মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

নবম শ্রেণি: বাংলা, নিরুদ্দেশ – প্রেমেন্দ্র মিত্র, ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর মান 3

অধ্যায় 15: নিরুদ্দেশ
(সংক্ষিপ্ত / ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 3)

নিচের উক্তিগুলির প্রাসঙ্গিক ও বিস্তারিত উত্তর দাও:

1. “খবরের কাগজের ওই বিজ্ঞাপনগুলির দিকে তাকালে আমার মন ব্যথায় ভরে ওঠে।” – কার মন ব্যথায় ভরে ওঠে? কেন? (1+2=3)

উত্তর দেখো

উত্তর: উদ্ধৃতিটিতে গল্পের কথক বা লেখকের নিজের মনের কথা বলা হয়েছে।
খবরের কাগজে প্রায়শই অভিমান করে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া ছেলেদের ফিরে আসার জন্য তাদের বাবা-মায়ের কাতর আবেদন এবং আকুলতা ভরা বিজ্ঞাপন ছাপা হয়। কথক যখন সেই বিজ্ঞাপনগুলি পড়েন, তখন সেই অসহায় বাবা-মায়ের মানসিক যন্ত্রণা, দুশ্চিন্তা এবং সন্তানের জন্য কান্নার কথা ভেবে তাঁর মন এক গভীর সমবেদনা এবং ব্যথায় ভরে ওঠে।

2. “বিজ্ঞাপনগুলো আমার কাছে কিন্তু নেহাত বাজে বলে মনে হয়।” – কার মনে হয়? কেন তার এমন মনে হয়? (1+2=3)

উত্তর দেখো

উত্তর: কথাটি বলেছেন গল্পের কথকের বন্ধু সোমেশ।
সোমেশের মতে, খবরের কাগজে নিরুদ্দেশের যে কাতর বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়, তা পড়ে পালিয়ে যাওয়া ছেলেরা বাড়ি ফেরে না, বরং তাতে তাদের মনে একপ্রকার মিথ্যা অহংকার এবং মিথ্যে বীরত্বের সৃষ্টি হয়। তারা ভাবে যে তাদের অনুপস্থিতিতে বাড়িতে সবাই কাঁদছে, আর তারা নিজেদের কোনো উপন্যাসের নায়কের মতো ভাবতে শুরু করে। এই কারণেই সোমেশ বিজ্ঞাপনগুলিকে বাজে বা অর্থহীন মনে করতেন।

3. “ছেলেটি কিন্তু এই বিজ্ঞাপনে একটুও বিচলিত হয় না।” – কোন্ ছেলেটি? সে বিচলিত হয় না কেন? (1+2=3)

উত্তর দেখো

উত্তর: এখানে সোমেশের বলা গল্পের নিরুদ্দেশ হওয়া ছেলে অর্থাৎ শোভনের কথা বলা হয়েছে।
শোভন বাবার বকুনি খেয়ে বাড়ি থেকে পালিয়েছিল। কাগজে বাবার কাতর বিজ্ঞাপন পড়ে তার মনে অনুশোচনার পরিবর্তে একপ্রকার রোমাঞ্চ এবং অহংকার জন্ম নিত। সে নিজেকে কোনো বিখ্যাত উপন্যাসের নায়ক বলে মনে করত। নিজের গুরুত্ব বুঝতে পেরে সে খুশি হতো। তাই বিজ্ঞাপন পড়ে সে বিচলিত বা অনুতপ্ত হওয়ার বদলে বরং মনে মনে হাসত।

4. “ছেলের কাছে এই বিজ্ঞাপনগুলি শুধু এক গর্বের বস্তু।” – কেন ছেলেদের কাছে এগুলি গর্বের বস্তু? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া ছেলেরা যখন খবরের কাগজে দেখে যে তাদের জন্য বাড়িতে বাবা-মা কাঁদছেন এবং তাদের ফিরে আসার জন্য কাতর আবেদন জানাচ্ছেন, তখন তাদের মনে একপ্রকার মিথ্যা বীরত্বের জন্ম হয়। তারা বোঝে যে পরিবারের কাছে তাদের গুরুত্ব অনেক। এই বোধ তাদেরকে কোনো রোমাঞ্চকর উপন্যাসের নায়কের পর্যায়ে উন্নীত করে। তাই বাবা-মায়ের চোখের জল মেশানো বিজ্ঞাপনগুলি তাদের কাছে অনুশোচনার বদলে আত্মতৃপ্তি এবং গর্বের বস্তু হয়ে ওঠে।

5. “সেদিন কিন্তু এমনই এক বাদলার দিন।” – কোন্ দিনের কথা বলা হয়েছে? সেদিন কী ঘটেছিল? (1+2=3)

উত্তর দেখো

উত্তর: এখানে যে বর্ষণমুখর বা বৃষ্টিভেজা দিনে নিরুদ্দেশ হওয়া শোভন দীর্ঘ 2 বছর পর নিজের বাড়িতে ফিরে এসেছিল, সেই দিনটির কথা বলা হয়েছে।
সেদিন প্রবল বৃষ্টির মধ্যে শোভন এক বুক আশা এবং অনুশোচনা নিয়ে বাড়িতে ফিরেছিল। কিন্তু বাড়িতে ফিরে সে যে মর্মান্তিক দৃশ্যের সম্মুখীন হয়েছিল, তা তার জীবনকে চিরকালের জন্য বদলে দেয়। সে দেখে যে তার বাবা মারা গেছেন এবং মা এক প্রতারককে নিজের ছেলে ভেবে সেবা করছেন।

6. “শোভনের বুকটা কেঁপে উঠল।” – কখন এবং কেন শোভনের বুক কেঁপে উঠেছিল? (1+2=3)

উত্তর দেখো

উত্তর: দীর্ঘ 2 বছর পর শোভন যখন নিজের বাড়িতে ফিরে সদর দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে এবং পুরোনো সরকার মশাইকে দেখতে পায়, তখন তার বুকটা কেঁপে ওঠে।
এতদিন পর বাড়ি ফিরে আপনজনদের মুখোমুখি হওয়ার উত্তেজনা, মায়ের শয্যাগত থাকার বিজ্ঞাপনের কথা মনে পড়ে যাওয়া এবং বাবার দেখা না পাওয়ার অজানা আশঙ্কার কারণেই তার বুক ভয়ে কেঁপে উঠেছিল।

7. “সরকার মশাই বললেন, ‘কেমন করে চিনবেন, দু বছর কি কম সময়!'” – সরকার মশাই কাকে, কেন একথা বলেছিলেন? (1+2=3)

উত্তর দেখো

উত্তর: শোভন 2 বছর পর বাড়িতে ফিরে এলে পুরোনো সরকার মশাই তাকে চিনতে পারেননি। সেই প্রসঙ্গেই তিনি শোভনকে একথা বলেছিলেন।
দীর্ঘ 2 বছর ধরে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে শোভনের চেহারায় অনেক পরিবর্তন এসেছিল। তার পোশাক-পরিচ্ছদ, স্বাস্থ্য এবং মুখশ্রী এতই মলিন ও রুক্ষ হয়ে গিয়েছিল যে, তাকে দেখতে একজন সাধারণ ভিখারি বা ভবঘুরের মতো লাগছিল। তাই সরকার মশাইয়ের পক্ষে তাকে হঠাৎ করে চেনা সম্ভব ছিল না।

8. “ছেলের শোকে শেষ পর্যন্ত তাঁর এই পরিণতি।” – কার কথা বলা হয়েছে? তাঁর পরিণতি কী হয়েছিল? (1+2=3)

উত্তর দেখো

উত্তর: এখানে নিরুদ্দেশ হওয়া ছেলে শোভনের বাবার কথা বলা হয়েছে।
শোভন সামান্য বকুনি খেয়ে অভিমান করে বাড়ি থেকে পালিয়েছিল। তার বাবা তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য খবরের কাগজে দিনের পর দিন বিজ্ঞাপন দিতে থাকেন। কিন্তু ছেলে ফিরে না আসায় সেই প্রবল মানসিক যন্ত্রণা, দুশ্চিন্তা ও শোক তিনি সহ্য করতে পারেননি। অবশেষে ছেলের প্রতীক্ষায় থাকতে থাকতেই তিনি অকালে মারা যান।

9. “মা শয্যাগত, আর দেরি করিলে তাঁহাকে আর দেখিতে পাইবে না।” – এই বিজ্ঞাপনের পেছনের আসল সত্যটি শোভন ফিরে এসে কী দেখেছিল? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: খবরের কাগজে মায়ের মুমূর্ষু অবস্থার কথা পড়ে শোভন যখন 2 বছর পর বাড়িতে ফিরে আসে, তখন সে দেখে তার মা মোটেও শয্যাগত নন। বরং তিনি সুস্থভাবেই একজন অপরিচিত ছেলেকে নিজের ছেলে ভেবে পরম স্নেহে বেদানার রস খাওয়াচ্ছেন। অর্থাৎ, বিজ্ঞাপনের ওই কথাগুলি আক্ষরিক অর্থে সত্য ছিল না, তা ছিল কেবল নিরুদ্দেশ হওয়া ছেলেকে বাড়ি ফিরিয়ে আনার এক মরিয়া এবং আবেগপূর্ণ কৌশল।

10. “মা তখন তাকে বেদানার রস খাওয়াচ্ছিলেন।” – কাকে? কেন এই যত্ন? (1+2=3)

উত্তর দেখো

উত্তর: শোভনের মা শোভনের ঘরের বিছানায় শুয়ে থাকা এক অপরিচিত বা নকল শোভনকে বেদানার রস খাওয়াচ্ছিলেন।
দীর্ঘদিন পর ছেলেকে ফিরে পেয়েছেন ভেবে মা আনন্দে আত্মহারা ছিলেন। ছেলেটির কানের কাছের কাটা দাগ দেখে তিনি প্রতারক ছেলেটিকেই নিজের হারিয়ে যাওয়া সন্তান ভেবেছিলেন। তাই হারানো ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আনন্দে এবং তার রুগ্‌ণ শরীরের কথা ভেবেই মা পরম স্নেহে তাকে এই যত্ন করছিলেন।

11. “শোভন আর তার নিজের পরিচয় দিলে না।” – শোভন কেন নিজের পরিচয় গোপন রেখেছিল? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: শোভন বাড়ি ফিরে দেখে তার বাবা মারা গেছেন এবং মা এক নকল ছেলেকে নিজের ছেলে ভেবে পরম স্নেহে বেদানার রস খাওয়াচ্ছেন। শোভন বুঝতে পারে, মায়ের এই ভুল ভেঙে গেলে এবং আসল সত্য জানলে তিনি প্রতারিত হওয়ার চরম আঘাত পাবেন এবং হয়তো সেই শোক সহ্য করতে পারবেন না। তাই মায়ের মুখের প্রশান্তিটুকু বজায় রাখতেই সে চরম আত্মত্যাগ করে নিজের পরিচয় গোপন রাখে।

12. “কিন্তু তার চেয়েও বড়ো ট্র্যাজেডি কি জানো?” – কে, কাকে একথা বলেছেন? ‘বড়ো ট্র্যাজেডি’-টি কী? (1+2=3)

উত্তর দেখো

উত্তর: এই কথাটি সোমেশ গল্পের কথক অর্থাৎ লেখককে উদ্দেশ্য করে বলেছেন।
নিরুদ্দেশ হওয়া ছেলে দীর্ঘ 2 বছর পর যখন অনুতপ্ত হয়ে বাড়ি ফেরে, তখন সে দেখে তার বাবা মারা গেছেন এবং তার মা অন্য একজন প্রতারক ছেলেকে নিজের ছেলে ভেবে সেবাযত্ন করছেন। মায়ের প্রাণরক্ষার কথা ভেবে নিজের বাড়িতে ফিরেও আসল ছেলের নিজের পরিচয় দিতে না পারা এবং চিরকালের জন্য সত্যি সত্যি নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়াই হলো সেই সবচেয়ে বড়ো ট্র্যাজেডি।

13. “সোমেশ হঠাৎ চুপ করে গেল।” – সোমেশের চুপ করে যাওয়ার কারণ কী বলে তোমার মনে হয়? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: সোমেশ তার বন্ধুকে শোভনের গল্পটি বলছিল। গল্পের শেষ পর্যায়ে এসে যখন আসল শোভনের চিরকালের জন্য হারিয়ে যাওয়ার করুণ এবং মর্মান্তিক পরিণতিটির কথা সোমেশের মনে পড়ে, তখন এক গভীর বিষাদ এবং দীর্ঘশ্বাস তাকে গ্রাস করে। নিজের পরিচয় হারিয়ে ফেলার এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির কথা ভেবেই সে হঠাৎ আবেগপ্রবণ হয়ে চুপ করে যায়। অনেকের মতে, এই সোমেশই হয়তো আসল শোভন, তাই নিজের অতীত মনে করেই সে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল।

14. “নিরুদ্দেশ” গল্পে শোভনের চরিত্রের কোন্ দিকটি প্রকাশ পেয়েছে? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: শোভন প্রথম জীবনে অত্যন্ত অভিমানী, আবেগপ্রবণ এবং অপরিপক্ব একটি ছেলে। সে সামান্য বকুনিতে বাড়ি ছেড়েছিল এবং বিজ্ঞাপনে নিজেকে উপন্যাসের নায়ক ভাবতে ভালোবাসত। কিন্তু গল্পের শেষে তার চরিত্রের এক মহান দিক প্রকাশ পায়। মায়ের মানসিক শান্তির কথা ভেবে সে নিজের পরিচয় না দিয়ে যে চরম আত্মত্যাগ এবং মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছে, তা তাকে এক সাধারণ পলাতক ছেলে থেকে এক সহানুভূতিশীল ট্র্যাজিক নায়কে পরিণত করেছে।

15. শোভনের এই করুণ পরিণতির জন্য তুমি কাকে দায়ী বলে মনে করো? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির জন্য শোভনের মিথ্যা অভিমান এবং অপরিপক্ব মানসিকতাই প্রধানত দায়ী। পাশাপাশি, খবরের কাগজের বিজ্ঞাপন পড়ে তার মনে জন্মানো মিথ্যা অহংকার তাকে সময়মতো বাড়ি ফিরতে বাধা দিয়েছিল। সবশেষে, এক প্রতারক ছেলের সুযোগসন্ধানী মনোভাব এবং মায়ের দুর্বলতার সুযোগ নেওয়াটা এই ট্র্যাজেডিকে চরম রূপ দিয়েছিল, যার ফলে শোভন চিরকালের জন্য নিরুদ্দেশ হয়ে যায়।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার