: ‘নোট বই’ কবিতাটি সুকুমার রায়ের একটি অনবদ্য হাসির কবিতা। কবিতায় বক্তার অদ্ভুত আচরণ এবং উদ্ভট প্রশ্নগুলিই মূলত হাস্যরসের সৃষ্টি করেছে। গোরুকে কাতুকুতু দিলে ছটফট করা, ঘুমালে নাক ডাকা কিংবা আঙুলে আঠা দিলে চটচট করা—এই অত্যন্ত সাধারণ বিষয়গুলি নিয়ে বক্তার মাত্রাতিরিক্ত কৌতূহল পাঠকদের মনে নির্মল হাসির উদ্রেক করে।
তবে এই হাসির আড়ালে একটি প্রচ্ছন্ন ব্যঙ্গও লুকিয়ে আছে। সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন যাঁরা আসল জ্ঞান অর্জনের পরিবর্তে অবান্তর এবং অপ্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে মাথা ঘামান এবং নিজেদের খুব পণ্ডিত বলে মনে করেন। নোট বইয়ের বক্তার মধ্য দিয়ে কবি আসলে সেইসব নকল বিদ্যাভিমানী মানুষদেরই ব্যঙ্গ করেছেন।

5. বক্তা তাঁর নোট বইয়ে কী কী ধরনের প্রশ্ন লিখে রেখেছিলেন? এই প্রশ্নগুলি সম্পর্কে তোমার মতামত কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: বক্তা তাঁর নোট বইয়ে দৈনন্দিন জীবনের নানা উদ্ভট ও অবান্তর প্রশ্ন লিখে রেখেছিলেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—কীটে কামড়ালে কী করতে হয়, ফড়িঙের কটা পা, আরশোলা কী কী খায়, আঙুলে আঠা দিলে কেন চটচট করে এবং গোরুকে কাতুকুতু দিলে কেন ছটফট করে। এছাড়া লঙ্কায় ঝাল কেন, তেজপাতে তেজ কেন, পিলে কেন চমকায় এবং অরণি কাকে বলে—এমন প্রশ্নও তিনি লিখেছিলেন।
আমার মতে, এই প্রশ্নগুলির কোনো শিক্ষামূলক বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এগুলি নেহাতই এক খেয়ালি মনের উদ্দেশ্যহীন চিন্তার ফসল। প্রকৃতির সাধারণ নিয়মগুলিকে প্রশ্ন করে বক্তা নিজের অজ্ঞতা এবং বোকামিরই পরিচয় দিয়েছেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার