মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

নবম শ্রেণি: বাংলা, প্রফেসর শঙ্কুর ডায়েরি – সত্যজিৎ রায়, দীর্ঘ রচনাধর্মী প্রশ্ন উত্তর মান 5

সহায়ক পাঠ: প্রফেসর শঙ্কুর ডায়েরি
(বর্ণনামূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 5)

নিচের প্রশ্নগুলির নির্দেশমতো বিস্তারিত উত্তর দাও:

1. ‘ব্যোমযাত্রীর ডায়েরি’ অবলম্বনে প্রফেসর শঙ্কুর চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো। (5)

উত্তর দেখো
সত্যজিৎ রায়ের অমর সৃষ্টি প্রফেসর ত্রিলোকেশ্বর শঙ্কু একজন বিশ্ববিশ্রুত বিজ্ঞানী। তাঁর চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:

ক) অসামান্য প্রতিভা: শঙ্কু একজন মিতভাষী কিন্তু অসম্ভব প্রতিভাবান বিজ্ঞানী। তিনি মিরাকিউরল, অ্যানিহিলিন গান, বটিকা-ইন্ডিকার মতো অভাবনীয় সব জিনিস আবিষ্কার করেছেন।
খ) স্বদেশপ্রেম ও মিতব্যয়িতা: বিদেশি বিজ্ঞানীদের মতো বিলাসিতা তাঁর নেই। তিনি গিরিডিতে নিজের বাড়িতে বসেই সামান্য খরচে রকেট তৈরি করেছেন। তাঁর রকেটে এক পয়সাও বাড়তি খরচ হয়নি।
গ) অদম্য সাহস: মঙ্গলের মতো অজানা ও রহস্যময় গ্রহে পাড়ি দেওয়ার সাহস তিনি দেখিয়েছেন। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি মাথা ঠান্ডা রেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
ঘ) মানবিকতা: তিনি তাঁর ভৃত্য প্রহ্লাদ এবং পোষা বিড়াল নিউটনকে পরিবারের সদস্যের মতো ভালোবাসতেন। অভিযানে তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি সবসময় চিন্তিত থাকতেন।

পরিশেষে বলা যায়, শঙ্কু এমন একজন বিজ্ঞানী যার মধ্যে মেধা, সাহস এবং মানবিকতার এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ ঘটেছে।

2. শঙ্কুর মঙ্গল অভিযানের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও। সেখানে তাঁদের কী অভিজ্ঞা হয়েছিল? (5)

উত্তর দেখো
প্রফেসর শঙ্কু তাঁর তৈরি রকেটে করে প্রহ্লাদ, নিউটন এবং বিধুশেখরকে নিয়ে মঙ্গল গ্রহ অভিমুখে যাত্রা করেন। যাত্রা শুরুর কয়েকদিন পর তাঁরা লাল গ্রহ মঙ্গলে অবতরণ করেন।

মঙ্গলের অভিজ্ঞতা: মঙ্গলে নেমে শঙ্কু দেখেন চারপাশটা বিভীষিকাময় লাল। আকাশ তামাটে, জঙ্গল ও নদী— সবই লাল রঙের। সেখানকার পরিবেশ ছিল অত্যন্ত শান্ত কিন্তু রহস্যময়। সেখানে তাঁরা তিন হাত লম্বা, মাকড়সার মতো দেখতে অদ্ভুত ও ভয়ঙ্কর প্রাণীদের সম্মুখীন হন। এই প্রাণীরা প্রহ্লাদকে আক্রমণ করে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। বিধুশেখর সেই সময় তাঁর অসীম শক্তি দিয়ে মাকড়সা-দানবদের হাত থেকে প্রহ্লাদকে রক্ষা করে। মঙ্গলের এই প্রতিকূলতা ও আতঙ্ক দেখে শঙ্কু উপলব্ধি করেন যে মঙ্গল গ্রহ মানুষের বসবাসের উপযুক্ত নয়। প্রাণের অস্তিত্ব থাকলেও তা অত্যন্ত হিংস্র এবং ভয়ঙ্কর।

3. শঙ্কুর ডায়েরিটি কীভাবে পাওয়া গিয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত তার কী পরিণতি হয়েছিল? (5)

উত্তর দেখো
গল্পের শুরুতে দেখা যায়, তারকেশ্বরবাবু সুন্দরবনে বাঘ শিকার করতে গিয়ে এক উল্কাপাতের ফলে তৈরি গর্তের ভেতর থেকে একটি লাল ডায়েরি খুঁজে পান। সেটিই ছিল নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়া প্রফেসর শঙ্কুর ডায়েরি।

ডায়েরির পরিণতি: ডায়েরিটি ছিল অলৌকিক গুণের অধিকারী। এটি আগুনে পোড়ে না, জলে ভেজে না এবং এর কালির রং ক্ষণে ক্ষণে গিরগিটির মতো বদলায়। ডায়েরিটির এই অবিনশ্বর রূপ দেখে পাঠক এবং তারকেশ্বরবাবু উভয়েই বিস্মিত হন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই বিস্ময়কর ডায়েরিটির এক করুণ পরিণতি ঘটে। তারকেশ্বরবাবু যখন ডায়েরিটি তাঁর আলমারিতে রেখেছিলেন, তখন একদল অদ্ভুত রঙের পিঁপড়ে ডায়েরিটিতে হানা দেয়। বিস্ময়করভাবে এই পিঁপড়েরা অবিনশ্বর ডায়েরিটিকে সম্পূর্ণ খেয়ে সাবাড় করে দেয়। কোনো আধুনিক অস্ত্র যা করতে পারেনি, সামান্য পিঁপড়ের দল তা অনায়াসেই করে ফেলল। এভাবেই প্রফেসর শঙ্কুর ডায়েরিটি পৃথিবী থেকে চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যায়।

4. যন্ত্রমানুষ বিধুশেখর চরিত্রটি সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো। (5)

উত্তর দেখো
বিধুশেখর হলো প্রফেসর শঙ্কুর তৈরি একটি রোবট বা যন্ত্রমানুষ, যা লোহা দিয়ে তৈরি হলেও বুদ্ধিবৃত্তিতে মানুষের প্রায় সমতুল্য।

ক) বুদ্ধিমত্তা ও আবেগ: বিধুশেখর সাধারণ রোবট নয়; সে অস্পষ্টভাবে কথা বলতে পারে এবং বিপদ টের পেলে আগেভাগেই সাবধান করতে পারে। মঙ্গল যাত্রার সময় সে ‘বিপদ বিপদ’ বলে শঙ্কুকে বারবার সতর্ক করেছিল।
খ) সাহস ও আনুগত্য: মঙ্গলে যখন মাকড়সা-দানবরা প্রহ্লাদকে আক্রমণ করে, তখন বিধুশেখর নিজের লোহার শরীর দিয়ে দানবদের মোকাবিলা করে এবং প্রহ্লাদকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচায়। সে শঙ্কুর প্রতিটি নির্দেশ পালনে ছিল অবিচল।
গ) আধ্যাত্মিক সংযোগ: টাফা গ্রহে গিয়ে বিধুশেখর এক অদ্ভুত পরিবর্তন লাভ করে। সে অত্যন্ত শান্ত হয়ে যায় এবং ধ্যানে মগ্ন থাকে। এর মাধ্যমে লেখক বোঝাতে চেয়েছেন যে উচ্চতর জ্ঞান ও বিজ্ঞানের সংস্পর্শে যন্ত্রও সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে।

5. ‘টাফা’ গ্রহের বর্ণনা দাও। সেখানে শঙ্কুর অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? (5)

উত্তর দেখো
মঙ্গলের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পর শঙ্কুরা ‘টাফা’ নামক এক অজানা গ্রহে পৌঁছান। এটি ছিল কালপুরুষ নক্ষত্রমণ্ডলীর অন্তর্গত এক জ্ঞানতপস্বীদের দেশ।

টাফার পরিবেশ ও অধিবাসী: টাফার বাসিন্দারা দেখতে খর্বকায়, কুৎসিত এবং বড় মাথাযুক্ত হলেও মেধার দিক থেকে তাঁরা পৃথিবীর মানুষের চেয়ে কয়েক হাজার বছর এগিয়ে। সেখানে কোনো হিংসা, যুদ্ধ বা স্বার্থপরতা নেই। তাঁরা শরীরের বদলে মস্তিষ্ক বা চিন্তাশক্তির সাহায্যে সব কাজ করেন। সেখানে কোনো কলকারখানা বা ধোঁয়া নেই, চারপাশ অত্যন্ত শান্ত ও নির্মল।

শঙ্কুর অভিজ্ঞতা: শঙ্কু টাফাতে গিয়ে এক অদ্ভুত মানসিক প্রশান্তি লাভ করেন। তিনি বুঝতে পারেন যে প্রকৃত জ্ঞানীর জন্য টাফাই হলো শ্রেষ্ঠ আশ্রয়। টাফাবাসীরা শঙ্কুকে তাঁদের সমগোত্রীয় মনে করেন এবং সেখানে তিনি সসম্মানে স্থান পান। তাঁর রোবট বিধুশেখরও সেখানে গিয়ে সম্পূর্ণ শান্ত হয়ে যায়। শঙ্কু অনুভব করেন যে টাফা হলো এমন এক স্বর্গ যেখানে বিজ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতা এক হয়ে মিলেছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার