নবম শ্রেণি: বাংলা, কর্মাস (প্রফেসর শঙ্কুর ডাইরি) – সত্যজিৎ রায়, সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর মান 3
সহায়ক পাঠ: কর্ভাস
(সংক্ষিপ্ত / ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 3)
নিচের উক্তিগুলির বিস্তারিত ও প্রাসঙ্গিক উত্তর দাও:
1. ‘অরনিথন’ যন্ত্রটির কার্যকারিতা সম্পর্কে যা জানো লেখো। (3)
উত্তর দেখো
উত্তর: ‘অরনিথন’ হলো প্রফেসর শঙ্কুর তৈরি একটি বিশেষ খাঁচাসদৃশ বৈদ্যুতিক যন্ত্র। এই যন্ত্রের প্রধান কাজ হলো কৃত্রিম উপায়ে পাখির বুদ্ধিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া। প্রতিদিন মাত্র এক ঘণ্টা এই যন্ত্রের ভেতরে পাখিকে রেখে ইলেকট্রনিক উদ্দীপনা দিলে তার আই-কিউ (IQ) অবিশ্বাস্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এই যন্ত্রের সাহায্যেই শঙ্কু একটি সাধারণ দাঁড়কাককে (কর্ভাস) মানুষের মতো লিখতে ও অঙ্ক কষতে শিখিয়েছিলেন।
2. কর্ভাসকে কেন একটি ‘অসাধারণ’ পাখি বলা হয়েছে? (3)
উত্তর দেখো
উত্তর: কর্ভাস ছিল সাধারণ দাঁড়কাকের চেয়ে অনেক বেশি বুদ্ধিমান। সে কেবল ইংরেজি বর্ণমালা ও শব্দ লিখতে জানত না, বরং পাটিগণিতের সাধারণ যোগ-বিয়োগও নির্ভুলভাবে করতে পারত। এছাড়া তার মধ্যে মানুষের মতো বিচারবুদ্ধি ও কৃতজ্ঞতাবোধ ছিল। পক্ষীবিজ্ঞান সম্মেলনে উপস্থিত বিজ্ঞানীরা তার এই অস্বাভাবিক পাণ্ডিত্য দেখে তাকে ‘অসাধারণ’ বলে অভিহিত করেছিলেন।
3. জাদুকর আর্গাস কেন কর্ভাসকে নিজের অধীনে পেতে চেয়েছিলেন? (3)
উত্তর দেখো
উত্তর: জাদুকর আর্গাস ছিলেন একজন ধূর্ত ব্যবসায়ী। তিনি কর্ভাসের বিস্ময়কর মেধা দেখে বুঝতে পেরেছিলেন যে এই পাখিকে যদি তাঁর জাদুর খেলায় অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তবে তিনি বিশ্বজুড়ে প্রভূত খ্যাতি ও অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। কর্ভাস যা পারত তা কোনো সাধারণ জাদুকরের পক্ষে সম্ভব ছিল না। মূলত নিজের পেশাদার জাদুর মান বাড়ানো এবং অর্থলিপ্সার কারণেই তিনি কর্ভাসকে যেকোনো মূল্যে পেতে চেয়েছিলেন।
4. সান্তিয়াগোর পক্ষীবিজ্ঞান সম্মেলনে কর্ভাস কীভাবে বিজ্ঞানীদের মুগ্ধ করেছিল? (3)
উত্তর দেখো
উত্তর: পক্ষীবিজ্ঞান সম্মেলনে কর্ভাস যখন পেন্সিল মুখে নিয়ে নিউজপ্রিন্ট কাগজের ওপর ইংরেজি হরফে নিজের নাম ‘CORVUS’ লিখল এবং সাধারণ পাটিগণিতের উত্তর সঠিকভাবে প্রদান করল, তখন উপস্থিত ২৫ জন বিজ্ঞানী বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে পড়েন। একটি দাঁড়কাকের এই অবিশ্বাস্য শেখার ক্ষমতা ও মনোযোগ দেখে তাঁরা বুঝতে পারেন যে শঙ্কুর ‘অরনিথন’ যন্ত্রটি বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী সৃষ্টি।
5. আর্গাস কীভাবে কর্ভাসকে অপহরণ করেছিলেন? (3)
উত্তর দেখো
উত্তর: আর্গাস সুপরিকল্পিতভাবে কর্ভাসকে অপহরণ করেন। যখন প্রফেসর শঙ্কু অপেরা হাউসে অনুষ্ঠান দেখতে ব্যস্ত ছিলেন, তখন আর্গাস তাঁর হোটেলের ঘরে হানা দেন। তিনি প্রহ্লাদকে বা অন্য কাউকে জাদুর সাহায্যে অথবা কোনো উপায়ে অবশ বা অন্যমনস্ক করে কর্ভাসকে তাঁর সিলভার রঙের মার্সিডিজ গাড়িতে তুলে নিয়ে ভালপারাইসো শহরের দিকে পালিয়ে যান।
6. কর্ভাসকে উদ্ধারের সময় প্রকৃতির রুদ্ররূপ কীভাবে ধরা পড়েছিল? (3)
উত্তর দেখো
উত্তর: আর্গাসের পিছু নেওয়ার সময় আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামে। ঘন ঘন বজ্রপাত এবং মেঘের গর্জনে চারপাশ অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। পিচ্ছিল রাস্তা এবং প্রবল দুর্যোগের কারণে আর্গাসের মার্সিডিজ গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে। প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ একদিকে যেমন উদ্ধারকার্যকে কঠিন করে তুলেছিল, অন্যদিকে আর্গাসের পালানোর পথ বন্ধ করে দিয়ে কর্ভাসকে মুক্ত করতে সাহায্য করেছিল।
7. আর্গাসের চশমা নিয়ে কর্ভাস কী করেছিল এবং কেন? (3)
উত্তর দেখো
উত্তর: দুর্ঘটনার পর কর্ভাস আর্গাসের চোখ থেকে তাঁর দামি সোনার চশমাটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল। এটি ছিল কর্ভাসের এক প্রকার প্রতিশোধ ও উপস্থিত বুদ্ধি। চশমা ছাড়া আর্গাস চোখে ঠিকমতো দেখতে পাচ্ছিলেন না, ফলে তাঁর পক্ষে কর্ভাসকে পুনরায় ধরা বা পালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত কর্ভাস চশমাটি ফেলে দেয় এবং তা ভেঙে যায়, যা আর্গাসের অহংকার চূর্ণ হওয়ার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়।
8. কর্ভাস ও শঙ্কুর সম্পর্কের রসায়ন আলোচনা করো। (3)
উত্তর দেখো
উত্তর: কর্ভাস ও শঙ্কুর সম্পর্ক ছিল শিক্ষক ও ছাত্রের মতো। শঙ্কু কর্ভাসকে কেবল একটি প্রাণী হিসেবে দেখেননি, বরং তাঁর গবেষণার সার্থক ফসল হিসেবে তাকে সম্মান করতেন। অন্যদিকে, কর্ভাস ছিল শঙ্কুর প্রতি অত্যন্ত অনুগত এবং কৃতজ্ঞ। সে শঙ্কুর প্রতিটি নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করত এবং শঙ্কুর অনুপস্থিতিতে আর্গাসের সাথে অসম লড়াই করে নিজের ব্যক্তিত্বের পরিচয় দিয়েছিল।
9. ‘কর্ভাস’ গল্পে আর্গাস চরিত্রের বৈশিষ্ট্য কী? (3)
উত্তর দেখো
উত্তর: আর্গাস ছিলেন একজন ক্ষমতালোভী ও অর্থপিপাসু জাদুকর। তিনি বিজ্ঞানের মহত্ত্বের চেয়ে তার বাণিজ্যিক গুরুত্বকে বেশি গুরুত্ব দিতেন। তিনি চতুর, সাহসী কিন্তু নীতিহীন। কর্ভাসকে পাওয়ার জন্য তিনি প্রথমে দশ হাজার ডলারের প্রলোভন দেখান এবং পরে ব্যর্থ হয়ে সরাসরি অপহরণের পথ বেছে নেন। আর্গাস এই গল্পে বিজ্ঞানের অপব্যবহারকারী বা স্বার্থপর মানুষের প্রতিনিধি।
10. গল্পের শেষে কর্ভাসের মুখে ‘আর্গাস’ নামটির তাৎপর্য কী? (3)
উত্তর দেখো
উত্তর: গল্পের শেষে কর্ভাস যখন মানুষের মতো স্পষ্ট গলায় ‘আর্গাস’ শব্দটি উচ্চারণ করে, তখন বোঝা যায় যে তার মেধা ও শ্রবণশক্তি কতখানি প্রখর হয়েছে। সে আর্গাসকে চিনেছে এবং তাঁর অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক প্রকার তাচ্ছিল্য প্রদর্শন করেছে। একটি পাখির মুখে তার শত্রুর নাম মানুষের ভাষায় শোনা যাওয়া শঙ্কুর গবেষণার চূড়ান্ত সাফল্য এবং কর্ভাসের সচেতন ব্যক্তিসত্ত্বার বিজয়কেই নির্দেশ করে।
11. কর্ভাস কীভাবে শঙ্কুর ডায়েরি রক্ষা করেছিল? (3)
উত্তর দেখো
উত্তর: যখন শঙ্কু সম্মেলনে ডায়েরি নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন এবং আর্গাস সেই ডায়েরিটি দেখার বা নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, তখন কর্ভাস ডায়েরিটির প্রতি বিশেষ নজর রেখেছিল। আর্গাস ডায়েরিটির ক্ষতি করতে চাইলে বা তাঁর ধূর্ত চাহনি লক্ষ করে কর্ভাস চঞ্চু দিয়ে সতর্ক করে দিয়েছিল। সে বুঝেছিল যে এই ডায়েরি শঙ্কুর কাছে কতটা মূল্যবান। ডায়েরি রক্ষার এই তৎপরতা তার উন্নত বুদ্ধিরই পরিচয় দেয়।
12. পক্ষীবিজ্ঞানীদের কর্ভাস সম্পর্কে অভিমত কী ছিল? (3)
উত্তর দেখো
উত্তর: পক্ষীবিজ্ঞানীরা প্রথমে শঙ্কুর দাবি শুনে কিছুটা সন্দিহান থাকলেও কর্ভাসের সশরীরে বুদ্ধিদীপ্ত উত্তর দেখে তাঁরা মুগ্ধ হয়ে যান। তাঁরা স্বীকার করেছিলেন যে কর্ভাস পৃথিবীর ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ শিক্ষিত পাখি। কোভ্যারুবিয়াস এবং অন্যান্যরা শঙ্কুকে অভিনন্দন জানান এবং তাঁরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে পাখির মস্তিকের গঠন বদলালে তা মানুষের মতো প্রজ্ঞাসম্পন্ন হতে পারে।
13. কর্ভাসের মধ্যে কীভাবে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ ফুটে উঠেছে? (3)
উত্তর দেখো
উত্তর: কর্ভাস কেবল রোবটের মতো কাজ করেনি, সে ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শিখেছিল। সে শঙ্কুর প্রতি আনুগত্য দেখিয়েছিল এবং আর্গাসের অনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল (তাঁর থেকে খাবার বা আদর না নিয়ে)। তাঁর চশমা চুরির ঘটনাটিও ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে একটি কৌশলী প্রতিবাদ। একটি পাখির মধ্যে এমন নৈতিকতা সত্যিই বিস্ময়কর।
14. আর্গাসের জাদুর সাথে কর্ভাসের মেধার তুলনা করো। (3)
উত্তর দেখো
উত্তর: আর্গাসের জাদু ছিল হাতের কৌশল বা চোখের ভ্রান্তি, যা মানুষকে সাময়িকভাবে আনন্দ দেয় কিন্তু তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। অন্যদিকে, কর্ভাসের মেধা ছিল খাঁটি এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফল। আর্গাস যখন তাঁর জাদুকরী ক্ষমতার দম্ভ দেখাতেন, কর্ভাস তখন নিজের প্রখর বিচারবুদ্ধি দিয়ে সেই দম্ভ চূর্ণ করত। জাদুর কৃত্রিমতার ওপর বিজ্ঞানের সত্যনিষ্ঠ মেধার জয় এই গল্পে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।
15. অরনিথন যন্ত্রের অপব্যবহার হলে কী হতে পারত বলে তুমি মনে করো? (3)
উত্তর দেখো
উত্তর: অরনিথন যন্ত্রের অপব্যবহার হলে আর্গাসের মতো মানুষ পাখিদের হীন ব্যবসায়িক স্বার্থে বা অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করত। পাখিরা মানুষের গোপন কথা শুনে তা পাচার করত বা অন্য কোনো ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত হতো। বিজ্ঞানের আবিষ্কার যখন কোনো অসাধু ব্যক্তির হাতে পড়ে, তখন তা আশীর্বাদের বদলে অভিশাপে পরিণত হয়— কর্ভাসকে আর্গাসের অপহরণ করার প্রচেষ্টায় এই বিপদের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।