সপ্তম শ্রেণি: বাংলা, ভানুসিংহের পত্রাবলী – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
অধ্যায়: ভানুসিংহের পত্রাবলী
(সংক্ষিপ্ত / ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 2)
নিচের প্রশ্নগুলির প্রাসঙ্গিক ও বিস্তারিত উত্তর দাও:
1. ‘ভানুসিংহের পত্রাবলী’ পাঠ্যাংশে উল্লেখিত প্রথম চিঠিতে শান্তিনিকেতনের বর্ষার কীরূপ বর্ণনা রয়েছে?
উত্তর দেখো
উত্তর: শান্তিনিকেতন থেকে লেখা প্রথম চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেখানকার বর্ষার এক উন্মুক্ত ও সজীব চিত্র তুলে ধরেছেন। সেখানে বিশাল প্রান্তরের ওপর দিয়ে যখন ঘন কালো বা শ্যামল রঙের মেঘ ঘনিয়ে আসে, তখন সমস্ত আকাশ এক অপূর্ব গাম্ভীর্যে ভরে ওঠে। বৃষ্টি নামলে শান্তিনিকেতনের সেই বিশাল মাঠের যেখানে-সেখানে ছোটো ছোটো দিঘির মতো জল জমে যায় এবং চারদিক এক অপরূপ স্নিগ্ধতায় সেজে ওঠে।
2. কলকাতার বর্ষাকে কবির ‘শ্রীহীন’ ও ‘বন্দি’ মনে হওয়ার কারণ কী?
উত্তর দেখো
উত্তর: বর্ষা হলো উন্মুক্ত প্রকৃতির এক বিশাল ও স্বাধীন রূপ। কিন্তু কলকাতা শহরে বড়ো বড়ো বাড়ি বা ইমারতের ভিড়ে খোলা আকাশ দেখাই যায় না। সেখানে বৃষ্টি নামলে ধুলোর বদলে চারদিকের রাস্তাঘাট কাদায় এবং নোংরা জলে ভরে গিয়ে অত্যন্ত অপরিষ্কার হয়ে ওঠে। প্রকৃতির এই আবদ্ধ ও মলিন রূপ দেখার ফলেই কলকাতার বর্ষাকে কবির অত্যন্ত শ্রীহীন এবং বন্দি মনে হয়েছে।
3. “এখানকার বর্ষাকাল সে বর্ষাকাল নয়” – এখানকার এবং সেখানকার বর্ষার বৈপরীত্য বুঝিয়ে দাও।
উত্তর দেখো
উত্তর: এখানে ‘এখানকার’ বলতে কলকাতার এবং ‘সেখানকার’ বলতে শান্তিনিকেতনের বর্ষাকালের কথা বলা হয়েছে। শান্তিনিকেতনের বর্ষা হলো উন্মুক্ত আকাশের নিচে বিশাল প্রান্তরে মেঘ ও বৃষ্টির এক স্বাধীন, সজীব ও আনন্দদায়ক খেলা। এর বিপরীতে কলকাতার বর্ষা হলো চারপাশের ইটের খাঁচায় বন্দি, যেখানে আকাশ দেখা যায় না এবং বৃষ্টি কেবলই রাস্তাঘাটে কাদা ও নোংরা জলের সৃষ্টি করে।
4. কবি কলকাতার বাড়িগুলিকে কীসের সঙ্গে তুলনা করেছেন এবং কেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চিঠিতে কলকাতার বড়ো বড়ো বাড়িগুলিকে ‘ইটের খাঁচা’ বা ‘ইটের জঙ্গল’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। খাঁচার মধ্যে যেমন পাখি বন্দি থাকে এবং বাইরের আকাশ দেখতে পায় না, তেমনি কলকাতার এই উঁচু উঁচু দেওয়ালের মাঝে মানুষের মনও বন্দি হয়ে পড়ে। আকাশের আলো-বাতাস বা প্রকৃতির উন্মুক্ত রূপ সেখানে ঠিকমতো পৌঁছায় না বলেই কবি এমন তুলনা করেছেন।
5. শান্তিনিকেতনের মেঘলা আকাশের যে রূপ কবির চোখে ধরা পড়েছে, তা নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর দেখো
উত্তর: শান্তিনিকেতনে বর্ষার মেঘলা আকাশ এক অপরূপ সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে বসে। শান্তিনিকেতনের অবারিত ও উন্মুক্ত প্রান্তরের ওপর দিয়ে যখন ঘন কালো বা শ্যামল রঙের মেঘ ঘনিয়ে আসে, তখন আকাশ যেন তার বিশালত্ব নিয়ে পৃথিবীর ওপর ঝুঁকে পড়ে। মেঘের সেই গুরুগম্ভীর এবং শান্ত রূপটি শান্তিনিকেতনের অসীম প্রান্তরের সঙ্গে মিশে গিয়ে কবির মনে এক অদ্ভুত প্রশান্তির জন্ম দেয়।
6. “ইটের খাঁচার মধ্যে কি বর্ষা মানায়?” – উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর দেখো
উত্তর: বর্ষা হলো প্রকৃতির এক বিশাল, স্বাধীন এবং উন্মুক্ত রূপের প্রকাশ। বৃষ্টি, কালো মেঘ এবং দিগন্তবিস্তৃত মাঠের মধ্যেই বর্ষার আসল সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। কিন্তু কলকাতার মতো যান্ত্রিক শহরে যেখানে শুধু বড়ো বড়ো ইমারত এবং রাস্তাঘাট, সেখানে আকাশটাই ভালো করে দেখা যায় না। প্রকৃতির এই বিশাল রূপ চার দেওয়ালের আবদ্ধ খাঁচায় কখনোই মানানসই হতে পারে না, উক্তিটির মধ্য দিয়ে কবির এই আক্ষেপই প্রকাশ পেয়েছে।
7. “আমার মনটা কেমন যেন ছটফট করতে থাকে” – কবির মন ছটফট করে কেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আদ্যোপান্ত একজন প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ। কাজের প্রয়োজনে কলকাতায় থাকলেও তাঁর মন সবসময় প্রকৃতির মুক্ত অঙ্গনে পড়ে থাকে। কলকাতার ইট-কাঠের আবদ্ধ ও কদর্য পরিবেশে যখন তিনি বর্ষার প্রকৃত রূপ দেখতে পান না, তখন তাঁর মন যেন খাঁচায় বন্দি পাখির মতো ছটফট করতে থাকে। তিনি অবিলম্বে শান্তিনিকেতনের সেই খোলা প্রান্তর, কালো মেঘ এবং বৃষ্টির মাঝে ফিরে যাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেন।
8. কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চিঠিগুলিতে কাদের উদ্দেশ্য করে তাঁর মনের ভাব প্রকাশ করেছেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর জীবনের বিভিন্ন সময়ে শান্তিনিকেতনের আশ্রমের ছাত্রছাত্রী, নিজের আত্মীয়স্বজন এবং বিভিন্ন গুণগ্রাহীদের অসংখ্য চিঠি লিখতেন। ‘ভানুসিংহের পত্রাবলী’-তে সংকলিত এই চিঠিগুলি মূলত তিনি তাঁর অন্যতম স্নেহভাজন রানু অধিকারী (পরবর্তীকালে রানু মুখোপাধ্যায়)-কে উদ্দেশ্য করে লিখেছিলেন। এই চিঠিগুলির মধ্য দিয়েই তিনি প্রকৃতির প্রতি তাঁর অসীম মুগ্ধতা ও ভালোবাসার কথা প্রকাশ করেছেন।
9. ‘ভানুসিংহের পত্রাবলী’ রচনায় প্রকৃতির প্রতি কবির ভালোবাসার দিকটি কীভাবে ফুটে উঠেছে?
উত্তর দেখো
উত্তর: চিঠি দুটির পরতে পরতে প্রকৃতির প্রতি কবির এক অকৃত্রিম এবং গভীর টান প্রকাশ পেয়েছে। শহরের কৃত্রিম আরামদায়ক জীবন এবং বড়ো বড়ো ইমারত কবিকে আকৃষ্ট করতে পারেনি, বরং তা তাঁর কাছে বন্দিদশা বলে মনে হয়েছে। এর বিপরীতে শান্তিনিকেতনের বিশাল প্রান্তর, ঘন কালো মেঘ এবং বৃষ্টিভেজা মাঠের সামান্য প্রাকৃতিক দৃশ্যও তাঁর মনে যে অসীম আনন্দের ঢেউ তুলেছে, তা থেকেই প্রকৃতির প্রতি তাঁর প্রগাঢ় ভালোবাসার প্রমাণ পাওয়া যায়।
10. শান্তিনিকেতনের মাঠে বৃষ্টি পড়ার দৃশ্যটি কবি কীভাবে চিঠিতে ফুটিয়ে তুলেছেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: শান্তিনিকেতনে যখন বৃষ্টি নামে, তখন আকাশের বিশালতা যেন সরাসরি মাটির সঙ্গে মিশে যায়। অবারিত খোলা প্রান্তরের ওপর অঝোরে বৃষ্টি ঝরে। মাঠের মধ্যে ছোটো ছোটো গর্ত বা নিচু জায়গাগুলোতে বৃষ্টির জল জমে গিয়ে একেবারে দিঘির মতো রূপ ধারণ করে। মেঘ আর বৃষ্টির সেই অপরূপ মেলবন্ধনে শান্তিনিকেতনের মাঠ এক স্নিগ্ধ, সজীব ও মায়াবী রূপ পায় বলে কবি বর্ণনা করেছেন।
11. বর্ষাকালে কলকাতার রাস্তাঘাটের অবস্থা কেমন হয় বলে কবি চিঠিতে জানিয়েছেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: কবি জানিয়েছেন যে, অন্যান্য সময়ে কলকাতার রাস্তায় প্রচুর ধুলো ওড়ে। কিন্তু বর্ষাকালে বৃষ্টি হলে সেই ধুলো আর থাকে না, তার বদলে চারদিকের রাস্তাঘাট কাদায় এবং নোংরা জলে ভরে যায়। বর্ষার এই আবিলতা এবং কাদা-জলে পূর্ণ রূপ কলকাতার শ্রী বা সৌন্দর্যকে পুরোপুরি নষ্ট করে দেয়, যা কবির মনে গভীর বিরক্তি ও বিষণ্ণতার সৃষ্টি করে।
12. দ্বিতীয় চিঠির শেষে কবি কোথায় ফিরে যাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়েছেন এবং কেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: দ্বিতীয় চিঠির শেষে কবি কলকাতার আবদ্ধ, কাদাময় ও শ্রীহীন পরিবেশ থেকে মুক্তি পেয়ে শান্তিনিকেতনের কোলে ফিরে যাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়েছেন। কারণ, শান্তিনিকেতনের সেই মুক্ত আকাশ, কালো মেঘ, বৃষ্টিভেজা প্রান্তর এবং প্রকৃতির অবারিত স্বাধীনতা কবির আত্মাকে শান্তি দেয়, যা কলকাতার ইটের খাঁচায় বন্দি অবস্থায় কোনোভাবেই পাওয়া সম্ভব নয়।