মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

সপ্তম শ্রেণি: ইতিহাস, অধ্যায়- ৭ , জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

অধ্যায় ৭: জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতি
(সংক্ষিপ্ত ও বিশ্লেষণমূলক প্রশ্নোত্তর – মান: ২/৩)

✍️ ২/৩ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ ১৬টি প্রশ্নোত্তর:

১. ‘ইন্দো-ইসলামীয় সংস্কৃতি’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: একাদশ শতক থেকে ভারতে তুর্কিদের আগমনের পর, প্রাচীন ভারতীয় এবং আগত ইসলামীয় সংস্কৃতির মধ্যে আদানপ্রদান শুরু হয়। দীর্ঘদিন পাশাপাশি থাকার ফলে এই দুই সংস্কৃতির মিলনে শিল্প, সাহিত্য, ধর্ম, সংগীত ও স্থাপত্যে যে এক নতুন মিশ্র সংস্কৃতির জন্ম হয়েছিল, তাকেই ‘ইন্দো-ইসলামীয় সংস্কৃতি’ বলা হয়।

২. ভক্তি আন্দোলনের মূল কথা বা আদর্শ কী ছিল?

উত্তর: ভক্তি আন্দোলনের মূল কথা ছিল ঈশ্বরের প্রতি অগাধ প্রেম ও ভক্তি। ভক্তিবাদী সাধকরা মনে করতেন, ভগবানকে পাওয়ার জন্য কোনো জাঁকজমক, যজ্ঞ বা মূর্তিপূজার প্রয়োজন নেই; কেবল খাঁটি ভক্তি ও ভালোবাসার মাধ্যমেই ঈশ্বরকে লাভ করা সম্ভব। তাঁরা ধর্মীয় গোঁড়ামি ও জাতপাতের ভেদাভেদ মানতেন না এবং সকল মানুষের সমান অধিকারে বিশ্বাসী ছিলেন।

৩. সুফিবাদ বা সুফি আন্দোলন কী?

উত্তর: মধ্যযুগে ইসলাম ধর্মের মধ্যে যে উদার, মরমিয়া ও ভক্তিমূলক সাধনার উদ্ভব হয়েছিল, তাকেই সুফিবাদ বলা হয়। সুফি সাধকরা (পির) মনে করতেন, ঈশ্বরের (আল্লাহ) প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং গরিব-দুঃখী মানুষের সেবা করার মাধ্যমেই ঈশ্বরকে পাওয়া সম্ভব। তাঁরা হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন।

৪. সন্ত কবীর কে ছিলেন? তাঁর শিক্ষার মূল কথা কী?

উত্তর: সন্ত কবীর ছিলেন রামানন্দের শিষ্য এবং ভক্তি আন্দোলনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাধক।
তাঁর শিক্ষার মূল কথা ছিল—রাম ও রহিম একই ঈশ্বরের দুটি ভিন্ন নাম। তিনি হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে সম্প্রীতি স্থাপনের চেষ্টা করেছিলেন। মূর্তিপূজা ও ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরোধিতা করে তিনি সহজ-সরল জীবনে বিশ্বাস করতেন।

৫. ‘দোঁহা’ কী?

উত্তর: ‘দোঁহা’ হলো হিন্দি ভাষায় রচিত সন্ত কবীরের দুই লাইনের বা পংক্তির উপদেশমূলক কবিতা। এই দোঁহাগুলির মাধ্যমে কবীর অত্যন্ত সহজ-সরল ভাষায় সাধারণ মানুষকে ধর্ম, সমাজ এবং জীবনের নানা গভীর তত্ত্ব ও নীতিকথা বোঝাতেন।

৬. গুরু নানকের ধর্মমতের মূল আদর্শ কী ছিল?

উত্তর: গুরু নানক ছিলেন শিখ ধর্মের প্রবর্তক। তাঁর ধর্মমতের মূল কথা ছিল—ঈশ্বর এক এবং অদ্বিতীয়। তিনি হিন্দু-মুসলমান ভেদাভেদ, জাতপাত এবং মূর্তিপূজার ঘোর বিরোধী ছিলেন। তাঁর মতে, সৎ জীবনযাপন করা এবং পবিত্র মনে ঈশ্বরের নাম জপ করার মাধ্যমেই মানুষের মুক্তি লাভ সম্ভব।

৭. শ্রীচৈতন্যদেব কীভাবে বাংলায় ভক্তি ধর্ম প্রচার করেন?

উত্তর: নবদ্বীপের পণ্ডিত শ্রীচৈতন্যদেব ছিলেন বাংলার বৈষ্ণব ভক্তি আন্দোলনের প্রাণপুরুষ। তিনি কোনো সংস্কৃত মন্ত্র বা জটিল উপাসনার পথে যাননি। বরং তিনি সহজ-সরল বাংলা ভাষায় খোল-করতাল বাজিয়ে ‘হরিনাম সংকীর্তন’-এর মাধ্যমে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাংলার ঘরে ঘরে প্রেম ও ভক্তির ধর্ম প্রচার করেছিলেন।

৮. মীরাবাঈ কে ছিলেন? ভক্তি আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা কী?

উত্তর: মীরাবাঈ ছিলেন রাজস্থানের মেওয়ারের রাজপরিবারের বধূ এবং ভক্তি আন্দোলনের একজন বিখ্যাত সাধিকা। তিনি ছিলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের (গিরিধারী লালের) একনিষ্ঠ ভক্ত। শ্রীকৃষ্ণের প্রতি গভীর প্রেম ও ভক্তি প্রকাশ করে তিনি বহু সুন্দর সুন্দর ভজন বা গান রচনা করেছিলেন, যা আজও সারা ভারতে অত্যন্ত জনপ্রিয়।

৯. সুলতানি ও মোগল স্থাপত্যের প্রধান দুটি বৈশিষ্ট্য কী ছিল?

উত্তর: সুলতানি ও মোগল যুগের ইন্দো-ইসলামীয় স্থাপত্যের প্রধান দুটি বৈশিষ্ট্য হলো ‘খিলান’ (Arch) এবং ‘গম্বুজ’ (Dome)-এর ব্যবহার। এর ফলে ইট-পাথর ও চুন-সুরকি দিয়ে অনেক বড়ো, মজবুত ও খোলামেলা ইমারত তৈরি করা সম্ভব হয়েছিল।

১০. ‘পিএতরা দুরা’ (Pietra Dura) কী?

উত্তর: ‘পিএতরা দুরা’ হলো মোগল যুগে (বিশেষ করে সম্রাট শাহজাহানের আমলে) ইমারত সাজানোর একটি বিশেষ ও অত্যন্ত ব্যয়বহুল শিল্পরীতি। শ্বেতপাথরের গায়ে সুন্দর ফুলের নকশা খোদাই করে, তার মধ্যে নানা রঙের বহুমূল্য পাথর ও রত্ন বসিয়ে যে অপূর্ব কারুকাজ করা হতো, তাকেই পিএতরা দুরা বলা হয়। তাজমহলে এর চমৎকার নিদর্শন রয়েছে।

১১. মোগল যুগের ‘অনুচিত্র’ বা মিনিয়েচার (Miniature) চিত্রকলা কী?

উত্তর: ‘অনুচিত্র’ বা মিনিয়েচার হলো বইয়ের পাতায় বা ছোটো কাগজের ওপর আঁকা অত্যন্ত সুন্দর, সূক্ষ্ম এবং ছোটো ছোটো ছবি। মোগল যুগে (বিশেষ করে আকবর ও জাহাঙ্গীরের আমলে) বইকে সুন্দর করে সাজানোর জন্য এবং রাজদরবারের নানা দৃশ্য ফুটিয়ে তোলার জন্য এই ছোটো ছবি আঁকার রীতির খুব চল হয়েছিল।

১২. তানসেন কে ছিলেন? সংগীতে তাঁর অবদান কী?

উত্তর: মিয়াঁ তানসেন ছিলেন মোগল সম্রাট আকবরের রাজসভার নবরত্নের অন্যতম এবং ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ সংগীতজ্ঞদের একজন।
অবদান: তিনি হিন্দুস্তানি ধ্রুপদী সংগীতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছিলেন। তিনি ‘দীপক রাগ’, ‘মেঘমল্লার’ এবং ‘দরবারি কানাড়া’-র মতো অনেক নতুন নতুন ও চমৎকার রাগ-রাগিণী সৃষ্টি করেছিলেন।

১৩. সুলতানি যুগে বাংলা সাহিত্যের বিকাশে হুসেন শাহের ভূমিকা কী ছিল?

উত্তর: বাংলার সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ এবং তাঁর ছেলে নসরত শাহ ছিলেন বাংলা সাহিত্যের বিরাট পৃষ্ঠপোষক। তাঁরা নিজেরা মুসলিম হলেও হিন্দু কবিদের প্রচুর সম্মান ও অর্থ দিয়ে সাহায্য করতেন। তাঁদের উৎসাহেই কৃত্তিবাস ওঝার ‘রামায়ণ’, মালাধর বসুর ‘শ্রীকৃষ্ণবিজয়’ এবং কবীন্দ্র পরমেশ্বরের ‘মহাভারত’-এর মতো গ্রন্থগুলি বাংলায় রচিত বা অনূদিত হয়েছিল।

১৪. তাজমহল কে, কবে এবং কেন নির্মাণ করেন?

উত্তর: মোগল সম্রাট শাহজাহান তাঁর প্রিয়তম স্ত্রী মমতাজ মহলের স্মৃতির উদ্দেশ্যে আগ্রায় যমুনা নদীর তীরে এই বিশ্ববিখ্যাত তাজমহল নির্মাণ করেছিলেন। এটি ১৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে তৈরি শুরু হয় এবং প্রায় ২২ বছর ধরে সম্পূর্ণ সাদা মার্বেল বা শ্বেতপাথর দিয়ে এই অপূর্ব সুন্দর স্মৃতিসৌধটি নির্মাণ করা হয়।

১৫. ‘দিন-ই-ইলাহি’ কী?

উত্তর: ১৫৮২ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট আকবর ইসলাম, হিন্দু, জৈন প্রভৃতি সকল ধর্মের সারমর্ম ও ভালো দিকগুলি নিয়ে যে নতুন সর্বজনীন ধর্মীয় আদর্শ বা মতবাদ প্রচার করেছিলেন, তাকে ‘দিন-ই-ইলাহি’ বলা হয়। এর মূল কথা ছিল ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি এবং সকল ধর্মের মানুষের মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখা।

১৬. সুফিবাদের ‘চিস্তি’ সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা কে? তাঁদের জীবনযাপন কেমন ছিল?

উত্তর: ভারতে সুফিবাদের চিস্তি সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন খাজা মইনুদ্দিন চিস্তি (যাঁর দরগা আজমিরে অবস্থিত)।
জীবনযাপন: চিস্তি সম্প্রদায়ের সাধকরা অত্যন্ত সাদাসিধে ও গরিব জীবনযাপন করতেন। তাঁরা রাজনীতি বা রাজদরবার থেকে দূরে থাকতেন এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল সাধারণ মানুষের সাথে সহজভাবে মেলামেশা করতেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার