নবম শ্রেণি: বাংলা, নীলগিরি – সত্যেন্দ্রনাথ বসু, দীর্ঘ রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর মান 5
অধ্যায় 17: নীলগিরি
(বর্ণনামূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 5)
নিচের প্রশ্নগুলির নির্দেশমতো বিস্তারিত উত্তর দাও:
1. নীলগিরি ভ্রমণের পথে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের যে বর্ণনা লেখক দিয়েছেন তা নিজের ভাষায় লেখো। (5)
উত্তর দেখো
লেখক দেখেছেন সর্পিল পাহাড়ি পথ কীভাবে গভীর অরণ্যের বুক চিরে উপরে উঠে গেছে। পাহাড়ের গায়ে মেঘেদের লুকোচুরি খেলা আর ঘন কুয়াশার চাদর এক অলৌকিক পরিবেশ তৈরি করে। যত উপরে ওঠা যায়, ততই গাঢ় নীল রঙের পর্বতশ্রেণী চোখের সামনে ভেসে ওঠে। পাহাড়ের ঢালে সারি সারি সবুজ চা বাগান এবং পাইন-ইউক্যালিপটাসের বন এই সৌন্দর্যকে আরও গভীর করে তোলে। উটকামান্ড শহরে পৌঁছে লেখক বিলেতি ফুলের সমারোহ এবং ইংল্যান্ডের ছোটো পাহাড়ি শহরের মতো সাজানো পরিবেশ দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। নীলগিরির এই প্রাকৃতিক রূপকে লেখক সৌন্দর্যের এক অকৃত্রিম লীলাভূমি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
2. নীলগিরির আদি অধিবাসী টোডোদের জীবনযাত্রা এবং তাদের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে প্রবন্ধ অবলম্বনে আলোচনা করো। (5)
উত্তর দেখো
তাদের প্রধান জীবিকা হলো মহিষ পালন। তারা মূলত নিরামিষাশী এবং দুগ্ধজাত দ্রব্যই তাদের প্রধান খাদ্য ও উপার্জনের উৎস। টোডোদের কুটিরগুলো দেখতে অত্যন্ত অদ্ভুত— অনেকটা অর্ধ-গোলাকৃতি বা উপুড় করা পিপের মতো। ছোটো একটি প্রবেশপথ ছাড়া এই ঘরে কোনো জানালা থাকে না। পুরুষ ও নারীদের পরিধেয় বস্ত্র এবং অলংকারেও বিশেষ কারুকার্য লক্ষ্য করা যায়। তাদের নিজস্ব ভাষা ও সামাজিক প্রথা থাকলেও কোনো লিপি নেই। লেখক এখানে কেবল একজন পর্যটক হিসেবে নয়, বরং একজন নৃবিজ্ঞানীর মতো টোডোদের ধর্মবিশ্বাস ও সহজ-সরল জীবনযাপনের ধারাটি পর্যবেক্ষণ করেছেন।
3. “বিজ্ঞানীর চোখে দেখা নীলগিরি”— এই উক্তিটির সার্থকতা প্রবন্ধ অবলম্বনে বিচার করো। (5)
উত্তর দেখো
প্রবন্ধে আমরা দেখি, লেখক নীলগিরি পাহাড়ের উচ্চতা (প্রায় 7,000 ফুট), দোদাবেতা শৃঙ্গের অবস্থান এবং সেখানকার মাটির গঠন নিয়ে আলোচনা করেছেন। ইউক্যালিপটাস গাছ থেকে কীভাবে তেল নিষ্কাশন করা হয় এবং এর ওষধি গুণ কী, তা তিনি বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন। পাহাড়ি পথের ‘হেয়ারপিন’ বাঁকগুলোর বর্ণনা এবং উচ্চতা পরিবর্তনের সাথে সাথে জলবায়ুর তারতম্য তিনি নিবিড়ভাবে লক্ষ করেছেন। এমনকি টোডো আদিবাসীদের জীবনযাত্রার বর্ণনাতেও তাঁর সমাজবৈজ্ঞানিক কৌতূহল প্রকাশ পেয়েছে। এই প্রবন্ধে সৌন্দর্যের অনুভূতির সাথে তথ্যের সঠিকতা ও বিশ্লেষণের যে মেলবন্ধন ঘটেছে, তার জন্যই একে বিজ্ঞানীর চোখে দেখা ভ্রমণ কাহিনি বলা সার্থক।
4. নীলগিরির ‘উটকামান্ড’ বা ‘উটি’ শহরের পরিবেশ এবং নীলগিরি মাউন্টেন রেলওয়ের গুরুত্ব আলোচনা করো। (3+2=5)
উত্তর দেখো
নীলগিরি মাউন্টেন রেলওয়ে বা টয় ট্রেন এই শৈলশহরের অন্যতম আকর্ষণ। এই রেলওয়ে কেবল যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এক বিস্ময়। খাড়া পাহাড় বেয়ে আঁকাবাঁকা পথে মেঘ আর কুয়াশার মধ্য দিয়ে এই ট্রেনের যাত্রা পর্যটকদের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা দেয়। এই ট্রেনের মাধ্যমেই নীলগিরির গহীন অরণ্য এবং চা বাগানের অপরূপ শোভা প্রত্যক্ষ করা যায়। উটির পর্যটন শিল্প এবং ঐতিহ্যের সাথে এই মাউন্টেন রেলওয়ে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।
5. নীলগিরি অঞ্চলের প্রধান অর্থকরী ফসল এবং সেখানকার অর্থনীতির সংক্ষিপ্ত চিত্র প্রবন্ধ অনুসারে লেখো। (5)
উত্তর দেখো
কৃষিজ ফসলের পাশাপাশি এখানকার অন্যতম লাভজনক ব্যবসা হলো ইউক্যালিপটাস তেল। পাহাড়ে প্রচুর পরিমাণে জন্মানো ইউক্যালিপটাস গাছের পাতা থেকে এই তেল নিষ্কাশন করা হয়, যার চাহিদা ব্যাপক। এছাড়া টোডো আদিবাসীদের মহিষ পালন ও দুগ্ধজাত দ্রব্যের ব্যবসাও স্থানীয় অর্থনীতির একটি অংশ। উপত্যকা অঞ্চলে আলু এবং বিভিন্ন ধরণের বিলেতি সবজির চাষ হয়। সর্বোপরি, নীলগিরির মোহময় সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা পর্যটন শিল্পও এই অঞ্চলের মানুষের উপার্জনের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে প্রবন্ধটিতে ফুটে উঠেছে।