মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

নবম শ্রেণি: বাংলা, প্রফেসর শঙ্কুর ডায়েরি – সত্যজিৎ রায়, ব্যাখ্যা মূলক প্রশ্ন উত্তর মান 3

সহায়ক পাঠ: প্রফেসর শঙ্কুর ডায়েরি
(সংক্ষিপ্ত / ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 3)

নিচের প্রশ্নগুলির বিস্তারিত ও প্রাসঙ্গিক উত্তর দাও:

1. প্রফেসর শঙ্কুর ডায়েরিটি ‘অবিনশ্বর’ বলার কারণ কী? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: প্রফেসর শঙ্কুর লাল ডায়েরিটি সাধারণ কাগজের তৈরি ছিল না। তারকেশ্বরবাবু এটি উল্কাপাতের গর্তে পাওয়ার পর অনেক পরীক্ষা করেন। তিনি দেখেছিলেন যে ডায়েরিটি আগুনে পোড়ালে পোড়ে না, জলে ভেজালে ভেজে না, এমনকি বাঘ কামড়ালেও এর পাতার কোনো ক্ষতি হয় না। ডায়েরিটির কালির রংও ক্ষণে ক্ষণে গিরগিটির মতো বদলে যেত। কোনো পার্থিব শক্তি দিয়ে ডায়েরিটিকে ধ্বংস করা সম্ভব ছিল না বলেই একে ‘অবিনশ্বর’ বলা হয়েছে।

2. ‘মিরাকিউরল’ বড়ি সম্পর্কে যা জানো লেখো। (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: ‘মিরাকিউরল’ প্রফেসর শঙ্কুর অন্যতম শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার। এটি একটি সর্বরোগনাশক বড়ি। প্রফেসর শঙ্কুর মতে, এই একটি বড়ি খেলে যে কোনো কঠিন রোগ বা শারীরিক অসুস্থতা মুহূর্তের মধ্যে সেরে যায়। মঙ্গলযাত্রার সময় যখন প্রহ্লাদ এবং নিউটন অসুস্থ হয়ে পড়েছিল, তখন এই বড়ি দিয়েই শঙ্কু তাদের সুস্থ করে তুলেছিলেন। এটি শঙ্কুর বৈজ্ঞানিক প্রতিভার এক বিস্ময়কর নিদর্শণ।

3. অবিনাশবাবু কেন শঙ্কুর বিজ্ঞান সাধনাকে গুরুত্ব দিতেন না? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: অবিনাশবাবু ছিলেন একজন ঘোরতর বাস্তববাদী এবং অবৈজ্ঞানিক মানুষ। তিনি মনে করতেন প্রফেসর শঙ্কু যা করেন তা আসলে ‘ধোঁকাবাজি’ বা জাদুর খেলা। তাঁর কাছে বিজ্ঞানের চেয়ে লৌকিক অভিজ্ঞতা অনেক বড় ছিল। শঙ্কু যখন রকেট তৈরি করছিলেন বা অদ্ভুত সব ওষুধ বানাচ্ছিলেন, অবিনাশবাবু তখন সেগুলোকে তাচ্ছিল্য করে বলতেন যে এসব দিয়ে কাজ হবে না। মূলত বিজ্ঞানের গূঢ় রহস্য বোঝার ক্ষমতা বা আগ্রহ কোনোটিই তাঁর ছিল না বলে তিনি শঙ্কুর সাধনাকে গুরুত্ব দিতেন না।

4. যন্ত্রমানুষ বিধুশেখর সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত টীকা লেখো। (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: বিধুশেখর হলো প্রফেসর শঙ্কুর তৈরি একটি রোবট বা যন্ত্রমানুষ। সে লোহার তৈরি হলেও তার মধ্যে বুদ্ধি ও অনুভূতির সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন শঙ্কু। সে অস্পষ্টভাবে কথা বলতে পারত এবং মানুষের মতো আবেগ প্রকাশ করতে পারত। মঙ্গলযাত্রার সময় সে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। বিশেষ করে মঙ্গলে নামার আগে আসন্ন বিপদের কথা সে-ই প্রথম শঙ্কুকে সাবধান করেছিল। তাঁর সাহচর্যে রকেটযাত্রা অনেক সহজ হয়েছিল।

5. ‘বটিকা-ইন্ডিকা’ আহারের বিকল্প হিসেবে কতটা সফল? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: ‘বটিকা-ইন্ডিকা’ হলো ভারতের গাছগাছড়া থেকে তৈরি শঙ্কুর এক অনন্য বড়ি। মহাকাশ যাত্রায় সাধারণ খাবার বহন করা অসম্ভব এবং ঝামেলার কাজ। এই বড়িটি ছিল তার সমাধান। একটি বড়ি খেলে সাত দিনের জন্য খিদে ও তৃষ্ণা সম্পূর্ণভাবে মিটে যায়। মঙ্গলযাত্রার সময় শঙ্কু, প্রহ্লাদ এবং নিউটন এই বড়ি খেয়েই দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেছিলেন। তাই মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে এই উদ্ভাবনটি ছিল অত্যন্ত সফল এবং যুগান্তকারী।

6. “বিপদ! বিপদ!”— বিধুশেখর কেন বারবার এই কথা বলছিল? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: রকেট যখন মঙ্গল গ্রহের খুব কাছে পৌঁছে যায়, তখন রোবট বিধুশেখর উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং ‘বিপদ! বিপদ!’ বলে চিৎকার করতে থাকে। আসলে বিধুশেখরের যন্ত্রমস্তিষ্ক মঙ্গলের প্রতিকূল পরিবেশ এবং সেখানকার ভয়ঙ্কর প্রাণীদের অস্তিত্ব আগে থেকেই টের পেয়েছিল। সে শঙ্কুকে মঙ্গলে নামতে নিষেধ করার জন্যই বারবার এই সাবধানবাণী উচ্চারণ করছিল। পরে মঙ্গল গ্রহের মাকড়সাসদৃশ ভয়ঙ্কর প্রাণীদের আক্রমণ বিধুশেখরের সেই আশঙ্কাকেই সত্যি বলে প্রমাণ করেছিল।

7. শঙ্কুর ডায়েরিটি শেষ পর্যন্ত কী কারণে বিলুপ্ত হলো? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: প্রফেসর শঙ্কুর ডায়েরিটি ছিল আগুন, জল বা যে কোনো পার্থিব আঘাতের ঊর্ধ্বে। কিন্তু তারকেশ্বরবাবু যখন ডায়েরিটি আলমারিতে রেখেছিলেন, তখন একদল বিচিত্র রঙের পিঁপড়ে তাতে হানা দেয়। বিস্ময়করভাবে এই পিঁপড়েগুলো ডায়েরিটিকে সম্পূর্ণ খেয়ে সাবাড় করে দিয়েছিল। কোনো আধুনিক মারণাস্ত্র যা করতে পারেনি, তা তুচ্ছ পিঁপড়ের দল করে দেখাল। ডায়েরিটি অবিনশ্বর হলেও পিঁপড়েরা হয়তো এমন কোনো রাসায়নিক তত্ত্বে পরিচালিত ছিল যা ডায়েরিটিকে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছিল।

8. মঙ্গল গ্রহের পরিবেশ সম্পর্কে শঙ্কুর অভিজ্ঞতার বিবরণ দাও। (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: মঙ্গলে অবতরণ করার পর শঙ্কু দেখেছিলেন চারপাশটা যেন লাল রঙের এক বিভীষিকা। সেখানকার আকাশ ছিল তামাটে রঙের এবং জঙ্গল ছিল লাল। নদী ও পাহাড়— সবই লাল আভাচ্ছন্ন। বাতাস ছিল বেশ শীতল এবং সেখানকার গাছপালার গঠন ছিল অত্যন্ত অদ্ভুত। মঙ্গলের সেই পরিবেশে প্রাণের অস্তিত্ব ছিল ঠিকই, কিন্তু তা মানুষের কাছে ছিল চরম ভীতিকর। সেখানকার মাকড়সাসদৃশ তিন হাত দীর্ঘ শক্তিশালী প্রাণীদের সাথে শঙ্কুদের যে মোকাবিলা হয়েছিল, তা ছিল মঙ্গলের রুক্ষ ও ভয়ঙ্কর পরিবেশের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

9. শঙ্কু টাফা গ্রহের বাসিন্দাদের সম্পর্কে কী লিখেছেন? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: টাফা গ্রহের বাসিন্দারা দেখতে অত্যন্ত কুৎসিত হলেও তাঁরা ছিলেন অসম্ভব উন্নত মেধার অধিকারী। তাঁরা খর্বকায়, প্রকাণ্ড মাথা এবং শরীরের তুলনায় পা অত্যন্ত সরু। তাঁরা বিজ্ঞানে ও জ্ঞানে পৃথিবীর মানুষের চেয়ে কয়েক হাজার বছর এগিয়ে। তাঁদের কোনো শারীরিক শ্রম করতে হতো না, কারণ সব কাজই যন্ত্র বা চিন্তার শক্তিতে সম্পন্ন হতো। শঙ্কুর মতে, টাফা হলো জ্ঞানতপস্বীদের দেশ, যেখানে হিংসা বা মারামারি নেই, আছে শুধু অসীম জ্ঞানচর্চা।

10. ‘অমনিস্কোপ’ যন্ত্রটি শঙ্কুর অভিযানে কীভাবে সাহায্য করেছিল? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: ‘অমনিস্কোপ’ ছিল শঙ্কুর তৈরি এক অসাধারণ দুরবিন যা দিয়ে একই সাথে দূরের জিনিস দেখা যেত এবং সেখানকার শব্দ শোনা যেত। রকেট যাত্রার সময় মহাকাশের বিভিন্ন ঘটনা পর্যবেক্ষণ করতে এবং মঙ্গল গ্রহে নামার আগে সেখানকার পরিস্থিতি বোঝার জন্য শঙ্কু এই যন্ত্রটি ব্যবহার করেছিলেন। এমনকি পৃথিবীর সাথে যোগাযোগ বা দূরের নক্ষত্রদের গতিবিধি বুঝতেও অমনিস্কোপ ছিল তাঁর প্রধান ভরসা। মহাকাশ অভিযানের প্রতিটি পদক্ষেপে এই যন্ত্রটি শঙ্কুর চোখ ও কানের কাজ করেছিল।

11. শঙ্কু কেন মঙ্গলযাত্রার জন্য অবিনাশবাবুকে উপযুক্ত মনে করেননি? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: অবিনাশবাবু মঙ্গলযাত্রার সঙ্গী হতে চাইলেও শঙ্কু জানতেন যে তিনি এই অভিযানের ধকল সহ্য করতে পারবেন না। অবিনাশবাবু ছিলেন আমুদে ও বিজ্ঞানে অবিশ্বাসী মানুষ। মহাকাশে যে শারীরিক ও মানসিক দৃঢ়তার প্রয়োজন হয়, তা তাঁর ছিল না। তা ছাড়া, তাঁর মতো একজন অবৈজ্ঞানিক মানুষ রকেটের যন্ত্রপাতির সাথে তাল মেলাতে না পারলে বিপদের সম্ভাবনা থেকে যেত। শঙ্কু চেয়েছিলেন শুধু তাঁর বিশ্বস্ত প্রহ্লাদ এবং বুদ্ধিমান বিধুশেখরকে নিয়ে যেতে, যাদের ওপর তিনি ভরসা করতে পারতেন।

12. রকেটের জ্বালানি হিসেবে শঙ্কু কী ব্যবহার করেছিলেন? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: প্রফেসর শঙ্কু তাঁর রকেটে প্রচলিত কোনো পেট্রোল বা কয়লা ব্যবহার করেননি। তিনি নিজের আবিষ্কৃত এক বিশেষ রাসায়নিক জ্বালানি ব্যবহার করেছিলেন, যার ওজন অত্যন্ত কম কিন্তু শক্তি অপরিসীম। তিনি জানিয়েছিলেন যে তাঁর আবিষ্কৃত এই জ্বালানি ব্যবহার করার ফলে রকেটটি তৈরি করতে এবং চালাতে খরচ প্রায় শূন্যের কাছাকাছি ছিল। এই অদ্ভুত জ্বালানির সাহায্যেই রকেটটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পৃথিবীর অভিকর্ষ ছাড়িয়ে মহাকাশে পৌঁছে যেতে সক্ষম হয়েছিল।

13. প্রহ্লাদের কোন ভুলের জন্য প্রথম রকেটযাত্রা ব্যাহত হয়েছিল? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: শঙ্কুর প্রথম রকেটটি যখন তৈরি হয়, তখন প্রহ্লাদকে রকেটের কিছু সরঞ্জাম ঠিকমতো রাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সরলমনা প্রহ্লাদ একটি ভুল স্ক্রু বা যন্ত্রাংশ নাড়িয়ে দেয় অথবা সময় অনুযায়ী কাজ করতে ব্যর্থ হয়। এর ফলে রকেটটি ওড়ার বদলে বাগানের একটি বড় গাছে ধাক্কা খেয়ে ভেঙে যায়। এই ঘটনার পর অবিনাশবাবু শঙ্কুর বিজ্ঞানকে নিয়ে খুব মস্করা করেছিলেন এবং শঙ্কু জেদ করে নতুন রকেট তৈরি করে মঙ্গলযাত্রার পরিকল্পনা করেন।

14. টাফা গ্রহকে কেন শঙ্কু মহাবিশ্বের শ্রেষ্ঠ আশ্রয় মনে করেছেন? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: টাফা গ্রহের বাসিন্দারা কেবল উন্নত মেধাবীই ছিলেন না, তাঁরা ছিলেন অত্যন্ত শান্ত এবং আধ্যাত্মিকভাবে উন্নত। পৃথিবীতে যেখানে হিংসা, যুদ্ধ এবং স্বার্থের লড়াই লেগেই আছে, টাফাতে সেখানে ছিল শুধু জ্ঞানচর্চার এক শান্ত পরিবেশ। সেখানে মানুষ কেবল নতুন কিছু জানার নেশায় বিভোর থাকে। মঙ্গলের মতো ভয়ঙ্কর প্রাণীদের ভয় সেখানে নেই। শঙ্কু উপলব্ধি করেছিলেন যে, প্রকৃত জ্ঞানীর জন্য টাফার চেয়ে নিরাপদ এবং সম্মানজনক আশ্রয় এই মহাবিশ্বে আর দ্বিতীয়টি নেই।

15. ডায়েরিটি পড়ার পর তারকেশ্বরবাবুর মনে কী অনুভূতি হয়েছিল? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: ডায়েরিটি পড়ার পর তারকেশ্বরবাবু বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে পড়েছিলেন। তিনি প্রথমে ভাবতেও পারেননি যে প্রফেসর শঙ্কু বলে কেউ সত্যিই মঙ্গলে গিয়েছেন। কিন্তু ডায়েরির অবিনশ্বর পাতা এবং গিরগিটির মতো রং বদলানো কালি দেখে তাঁর মনে বিশ্বাস জন্মায়। তিনি বুঝতে পারেন যে এটি কোনো সাধারণ গল্প বা কাল্পনিক উপন্যাস নয়, বরং একজন মহান বিজ্ঞানীর জীবনের প্রকৃত দস্তাবেজ। শঙ্কুর অসাধারণ সব আবিষ্কার এবং সাহসের কথা পড়ে তিনি শঙ্কুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা অনুভব করেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার