মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

দশম শ্রেণী: আঞ্চলিক ভূগোল অধ্যায় ৫ – ভারত

বিভাগ-ঘ: বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন ও বিস্তারিত সমাধান (পর্ব-১)

বিষয়: ভূগোল | অধ্যায়: ভারত (প্রাকৃতিক) | প্রশ্ন সংখ্যা: ১-১৬ | পূর্ণমান:


১. উত্তর ভারতের নদনদী ও দক্ষিণ ভারতের নদনদীর মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো। [মাধ্যমিক ২০১৭, ২০১৯]

উত্তর:

বিষয়উত্তর ভারতের নদীদক্ষিণ ভারতের নদী
১. উৎসবরফগলা জল বা হিমবাহ থেকে সৃষ্টি হয়।বৃষ্টির জল বা ঝরনা থেকে সৃষ্টি হয়।
২. প্রবাহএরা নিত্যবহ (সারা বছর জল থাকে)।এরা অনিত্যবহ (গ্রীষ্মকালে জল শুকিয়ে যায় বা কমে যায়)।
৩. নাব্যসমভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এরা নাব্য।বন্ধুর মালভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এরা নাব্য নয়।

২. ভারতীয় জনজীবনে হিমালয় পর্বতের তিনটি গুরুত্ব আলোচনা করো।

উত্তর:

  • জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ: হিমালয় উত্তরের অতিশীতল সাইবেরীয় বায়ুকে ভারতে প্রবেশ করতে বাধা দেয় এবং দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুকে বাধা দিয়ে ভারতে বৃষ্টিপাত ঘটায়।
  • নদীর উৎস: গঙ্গা, সিন্ধু, ব্রহ্মপুত্রের মতো বিশাল নদনদীগুলির উৎস হলো হিমালয়ের হিমবাহ, যা সারা বছর জলের জোগান দেয়।
  • প্রতিরক্ষা: উত্তর সীমান্তে সুউচ্চ প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে থেকে এটি ভারতকে বৈদেশিক আক্রমণ থেকে রক্ষা করে।

৩. পশ্চিমঘাট পর্বতমালা ও পূর্বঘাট পর্বতমালার মধ্যে পার্থক্য লেখো।

উত্তর:

বিষয়পশ্চিমঘাট পর্বতপূর্বঘাট পর্বত
১. অবস্থানআরব সাগরের তীর বরাবর অবিচ্ছিন্নভাবে বিস্তৃত।বঙ্গোপসাগরের তীর বরাবর বিচ্ছিন্নভাবে বিস্তৃত।
২. উচ্চতাএর উচ্চতা অনেক বেশি (গড় ১২০০ মি)।এর উচ্চতা তুলনামূলক কম (গড় ৬০০ মি)।
৩. বিচ্ছিন্নতাগিরিপথ ছাড়া এটি প্রায় নিরবচ্ছিন্ন।মহানদী, গোদাবরী, কৃষ্ণা, কাবেরী নদী দ্বারা এটি বিচ্ছিন্ন।

৪. নর্মদা ও তাপ্তী নদী পশ্চিমবাহিনী কেন?

উত্তর:
ভারতের অধিকাংশ নদী পূর্বদিকে প্রবাহিত হলেও নর্মদা ও তাপ্তী ব্যতিক্রম। কারণ:

  • গ্রস্ত উপত্যকা: ভূ-আন্দোলনের ফলে দাক্ষিণাত্য মালভূমিতে ফাটল বা গ্রস্ত উপত্যকার (Rift Valley) সৃষ্টি হয়। এই উপত্যকার ঢাল পূর্ব থেকে পশ্চিমে।
  • ঢাল অনুসরণ: নর্মদা ও তাপ্তী নদী এই গ্রস্ত উপত্যকার ঢাল অনুসরণ করেই ভারতের পশ্চিমদিকে প্রবাহিত হয়ে আরব সাগরে পড়েছে।

৫. বহুমুখী নদী পরিকল্পনার (Multipurpose River Project) তিনটি উদ্দেশ্য লেখো। [মাধ্যমিক ২০১৮]

উত্তর:
নদীর ওপর বাঁধ দিয়ে যে পরিকল্পনার মাধ্যমে একাধিক উদ্দেশ্য সাধন করা হয়, তার লক্ষ্যগুলি হলো:

  • ১. জলসেচ ও কৃষি: শুষ্ক ঋতুতে জমিতে জলসেচ করে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করা।
  • ২. বন্যা নিয়ন্ত্রণ: বর্ষাকালে অতিরিক্ত জল ধরে রেখে বন্যার প্রকোপ কমানো।
  • ৩. জলবিদ্যুৎ উৎপাদন: বাঁধের জমা জলকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব জলবিদ্যুৎ তৈরি করা।

৬. ভারতের জলবায়ুতে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব আলোচনা করো। (৩টি পয়েন্ট)

উত্তর:

  • বৃষ্টিপাত: ভারতের মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৯০% দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ঘটে। এটিই ভারতের কৃষি ও অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।
  • ঋতু পরিবর্তন: মৌসুমি বায়ুর আগমন (বর্ষা) এবং প্রত্যাগমন (শীত)-এর ওপর ভিত্তি করেই ভারতের ঋতুচক্র আবর্তিত হয়।
  • উষ্ণতা হ্রাস: গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহের পর মৌসুমি বৃষ্টিপাত ভারতের তাপমাত্রাকে কমিয়ে আরামদায়ক করে তোলে।

৭. করমণ্ডল উপকূলে বছরে দুবার বৃষ্টিপাত হয় কেন? [মাধ্যমিক ২০২০]

উত্তর:
তামিলনাড়ুর করমণ্ডল উপকূলে দুবার বর্ষাকাল দেখা যায়:

  • ১. গ্রীষ্মকালে: দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর বঙ্গোপসাগরীয় শাখা এখানে গ্রীষ্মকালে বা বর্ষাকালে একবার বৃষ্টিপাত ঘটায়।
  • ২. শীতকালে: প্রত্যাগমনকারী মৌসুমি বায়ু বা উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু ফেরার পথে বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করে এবং করমণ্ডল উপকূলে বাধা পেয়ে শীতকালে দ্বিতীয়বার বৃষ্টিপাত ঘটায়।

৮. মৃত্তিকা ক্ষয়ের তিনটি কারণ সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর:

  • বৃক্ষচ্ছেদন: গাছের শিকড় মাটিকে আঁকড়ে ধরে রাখে। নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে মাটি আলগা হয়ে যায় এবং সহজেই ধুয়ে যায়।
  • অবৈজ্ঞানিক কৃষি: পাহাড়ি ঢালে ধাপ না কেটে চাষ করা বা ঝুম চাষের ফলে মাটি আলগা হয়ে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
  • অতিপশুচারণ: গবাদি পশুর অতিরিক্ত চারণে মাটির ওপরের ঘাসের আস্তরণ নষ্ট হয়ে যায়, ফলে বৃষ্টির জল সরাসরি মাটিতে আঘাত করে ক্ষয় ঘটায়।

৯. মৃত্তিকা সংরক্ষণের তিনটি উপায় লেখো। [মাধ্যমিক ২০১৯]

উত্তর:

  • ১. বনসৃজন: বেশি করে গাছ লাগালে শিকড় মাটিকে শক্ত করে ধরে রাখে এবং ক্ষয় রোধ করে।
  • ২. ধাপ চাষ (Terrace Farming): পাহাড়ি ঢাল কেটে সিঁড়ির মতো ধাপ তৈরি করে চাষ করলে জলের গতি কমে এবং মাটি ক্ষয় কম হয়।
  • ৩. ফালি চাষ (Strip Cropping): ঢালু জমিতে আড়াআড়িভাবে ফালি তৈরি করে শস্য রোপণ করলে প্রবাহমান জল বাধা পায়।

১০. কৃষ্ণ মৃত্তিকা বা রেগুর কার্পাস চাষের পক্ষে উপযুক্ত কেন?

উত্তর:

  • জলধারণ ক্ষমতা: কৃষ্ণ মৃত্তিকার জলধারণ ক্ষমতা অত্যন্ত বেশি, যা তুলা গাছের বৃদ্ধির জন্য জরুরি।
  • খনিজ উপাদান: ব্যাসল্ট শিলা থেকে গঠিত হওয়ায় এই মাটিতে চুন, পটাশ, ম্যাগনেসিয়াম ও অ্যালুমিনিয়াম কার্বোনেট প্রচুর পরিমাণে থাকে, যা কার্পাস চাষের জন্য আদর্শ।
  • ছিদ্রযুক্ততা: শুকিয়ে গেলে এই মাটিতে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়, যার ফলে মাটিতে বাতাস চলাচল বা বায়ুচলাচল (Aeration) ভালো হয়।

১১. সামাজিক বনসৃজন (Social Forestry) ও কৃষি বনসৃজনের (Agro-forestry) পার্থক্য লেখো।

উত্তর:

বিষয়সামাজিক বনসৃজনকৃষি বনসৃজন
১. স্থানরাস্তার ধার, পতিত জমি বা রেললাইনের পাশে করা হয়।কৃষকের নিজস্ব কৃষি জমিতে ফসলের সাথে করা হয়।
২. উদ্দেশ্যপরিবেশ রক্ষা ও সমাজের চাহিদা মেটানো।কৃষকের ব্যক্তিগত আয় বৃদ্ধি ও ভূমির বহুমুখী ব্যবহার।

১২. ম্যানগ্রোভ বা লবণাম্বু উদ্ভিদের অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর:
লবণাক্ত ও কর্দমাক্ত মাটিতে বাঁচার জন্য ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য দেখা যায়:

  • শ্বাসমূল (Pneumatophore): মাটির নিচে অক্সিজেনের অভাব থাকায় মূলগুলি মাটির ওপরে উঠে এসে বাতাস থেকে অক্সিজেন নেয়।
  • ঠেসমূল (Stilt root): নরম কাদায় গাছকে সোজা রাখতে কাণ্ড থেকে ঠেসমূল বের হয়।
  • জরায়ুজ অঙ্কুরোদ্গম: লবণাক্ত জলে বীজ যাতে নষ্ট না হয়, তাই ফলের মধ্যেই বীজের অঙ্কুরোদ্গম ঘটে (যেমন- রাইজোফোরা)।

১৩. খাদার (Khadar) ও ভাঙর (Bhangar)-এর পার্থক্য লেখো।

উত্তর:

বিষয়খাদারভাঙর
১. প্রকৃতিনদীর তীরবর্তী নবীন পলিমাটি।নদী থেকে দূরবর্তী প্রাচীন পলিমাটি।
২. উর্বরতাএটি অত্যন্ত উর্বর ও কৃষির উপযোগী।এটি কম উর্বর এবং এতে কাঁকর বা চুনজাতীয় পদার্থ থাকে।
৩. বন্যাপ্রতি বছর বন্যার জল এখানে পৌঁছায়।বন্যার জল এখানে পৌঁছাতে পারে না।

১৪. তামিলনাড়ু রাজ্যে জল সংরক্ষণের পদ্ধতিগুলি লেখো।

উত্তর:
বৃষ্টির জল সংরক্ষণে তামিলনাড়ু ভারতের অগ্রণী রাজ্য।

  • এখানে প্রতিটি বাড়িতে ছাদের জল পাইপের মাধ্যমে ধরে রাখার ব্যবস্থা (Rooftop Rainwater Harvesting) আইনত বাধ্যতামূলক।
  • রাস্তা ও ফাঁকা জায়গার জল ভূগর্ভস্থ ট্যাঙ্কে জমা করা হয়।
  • প্রাচীন পুকুর ও এরি (Eri) গুলি সংস্কার করে জল ধরে রাখা হয়।

১৫. ডেকান ট্র্যাপ (Deccan Trap) অঞ্চলটি কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে?

উত্তর:
ক্রিটেসাস যুগে ভূ-গর্ভস্থ ম্যাগমা বা লাভা বিদার অগ্ন্যুৎপাতের মাধ্যমে বেরিয়ে এসে দাক্ষিণাত্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। কালক্রমে এই লাভা জমাট বেঁধে কঠিন ব্যাসল্ট শিলা গঠিত হয়। আবহবিকার ও ক্ষয়ের ফলে এই মালভূমির পাশগুলো সিঁড়ির মতো ধাপযুক্ত দেখায় বলে একে ডেকান ট্র্যাপ (Trap = সিঁড়ি) বলা হয়।

১৬. পশ্চিমী ঝঞ্ঝা (Western Disturbance) ভারতের জলবায়ুকে কীভাবে প্রভাবিত করে?

উত্তর:
শীতকালে ভূমধ্যসাগর থেকে আগত নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাতের প্রভাবে উত্তর-পশ্চিম ভারতে (পাঞ্জাব, হরিয়ানা, কাশ্মীর) আকাশ মেঘলা থাকে এবং হালকা বৃষ্টিপাত হয়। হিমালয় অঞ্চলে তুষারপাত হয়।

  • এটি শীতকালীন শুষ্ক ও শান্ত আবহাওয়াকে বিঘ্নিত করে।
  • এই সামান্য বৃষ্টিপাত রবি শস্য বিশেষ করে গম চাষের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

বিভাগ-ঘ: বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন ও বিস্তারিত সমাধান (পর্ব-২)

বিষয়: ভূগোল | অধ্যায়: ভারত (অর্থনৈতিক) | প্রশ্ন সংখ্যা: ১৭-৩২ | পূর্ণমান:


১৭. ভারতীয় কৃষিতে সবুজ বিপ্লবের (Green Revolution) সুফল বা প্রভাব আলোচনা করো।

উত্তর:
১৯৬০-এর দশকে ভারতে উন্নত বীজ, সার ও জলসেচ ব্যবহারের ফলে কৃষিতে যে আমূল পরিবর্তন আসে, তাকে সবুজ বিপ্লব বলে। এর সুফল:

  • উৎপাদন বৃদ্ধি: খাদ্যশস্য, বিশেষ করে গমের উৎপাদন অভূতপূর্ব হারে বৃদ্ধি পায়, ফলে ভারত খাদ্যে স্বনির্ভর হয়।
  • কৃষকের আয়: আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে কৃষকদের আয় বাড়ে এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নতি হয়।
  • শস্যের বৈচিত্র্য: কেবল ধান-গম নয়, অন্যান্য শস্য চাষেও উৎসাহ বাড়ে।

১৮. খারিফ শস্য ও রবি শস্যের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো। [মাধ্যমিক ২০১৭]

উত্তর:

বিষয়খারিফ শস্যরবি শস্য
১. ঋতুবর্ষাকালের শুরুতে (জুন-জুলাই) চাষ শুরু হয়।শীতকালের শুরুতে (অক্টোবর-নভেম্বর) চাষ শুরু হয়।
২. জলবায়ুএর জন্য অধিক উষ্ণতা ও আর্দ্রতার প্রয়োজন।এর জন্য কম উষ্ণতা ও শুষ্ক আবহাওয়ার প্রয়োজন।
৩. উদাহরণআমন ধান, পাট, ভুট্টা।গম, যব, সর্ষে।

১৯. ভারতীয় কৃষির প্রধান তিনটি সমস্যা উল্লেখ করো।

উত্তর:

  • মৌসুমি নির্ভরতা: ভারতের কৃষি অনেকাংশে অনিয়মিত মৌসুমি বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। অনাবৃষ্টিতে খরা এবং অতিবৃষ্টিতে বন্যা হলে ফসল নষ্ট হয়।
  • ক্ষুদ্র জমিজত: উত্তরাধিকার সূত্রে জমি ভাগ হতে হতে জমির আয়তন খুব ছোট হয়ে গেছে, ফলে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যায় না।
  • প্রযুক্তির অভাব: এখনও বহু কৃষক সনাতন পদ্ধতিতে চাষ করে, উন্নত বীজ বা সারের ব্যবহার সব জায়গায় পৌঁছায়নি।

২০. উত্তর-পূর্ব ভারতে চা চাষের উন্নতির কারণ কী? (ভৌগোলিক কারণ)

উত্তর:
আসাম ও দার্জিলিং অঞ্চলে চা চাষের উন্নতির কারণ:

  • জলবায়ু: এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত (১৫০-২৫০ সেমি) হয় এবং উষ্ণতা (২০°-৩০°C) চা গাছের জন্য আদর্শ।
  • ঢালু জমি: পাহাড়ি ঢালু জমিতে জল দাঁড়াতে পারে না, যা চা গাছের গোড়ার জন্য জরুরি।
  • মৃত্তিকা: এখানকার লৌহ ও জৈব পদার্থ মিশ্রিত দোআঁশ মাটি চা চাষের পক্ষে খুবই উর্বর।

২১. পেট্রোরসায়ন শিল্পকে ‘উদীয়মান শিল্প’ (Sunrise Industry) বলা হয় কেন? [মাধ্যমিক ২০১৮]

উত্তর:
পেট্রোরসায়ন শিল্প বর্তমান যুগের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল শিল্প।

  • চাহিদা: এই শিল্পের উপজাত দ্রব্য থেকে প্লাস্টিক, কৃত্রিম রাবার, সার, রঙ, কৃত্রিম তন্তু প্রভৃতি তৈরি হয়, যার চাহিদা প্রতিদিন বাড়ছে।
  • ভবিষ্যৎ: প্লাস্টিক ও পলিমারের ব্যবহার আমাদের জীবনে অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এই শিল্পের ভবিষ্যৎ বিকাশ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রচুর। তাই একে উদীয়মান শিল্প বলে।

২২. দুর্গাপুরকে ‘ভারতের রূঢ়’ বলা হয় কেন? [মাধ্যমিক ২০১৯]

উত্তর:
জার্মানির রাইন নদীর উপনদী ‘রূঢ়’-এর উপত্যকায় কয়লা ও খনিজ সম্পদের ওপর ভিত্তি করে যেমন বিশাল শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠেছে, ঠিক তেমনই ভারতের দামোদর নদের উপত্যকায় কয়লা ও অন্যান্য খনিজের ওপর ভিত্তি করে দুর্গাপুরে বিশাল লৌহ-ইস্পাত ও অন্যান্য শিল্প গড়ে উঠেছে। এই তুলনামূলক সাদৃশ্যের জন্য দুর্গাপুরকে ভারতের রূঢ় বলে।

২৩. আহমেদাবাদকে ‘ভারতের ম্যানচেস্টার’ বলা হয় কেন?

উত্তর:
ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার শহর যেমন সুতিবস্ত্র বয়ন শিল্পের জন্য বিশ্ববিখ্যাত, তেমনই ভারতের আহমেদাবাদ শহরে অনুকূল জলবায়ু, কাঁচামালের সহজলভ্যতা এবং উন্নত পরিকাঠামোর জন্য ভারতের সর্বাধিক সংখ্যক কাপড়ের কল গড়ে উঠেছে। বস্ত্র উৎপাদনে এর গুরুত্বের জন্য একে ভারতের ম্যানচেস্টার বলা হয়।

২৪. তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প (IT Industry) গড়ে ওঠার কারণ বা সুবিধাগুলি লেখো।

উত্তর:
বেঙ্গালুরু, হায়দ্রাবাদ বা পুনেতে এই শিল্প গড়ে ওঠার কারণ:

  • মেধা সম্পদ: প্রচুর সংখ্যক ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকায় সুলভে দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার ও কর্মী পাওয়া যায়।
  • জলবায়ু: আরামদায়ক নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু দীর্ঘক্ষণ মানসিক পরিশ্রমের জন্য উপযোগী।
  • পরিকাঠামো: উন্নত বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ব্যবস্থা এবং সরকারি সহযোগিতা এই শিল্পের প্রসারে সাহায্য করেছে।

২৫. পূর্ত বা ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প (Engineering Industry) বলতে কী বোঝো? এর শ্রেণিবিভাগ করো।

উত্তর:
সংজ্ঞা: যে শিল্পে লোহা, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, তামা প্রভৃতি ধাতু এবং প্লাস্টিক বা রাবার ব্যবহার করে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও কলকবজা তৈরি করা হয়, তাকে ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প বলে।
শ্রেণিবিভাগ: ১) ভারী ইঞ্জিনিয়ারিং: রেল ইঞ্জিন, জাহাজ, মোটরগাড়ি তৈরি।
২) হালকা ইঞ্জিনিয়ারিং: সেলাই মেশিন, পাখা, ঘড়ি, টাইপ রাইটার তৈরি।

২৬. ভারতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির তিনটি প্রধান কারণ লেখো।

উত্তর:

  • উচ্চ জন্মহার: নিরক্ষরতা, দারিদ্র্য এবং পুত্রসন্তানের আকাঙ্ক্ষায় জন্মহার কমানো যাচ্ছে না।
  • মৃত্যুহার হ্রাস: আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতির ফলে মহামারী ও শিশু মৃত্যুর হার কমেছে, ফলে জনসংখ্যা বাড়ছে।
  • বাল্যবিবাহ ও কুসংস্কার: অল্প বয়সে বিয়ের ফলে প্রজনন কাল দীর্ঘ হয়, যা জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

২৭. নগরায়নের (Urbanization) তিনটি প্রধান সমস্যা আলোচনা করো। [মাধ্যমিক ২০২০]

উত্তর:
অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে সৃষ্ট সমস্যাগুলি হলো:

  • বাসস্থানের অভাব: অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে শহরে বাসস্থানের সংকট দেখা দেয় এবং অস্বাস্থ্যকর বস্তি (Slum) গড়ে ওঠে।
  • দূষণ: যানবাহন ও কলকারখানার ধোঁয়া এবং আবর্জনার কারণে বায়ু, জল ও শব্দ দূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করে।
  • নিকাশি সমস্যা: উপযুক্ত নিকাশি ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জল জমে যায় এবং মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ে।

২৮. ভারতের জনঘনত্বের তারতম্যের তিনটি কারণ লেখো।

উত্তর:

  • ভূপ্রকৃতি: সমভূমি অঞ্চলে (যেমন- গাঙ্গেয় সমভূমি) কৃষি ও যাতায়াতের সুবিধার জন্য জনঘনত্ব বেশি। পাহাড়ি বা মালভূমি এলাকায় কম।
  • জলবায়ু: আরামদায়ক জলবায়ু ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে লোকবসতি বেশি। মরু বা অতিশীতল অঞ্চলে কম।
  • শিল্প ও কর্মসংস্থান: শিল্পোন্নত অঞ্চল ও বড় শহরগুলিতে (যেমন- মুম্বাই, দিল্লি) কাজের সুযোগ বেশি থাকায় জনঘনত্ব অত্যন্ত বেশি।

২৯. রেলপথকে ‘ভারতের জীবনরেখা’ (Lifeline of India) বলা হয় কেন?

উত্তর:

  • পণ্য পরিবহন: কয়লা, আকরিক লোহা, খাদ্যশস্য এবং শিল্পজাত পণ্য দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে নিয়ে যেতে রেলপথ সবচেয়ে সস্তা ও ভরসাযোগ্য মাধ্যম।
  • যাত্রী পরিবহন: কোটি কোটি মানুষ প্রতিদিন যাতায়াতের জন্য রেলের ওপর নির্ভরশীল।
  • জাতীয় সংহতি: ভারতের মতো বিশাল দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে যুক্ত করে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে রেলের ভূমিকা অপরিসীম।

৩০. সোনালী চতুর্ভুজ (Golden Quadrilateral) ও হীরক চতুর্ভুজ-এর ধারণা দাও।

উত্তর:
সোনালী চতুর্ভুজ: ভারতের চারটি মেট্রোপলিটন শহর—দিল্লি, মুম্বাই, চেন্নাই ও কলকাতাকে সংযোগকারী ৫৮৪৬ কিমি দীর্ঘ ৪/৬ লেনের সুপার হাইওয়ে বা সড়কপথ প্রকল্প।
হীরক চতুর্ভুজ: এটি ভারতীয় রেলের একটি প্রকল্প, যার উদ্দেশ্য হলো ওই চারটি প্রধান শহরের মধ্যে দ্রুতগামী ট্রেন (High Speed Rail) চালু করে যাতায়াতের সময় কমানো।

৩১. বন্দর ও পোতাশ্রয়ের মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর:

বিষয়বন্দর (Port)পোতাশ্রয় (Harbour)
১. সংজ্ঞাপোতাশ্রয়কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বাণিজ্যিক শহর যেখানে পণ্য ওঠানো-নামানো হয়।সমুদ্র বা নদীর তীরের শান্ত জলভাগ যেখানে জাহাজ নিরাপদে নোঙর করে।
২. কাজমূলত বাণিজ্যিক কাজকর্ম (আমদানি-রপ্তানি)।জাহাজকে ঝড়-ঝঞ্ঝা থেকে আশ্রয় দেওয়া।
৩. সম্পর্কসব বন্দরই পোতাশ্রয়।সব পোতাশ্রয় বন্দর নাও হতে পারে (বাণিজ্য না হলে)।

৩২. ভারতের সড়কপথের গুরুত্ব বা সুবিধাগুলি লেখো।

উত্তর:

  • দ্বারে দ্বারে পরিষেবা: সড়কপথই একমাত্র মাধ্যম যা মানুষের বাড়ির দরজা পর্যন্ত পণ্য বা যাত্রী পৌঁছে দিতে পারে (Door to door service)।
  • দুর্গম স্থানে যোগাযোগ: পাহাড়ি বা দুর্গম অঞ্চল যেখানে রেললাইন পাতা সম্ভব নয়, সেখানে সড়কপথই ভরসা।
  • স্বল্প দূরত্ব: কম দূরত্বের যাতায়াতের জন্য সড়কপথ সবচেয়ে নমনীয় এবং সুবিধাজনক মাধ্যম।

বিভাগ-ঘ: বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন ও বিস্তারিত সমাধান (পর্ব-৩)

বিষয়: ভূগোল | অধ্যায়: ভারত (অতিরিক্ত অংশ) | প্রশ্ন সংখ্যা: ৩৩-৪৬


৩৩. খাদার (Khadar) ও ভাঙর (Bhangar)-এর মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো। [খুব গুরুত্বপূর্ণ]

উত্তর:

বিষয়খাদারভাঙর
১. প্রকৃতিনদীর তীরবর্তী অঞ্চলের নবীন পলিমাটি।নদী থেকে দূরবর্তী অঞ্চলের প্রাচীন পলিমাটি।
২. উর্বরতাএটি অত্যন্ত উর্বর এবং কৃষিকাজের জন্য আদর্শ।এটি অপেক্ষাকৃত কম উর্বর এবং এতে কাঁকর থাকে।
৩. বন্যাপ্রতি বছর বন্যার জল এখানে পৌঁছায় এবং নতুন পলি সঞ্চিত হয়।উঁচু অংশ হওয়ায় এখানে বন্যার জল পৌঁছাতে পারে না।

৩৪. পশ্চিম উপকূলীয় সমভূমি ও পূর্ব উপকূলীয় সমভূমির পার্থক্য লেখো।

উত্তর:

বিষয়পশ্চিম উপকূলপূর্ব উপকূল
১. প্রস্থএই সমভূমি সংকীর্ণ (গড় প্রস্থ ৬৫ কিমি)।এই সমভূমি বেশ প্রশস্ত (গড় প্রস্থ ১০০ কিমি)।
২. বদ্বীপনদীগুলি খরস্রোতা হওয়ায় এখানে বদ্বীপ গড়ে ওঠেনি।নদীগুলির মোহনায় বিশাল বদ্বীপ গড়ে উঠেছে।
৩. হ্রদএখানে কয়াল বা লেগুন দেখা যায়।এখানে চিল্কা ও পুলিকট হ্রদ দেখা যায়।

৩৫. ভারতীয় কৃষির প্রধান তিনটি বৈশিষ্ট্য সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর:

  • জীবিকা সত্তাভিত্তিক কৃষি: ভারতের কৃষকরা মূলত নিজেদের পরিবারের অন্নসংস্থানের জন্য চাষাবাদ করে, উদ্বৃত্ত খুব কম থাকে।
  • মৌসুমি নির্ভরতা: জলসেচের ব্যবস্থা থাকলেও ভারতের কৃষি অনেকাংশে অনিয়মিত মৌসুমি বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল।
  • জনসংখ্যার চাপ: জমির তুলনায় জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় জমিতে ছদ্ম বেকারত্ব দেখা যায় এবং হেক্টর প্রতি উৎপাদন কম হয়।

৩৬. সড়কপথ ও রেলপথের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা করো (সুবিধা)।

উত্তর:

বিষয়সড়কপথরেলপথ
১. নমনীয়তাসড়কপথ ‘Door to Door’ বা বাড়ি বাড়ি পরিষেবা দিতে পারে।রেলপথ নির্দিষ্ট স্টেশনেই কেবল থামতে পারে।
২. ব্যয়স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের জন্য সড়কপথ সস্তা।দীর্ঘ দূরত্বে ও ভারী পণ্য পরিবহণে রেলপথ সস্তা।
৩. নির্মাণপাহাড়ি বা দুর্গম অঞ্চলেও সড়ক তৈরি করা যায়।দুর্গম অঞ্চলে রেলপথ নির্মাণ অত্যন্ত কঠিন ও ব্যয়সাপেক্ষ।

৩৭. ভারতের কার্পাস বয়ন শিল্প কেন বর্তমানে বিকেন্দ্রীভূত হচ্ছে? (৩টি কারণ)

উত্তর:
আগে এই শিল্প মহারাষ্ট্র ও গুজরাটে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়ছে। কারণ:

  • বিদ্যুৎ: জলবিদ্যুৎ ও তাপবিদ্যুতের প্রসারের ফলে দেশের সব জায়গায় শক্তি সম্পদ সহজলভ্য হয়েছে।
  • বাজার: সুতিবস্ত্রের চাহিদা সারা দেশেই আছে, তাই বাজারের নিকটে কলকারখানা গড়ে উঠছে।
  • পরিবহণ: রেল ও সড়ক পথের উন্নতির ফলে কাঁচামাল (তুলা) সহজেই দেশের অন্য প্রান্তে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে।

৩৮. হুগলি নদীর উভয় তীরে পাট শিল্প গড়ে ওঠার কারণ কী?

উত্তর:

  • কাঁচামাল: অবিভক্ত বাংলা (বর্তমান বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ) ছিল পাট উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্র, তাই কাঁচামাল সহজলভ্য ছিল।
  • পরিবহণ: হুগলি নদীপথ এবং রেলপথের মাধ্যমে কাঁচামাল আনা ও পণ্য রপ্তানি করার সুবিধা ছিল।
  • শক্তি ও শ্রমিক: রানিগঞ্জের কয়লা এবং বিহার-ওড়িশা থেকে সুলভ শ্রমিক পাওয়া যেত।

৩৯. চিরহরিৎ অরণ্য ও পর্ণমোচী অরণ্যের পার্থক্য লেখো।

উত্তর:

বিষয়চিরহরিৎ অরণ্যপর্ণমোচী অরণ্য
১. বৃষ্টিপাতঅধিক বৃষ্টিপাতযুক্ত (২০০ সেমির বেশি) অঞ্চলে জন্মায়।মাঝারি বৃষ্টিপাতযুক্ত (১০০-২০০ সেমি) অঞ্চলে জন্মায়।
২. পাতা ঝরাসারা বছর পাতা সবুজ থাকে, একসাথে ঝরে না।শীতকালে বা শুষ্ক ঋতুতে সব পাতা ঝরে যায়।
৩. কাঠকাঠ খুব শক্ত ও ভারী হয় (যেমন- রবার, আবলুস)।কাঠ মাঝারি শক্ত ও মূল্যবান হয় (যেমন- শাল, সেগুন)।

৪০. পাঞ্জাব ও হরিয়ানা রাজ্যে কৃষি উন্নতির কারণ কী?

উত্তর:

  • জলসেচ: ভাকরা-নাঙ্গাল বাঁধ ও খালের মাধ্যমে সারা বছর জলসেচের সুব্যবস্থা আছে।
  • সবুজ বিপ্লব: উন্নত মানের বীজ, রাসায়নিক সার ও আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির (ট্রাক্টর, হারভেস্টার) ব্যাপক ব্যবহার।
  • সরকারি সাহায্য: কৃষকদের ঋণদান, সহায়ক মূল্য এবং উন্নত পরিকাঠামো কৃষি উন্নতিতে সাহায্য করেছে।

৪১. ভারতের নগরায়ণের তিনটি প্রধান সমস্যা আলোচনা করো।

উত্তর:

  • বাসস্থানের সংকট ও বস্তি: গ্রাম থেকে শহরে মানুষের আগমনের ফলে বাসস্থানের অভাব দেখা দিয়েছে এবং অস্বাস্থ্যকর বস্তি (Slum) গড়ে উঠছে।
  • পরিবহণ সমস্যা: যানজট বা ট্রাফিক জ্যাম শহরবাসীদের নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
  • দূষণ ও নিকাশি: অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে বায়ু ও জল দূষণ বাড়ছে এবং নিকাশি ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই জল জমে যায়।

৪২. বহুমুখী নদী পরিকল্পনার তিনটি অসুবিধা বা কুফল লেখো।

উত্তর:

  • বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি: নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় জলজ বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পলি জমে নদীর গভীরতা কমে।
  • উদ্বাস্তু সমস্যা: বাঁধ নির্মাণের ফলে বিশাল এলাকা জলমগ্ন হয়, ফলে বহু মানুষ ও গ্রাম উচ্ছেদ হয় (যেমন- নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন)।
  • ভূমিকম্প: বিশাল জলাধারের জলের চাপে স্থানীয় শিলাস্তরে ফাটল ধরে ভূমিকম্পের আশঙ্কা বাড়ে (Reservoir Induced Seismicity)।

৪৩. আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইন্টারনেট ও ই-মেইলের গুরুত্ব কী?

উত্তর:

  • দ্রুততা: পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে মুহূর্তের মধ্যে তথ্য, ছবি বা নথি পাঠানো যায়।
  • খরচ: এটি অত্যন্ত কম খরচে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারে।
  • তথ্য ভাণ্ডার: শিক্ষা, ব্যবসা, চিকিৎসা—সব ক্ষেত্রেই তথ্যের আদান-প্রদান ও সংরক্ষণে ইন্টারনেট বিপ্লব এনেছে।

৪৪. ভারতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির তিনটি কারণ সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর:

  • উচ্চ জন্মহার: নিরক্ষরতা, দারিদ্র্য এবং পুত্রসন্তানের আকাঙ্ক্ষায় গ্রামীণ ভারতে জন্মহার এখনও বেশি।
  • মৃত্যুহার হ্রাস: চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে মহামারী নিয়ন্ত্রণ করা গেছে এবং গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে।
  • বাল্যবিবাহ: অল্প বয়সে বিবাহের ফলে দম্পতিদের প্রজনন কাল দীর্ঘ হয়, যা অধিক সন্তানের জন্ম দেয়।

৪৫. জলপথকে ‘উন্নয়নের জীবনরেখা’ বলা হয় কেন?

উত্তর:

  • সস্তা: জলপথ পরিবহণ সবচেয়ে সস্তা, কারণ এতে রাস্তা তৈরির খরচ নেই।
  • ভারী পণ্য: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রায় ৯৫% পণ্য (যেমন- তেল, কয়লা, যন্ত্রপাতি) জলপথেই পরিবাহিত হয়।
  • পরিবেশবান্ধব: অন্যান্য মাধ্যমের তুলনায় এতে জ্বালানি খরচ ও দূষণ কম হয়। তাই অর্থনীতির উন্নয়নে এর ভূমিকা অপরিসীম।

৪৬. দাক্ষিণাত্যের মালভূমি অঞ্চলে জলসেচের প্রধান মাধ্যম পুকুর বা জলাশয় কেন?

উত্তর:

  • শিলাস্তর: দাক্ষিণাত্যের শিলা খুব কঠিন ও অপ্রবেশ্য। তাই কূয়া বা নলকূপ খনন করা কঠিন।
  • গর্ত: মালভূমির অসমান ভূপ্রকৃতিতে অনেক প্রাকৃতিক গর্ত থাকে, যেখানে বৃষ্টির জল সহজেই জমে পুকুর তৈরি হয়।
  • নদী: নদীগুলি অনিত্যবহ (বৃষ্টির জলে পুষ্ট), তাই সারা বছর জলের জন্য পুকুরের ওপর নির্ভর করতে হয়।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) – ভারত (বিশ্লেষণ)


প্রশ্ন: নর্মদা ও তাপ্তী নদী পশ্চিমবাহিনী কেন?

উত্তর: দাক্ষিণাত্য মালভূমির সাধারণ ঢাল পূর্বদিকে হলেও, নর্মদা ও তাপ্তী নদী বিন্ধ্য ও সাতপুরা পর্বতের মাঝখানের গ্রস্ত উপত্যকা (Rift Valley) দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এই উপত্যকার ঢাল পশ্চিমদিকে হওয়ায় নদী দুটি আরব সাগরে পড়েছে।

[attachment_0](attachment)

প্রশ্ন: করমণ্ডল উপকূলে বছরে দুবার বৃষ্টিপাত হয় কেন?

উত্তর: তামিলনাড়ুর করমণ্ডল উপকূলে বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে একবার বৃষ্টি হয়। আবার শীতকালে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু ফেরার পথে বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করে এই উপকূলে দ্বিতীয়বার বৃষ্টিপাত ঘটায়।

প্রশ্ন: সবুজ বিপ্লবের সুফল কী?

উত্তর: উচ্চ ফলনশীল বীজ ও রাসায়নিক সারের ব্যবহারের ফলে ১৯৬০-এর দশকে ভারতে গমের উৎপাদন রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে ভারত খাদ্য সংকটের হাত থেকে রক্ষা পায় এবং কৃষি অর্থনীতি শক্তিশালী হয়।

প্রশ্ন: দুর্গাপুরকে ‘ভারতের রূঢ়’ বলা হয় কেন?

উত্তর: জার্মানির রাইন নদীর উপনদী ‘রূঢ়’-এর উপত্যকায় কয়লা সম্পদের ওপর ভিত্তি করে যেমন শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠেছে, তেমনই ভারতের দামোদর উপত্যকায় কয়লার ওপর ভিত্তি করে দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠেছে। তাই এই তুলনা করা হয়।

প্রশ্ন: রেলপথকে ভারতের জীবনরেখা বলা হয় কেন?

উত্তর: ভারতের বিশাল ভূখণ্ডে যাত্রী ও পণ্য পরিবহণের প্রধান ও সবচেয়ে সস্তা মাধ্যম হলো রেলপথ। এটি কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসার ঘটিয়ে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখে এবং জাতীয় সংহতি বজায় রাখে।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) – ভারত (বিশ্লেষণ)


প্রশ্ন: নর্মদা ও তাপ্তী নদী পশ্চিমবাহিনী কেন?

উত্তর: দাক্ষিণাত্য মালভূমির সাধারণ ঢাল পূর্বদিকে হলেও, নর্মদা ও তাপ্তী নদী বিন্ধ্য ও সাতপুরা পর্বতের মাঝখানের গ্রস্ত উপত্যকা (Rift Valley) দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এই উপত্যকার ঢাল পশ্চিমদিকে হওয়ায় নদী দুটি আরব সাগরে পড়েছে।

[attachment_0](attachment)

প্রশ্ন: করমণ্ডল উপকূলে বছরে দুবার বৃষ্টিপাত হয় কেন?

উত্তর: তামিলনাড়ুর করমণ্ডল উপকূলে বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে একবার বৃষ্টি হয়। আবার শীতকালে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু ফেরার পথে বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করে এই উপকূলে দ্বিতীয়বার বৃষ্টিপাত ঘটায়।

প্রশ্ন: সবুজ বিপ্লবের সুফল কী?

উত্তর: উচ্চ ফলনশীল বীজ ও রাসায়নিক সারের ব্যবহারের ফলে ১৯৬০-এর দশকে ভারতে গমের উৎপাদন রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে ভারত খাদ্য সংকটের হাত থেকে রক্ষা পায় এবং কৃষি অর্থনীতি শক্তিশালী হয়।

প্রশ্ন: দুর্গাপুরকে ‘ভারতের রূঢ়’ বলা হয় কেন?

উত্তর: জার্মানির রাইন নদীর উপনদী ‘রূঢ়’-এর উপত্যকায় কয়লা সম্পদের ওপর ভিত্তি করে যেমন শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠেছে, তেমনই ভারতের দামোদর উপত্যকায় কয়লার ওপর ভিত্তি করে দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠেছে। তাই এই তুলনা করা হয়।

প্রশ্ন: রেলপথকে ভারতের জীবনরেখা বলা হয় কেন?

উত্তর: ভারতের বিশাল ভূখণ্ডে যাত্রী ও পণ্য পরিবহণের প্রধান ও সবচেয়ে সস্তা মাধ্যম হলো রেলপথ। এটি কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসার ঘটিয়ে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখে এবং জাতীয় সংহতি বজায় রাখে।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার